কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন : নিখোঁজ নাহিদুর, তার স্ত্রী ও দুই মেয়ে

প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০০ , অনলাইন ভার্সন
সাত ও তিন বছর বয়সী দুই মেয়েকে নিয়ে স্ত্রীসহ কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন নাহিদুর রহমান তুহিন। সমুদ্রসৈকতে আনন্দে সময় কাটিয়ে পরিবারের সঙ্গে উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্ট্রো অ্যান্ড রিসোর্টে অবস্থান করছিলেন তিনি। ১৮ অক্টোবর দুপুরে রিসোর্ট ছাড়ার কথা ছিল তাঁদের। কিন্তু তার আগেই শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে রিসোর্টে আগুন লাগে। এর পর থেকে নিখোঁজ নাহিদুর, তার স্ত্রী ও দুই মেয়ে।

একই পরিবারের চার সদস্যের নিখোঁজের ঘটনায় যশোরের মনিরামপুর পৌর শহরের মোহনপুর কারিকরপাড়ায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ছেলে, পুত্রবধূ ও দুই নাতনির খোঁজ না পেয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন বৃদ্ধ বাবা মতিয়ার রহমান। স্বজন ও প্রতিবেশীদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ।

নাহিদুর রহমান ঢাকার শ্যামলীতে গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় বসবাস করতেন তিনি।

স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, নাহিদুর ১১ অক্টোবর টুপটুপ রেস্ট্রো অ্যান্ড রিসোর্টে বুকিং দিয়েছিলেন। ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত সেখানে একটি কক্ষ বুকিং ছিল তাদের। ১৮ অক্টোবর দুপুর ১টায় রিসোর্ট ছাড়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই ঘটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেলেও কোন মরদেহটি কার, তা এখনো চূড়ান্তভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

অগ্নিকাণ্ডের দুই দিন পেরিয়ে গেলেও নাহিদুর ও তার পরিবারের কোনো সন্ধান পাননি স্বজনেরা। নিখোঁজ নাহিদুরের বড় ভাই জাহিদুর রহমান সিলেট থেকে কক্সবাজারে পৌঁছেছেন। পরিবারের সদস্যরা নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।

জাহিদুর রহমান বলেন, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর থেকে ছোট ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী ও দুই ভাতিজির কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহগুলোর মধ্যে তাদের পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে তিনি কক্সবাজারে এসেছেন।

তিনি বলেন, সেখানে থাকা চারটি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহের মধ্যে দুটি শিশুর। তবে সেগুলো তার ভাতিজিদের মরদেহ কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। মরদেহগুলোর চেহারা চেনার মতো অবস্থায় নেই। আহত ব্যক্তিদের মধ্যেও তাঁর ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রীকে পাওয়া যায়নি। পরিচয় শনাক্তের জন্য তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

এদিকে নাহিদুরের গ্রামের বাড়িতে স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড় বাড়ছে। পরিবারের চার সদস্যের এমন পরিণতির আশঙ্কায় শোকে ভেঙে পড়েছেন সবাই।

নাহিদুরের ফুফু রোকসানা আক্তার রূপালী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তিনি বিশ্বাস করতে পারছেন না যে তার আদরের নাহিদুর আর নেই। নাহিদুরের ফুটফুটে দুই সন্তান ছিল। তারা গ্রামে এলে পুরো বাড়ি আনন্দে মাতিয়ে রাখত।

তিনি আরও বলেন, নাহিদুরের মা সরকারি চাকরি করতেন। ছোটবেলায় নাহিদুরকে তার কাছে রেখেই অফিসে যেতেন মা। সে সময় থেকে নাহিদুরের দুধমা হিসেবে তার সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কাঁদতে কাঁদতে তিনি পরিবারের সদস্যদের বেঁচে থাকার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।

নাহিদুরের বাবা মতিয়ার রহমান কিছুদিন আগে স্ট্রোক করে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। নিয়মিত ছেলের ঢাকার বাসায় গিয়ে চিকিৎসা নিতেন তিনি। অগ্নিকাণ্ডের আগের দিন শুক্রবার রাতেও ছেলের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল।

সেই কথোপকথনের স্মৃতিচারণা করে মতিয়ার রহমান বলেন, ছেলে তাকে চিন্তা না করতে বলেছিল। জানিয়েছিল, তারা সমুদ্রসৈকতে আছে, শিশুরা খেলছে। মঙ্গলবার ঢাকায় ফিরবে এবং বুধবার তাকে মিরপুরের বাসায় যেতে বলেছিল নাহিদুর।

বাকরুদ্ধ মতিয়ার রহমান বলেন, প্রায় দেড় মাস আগে তিনি গ্রামে এসেছিলেন। বুধবার ঢাকায় ফিরে যাওয়ার কথা ছিল তার। শুক্রবার রাতেও ছেলের সঙ্গে কথা হয়েছে। সবাইকে নিয়ে সৈকতে আনন্দ করছিল তারা। এখন আর তাদের সঙ্গে কথা হবে না—এই কষ্ট মেনে নিতে পারছেন না তিনি।

এ বিষয়ে যশোরের মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ বলেন, নাহিদুরের বড় ভাই জাহিদুর রহমান কক্সবাজারে পৌঁছেছেন। এখন পর্যন্ত নাহিদুরের পরিবারের সদস্যদের মরদেহ শনাক্ত হয়নি। ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

অন্যদিকে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এতে রিসোর্টের মালিক মো. তানভীরকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, নিহত ১০ জনের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি চারজনের মধ্যে দুই নারী, একজন শিশু ও একজন পুরুষ রয়েছেন। নিখোঁজ স্বজনদের পরিচয় শনাক্তের জন্য ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

ঠিকানা/এনআই
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]