অ্যাতখন হেমন্তকাল। সময়টা আমার প্রিয়। শৈশবের স্মৃতি। সকালবেলা—মিষ্টি বাতাস, হালকা শীত। মায়াময় প্রকৃতি। ভাইবোন মর্নিং ওয়াকে বের হতাম। পাড়ার খালার বাসা। সেখানে শেফালি ফুল ফোটে। শেফালি রাতের ফুল। মিষ্টি সুবাস। সূর্য ওঠার আগে ঝরে পড়ে। আমরা শেফালি ফুল কুড়াতাম। একটা ঝুড়ি ছিল। ঝুড়ি ভরে নিয়ে আসতাম। ভাইবোন বারান্দায় বসি। কিশোরী বয়স। সে এক মহানন্দ। মনের ভেতর প্রশান্তি। একদিনের কথা—ফুল নেই, কে যেন নিয়ে গেছে! পাড়ার সাথিরা এ কাজটি করে। ফুল কুড়ানোর প্রতিযোগিতায় নামি। চিরকাল সকালে ওঠার অভ্যাস। আমরা জয়ী হই। আশ্বিনের প্রভাত, আমার স্মৃতিতে পবিত্র। শৈশব-কৈশোরের স্মৃতি ভোলা যায় না।
ইউএসএতে অনেক ফুল দেখতে পাই। কিন্তু শেফালি ফুল দেখিনি। হয়তো নিউইয়র্কে নেই, অন্য স্টেটে শেফালি ফুল ফোটে। শেফালি একটি শব্দ। ফুলের নাম। এই নামে কেউ কেউ সন্তানের নাম রাখেন। ফুলটির পাপড়িগুলো সাদা। সাদা রং আমার প্রিয়। সেই অর্থে শেফালি ফুল খুব প্রিয়। শেফালি শব্দটির সঙ্গে আমার কষ্টের স্মৃতি জড়িত। আমাদের চাচাতো বোন—নাম শেফালি। চাচির বড় সন্তান। যখন গ্রামের বাড়ি যেতাম, শেফালি আমাদের দেখাশোনা করত, যত্ন নিত। কলসভর্তি পানি আনত, কুয়ো থেকে পানি তুলত। তখন এখনকার মতো আরাম-আয়েশ ছিল না। শেফালি আমাদের আশপাশেই থাকত। একবার অসুস্থ হয়। মা ঢাকায় নিয়ে আসেন। ডাক্তার দেখান।
অনেক দিন পর গ্রামের বাড়ি বেড়াতে যাই। শেফালির ছোট বোন দেখা করে। মন খুব খারাপ—বুজি মইরা গেছে, জানেন? এ বলে কী! কী হয়েছিল শেফালির? কখনোই মনে হয়নি অসুস্থ। আমার বয়স কম, স্কুলে পড়ি কিন্তু খুব কষ্ট পাই। আবেগ দেখাতে পারিনি। তারপর যখনই গ্রামে যেতাম, তার কথা মনে হতো। কেমন যেন শূন্য লাগত। একটা মানুষের অভাব, একটা শূন্যতা পেয়ে বসত, কাউকে বলিনি।
এখন অক্টোবর মাস। হেমন্তকাল। শৈশবের সেই ফুল কুড়ানোর অদ্ভুত আনন্দ, শেফালিকে হারানের বেদনা—গভীরভাবে জড়িত। শেফালিকে শেফালি ফুল বলে ডাকতাম। ছড়া বলতাম, বনভোজন করতাম—অনেক স্মৃতি জড়িত। বোন শেফালি, তুমি শুভ্র সুরভি?
এখন অনেক পরিণত বয়স। আকাশে মেঘ দেখলে ভয় পাই। সাগরের ঢেউ ভয় পাই! ভূমিকম্প, সুনামি এসবের ভয় তো আছেই। আর ভয় পাই কঠিন বাস্তবতা! বৈশ্বিক অস্থিরতা আর অসন্তোষের ভয়! বনের দাবানল বারবার আঘাত করে, কিন্তু মনে বোন শেফালি, শৈশবের হেমন্ত আর শেফালি ফুল।
লেখক : অ্যাডভোকেট, সুপ্রিম কোর্ট, ঢাকা, বাংলাদেশ। ঢাবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, নিউইয়র্ক প্রবাসী।
ইউএসএতে অনেক ফুল দেখতে পাই। কিন্তু শেফালি ফুল দেখিনি। হয়তো নিউইয়র্কে নেই, অন্য স্টেটে শেফালি ফুল ফোটে। শেফালি একটি শব্দ। ফুলের নাম। এই নামে কেউ কেউ সন্তানের নাম রাখেন। ফুলটির পাপড়িগুলো সাদা। সাদা রং আমার প্রিয়। সেই অর্থে শেফালি ফুল খুব প্রিয়। শেফালি শব্দটির সঙ্গে আমার কষ্টের স্মৃতি জড়িত। আমাদের চাচাতো বোন—নাম শেফালি। চাচির বড় সন্তান। যখন গ্রামের বাড়ি যেতাম, শেফালি আমাদের দেখাশোনা করত, যত্ন নিত। কলসভর্তি পানি আনত, কুয়ো থেকে পানি তুলত। তখন এখনকার মতো আরাম-আয়েশ ছিল না। শেফালি আমাদের আশপাশেই থাকত। একবার অসুস্থ হয়। মা ঢাকায় নিয়ে আসেন। ডাক্তার দেখান।
অনেক দিন পর গ্রামের বাড়ি বেড়াতে যাই। শেফালির ছোট বোন দেখা করে। মন খুব খারাপ—বুজি মইরা গেছে, জানেন? এ বলে কী! কী হয়েছিল শেফালির? কখনোই মনে হয়নি অসুস্থ। আমার বয়স কম, স্কুলে পড়ি কিন্তু খুব কষ্ট পাই। আবেগ দেখাতে পারিনি। তারপর যখনই গ্রামে যেতাম, তার কথা মনে হতো। কেমন যেন শূন্য লাগত। একটা মানুষের অভাব, একটা শূন্যতা পেয়ে বসত, কাউকে বলিনি।
এখন অক্টোবর মাস। হেমন্তকাল। শৈশবের সেই ফুল কুড়ানোর অদ্ভুত আনন্দ, শেফালিকে হারানের বেদনা—গভীরভাবে জড়িত। শেফালিকে শেফালি ফুল বলে ডাকতাম। ছড়া বলতাম, বনভোজন করতাম—অনেক স্মৃতি জড়িত। বোন শেফালি, তুমি শুভ্র সুরভি?
এখন অনেক পরিণত বয়স। আকাশে মেঘ দেখলে ভয় পাই। সাগরের ঢেউ ভয় পাই! ভূমিকম্প, সুনামি এসবের ভয় তো আছেই। আর ভয় পাই কঠিন বাস্তবতা! বৈশ্বিক অস্থিরতা আর অসন্তোষের ভয়! বনের দাবানল বারবার আঘাত করে, কিন্তু মনে বোন শেফালি, শৈশবের হেমন্ত আর শেফালি ফুল।
লেখক : অ্যাডভোকেট, সুপ্রিম কোর্ট, ঢাকা, বাংলাদেশ। ঢাবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, নিউইয়র্ক প্রবাসী।