বিভিন্ন জরিপে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস

রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের পূর্বাভাস

প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:১৩ , অনলাইন ভার্সন
যুক্তরাষ্ট্রের আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টি নজিরবিহীন রাজনৈতিক ও কৌশলগত সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। অর্থনীতি, নিত্যপণ্যের উর্ধ্বমুখী দাম, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, ক্ষতিকর শুল্কনীতি এবং বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির আকাশচুম্বী দাম মার্কিন ভোটারদের মধ্যে চরম ক্ষোভ তৈরি করেছে। একের পর এক প্রকাশ পাওয়া জনমত জরিপে ট্রাম্পের জনসমর্থনে রেকর্ড ধস দেখা গেছে এবং কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হচ্ছে। বিভিন্ন জরিপ ও বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য এক ‘ঐতিহাসিক পরাজয়’ অপেক্ষা করছে।
গত ১৯ অক্টোবর (সোমবার) প্রকাশিত রয়টার্স/ইপসোসের চার দিনব্যাপী সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট মাত্র ৩১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক, যা দুই সপ্তাহ আগের তুলনায় আরও ১ শতাংশ পয়েন্ট কম। এটি তাঁর দুই মেয়াদে সর্বনিম্ন অনুমোদনের হার। জরিপ অনুযায়ী, আজ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ৪৭ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে এবং ৩৫ শতাংশ ভোটার রিপাবলিকান পার্টিকে বেছে নেবেন। ডেমোক্র্যাটদের এই ১২ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধান চলতি নির্বাচনী চক্রে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ, যা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে তাদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পথকে আরও জোরালো করে তুলেছে। বিশেষ করে নারী ভোটারদের ৫০ শতাংশ ডেমোক্র্যাটদের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন, যেখানে রিপাবলিকানদের সমর্থনে আছেন মাত্র ৩২ শতাংশ। একই চিত্র ধরা পড়েছে অন্যান্য প্রধান জরিপগুলোতেও। পিউ রিসার্চ সেন্টারের (৮ অক্টোবর) জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের প্রতি সন্তুষ্টি নেমেছে মাত্র ৩০ শতাংশে এবং ৬৮ শতাংশ নাগরিক অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এপি-এনওআরসির (১ অক্টোবর) জরিপে ৭১ শতাংশ উত্তরদাতা ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টের ভূমিকার বিরোধিতা করেছেন। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে সামরিক অভিযানের পর বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মার্কিনীদের জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস নামে। ৬৮ শতাংশ নাগরিক অর্থনীতি সামলানোয় তাঁর ভূমিকায় ক্ষুব্ধ, যার মধ্যে ৩৭ শতাংশ নিজেদের রিপাবলিকান সমর্থক বলে দাবি করেন। পিউ রিসার্চের মতে, ভোটারদের ৪৪ শতাংশ জানিয়েছেন যে তাঁদের ভোট মূলত ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা প্রকাশের হাতিয়ার। এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক ভাষ্যকার ও ‘রিয়েল টাইম’ উপস্থাপক বিল মাহের পডকাস্টে মন্তব্য করেন, ট্রাম্প আর আগের সেই ‘কিং কং’ নন এবং ভোটাররা ব্যালট বাক্সে তাঁদের অসন্তোষের প্রকাশ ঘটাবেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই বিপর্যয় ডেমোক্র্যাটদের প্রতি জনগণের পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে না; বরং ভোটাররা প্রধানত ট্রাম্পের নীতি ও নেতৃত্বের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে বিরোধী পক্ষে ভোট দিচ্ছেন।
একই সুর ধ্বনিত হয়েছে নির্দলীয় বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ‘কুক পলিটিক্যাল রিপোর্ট’-এর মূল্যায়নেও। জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ডেভিড ওয়াসারম্যান জানান, প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণী ৩৭টি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকায় ডেমোক্র্যাটরা ৪৯ ও রিপাবলিকানরা ৪৭ শতাংশ সমর্থনে এগিয়ে গেছেন, যা গত ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের দখলে ছিল। এমনকি সম্পাদক এরিন কোভি ১৬ অক্টোবরের বিশ্লেষণে ওহাইও, নেব্রাস্কা ও কানসাসের মতো রিপাবলিকান ঘাঁটির ১১টি আসনের অবস্থান ডেমোক্র্যাটদের অনুকূলে সংশোধন করেছেন।
ট্রাম্পের নিজস্ব সমর্থকগোষ্ঠীতেও বড় ধস নেমেছে; ২০২৪ সালে তাঁকে ভোট দেওয়া ৯৫ শতাংশ নাগরিক শুরুতে তাঁর পাশে থাকলেও বর্তমানে সেই হার কমে ৬৭ শতাংশে নেমে এসেছে। রিপাবলিকানদের প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটের যেকোনো একটির নিয়ন্ত্রণ হারানো ট্রাম্প প্রশাসনের মেয়াদের অবশিষ্ট দুই বছরের অর্থনৈতিক ও আইনি এজেন্ডা বাস্তবায়নকে চরম কোণঠাসা করে ফেলবে। তবে মূল বিশ্লেষকদের মতে, চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারিত হবে প্রধান দুই দলের প্রতিই অসন্তুষ্ট ভোটারদের শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্ত ও ৩ নভেম্বরের কেন্দ্রভিত্তিক উপস্থিতি অনুযায়ী।
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]