কার জন্য চেয়ারে বসে সালাত বৈধ

প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১১ , অনলাইন ভার্সন
সামান্য অসুস্থতা, দুর্বলতা, হালকা ব্যথা-বেদনার অজুহাতে চেয়ারে বসে সালাত আদায়ের প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ফলে মসজিদে মসজিদে দেখা যায় সারি সারি চেয়ার। চেয়ারে সালাত আদায়কারীদের মধ্যে এমন লোক দেখা যায়, যারা হাঁটা-চলা ও ওঠা-বসা করতে পারেন। কিন্তু সালাত আদায়ের সময় তারা চেয়ারে বসে পড়েন।
মনে রাখা দরকার, যেকোনো অসুস্থতার কারণে চেয়ারে বসে সালাত আদায় করা যায় না। সালাতে দাঁড়ানো অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি ফরজ কাজ। শুধু কিয়াম বা দাঁড়ানোকেই সালাত বলে কিছু আয়াত ও হাদিসে ব্যক্ত করা হয়েছে। যদি কেউ দাঁড়াতে অক্ষম হয়, তাহলে সে বসে সালাত আদায় করবে। এতেও অক্ষম হলে শুয়ে সালাত আদায় করবে।
হাদিসে আছে, ইমরান ইবনুল হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত, আমার অর্শ রোগ ছিল। তাই রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে, তা না পারলে বসে, যদি তাও না পারো তাহলে শুয়ে। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১১১৭)
আরও একটি বিষয় লক্ষণীয়, সিজদা হলো, সালাতের গুরুত্বপূর্ণ অন্যতম স্তম্ভ। এর যথাযথ প্রতিফলন হয় সমতলে সিজদা অবস্থায়। চেয়ারে বসে সালাত আদায়ে সিজদার মূল উদ্দেশ্য সাধিত হয় না।
সিজদার পদ্ধতি সম্পর্কে বিশুদ্ধ হাদিসে এসেছে, আবদুল্লাহ ইব্‌নু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা.) বলেন, আমাকে সাতটি অঙ্গের দ্বারা সিজদা করার জন্য আদেশ করা হয়েছে। কপাল দ্বারা এবং তিনি হাত দিয়ে নাকের প্রতি ইশারা করে এর অন্তর্ভুক্ত করেন, দুই হাত, দুই হাঁটু এবং দুই পায়ের আঙুলসমূহ দ্বারা। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৮১২)
এই হাদিস থেকে এটি স্পষ্ট, এই সাত অঙ্গ ব্যবহার করে সিজদা করলে পরিপূর্ণ সিজদা হবে এবং আল্লাহ তায়ালা এভাবেই সিজদা করারই হুকুম প্রদান করেছেন। সমতল ভূমিতে সিজদার মাধ্যমেই সিজদার বাস্তব প্রতিফলন ঘটে।
প্রথম হাদিস থেকে প্রতিভাত, দাঁড়াতে অক্ষম না হলে সালাত দাঁড়িয়ে আদায় করতে হয়। তেমনি বসে আদায়ে অক্ষম হওয়ার আগ পর্যন্ত বসে সালাত আদায় করতে হবে।
সালাতের অন্যান্য ফরজ-ওয়াজিব আমলের বিধানও এমনই। যখন যেটি আদায়ে অক্ষম হবে, তখন মা’জুর হিসেবে কেবল সেটি না করলে চলবে। অক্ষমতা গ্রহণযোগ্য একটি ওজর। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আল্লাহ কোনো ব্যক্তির ওপর তার সাধ্যের অতিরিক্ত কিছু আরোপ করেন না, ভালো করলে সে তার প্রতিফল পাবে এবং মন্দ করলে তার কৃতকর্মের ফল সে ভোগ করবে।’ (আল-বাকারা : ২৮৬)
অক্ষমতার প্রধান অর্থ হলো কাজের সামর্থ্য না থাকা। কাজে সমর্থ হলেও তা করলে মারাত্মক দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা হওয়া বা এর কারণে রোগ বৃদ্ধি পাওয়া কিংবা রোগ নিরাময়ে বিলম্ব হওয়ার প্রবল সম্ভাবনাও অক্ষমতা। এ ছাড়া তীব্র ব্যথা অনুভব করাও অক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত।
রোগের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার এবং তা নিরাময়ে বিলম্ব হওয়ার বিষয়টি কীভাবে নির্ণয় হবে, এর মূলনীতিও ফিকহ বিশেষজ্ঞগণ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। ইমাম ইবনুল হুমাম বলেন, রোগ বেড়ে যাওয়া এবং নিরাময়ে বিলম্ব হওয়ার বিষয়টি শুধু ধারণাভিত্তিক হলে চলবে না। এর পেছনে জোরালো কোনো প্রমাণ বা রোগীর পূর্ব অভিজ্ঞতা কিংবা মুসলিম অভিজ্ঞ কোনো ডাক্তারের অভিমতের ওপর ভিত্তি করে তা নির্ণয় করতে হবে। (ফাতহুল কাদির, ২য় খণ্ড, ৩৫১)
অসুস্থ হলেই চেয়ারে বসে সালাত আদায়ের অনুমতি নেই। দেখতে হবে অসুস্থতার মাত্রা কতটুকু। চেয়ারে বা উঁচু কিছুতে বসে সালাত শুরু করার পূর্বে ডাক্তারের পরামর্শের পাশাপাশি নিজের অবস্থার পুরোপুরি বিবরণ দিয়ে কোনো বিশেষজ্ঞ আলেম বা ফাতওয়া বিভাগ থেকে মাসআলা জেনে নিলে ভালো হয়। নতুবা ক্ষেত্রবিশেষে সালাত সহিহ নাও হতে পারে। কারণ, কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে সালাতের যেই লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে, চেয়ারে বসে সালাত আদায়ে তার প্রতিফলন হয় না। এমনকি সালাতের বিধানসমূহও যথানিয়মে আদায় হয় না। তবে অক্ষমতার একটি মাত্র সুরতে চেয়ার বা উঁচু কিছুতে বসে সালাত আদায়ের অনুমতি আছে, যা পরে আসছে।
শরিয়তের বিধান হলো যে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে সালাত আদায়ে অক্ষম, তার জন্য জমিনে বসে রুকু, সিজদাসহ সালাত আদায় করা। যে জমিনে রুকু-সিজদা করতে অক্ষম, তার জন্য অনুমতি আছে নিচে বসে ইশারায় রুকু-সিজদা আদায় করা। আর যে ব্যক্তি জমিনে বসতে অক্ষম, তার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা হলো চেয়ারে বা উঁচু কিছুতে বসে সালাত আদায় করা। কোনোভাবেই বসতে না পারলে সে ক্ষেত্রে বিধান হলো শুয়ে কিবলার দিকে চেহারা দিয়ে মাথা উঁচু করেই সালাত আদায় করা।
যে ব্যক্তি জমিনে সিজদা করতে অক্ষম, তার ব্যাপারে বিধান হলো সে ইশারায় সিজদা আদায় করবে। এ ধরনের ব্যক্তি সংগত কারণে চেয়ারে বসে সালাত আদায় করলে সেও ইশারায় সিজদা করবে। এর জন্য সামনে তক্তা বা টেবিল বা সামনে কিছু রেখে তাতে সিজদা করার প্রয়োজন নেই। তা হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয়।
ইশারায় সিজদা আদায়ের নিয়ম
ইশারার মাধ্যমে সিজদা আদায়ের ক্ষেত্রে নিয়ম হলো রুকুর জন্য মাথা যতটুকু ঝোঁকানো হয় সিজদার জন্য তার চেয়ে একটু বেশি ঝোঁকানো। মনে রাখবেন, সিজদার জন্য ইশারা করার সময় হাত হাঁটুতেই থাকবে। কেউ কেউ তখন জমিনে সিজদা করার মতো হাত চেহারা বরাবর রাখেন। এটি ভুল, এর কোনো ভিত্তি নেই।
চেয়ারে বসে যাদের সালাত বৈধ নয়
১. যে ব্যক্তি দাঁড়াতে পারে এবং সে রুকু ও সিজদা করতে সক্ষম, তার জন্য জমিনে বা চেয়ারে বসে সালাত আদায় করা জায়েজ নয়।
২. যার পায়ে বা কোমরে ব্যথা, দাঁড়িয়ে রুকু-সিজদাসহ সালাত আদায় করলে শরীরে ব্যথা লাগে কিন্তু ব্যথা এ পরিমাণের নয় যে, তা সহ্যের বাইরে। তার জন্যও জমিনে বা চেয়ারে বসে সালাত আদায়ের সুযোগ নেই। এমন করলে নামাজ আদায় হবে না।
৩. যে কিছুটা অসুস্থ, তবে অসুস্থতা এ পর্যায়ের নয় যে, কিয়াম, রুকু ও সিজদা করে সালাত আদায়ে সক্ষমই নয়। রুকু ও সিজদাসহ দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলে তার রোগ বেড়ে যাবে বা রোগ নিরাময়ে বিলম্ব হবে, এমনও নয়। এরূপ অসুস্থতার অজুহাতে জমিনে বা চেয়ারে বসে সালাত আদায়ের নিয়ম নেই।
৪. যে ব্যক্তি দাঁড়াতে সক্ষম, জমিনে সিজদাও করতে পারে, তবে পা ভাঁজ করে নিচে বসতে পারে না, অন্যভাবে বসতে পারে, তার জন্যও চেয়ারে বসে সালাত আদায় জায়েজ নয়। সে দাঁড়িয়ে রুকু-সিজদাসহ যথানিয়মে সালাত আদায় করবে। বসার সময় যেভাবেই তার জন্য সম্ভব হয়, সেভাবে জমিনে বসে তাশাহুদ, দরুদ ইত্যাদি পাঠ করবে। এমন ব্যক্তি জমিনে সিজদা না করে চেয়ারে বসে ইশারায় সিজদা করলে তার সালাত সহিহ হবে না।
মনে রাখবেন, শুধু বসা সালাতের অন্যতম ফরজ। সুন্নত তরিকায় বসতে না পারা কোনো ওজর নয়। পা ছড়িয়ে, চারজানু হয়ে বা এক পা বিছিয়ে আরেক পা উঠিয়ে কিংবা এক পায়ের পাতা বিছিয়ে আরেক পা বের করে অথবা উভয় পা বের করে বা অন্য যেকোনো পদ্ধতিতে জমিনে বসতে পারলেই হলো।
৫. যে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে সালাত আদায়ে সক্ষম নয়, তবে জমিনে কোনো এক পদ্ধতিতে বসতে পারে এবং সিজদাও করতে পারে, সে চেয়ারে বা উঁচু কিছুতে বসে সালাত শুরু করলে সিজদা ও বৈঠকের জন্য জমিনে নামতে সক্ষম হয় না। এমন ব্যক্তির জন্যও চেয়ারে বসে সালাত আদায় জায়েজ নয়। সে শুরু থেকেই জমিনে বসে সিজদাসহ সালাত আদায় করবে, নতুবা তার সালাত আদায় হবে না।
৬. যে ব্যক্তি দাঁড়ানো থেকে বসতে পারে না, আবার বসলে পুনরায় দাঁড়াতে পারে না, তার জন্যও চেয়ারে বসে সালাত আদায় জায়েজ নয়। বরং সে পুরো সালাত জমিনে বসে আদায় করবে, যাতে যথানিয়মে জমিনে সিজদা করতে পারে; নতুবা তার সালাত সহিহ হবে না।
আংশিক সালাত চেয়ারে বসে আদায় করা
১. যে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে সালাত আদায়ে সক্ষম নয়, তবে জমিনে কোনো না কোনোভাবে বসতে পারে এবং সিজদাও করতে পারে, সে পুরো সালাতই জমিনে বসে আদায় করবে। এমন ব্যক্তি যদি সিজদার সময় চেয়ারে বসে ইশারায় সিজদা আদায় করে, তবে তার সালাত সহিহ হবে না। সে যদি কিয়াম ও রুকুর সময় চেয়ারে বসে আর সিজদা ও তাশাহুদের সময় জমিনে বসে, তবে তার সালাত আদায় হয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে জমিনে বসে আদায় করার নিয়ম লঙ্ঘন করার কারণে তার নামাজ মাকরুহ হবে।
২. যে ব্যক্তি দাঁড়াতে সক্ষম এবং দাঁড়ানো থেকে চেয়ারেও বসতে পারে, কিন্তু জমিনে কোনো পদ্ধতিতেই বসতে পারে না, এমন ব্যক্তির জন্য বিধান হলো সে যথানিয়মে দাঁড়িয়ে সালাত শুরু করবে। এরপর স্বাভাবিকভাবে রুকু করতে পারলে রুকুও করবে। তারপর অবশিষ্ট সালাত উঁচু কিছুতে বা চেয়ারে বসে আদায় করবে। দাঁড়াতে সক্ষমতার কারণে তার জন্য শুরু থেকেই চেয়ারে বসে নামাজ পড়া সহিহ নয়।
উল্লেখ্য, যে ব্যক্তি জমিনে সিজদা করতে সক্ষম নয়, তার ব্যাপারে হানাফি মাজহাবের প্রসিদ্ধ মত হলো, এমন ব্যক্তির ওপর দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করা জরুরি নয়; বরং সে বসে ইশারায় সালাত আদায় করতে পারবে।
এ অভিমত যদিও একেবারে দলিলবিহীন নয়, কিন্তু দলিলের বিচারে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর শাগরেদ ইমাম যুফার ইবনে হুযাইল (রহ)-এর অভিমত বেশি শক্তিশালী মনে হয়। তা হলো এমন ব্যক্তি (যে ব্যক্তি জমিনের ওপর সিজদা করতে অক্ষম) যদি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে সক্ষম হয়, তাহলে তাকে দাঁড়িয়েই নামাজ আদায় করতে হবে। আর যেহেতু সে সিজদা করতে অক্ষম, তাই সে ইশারায় সিজদা করবে (যদি রুকু করতেও অক্ষম হয়, তাহলে রুকুও ইশারায় আদায় করবে)। জমিনে সিজদা করতে অক্ষম হওয়ার কারণে দাঁড়ানোর ফরজ ছাড়া যাবে না। আর এটাই ইমাম মালেক, ইমাম শাফি’ঈ এবং ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহ.) মাজহাব।
তবে জমিনের ওপর সিজদা করতে অক্ষম কোনো মুসল্লি যদি ফিকহে হানাফির প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী আমল করে পুরো সালাত বসে আদায় করে এবং ইশারায় রুকু-সিজদা করে, তাহলে তা সহিহ হয়নি বলা যাবে না। কারণ এটি একটি ইজতিহাদি মাসআলা। এতে মতভিন্নতার কোনো একটিকে অকাট্য বলার সুযোগ নেই।
৩. যে ব্যক্তি দাঁড়াতে ও রুকু করতে সক্ষম এবং সরাসরি জমিনে কোনো না কোনোভাবে বসতেও পারে, কিন্তু সিজদা করতে পারে না, সে তো কিয়াম ও রুকু যথানিয়মেই আদায় করবে। এরপর জমিনে বসে যাবে। ইশারায় সিজদা আদায় করবে এবং তাশাহুদ জমিনে বসেই আদায় করবে। এমন ব্যক্তি যেহেতু মাটিতে বসতে পারে, তাই তার জন্য জমিনে বসার পরিবর্তে চেয়ারে বসা মাকরুহ তাহরিমি, যা পরিহার করা কর্তব্য।
৪. যে ব্যক্তি দাঁড়াতে সক্ষম নয়, কিন্তু জমিনে কোনো না কোনোভাবে বসতে পারে এবং সিজদাও করতে পারে, সে যদি চেয়ারে বসে সালাত আদায় করে এবং সিজদার জন্য চেয়ার থেকে নেমে মাটিতে সিজদা আদায় করে, তবে এ ক্ষেত্রে তার সিজদা যথানিয়মে আদায় হলেও তাশাহুদের বৈঠক চেয়ারে আদায় করার কারণে নামাজ মাকরুহ তাহরিমি হবে; যা পরিহার করা কর্তব্য।
চেয়ারে বা উঁচু কিছুতে বসে সালাত আদায়ের অনুমতি আছে কেবল এই ব্যক্তির জন্য, যে দাঁড়াতে অক্ষম এবং সে ভূমিতে বসে রুকু ও সিজদার কোনোটিই আদায় করতে সক্ষম নয়। সোজা কথায় শুধু চেয়ার বা উঁচু কিছুতে বসা ছাড়া যার দাঁড়ানোর কোনো শক্তি নেই, কেবল এমন ব্যক্তির জন্য চেয়ারে বসে সালাত আদায় করা জায়েজ।
উল্লিখিত আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে চেয়ারে বসে সালাত আদায় করা অশুদ্ধ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আংশিক সালাত চেয়ারে বসে আদায়ের অনুমোদন থাকলেও তা মাকরুহ। কেবল একটি ক্ষেত্র এমন, যেখানে চেয়ারে বসে সালাত আদায় করলে তা আদায়ও হয়ে যায় এবং মাকরুহও হয় না।
এই বিষয়টি আমরা উপলব্ধি করতে পারলে মসজিদগুলোতে চেয়ারের সংখ্যা হ্রাস পাবে। এমনকি মসজিদে চেয়ারের প্রয়োজনই হবে না।
চেয়ারের আরবি কুরসি। আয়াতুল কুরসি নামে আল কোরআনে একটি আয়াত রয়েছে। অসুস্থতার জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জমানায় কোনো চেয়ার বা মোড়া ছিল? অসুস্থতা ছিল সব যুগে। অসুস্থতার কারণে নবী করিম (সা.) নিজেও জমিনে বসে সালাত আদায় করেছেন। চেয়ারে বসে সালাত আদায়ের যে প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে, তা আধুনিক এক আবিষ্কার।
যে কঠিন শর্তে সালাতে চেয়ার ব্যবহারের অনুমতি আছে, সে ক্ষেত্রেও যদি উঁচু মোড়া, টুল ইত্যাদি ব্যবহারে কাজ হয়, সে ক্ষেত্রে চেয়ার ব্যবহার না করাই ভালো। তেমনিভাবে হাতলবিহীন চেয়ারে যদি কাজ সেরে যায়, তাহলে হাতলযুক্ত চেয়ার ব্যবহার থেকে বিরত থাকা উচিত।
সালাতের মাধ্যমে আল্লাহর গোলামি করা যাদের কাম্য, আশা করি তারা বিষয়টি বিবেচনায় নেবেন। মনে রাখবেন, এখানে দাঁড়ানো এবং রুকু ও সিজদার অপরিহার্যতা নিয়ে যেসব আলোচনা করা হলো, তা ফরজ সালাতের ব্যাপারে। নফল সালাত বাহনের ওপর বসে ইশারার মাধ্যমে পড়া যায়। এতে কিবলামুখী হওয়ারও প্রয়োজন হয় না। রাসুলুল্লাহ (সা.) স্বয়ং এভাবে আদায় করেছেন।
বর্ণিত হয়েছে, আবদুল্লাহ ইব্‌নু উমর (রা.) বলেন, ফরজ সালাত ব্যতীত নবী (সা.) সফরে তাঁর সাওয়ারি হতেই ইঙ্গিতে রাতের সালাত আদায় করতেন, সাওয়ারি যেদিকেই ফিরুক না কেন। আর তিনি বাহনের ওপরই বিতর আদায় করতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১০০০)
এ কথা মনে রাখা দরকার, ফরজ সালাত ছাড়া অন্যান্য সকল সালাত নফলের অন্তর্ভুক্ত। এগুলো সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর গুরুত্বারোপের আলোকে সুন্নতে মুয়াক্কাদা, গায়র মুয়াক্কাদা ও মুস্তাহাব ইত্যাদি নির্ণয় করা হয়েছে। সুতরাং সালাত আদায়কালে মুসল্লিকে এর প্রতি মনোনিবেশ করা চাই।
লেখক : মুহাদ্দিস ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের লেখক-গবেষক।
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]