মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কানাডার পণ্যে শুল্ক কমাল ট্রাম্প প্রশাসন

প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৭ , অনলাইন ভার্সন
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে কানাডার কিছু পণ্যের ওপর আরোপিত ৫০ শতাংশ শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। গুরুত্বপূর্ণ সিনেট নির্বাচনে লড়াই করা রিপাবলিকান প্রার্থী সুসান কলিন্স এ সিদ্ধান্তের পক্ষে প্রচেষ্টা চালানোর কথা জানানোর পর এ ঘোষণা এলো।

স্থানীয় সময় ২৩ অক্টাবর (শুক্রবার) হোয়াইট হাউস জানায়, আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে পাতলা কাঠের শিট, কিছু কাগজজাত পণ্য, নির্দিষ্ট যন্ত্রপাতি ও শীতলীকরণ সরঞ্জামসহ কয়েক ধরনের কানাডীয় পণ্যে শুল্ক শিথিল করা হবে। খবর বিবিসির। 

মেইন অঙ্গরাজ্যে পুনর্নির্বাচনের জন্য কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে থাকা রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স প্রথম এ শুল্কছাড়ের ঘোষণা দেন। তার দাবি, এতে অঙ্গরাজ্যের কৃষিশিল্প উপকৃত হবে। ব্লুবেরি, আলু, আপেল ও সামুদ্রিক শৈবাল উৎপাদনকারীদের জন্য এসব পণ্য গুরুত্বপূর্ণ বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে উল্লেখ করেন তিনি।

গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর কানাডার প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল ওয়াশিংটন। এর জবাবে কানাডাও মার্কিন পণ্যে পাল্টা শুল্ক আরোপ করে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছিলেন, নিজ দেশের শ্রমিকদের সুরক্ষায় এসব পদক্ষেপ প্রয়োজনীয়।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, কিছু প্যাকিং বাক্স ও কাঠের ক্রেটসহ কয়েকটি পণ্যে শুল্ক প্রত্যাহার করা হলেও কার্পেট ও কিছু বর্জ্যজাত পণ্যে নতুন করে শুল্ক আরোপ করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য স্বার্থ রক্ষা এবং ন্যায্য বাণিজ্য নিশ্চিত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

কানাডার অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যমন্ত্রী ডমিনিক লেব্ল্যাঙ্ক বলেছেন, নতুন সিদ্ধান্তের প্রভাব পর্যালোচনা করছে তার সরকার। তবে কানাডার স্বার্থের প্রতি সম্মান রেখে উভয় দেশের জন্য লাভজনক বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়তে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত অটোয়া।

আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এ নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতে থাকবে, নাকি ডেমোক্র্যাটরা তা পুনরুদ্ধার করবে, সেটিই নির্ধারিত হবে। ফলাফল ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট মেয়াদের বাকি দুই বছরের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

কলিন্স জানিয়েছেন, শুল্কছাড়ের জন্য তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে বারবার অনুরোধ করেছেন। ভবিষ্যতেও আরও শুল্কছাড় এবং কানাডার সঙ্গে বৃহত্তর বাণিজ্য চুক্তির জন্য কাজ চালিয়ে যাবেন বলে জানান তিনি।

তবে তার ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রয় জ্যাকসন সমালোচনা করে বলেন, ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধ মেইনের মানুষের জীবনকে আরও কঠিন ও ব্যয়বহুল করেছে। তার অভিযোগ, কলিন্স প্রথমে এই নীতিকে সমর্থন করেছেন, এখন সেই নীতির কারণে সৃষ্ট সমস্যার সামান্য সমাধান করে কৃতিত্ব নিতে চাইছেন।

কানাডার নিউ ব্রান্সউইক ও কুইবেক প্রদেশের সীমান্তবর্তী মেইনের অর্থনীতি কানাডার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ফলে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য বিরোধের প্রভাব পড়েছে এ অঙ্গরাজ্যসহ সীমান্তবর্তী অন্যান্য অঞ্চলেও। মিশিগানের রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা মাইক রজার্সও নিজ অঙ্গরাজ্যের বাণিজ্যনির্ভর অর্থনীতির কথা তুলে ধরে ট্রাম্পকে বিরোধ মেটানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে কানাডা ‘খুব কঠোর পরিশ্রম করছে’। অন্যদিকে, কার্নি জানান, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট চুক্তিতে পৌঁছাতে কানাডা প্রস্তুত। তবে উপযুক্ত চুক্তির জন্য প্রয়োজনে কয়েক মাস, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে নতুন প্রশাসন আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতেও তার দেশ রাজি।

কানাডার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সঙ্গে এটি ছিল নবম বৈঠক। আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের কারণে কানাডার অর্থনীতিতে চলমান প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

ঠিকানা/এএস 
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]