অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহ ছিল মূলত পূজাময়। হিন্দু-প্রধান রাষ্ট্র ভারতে পূজার গুরুত্ব সর্বাধিক। বাঙালি সনাতন হিন্দুরা ষষ্ঠী থেকে নবমী মহোৎসব করে। ৮দিন পূর্বে ‘মহালয়া’ দিয়ে উৎসবের সূচনা। ‘মা দুর্গা’র আগমন উপলক্ষে শহর-গ্রামে
মাতম। কলকাতার পূজা উৎসব জগদ্বিখ্যাত। কিন্তু ২০২৬-এর উৎসব ছিল বিষাদে ভরা। গিরিশ পার্কের চোরবাগানের উৎসবে ১৯টি করুণ মৃত্যু।
ভারতের প্রায় প্রতিটি রাজ্যে পূজাকে বরণের প্রথা। মুম্বাইয়ের তারকা-প্রধান পূজা মণ্ডপগুলো ছড়ায় রোশানাই। কিন্তু জেএনজি বা সিজিপির আন্দোলনে উৎসব উধাও। প্রধান নেত্রী নোহা বোরা আপাদমস্তক পূজাপ্রেমিক। উত্তরাখণ্ডের তরুণী বেড়ে উঠেছে উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে। ধূপ-ধোঁয়ায় পূজা-অর্চনায় একদা অদম্য ছিলো। কিন্তু এবার কখনো যন্তর-মন্তর আন্দোলনে, কখনও জেলে। পূজার আনন্দ নেই মুখ্যমন্ত্রী-খ্যাত মমতা ব্যানার্জির, শুভেন্দু অধিকারীরও।
অন্যদিকে পূজার সাফল্যের পূর্ণ হাসি বাংলাদেশের অবয়বে। ৭টি নতুন রেকর্ড গড়েছেন প্রথানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার।
পূজার সাফল্যে বাংলাদেশের
অর্জন ৭টি রেকর্ড
০১. ২০২৬-এ সর্বোচ্চ সংখ্যক পূজামন্ডপ ▪️ ৩২ হাজার ৩৫১ টির স্থলে এবার ৩৩ হাজার ৮৫১টি। পূজা উদযাপন পরিষদের মতে এবার দেড় হাজার বেড়েছে।
০২. সর্বোচ্চ বাজেট তথা সর্বোচ্চ বরাদ্দ ▪️ ৫ কোটির স্থলে বাড়ানো হয়েছে এক কোটি টাকা। এছাড়া সারা দেশের মন্দিরসমূহে আছে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার। উল্লেখ্য শেখ হাসিনার শাসনামলে ছিল ২ কোটি টাকা। ড. ইউনুস-এর অন্তবর্তী সরকার করে দ্বিগুণ। এবার অসংখ্য মন্দিরে শাড়ি প্রদান করা হয়েছে। অসহায়-অস্বচ্ছল হিন্দু নারীরা তা পেয়েছেন।
০৩. সর্বোচ্চ সংখ্যক ছুটি ▪️ পূর্বে শারদোৎসবে ছুটি ছিল একদিন। ২০২৬-এ তা ৩ দিন করা হয়েছে। সঙ্গে শুক্র-শনি সরকারি ছুটি। ফলে টানা ৫দিন খুশির আমেজ। বাংলাদেশে প্রথমবার এমন ঘটনা ঘটলো। এতে সর্বধর্মের মানুষই ছুটিটি উপভোগ করেছে। শহর থেকে গ্রাম অভিমুখে যাত্রার ঢল নামে।
০৪. সরকারের সর্বোচ্চ মনোযোগ ▪️ নিরাপত্তা ও সাহারা দিতে সরকার প্রশাসন ছিল তটস্থ। জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ইউএনওরা চালিয়েছেন তদারকি।
প্রতিবছর পূজা মন্ডপে আক্রমণ বা প্রতিমা ভাঙ্গার ঘটনা ঘটে। ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার এ ক্ষেত্রে রেকর্ড গড়ে। ২০২৬-এ বিষয়টি অনেকটা থিতিয়ে এসেছে। তবুও অর্ধডজন বিছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। সিলেট, রাজবাড়ি, পঞ্চগড়, নেত্রকোণা, টাঙ্গাইলে ঘটনাগুলো। তবে প্রশাসনের তৎপরতায় পরিস্থিতি ছিল শান্তিপূর্ণ।
হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট ও জেলা প্রশাসন অনুদান দিয়েছে। পাশাপাশি তৃণমূল পর্যন্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তারা তৎপর ছিলেন।
০৫. বিএনপি’র সর্বোচ্চ নজরদারি ▪️ দুর্গাপূজা উদযাপন বিষয়ক রেকর্ড গড়েছে বিএনপি। প্রথমবারের মতো স্থায়ী কমিটির সভা ডাকে। গত পয়লা সেপ্টেম্বর ছিল ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। কিন্তু দুর্গাপূজার মতো সক্রিয়তা ছিল না। স্থায়ী কমিটি সিদ্ধান্ত নেয় পূজায় সর্বাত্মক সহযোগিতার। ওয়ার্ড/ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত চলবে সহযোগিতা, নজরদারি। চাঁদাবাজি, অশ্লীলতামুক্ত শারদোৎসব নিশ্চিত করার কার্যক্রম। সারাদেশে মানব ঢাল হয়ে বিএনপি, অঙ্গ সংগঠন ভূমিকা রাখে।
০৬. পূজা মন্ডপে প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ সফর ▪️ দেশে প্রথমবারের মতো ঘটনাটি ঘটলো। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছুটলেন তিনটি বিভাগে। রংপুর রাজশাহী ও চট্টগ্রামের পূজামন্ডপে গেলেন। গত ২০ অক্টোবর নবমীর দিনে গড়লেন রেকর্ড। সার্বজনীনতা পেলো সনাতন ধর্মীয় উৎসব। এতে ভয়কে জয় করেছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ দিয়েছেন অভয়। বলেছেন সংবিধান সংখ্যালঘু-সংখ্যাগরিষ্ঠের কথা বলে না। সংবিধান মতে নাগরিক মাত্রই সমান অধিকারের পাত্র। সমানাধিকার নিয়েই মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ বসবাস করবে।
০৭. সর্বোচ্চ আনন্দ উৎসব, সর্বোচ্চ সাজসজ্জা ▪️ পূজার আনন্দ অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। সাজ-সজ্জাতেও পুরনো রেকর্ড ভেঙেছে বাংলাদেশ। সর্বপরিচিত ঢাকেশ্বরী মন্দিরে খরচ দেড় কোটি ছাড়িয়ে গেছে।
সাজ-সজ্জা সর্বোচ্চ নজর কেড়েছে বনানীর প্রতিমা। ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্য ভাইরাল। বলেছেন, ভারতের চেয়ে বনানীর পূজামন্ডপ বেশি সুন্দর।
প্রতিমা দর্শনে যাননি দিল্লি-
নির্বাসিতা হাসিনা-তসলিমা
দিল্লিতে বসবাস বাংলাদেশি দুই বিতর্কিতার। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। বিতর্কিত লেখিকা তাসলিমা নাসরিনের। দুজনের সঙ্গে বিজেপির রাজনীতির বিশেষ সখ্য। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিশেষ ঘনিষ্ঠ শেখ হাসিনা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘নবসখা’ তাসলিমা নাসরিন। বিজেপি-বিরোধী সিজেপির শত্রুতালিকায় শেখ হাসিনা, তাসলিমা। সিজেপি বা ককরোচ পার্টি হাসিনা-বিরোধী শ্লোগানও দিচ্ছে। ছাত্র আন্দোলনের উত্তাল পরিস্থিতিতে সেই ‘আওয়ামী দেবী’ অনেকটা পর্যুদস্ত। বিজেপি-বান্ধব তাসলিমার বিরুদ্ধেও তরুণরা ক্ষুব্ধ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে আক্রমণ। এহেন অবস্থায় দিল্লিতে বসবাস স্বস্তিদায়ক নয়। উভয়ে অন্যত্র সরে যাওয়ার প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন।
উভয়েই দুর্গাপূজার উৎসব উপভোগে অভ্যস্ত। কিন্তু ২০২৬-এ কপালে জোটেনি প্রতিমা দর্শন। তসলিমা অবশ্য রাখঢাক না করে চেষ্টা চালিয়েছেন। কিন্তু শেখ হাসিনা কোন সুযোগই পাননি। কান পর্যন্ত পৌঁছায়নি ঢাক-ঢোলের সুরসমূহ।
পূজা-সাফল্য : বাংলাদেশ
অর্জনে, ভারত বিসর্জনে
কলকাতায় পূজা উপভোগে আসতেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও অতিথি হতেন। কিন্তু সিইসি গণেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে টালমাটাল পরিস্থিতি। বিজেপির পূজনীয় নেতাদের বিসর্জনের প্রক্রিয়া চলমান। ১৩ কোটি ভোটারকে নিষিদ্ধকরণের প্রতিবাদে ঝড়। সিজেপি, অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্ট ফোরাম এককাট্টা। রাজধানী দিল্লি এখন আন্দোলন-সংগ্রামে উত্তাল। ভাঙচুর, লন্ডভন্ড, বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার হুলস্থূল পরিস্থিতি।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন ‘বাংলাদেশ স্টাইলে’ অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা চলছে। আন্দোলন-নেত্রী নেহা বোরা বলেছেন ‘নমস্তে বাংলাদেশ।’ তোমাদের সব আন্দোলন আমাদের প্রধান অনুপ্রেরণা। উল্লেখ্য, মিছিল-পথসভায় চলছে বাংলাদেশের গান। ইথুন বাবুর সুরে মৌসুমী চৌধুরীর গান। ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের— ‘দেশটা তোমার বাবার নাকি...’।
অথচ এই সময়ে বাজানোর কথা পূজার গান। কিন্তু আন্দোলনের পদাঘাতে পিষ্ট মহান শারদোৎসব।
২০২৬-এর ৪ মে ঘোষিত ফলাফলে তৃণমূলের পরাজয়। পশ্চিমবঙ্গে পরাজিত মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তৃণমূল কংগ্রেস বা টিএমসির রাজনীতি যেন বিসর্জনে। অন্যদিকে চন্দ্রোদয় ঘটনা বিতর্কিত রাজনৈতিক শুভেন্দু অধিকারীর। মুখ্যমন্ত্রী হলেন, পূজার মহোৎসব করবেন। কিন্তু ঝরা পাতার মাস অক্টোবরে কাঁদলেন। চোরবাগানের পূজা মণ্ডপে ১৯টি লাশের বিনাশী বিষাদ। বৃষ্টির তোড়ে ঢেউ হয়ে মানুষ ঢোকে মন্দিরে। রাস্তা অত্যন্ত সরু, অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিস্থিতি। পায়ে দলে ঢলে পড়া মানুষ। বুকের ওপরে চাপের কারণে শ্বাসরোধ। ১৯ জন সরাসরি মৃত্যুর মিছিলে। আরো প্রায় ৪০ জন আহত, অর্ধমৃত। উৎসবের হাসিটা বাসী হলো শুভেন্দু অধিকারীর। লাশপ্রতি পঁচিশ লাখ টাকার অনুদান ঘোষণা।
সুখবর এলো না সুদূর প্রবাসে থেকেও। কলকাতার গায়িকা ইমন চক্রবর্তী আমেরিকায় কেঁদেছেন। পূজার প্রণোদানা দিতে প্রতিবছর প্রবাসীদের অতিথি। রেমিটেন্স যোদ্ধাদের মনোরঞ্জন করেন গানে গানে। কিন্তু এ বছর গোল বাঁধলো ‘আমেরিকান এয়ারলাইনস’। নিউ জার্সির গান-যাত্রীকে আটকালো ডালাস এয়ারপোর্ট। বিধি মোতাবেক সঙ্গের বাদ্যযন্ত্র প্লেনে উঠবে না। ভেঙে যাওয়ার দায় দায়িত্ব বিমান কর্তৃপক্ষ নেবে না। ফলে বাকবিতন্ডা, বিরোধ, পত্রপাঠ বিদায়। একরাশ ক্ষোভ আর দুঃখ ইমন চক্রবর্তীর চোখে-মুখে।
মুম্বাইয়ে রানী মুখার্জি-কাজলদের পূজাতে মন্দা। কল্লোল অগ্নিটোলা সার্বজনীন শারদোৎসব জমলো না। ৪২ বছরের মিলনতীর্থ উৎসবও প্রাণ পেলো না। বরং উদ্দীপণায় সোচ্চার জে-নজির আন্দোলনের কার্যক্রম।
পূজা-পার্বণকালেই বেরোলো আইএমএফ-এর সমীক্ষা। ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক আউটলুকে’র সর্বশেষ তথ্য। মাথাপিছু উৎপাদনে বাংলাদেশ এগিয়েছে। আর পিছয়ে পড়েছে পৃথিবীর ‘পঞ্চম ক্ষমতাধর’ ভারত। বাংলাদেশের জিডিপি ২ হাজার ৮৮৬ মার্কিন ডলার। আর ভারতের ২ হাজার ৭৪৯ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ অর্জনে বাংলাদেশ, আর বিসর্জনে ভারত।
মাতম। কলকাতার পূজা উৎসব জগদ্বিখ্যাত। কিন্তু ২০২৬-এর উৎসব ছিল বিষাদে ভরা। গিরিশ পার্কের চোরবাগানের উৎসবে ১৯টি করুণ মৃত্যু।
ভারতের প্রায় প্রতিটি রাজ্যে পূজাকে বরণের প্রথা। মুম্বাইয়ের তারকা-প্রধান পূজা মণ্ডপগুলো ছড়ায় রোশানাই। কিন্তু জেএনজি বা সিজিপির আন্দোলনে উৎসব উধাও। প্রধান নেত্রী নোহা বোরা আপাদমস্তক পূজাপ্রেমিক। উত্তরাখণ্ডের তরুণী বেড়ে উঠেছে উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে। ধূপ-ধোঁয়ায় পূজা-অর্চনায় একদা অদম্য ছিলো। কিন্তু এবার কখনো যন্তর-মন্তর আন্দোলনে, কখনও জেলে। পূজার আনন্দ নেই মুখ্যমন্ত্রী-খ্যাত মমতা ব্যানার্জির, শুভেন্দু অধিকারীরও।
অন্যদিকে পূজার সাফল্যের পূর্ণ হাসি বাংলাদেশের অবয়বে। ৭টি নতুন রেকর্ড গড়েছেন প্রথানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার।
পূজার সাফল্যে বাংলাদেশের
অর্জন ৭টি রেকর্ড
০১. ২০২৬-এ সর্বোচ্চ সংখ্যক পূজামন্ডপ ▪️ ৩২ হাজার ৩৫১ টির স্থলে এবার ৩৩ হাজার ৮৫১টি। পূজা উদযাপন পরিষদের মতে এবার দেড় হাজার বেড়েছে।
০২. সর্বোচ্চ বাজেট তথা সর্বোচ্চ বরাদ্দ ▪️ ৫ কোটির স্থলে বাড়ানো হয়েছে এক কোটি টাকা। এছাড়া সারা দেশের মন্দিরসমূহে আছে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার। উল্লেখ্য শেখ হাসিনার শাসনামলে ছিল ২ কোটি টাকা। ড. ইউনুস-এর অন্তবর্তী সরকার করে দ্বিগুণ। এবার অসংখ্য মন্দিরে শাড়ি প্রদান করা হয়েছে। অসহায়-অস্বচ্ছল হিন্দু নারীরা তা পেয়েছেন।
০৩. সর্বোচ্চ সংখ্যক ছুটি ▪️ পূর্বে শারদোৎসবে ছুটি ছিল একদিন। ২০২৬-এ তা ৩ দিন করা হয়েছে। সঙ্গে শুক্র-শনি সরকারি ছুটি। ফলে টানা ৫দিন খুশির আমেজ। বাংলাদেশে প্রথমবার এমন ঘটনা ঘটলো। এতে সর্বধর্মের মানুষই ছুটিটি উপভোগ করেছে। শহর থেকে গ্রাম অভিমুখে যাত্রার ঢল নামে।
০৪. সরকারের সর্বোচ্চ মনোযোগ ▪️ নিরাপত্তা ও সাহারা দিতে সরকার প্রশাসন ছিল তটস্থ। জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ইউএনওরা চালিয়েছেন তদারকি।
প্রতিবছর পূজা মন্ডপে আক্রমণ বা প্রতিমা ভাঙ্গার ঘটনা ঘটে। ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার এ ক্ষেত্রে রেকর্ড গড়ে। ২০২৬-এ বিষয়টি অনেকটা থিতিয়ে এসেছে। তবুও অর্ধডজন বিছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। সিলেট, রাজবাড়ি, পঞ্চগড়, নেত্রকোণা, টাঙ্গাইলে ঘটনাগুলো। তবে প্রশাসনের তৎপরতায় পরিস্থিতি ছিল শান্তিপূর্ণ।
হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট ও জেলা প্রশাসন অনুদান দিয়েছে। পাশাপাশি তৃণমূল পর্যন্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তারা তৎপর ছিলেন।
০৫. বিএনপি’র সর্বোচ্চ নজরদারি ▪️ দুর্গাপূজা উদযাপন বিষয়ক রেকর্ড গড়েছে বিএনপি। প্রথমবারের মতো স্থায়ী কমিটির সভা ডাকে। গত পয়লা সেপ্টেম্বর ছিল ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। কিন্তু দুর্গাপূজার মতো সক্রিয়তা ছিল না। স্থায়ী কমিটি সিদ্ধান্ত নেয় পূজায় সর্বাত্মক সহযোগিতার। ওয়ার্ড/ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত চলবে সহযোগিতা, নজরদারি। চাঁদাবাজি, অশ্লীলতামুক্ত শারদোৎসব নিশ্চিত করার কার্যক্রম। সারাদেশে মানব ঢাল হয়ে বিএনপি, অঙ্গ সংগঠন ভূমিকা রাখে।
০৬. পূজা মন্ডপে প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ সফর ▪️ দেশে প্রথমবারের মতো ঘটনাটি ঘটলো। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছুটলেন তিনটি বিভাগে। রংপুর রাজশাহী ও চট্টগ্রামের পূজামন্ডপে গেলেন। গত ২০ অক্টোবর নবমীর দিনে গড়লেন রেকর্ড। সার্বজনীনতা পেলো সনাতন ধর্মীয় উৎসব। এতে ভয়কে জয় করেছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ দিয়েছেন অভয়। বলেছেন সংবিধান সংখ্যালঘু-সংখ্যাগরিষ্ঠের কথা বলে না। সংবিধান মতে নাগরিক মাত্রই সমান অধিকারের পাত্র। সমানাধিকার নিয়েই মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ বসবাস করবে।
০৭. সর্বোচ্চ আনন্দ উৎসব, সর্বোচ্চ সাজসজ্জা ▪️ পূজার আনন্দ অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। সাজ-সজ্জাতেও পুরনো রেকর্ড ভেঙেছে বাংলাদেশ। সর্বপরিচিত ঢাকেশ্বরী মন্দিরে খরচ দেড় কোটি ছাড়িয়ে গেছে।
সাজ-সজ্জা সর্বোচ্চ নজর কেড়েছে বনানীর প্রতিমা। ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্য ভাইরাল। বলেছেন, ভারতের চেয়ে বনানীর পূজামন্ডপ বেশি সুন্দর।
প্রতিমা দর্শনে যাননি দিল্লি-
নির্বাসিতা হাসিনা-তসলিমা
দিল্লিতে বসবাস বাংলাদেশি দুই বিতর্কিতার। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। বিতর্কিত লেখিকা তাসলিমা নাসরিনের। দুজনের সঙ্গে বিজেপির রাজনীতির বিশেষ সখ্য। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিশেষ ঘনিষ্ঠ শেখ হাসিনা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘নবসখা’ তাসলিমা নাসরিন। বিজেপি-বিরোধী সিজেপির শত্রুতালিকায় শেখ হাসিনা, তাসলিমা। সিজেপি বা ককরোচ পার্টি হাসিনা-বিরোধী শ্লোগানও দিচ্ছে। ছাত্র আন্দোলনের উত্তাল পরিস্থিতিতে সেই ‘আওয়ামী দেবী’ অনেকটা পর্যুদস্ত। বিজেপি-বান্ধব তাসলিমার বিরুদ্ধেও তরুণরা ক্ষুব্ধ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে আক্রমণ। এহেন অবস্থায় দিল্লিতে বসবাস স্বস্তিদায়ক নয়। উভয়ে অন্যত্র সরে যাওয়ার প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন।
উভয়েই দুর্গাপূজার উৎসব উপভোগে অভ্যস্ত। কিন্তু ২০২৬-এ কপালে জোটেনি প্রতিমা দর্শন। তসলিমা অবশ্য রাখঢাক না করে চেষ্টা চালিয়েছেন। কিন্তু শেখ হাসিনা কোন সুযোগই পাননি। কান পর্যন্ত পৌঁছায়নি ঢাক-ঢোলের সুরসমূহ।
পূজা-সাফল্য : বাংলাদেশ
অর্জনে, ভারত বিসর্জনে
কলকাতায় পূজা উপভোগে আসতেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও অতিথি হতেন। কিন্তু সিইসি গণেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে টালমাটাল পরিস্থিতি। বিজেপির পূজনীয় নেতাদের বিসর্জনের প্রক্রিয়া চলমান। ১৩ কোটি ভোটারকে নিষিদ্ধকরণের প্রতিবাদে ঝড়। সিজেপি, অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্ট ফোরাম এককাট্টা। রাজধানী দিল্লি এখন আন্দোলন-সংগ্রামে উত্তাল। ভাঙচুর, লন্ডভন্ড, বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার হুলস্থূল পরিস্থিতি।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন ‘বাংলাদেশ স্টাইলে’ অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা চলছে। আন্দোলন-নেত্রী নেহা বোরা বলেছেন ‘নমস্তে বাংলাদেশ।’ তোমাদের সব আন্দোলন আমাদের প্রধান অনুপ্রেরণা। উল্লেখ্য, মিছিল-পথসভায় চলছে বাংলাদেশের গান। ইথুন বাবুর সুরে মৌসুমী চৌধুরীর গান। ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের— ‘দেশটা তোমার বাবার নাকি...’।
অথচ এই সময়ে বাজানোর কথা পূজার গান। কিন্তু আন্দোলনের পদাঘাতে পিষ্ট মহান শারদোৎসব।
২০২৬-এর ৪ মে ঘোষিত ফলাফলে তৃণমূলের পরাজয়। পশ্চিমবঙ্গে পরাজিত মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তৃণমূল কংগ্রেস বা টিএমসির রাজনীতি যেন বিসর্জনে। অন্যদিকে চন্দ্রোদয় ঘটনা বিতর্কিত রাজনৈতিক শুভেন্দু অধিকারীর। মুখ্যমন্ত্রী হলেন, পূজার মহোৎসব করবেন। কিন্তু ঝরা পাতার মাস অক্টোবরে কাঁদলেন। চোরবাগানের পূজা মণ্ডপে ১৯টি লাশের বিনাশী বিষাদ। বৃষ্টির তোড়ে ঢেউ হয়ে মানুষ ঢোকে মন্দিরে। রাস্তা অত্যন্ত সরু, অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিস্থিতি। পায়ে দলে ঢলে পড়া মানুষ। বুকের ওপরে চাপের কারণে শ্বাসরোধ। ১৯ জন সরাসরি মৃত্যুর মিছিলে। আরো প্রায় ৪০ জন আহত, অর্ধমৃত। উৎসবের হাসিটা বাসী হলো শুভেন্দু অধিকারীর। লাশপ্রতি পঁচিশ লাখ টাকার অনুদান ঘোষণা।
সুখবর এলো না সুদূর প্রবাসে থেকেও। কলকাতার গায়িকা ইমন চক্রবর্তী আমেরিকায় কেঁদেছেন। পূজার প্রণোদানা দিতে প্রতিবছর প্রবাসীদের অতিথি। রেমিটেন্স যোদ্ধাদের মনোরঞ্জন করেন গানে গানে। কিন্তু এ বছর গোল বাঁধলো ‘আমেরিকান এয়ারলাইনস’। নিউ জার্সির গান-যাত্রীকে আটকালো ডালাস এয়ারপোর্ট। বিধি মোতাবেক সঙ্গের বাদ্যযন্ত্র প্লেনে উঠবে না। ভেঙে যাওয়ার দায় দায়িত্ব বিমান কর্তৃপক্ষ নেবে না। ফলে বাকবিতন্ডা, বিরোধ, পত্রপাঠ বিদায়। একরাশ ক্ষোভ আর দুঃখ ইমন চক্রবর্তীর চোখে-মুখে।
মুম্বাইয়ে রানী মুখার্জি-কাজলদের পূজাতে মন্দা। কল্লোল অগ্নিটোলা সার্বজনীন শারদোৎসব জমলো না। ৪২ বছরের মিলনতীর্থ উৎসবও প্রাণ পেলো না। বরং উদ্দীপণায় সোচ্চার জে-নজির আন্দোলনের কার্যক্রম।
পূজা-পার্বণকালেই বেরোলো আইএমএফ-এর সমীক্ষা। ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক আউটলুকে’র সর্বশেষ তথ্য। মাথাপিছু উৎপাদনে বাংলাদেশ এগিয়েছে। আর পিছয়ে পড়েছে পৃথিবীর ‘পঞ্চম ক্ষমতাধর’ ভারত। বাংলাদেশের জিডিপি ২ হাজার ৮৮৬ মার্কিন ডলার। আর ভারতের ২ হাজার ৭৪৯ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ অর্জনে বাংলাদেশ, আর বিসর্জনে ভারত।