ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন টকশো

ইশরাক সরকারকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছেন

প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৪ , অনলাইন ভার্সন
প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য হয়েও ইশরাক হোসেন দায়িত্বশীল আচরণ করেননি। নৈতিক ও আইনগত—কোনোভাবেই তার মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র হাতে অংশ নেওয়া উচিত হয়নি। নিজে সরকারের অংশ হয়েও তিনি সরকারকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছেন। ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন টকশোতে এসব কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক গোলাম মোর্তোজা। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ইশরাক হোসেন মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন। এই সিদ্ধান্ত সঠিক বলে মনে করেন তিনি।

‘দায়িত্বশীল একজন ব্যক্তি মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেটা নিজে লাঠি নিয়ে নামা হতে পারে না। নিজে বস্তিতে অভিযান চালানো হতে পারে না। সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে মাদক প্রতিরোধে তথ্য দেওয়া আমাদের কাজ। পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে অভিযানে উৎসাহিত করা হতে পারে একজন এমপি বা মন্ত্রীর কাজ’, যোগ করেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক গোলাম মোর্তোজা।

১৯ অক্টোবর সোমবারের এই আলোচনা অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরও ছিলেন জনপ্রিয় রাজনৈতিক ভাষ্যকার ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাসুদ কামাল। নিউইয়র্ক সময় বেলা ১২টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা) অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচারিত হয় ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ ইউটিউব চ্যানেলে। দেশের সমসাময়িক নানা ঘটনা নিয়ে কথা বলেন দুই অতিথি।

ইশরাক হোসেন ঢাকা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য। এই সরকারের শুরুতেই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি। কিন্তু এত বড় দায়িত্ব পাওয়ার পরও তার মধ্যে পরিপক্বতার পরিচয় পাওয়া যায়নি বলে মনে করেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাসুদ কামাল। তিনি বলেন, ‘কম বয়সে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলে ছেলেমানুষি কেটে যাওয়ার কথা থাকলেও ইশরাকের আচরণে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। তিনি পুরো বিষয়টি জটিল করে ফেলেছেন। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করতে বলার পরও তিনি কেন পদ হারিয়েছেন, সেটি বুঝতে পারেননি বলে মনে হয়। এমনকি তিনি এখনো বুঝতে পারছেন না, মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করার জন্য আইনসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি।’

‘প্রতিমন্ত্রীর পদ হারিয়ে ইশরাক এখন বলছেন, মাদকের বিরুদ্ধে আগে নামতে পারছিলেন না, এখন আরও জোরালোভাবে নামবেন। এটা মোটেই ঠিক হবে না। দক্ষিণ ভারতের তামিল সিনেমার স্টাইলে বাস্তবে একটি সরকার চলতে পারে না, সেটি ইশরাককে বুঝতে হবে’, যোগ করেন রাজনৈতিক ভাষ্যকার মাসুদ কামাল।

সম্প্রতি সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর এসেছে। এর আগে এ বিষয়ে কেউ তথ্য জানতে পারেননি, বিষয়টি অবাক করার মতো বলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা। তিনি বলেন, সেখানে প্রায় ৩০ লাখ বাংলাদেশি আছেন। অবৈধভাবে বসবাসকারীদের হিসাব ধরলে সংখ্যাটি ৫০ লাখ। অথচ দূতাবাস, প্রবাসী কিংবা গণমাধ্যম—কেউই ওই দুজনের বিচার সম্পর্কে আগে কিছু জানতে পারেনি। বিষয়টি মেনে নেওয়ার মতো নয়। এমনকি প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কেও বস্তুনিষ্ঠ কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। কেন এমন হচ্ছে, তারও কোনো ব্যাখ্যা নেই। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি ন্যায়বিচার পেয়েছিলেন কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন লেখক ও বিশ্লেষক গোলাম মোর্তোজা।

এদিকে সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়াকে বড় শিক্ষা বলে গণমাধ্যমে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। প্রবাসীরা যে দেশেই থাকুন, সেই দেশের আইন মেনে চলার পরামর্শও দেন তিনি। প্রতিমন্ত্রীর এ ধরনের অবস্থান সমর্থন করতে পারছেন না বলে জানান জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাসুদ কামাল।

তিনি বলেন, ‘সৌদি আরবে যদি বর্বর আইন থেকে থাকে, সেটা কি মন্ত্রণালয় থেকে আপনারা প্রবাসীদের আগেভাগে জানিয়েছেন? সেটা করেন না কেন? আগে না জানিয়ে শিক্ষার কথা কীভাবে বলেন? যে প্রবাসীরা দেশে টাকা পাঠান, তারা দূতাবাসে সেবা পান না। এই দূতাবাসগুলোকে আগে ঠিক করতে হবে। প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠালেও দূতাবাসের কাছ থেকে ন্যূনতম সহায়তা পাবেন না—এভাবে তো চলতে পারে না।’

ঠিকানা/এনআই
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]