নিউইয়র্ক বিশ্বের রাজধানী খ্যাত অন্যতম বৃহৎ নগরী। যে শহরে বসবাস করে বিশ্বের প্রায় সব দেশের নাগরিক। এ শহরের আভিজাত্য কেবল এর আয়তনের বিশালত্ব নয়, বরং বৈচিত্র্যের পরিপূর্ণতা। ৫টি বরো বা অঞ্চল, যেমন ম্যানহাটন, ব্রুকলিন, কুইন্স, ব্রঙ্কস ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ড নিয়ে নিউইয়র্ক প্রশাসনিক অঞ্চল গঠিত। ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, নিউইয়র্ক শহরের মহানগর এলাকায় প্রায় ২.০১ কোটি (২০.১ মিলিয়ন মানুষ বসবাস করে। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ প্রধান শহর। এর মধ্যে নিউইয়র্ক সিটিতে বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার।
বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক. নিউইয়র্ক শহরে অরাজনৈতিক, অলাভজনক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে বাংলাদেশিদের সর্ববৃহৎ সংগঠন, যা আমব্রেলা সংগঠন হিসেবেও পরিচিত। ১৯৭৫ সালের ২৩ নভেম্বর কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির আর্ল হলে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ছিলেন ড. আব্দুল হক। যার বর্তমান ঠিকানা : 86-24 Whitney Ave., Elmhurst, NY 11373. সোসাইটির প্রধান উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের ঐক্যবদ্ধ রাখা, নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ, নতুন প্রজন্মকে তার সঙ্গে পরিচয় করানো এবং সম্পৃক্ত রাখা। সোসাইটির মূল কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে কমিউনিটি সেন্টার পরিচালনা, আইনি ও ট্যাক্স সহায়তা ক্লিনিক, শিক্ষাবৃত্তি প্রদান এবং বাংলাদেশ ডে প্যারেড ও বিভিন্ন জাতীয় দিবস উদযাপন।
নিউইয়র্কের যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি ইনকের নির্বাচন প্রতি দুই বছর পরপর সোসাইটির হালনাগাদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ সোসাইটির ২০২৬ সালের নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এই নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩৫ হাজার ২১৫ জন, যারা কার্যনির্বাহী কমিটির মোট ২১টি পদে ভোট প্রদান করবেন। এই নির্বাচনে মূলত দুটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। তবে এই দুই প্যানেলের ৪২ জন প্রার্থীর পাশাপাশি সাধারণ সম্পাদক পদে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ সর্বমোট ৪৩ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
নিউইয়র্ক শহরে সারা পৃথিবীর লোকদের বসবাস হলেও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত লোকদের উপস্থিতি সামাজিক, সাংস্কৃতিক বলিষ্ঠ ভূমিকার কারণে অন্যান্য কমিউনিটি থেকে আলাদা চোখে পড়ার মতো। এখানে বাংলাদেশিদের সংগঠনের ছড়াছড়ি। যে কারণে বাংলাদেশিদের সংগঠন বিষয়ে একটি জনপ্রিয় প্রবাদ, ‘কোথাও দুজন বাংলাদেশি থাকলে সেখানে সংগঠন তৈরি হয় তিনটি, দুজনে মিলে একটি এবং আলাদা দুটি।’ তবে এসব সংগঠনের বার্ষিক বনভোজন ও কোনো কোনোটির ইফতার মাহফিল ব্যতীত অন্য তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো কার্যক্রম দেখা যায় না। এমনকি নিয়মিত কোনো বৈঠক আয়োজনও হয় না। যদিও বাংলাদেশ সোসাইটির সে ক্ষেত্রে ভিন্নতা রয়েছে।
বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনী উন্মাদনা বাংলাদেশিদের মধ্যে এত বেশি লক্ষণীয়, যা নভেম্বরের জাতীয় নির্বাচনকেও হার মানিয়েছে। নির্বাচনে জেতার জন্য উভয় প্যানেলই নিজেদের অর্থব্যয়ে নতুন সদস্য ভর্তি বা ভোটার নিবন্ধন করে থাকেন, যা নিয়ে বিভিন্ন সময় নেটিজেনদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিগত দিনে সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা-সমালোচনা শোনা যায়। অন্যান্য অনেক সংগঠন পরিচালনায় অর্থের অভাব থাকলেও এটির তেমন নেই। কারণ পর্যাপ্ত সদস্য থাকায় তাদের চাঁদা ও ভর্তি ফি এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য নির্দিষ্ট হারে ফি জমার জন্য যেমন প্রচুর অর্থ সমাগম ঘটে, অপরপক্ষে বিভিন্ন সংস্থা থেকেও পর্যাপ্ত অনুদান পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে ভালো আর্থিক সংগতি থাকায় সামাজিক, সাংস্কৃতিক কাজের জন্য হাত খুলে খরচ করারও সুবিধা রয়েছে। কী কারণে সংগঠনের বিভিন্ন পদে জেতার জন্য সবার এত আগ্রহ ও উদ্দীপনা, তা বোঝার উপায় নেই।
সে যা-ই হোক, নির্বাচনে যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তাদের মধ্য থেকেই নির্দিষ্ট পদে ২১ জন নির্বাচিত হয়ে আগামী দুই বছর দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের নিকট সংগঠনের সদস্য, এমনকি সদস্য নন কিন্তু নিউইয়র্কে বসবাস করছেন, এমন সকল বাংলাদেশির প্রত্যাশা—বিগত দিনে যেসব অনিয়ম নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছে, নতুন নির্বাচিত কমিটি সে বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে সচেষ্ট থাকবেন এবং সবার প্রত্যাশা অনুযায়ী কমিউনিটির কল্যাণে নতুন নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন করে তা বাস্তবায়নে সচেষ্ট হবেন।
লেখক : কবি, প্রাবন্ধিক, গীতিকার, কলামিস্ট ও গবেষক।
বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক. নিউইয়র্ক শহরে অরাজনৈতিক, অলাভজনক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে বাংলাদেশিদের সর্ববৃহৎ সংগঠন, যা আমব্রেলা সংগঠন হিসেবেও পরিচিত। ১৯৭৫ সালের ২৩ নভেম্বর কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির আর্ল হলে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ছিলেন ড. আব্দুল হক। যার বর্তমান ঠিকানা : 86-24 Whitney Ave., Elmhurst, NY 11373. সোসাইটির প্রধান উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের ঐক্যবদ্ধ রাখা, নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ, নতুন প্রজন্মকে তার সঙ্গে পরিচয় করানো এবং সম্পৃক্ত রাখা। সোসাইটির মূল কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে কমিউনিটি সেন্টার পরিচালনা, আইনি ও ট্যাক্স সহায়তা ক্লিনিক, শিক্ষাবৃত্তি প্রদান এবং বাংলাদেশ ডে প্যারেড ও বিভিন্ন জাতীয় দিবস উদযাপন।
নিউইয়র্কের যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি ইনকের নির্বাচন প্রতি দুই বছর পরপর সোসাইটির হালনাগাদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ সোসাইটির ২০২৬ সালের নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এই নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩৫ হাজার ২১৫ জন, যারা কার্যনির্বাহী কমিটির মোট ২১টি পদে ভোট প্রদান করবেন। এই নির্বাচনে মূলত দুটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। তবে এই দুই প্যানেলের ৪২ জন প্রার্থীর পাশাপাশি সাধারণ সম্পাদক পদে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ সর্বমোট ৪৩ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
নিউইয়র্ক শহরে সারা পৃথিবীর লোকদের বসবাস হলেও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত লোকদের উপস্থিতি সামাজিক, সাংস্কৃতিক বলিষ্ঠ ভূমিকার কারণে অন্যান্য কমিউনিটি থেকে আলাদা চোখে পড়ার মতো। এখানে বাংলাদেশিদের সংগঠনের ছড়াছড়ি। যে কারণে বাংলাদেশিদের সংগঠন বিষয়ে একটি জনপ্রিয় প্রবাদ, ‘কোথাও দুজন বাংলাদেশি থাকলে সেখানে সংগঠন তৈরি হয় তিনটি, দুজনে মিলে একটি এবং আলাদা দুটি।’ তবে এসব সংগঠনের বার্ষিক বনভোজন ও কোনো কোনোটির ইফতার মাহফিল ব্যতীত অন্য তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো কার্যক্রম দেখা যায় না। এমনকি নিয়মিত কোনো বৈঠক আয়োজনও হয় না। যদিও বাংলাদেশ সোসাইটির সে ক্ষেত্রে ভিন্নতা রয়েছে।
বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনী উন্মাদনা বাংলাদেশিদের মধ্যে এত বেশি লক্ষণীয়, যা নভেম্বরের জাতীয় নির্বাচনকেও হার মানিয়েছে। নির্বাচনে জেতার জন্য উভয় প্যানেলই নিজেদের অর্থব্যয়ে নতুন সদস্য ভর্তি বা ভোটার নিবন্ধন করে থাকেন, যা নিয়ে বিভিন্ন সময় নেটিজেনদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিগত দিনে সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা-সমালোচনা শোনা যায়। অন্যান্য অনেক সংগঠন পরিচালনায় অর্থের অভাব থাকলেও এটির তেমন নেই। কারণ পর্যাপ্ত সদস্য থাকায় তাদের চাঁদা ও ভর্তি ফি এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য নির্দিষ্ট হারে ফি জমার জন্য যেমন প্রচুর অর্থ সমাগম ঘটে, অপরপক্ষে বিভিন্ন সংস্থা থেকেও পর্যাপ্ত অনুদান পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে ভালো আর্থিক সংগতি থাকায় সামাজিক, সাংস্কৃতিক কাজের জন্য হাত খুলে খরচ করারও সুবিধা রয়েছে। কী কারণে সংগঠনের বিভিন্ন পদে জেতার জন্য সবার এত আগ্রহ ও উদ্দীপনা, তা বোঝার উপায় নেই।
সে যা-ই হোক, নির্বাচনে যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তাদের মধ্য থেকেই নির্দিষ্ট পদে ২১ জন নির্বাচিত হয়ে আগামী দুই বছর দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের নিকট সংগঠনের সদস্য, এমনকি সদস্য নন কিন্তু নিউইয়র্কে বসবাস করছেন, এমন সকল বাংলাদেশির প্রত্যাশা—বিগত দিনে যেসব অনিয়ম নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছে, নতুন নির্বাচিত কমিটি সে বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে সচেষ্ট থাকবেন এবং সবার প্রত্যাশা অনুযায়ী কমিউনিটির কল্যাণে নতুন নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন করে তা বাস্তবায়নে সচেষ্ট হবেন।
লেখক : কবি, প্রাবন্ধিক, গীতিকার, কলামিস্ট ও গবেষক।