কানাডায় পাচার ও ধর্ষণের অভিযোগে ২ বাংলাদেশির কারাদণ্ড

প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৩:৫১ , অনলাইন ভার্সন
কানাডার সাসকাচুয়ান প্রদেশে এক বাংলাদেশি নারীকে মানবপাচার, চরম শ্রম শোষণ এবং ধর্ষণের দায়ে মোহাম্মদ মাসুম (৪৫) ও সোহেল হায়দার (৫৫) নামের দুই বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ মালিককে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সাসকাটুনের প্রাদেশিক আদালতের বিচারক মিগুয়েল মার্টিনেজ এই ঐতিহাসিক সাজা ঘোষণা করেন। এর মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত মোহাম্মদ মাসুমকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড এবং অপর সহযোগী সোহেল হায়দারকে ৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

কানাডার সংবাদমাধ্যম সিবিসিতে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়, পাচার ও ধর্ষণের শিকার ওই নারীও বাংলাদেশি। কানাডার সাসকাচুয়ানে দুই ব্যক্তির মাধ্যমে পাচার ও চরম শোষণের শিকার হওয়া এবং তাদের একজনের মাধ্যমে বারবার ধর্ষণের শিকার ওই নারী বলছেন, তিনি এখনো চরম ভীতি ও শঙ্কা নিয়ে বাস করছেন। কাউকে বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে।

কারাদণ্ড পাওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন সোহেল হায়দার ও মো. মাসুম। এর মধ্যে ওই নারীকে পাচার ও একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে মাসুমকে ১৪ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ভুক্তভোগীকে বকেয়া মজুরি বাবদ ১২ হাজার ২৬৮ কানাডিয়ান ডলার পরিশোধের।

অন্যদিকে মানবপাচারে জড়িত থাকার দায়ে সোহেল হায়দারকে ৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর বকেয়া মজুরি বাবদ তাকে ৫ হাজার ৮৮৫ কানাডিয়ান ডলার জরিমানা করা হয়েছে।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ওই নারী লেখেন, ‘আমি ওদের ভুলতে পারি না। তারা আমার স্বপ্ন ধ্বংস করে দিয়েছে। তারা আমার জীবন শেষ করে দিয়েছে। তারা আমার সম্মান, আমার ভবিষ্যৎ, আমার পরিবার এবং আমার ক্যারিয়ার সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছে।’

জবানবন্দিতে তিনি আরও বলেন, কানাডায় তার সঙ্গে যা ঘটেছে সে কারণে বাংলাদেশে তার এলাকায় ছড়িয়ে পড়া নানা গুঞ্জন ও গুজবের কারণে পরিবারের সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং ভাইবোনদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ভুক্তভোগী নারী বাংলাদেশ থেকে কানাডায় আসার পর এই দুই ব্যক্তি তাদের রেস্তোরাঁয় (গ্যাল লেক, টিসডেল এবং এলরোজ এলাকার) তাকে কাজে নেন। এরপর তার কাজের অনুমতিপত্র (ওয়ার্ক পারমিট) বাতিল ও পুলিশে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে সপ্তাহে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করতে বাধ্য করতেন। এমনকি তাকে একটি স্যাঁতসেঁতে অন্ধকার বেজমেন্টে আটকে রাখা হতো।

প্রধান অপরাধী মাসুম ওই নারীর পাসপোর্ট ছিনিয়ে নেন এবং শারীরিক সম্পর্কে সম্মতি না দেওয়া পর্যন্ত তা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান। বিচারে প্রমাণিত হয়, তিনি ওই নারীকে অন্তত ৮ বার যৌন নির্যাতন করেছিলেন।

২০২৩ সালে স্থানীয় দুজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং একজন অভিবাসন কর্মীর সহায়তায় ওই নারী নারকীয় এই পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার পান। এরপর ২০২৩ সালের জুলাইয়ে কানাডিয়ান পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে এবং দীর্ঘ ১৮ মাসের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এই রায় ঘোষণা করা হয়। আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে ভুক্তভোগী নারীর পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।

ঠিকানা/এনআই
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]