মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ঐতিহ্যবাহী কাদিপুর শিববাড়ি পূজামণ্ডপে যাওয়ার পথে সড়কে বাঁশের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে যানবাহন আটকে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দিনের বেলায় পেকুরবাজার ত্রিমোহনী এলাকায় এ ঘটনায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মণ্ডপে আসা দর্শনার্থীসহ সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। এ সময় প্রায় দেড় ঘণ্টা যানজটে আটকা পড়ে প্রকাশ্যে অর্থ আদায়ের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন দেশের বিশিষ্ট শিল্পপতি ও ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী। পরে তাঁর তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ ও পুলিশকে খবর দেওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় বলে জানা গেছে।
কাদিপুর ইউনিয়নের সন্তান শিল্পপতি আজম জে চৌধুরী জানান, শনিবার তিনি নিজ গ্রামের বাড়ি কাদিপুরের হোসেনপুরে যাচ্ছিলেন। স্থানীয় মহতোছিন আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজসংলগ্ন পেকুরবাজার ত্রিমোহনী এলাকায় পৌঁছালে তাঁর গাড়ি দীর্ঘ যানজটে আটকা পড়ে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তিনি দেখতে পান, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী শিববাড়ি মন্দিরে যাওয়ার পথে একদল ব্যক্তি সড়কে বাঁশ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে যানবাহন থামিয়ে টাকা আদায় করছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দেড় শতাধিক যানবাহন সেখানে আটকা পড়ে। ফলে সড়কের উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।
আজম জে চৌধুরী জানান, প্রকাশ্য দিবালোকে এভাবে যানবাহন আটকে অর্থ আদায়ের ঘটনা দেখে তিনি বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ হন। প্রায় দেড় ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকার পর তিনি নিজেই গাড়ি থেকে নেমে ঘটনার প্রতিবাদ করেন এবং বিষয়টি কুলাউড়া থানা পুলিশকে জানান। তাঁর প্রতিবাদের মুখে অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত কয়েকজন ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে সরে যান।
খবর পেয়ে কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন বলে জানান আজম জে চৌধুরী। শিল্পপতির ভাষ্য অনুযায়ী, ওসি ঘটনাটিকে চাঁদাবাজি হিসেবে স্বীকার করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
ঘটনার পর আজম জে চৌধুরী বলেন, ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং যানবাহন আটকে অর্থ আদায় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। উৎসবে আগত মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে কঠোর নজরদারির পাশাপাশি জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের চলাচলের সড়ক কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অর্থ আদায়ের জায়গা হতে পারে না। বিশেষ করে ধর্মীয় উৎসবের সময় দর্শনার্থীদের জিম্মি করে টাকা আদায়ের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রশাসনকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
এদিকে যানজটে আটকে পড়া কয়েকজন ভুক্তভোগী শিল্পপতি আজম জে চৌধুরীর তাৎক্ষণিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তাঁদের ভাষ্য, তিনি প্রতিবাদ করে পুলিশকে খবর না দিলে আরও দীর্ঘ সময় ভোগান্তিতে পড়তে হতো। তাঁর হস্তক্ষেপের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় তাঁরা নির্বিঘ্নে পূজামণ্ডপের দিকে যেতে পেরেছেন।
কাদিপুরের ঐতিহ্যবাহী শিববাড়ি মন্দির বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের অন্যতম পরিচিত ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থাপনা। শত বছরের পুরোনো এই মন্দিরে প্রতিবছর দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিপুলসংখ্যক ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। আকর্ষণীয় স্থাপত্যশৈলী ও সহস্রভুজা দুর্গাপ্রতিমার জন্য মন্দিরটি বিশেষভাবে পরিচিত।
স্থানীয়দের মতে, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে যাতায়াতের পথে যানবাহন আটকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এতে শুধু দর্শনার্থীদের ভোগান্তিই বাড়ে না, উৎসবের নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দেয়।
ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ধর্মীয় উৎসবের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা, সড়কে অবাধ যান চলাচল নিশ্চিত করা এবং অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
শিল্পপতি আজম জে চৌধুরীর প্রতিবাদ ও তাৎক্ষণিক পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও উৎসবের সময় প্রকাশ্যে যানবাহন আটকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি ও নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
ঠিকানা/এনআই
কাদিপুর ইউনিয়নের সন্তান শিল্পপতি আজম জে চৌধুরী জানান, শনিবার তিনি নিজ গ্রামের বাড়ি কাদিপুরের হোসেনপুরে যাচ্ছিলেন। স্থানীয় মহতোছিন আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজসংলগ্ন পেকুরবাজার ত্রিমোহনী এলাকায় পৌঁছালে তাঁর গাড়ি দীর্ঘ যানজটে আটকা পড়ে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তিনি দেখতে পান, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী শিববাড়ি মন্দিরে যাওয়ার পথে একদল ব্যক্তি সড়কে বাঁশ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে যানবাহন থামিয়ে টাকা আদায় করছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দেড় শতাধিক যানবাহন সেখানে আটকা পড়ে। ফলে সড়কের উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।
আজম জে চৌধুরী জানান, প্রকাশ্য দিবালোকে এভাবে যানবাহন আটকে অর্থ আদায়ের ঘটনা দেখে তিনি বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ হন। প্রায় দেড় ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকার পর তিনি নিজেই গাড়ি থেকে নেমে ঘটনার প্রতিবাদ করেন এবং বিষয়টি কুলাউড়া থানা পুলিশকে জানান। তাঁর প্রতিবাদের মুখে অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত কয়েকজন ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে সরে যান।
খবর পেয়ে কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন বলে জানান আজম জে চৌধুরী। শিল্পপতির ভাষ্য অনুযায়ী, ওসি ঘটনাটিকে চাঁদাবাজি হিসেবে স্বীকার করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
ঘটনার পর আজম জে চৌধুরী বলেন, ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং যানবাহন আটকে অর্থ আদায় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। উৎসবে আগত মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে কঠোর নজরদারির পাশাপাশি জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের চলাচলের সড়ক কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অর্থ আদায়ের জায়গা হতে পারে না। বিশেষ করে ধর্মীয় উৎসবের সময় দর্শনার্থীদের জিম্মি করে টাকা আদায়ের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রশাসনকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
এদিকে যানজটে আটকে পড়া কয়েকজন ভুক্তভোগী শিল্পপতি আজম জে চৌধুরীর তাৎক্ষণিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তাঁদের ভাষ্য, তিনি প্রতিবাদ করে পুলিশকে খবর না দিলে আরও দীর্ঘ সময় ভোগান্তিতে পড়তে হতো। তাঁর হস্তক্ষেপের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় তাঁরা নির্বিঘ্নে পূজামণ্ডপের দিকে যেতে পেরেছেন।
কাদিপুরের ঐতিহ্যবাহী শিববাড়ি মন্দির বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের অন্যতম পরিচিত ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থাপনা। শত বছরের পুরোনো এই মন্দিরে প্রতিবছর দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিপুলসংখ্যক ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। আকর্ষণীয় স্থাপত্যশৈলী ও সহস্রভুজা দুর্গাপ্রতিমার জন্য মন্দিরটি বিশেষভাবে পরিচিত।
স্থানীয়দের মতে, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে যাতায়াতের পথে যানবাহন আটকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এতে শুধু দর্শনার্থীদের ভোগান্তিই বাড়ে না, উৎসবের নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দেয়।
ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ধর্মীয় উৎসবের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা, সড়কে অবাধ যান চলাচল নিশ্চিত করা এবং অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
শিল্পপতি আজম জে চৌধুরীর প্রতিবাদ ও তাৎক্ষণিক পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও উৎসবের সময় প্রকাশ্যে যানবাহন আটকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি ও নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
ঠিকানা/এনআই