বিদেশে বসেই জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাওয়ার সুযোগ চালু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছিল প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে। কিন্তু আবেদন জমা ও বায়োমেট্রিক তথ্য দেওয়ার পরও দেশে স্থানীয় তদন্ত ও তথ্য যাচাইয়ের নামে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। কোথাও ‘ভেরিফিকেশন’, কোথাও ‘চা-নাশতার খরচের’ কথা বলে অর্থ দাবি করা হচ্ছে। টাকা না দিলে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হচ্ছে না, আটকে থাকছে আবেদনের অনুমোদন।
প্রবাসীদের অভিযোগ, বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস ও কনস্যুলেটে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা, ছবি তোলা ও আঙুলের ছাপ দেওয়ার পরও অনেক আবেদন মাসের পর মাস অনিষ্পন্ন থাকছে। দেশে উপস্থিত হতে না পারায় স্বজনদের মাধ্যমে স্থানীয় নির্বাচন কার্যালয়ে বারবার যোগাযোগ করতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তা।
নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে গিয়ে খুব সহজই এনআইডির আবেদন সম্পন্ন করতে পেরে খুশী প্রবাসীরা। কিন্তু আবেদন শেষে পড়তে হচ্ছে নানা ধরনের হয়রানিতে। বিশেষ করে বাংলাদেশে স্বজনদের মাধ্যমে নানা ধরনের কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে। সব কাগজ দেওয়ার পরও এনআইডি অনুমোদন করা হচ্ছে না। আবার অনেকের আবেদন কোনো কারণ ছাড়াই বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে।
রাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জ্যামাইকার একজন প্রবাসী জানান, তিনি কনস্যুলেটে গিয়ে আবেদন সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। এরপর আর আপডেট জানতে পারেননি। পরে এনআইডির ওয়েবসাইটে লগইন করে জানতে পারেন, তার আবেদনটি বাতিল হয়েছে। অথচ তিনি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, ডিজিটাল জন্মসনদ এবং বাবা-মায়ের এনআইডির তথ্য দিয়েছিলেন।
একটি সূত্র জানায়, অনেকেরই আবেদন কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই বাতিল করা হচ্ছে। গত ১০ অক্টোবর শনিবার নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ জি কে গউছ। বেশ কয়েকজন প্রবাসী সেখানে হুইপের কাছে এনআইডি না পাওয়া নিয়ে অভিযোগ করেছেন। হুইপ এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে কথা বলে সমাধানের আশ্বাস দেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে বিশেষ তৎপরতা দেখা যায়। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১২৩টি দেশ থেকে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নিবন্ধন করেন ৭ লাখ ৬৭ হাজার ২৩৩ জন প্রবাসী। তাঁদের মধ্যে ভোট দেন ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৩৮০ জন। তবে পোস্টাল ভোটের নিবন্ধন ও নতুন এনআইডির আবেদন পৃথক প্রক্রিয়া।
নির্বাচনের আগে নিবন্ধন কার্যক্রমে গতি থাকলেও পরে আবেদন নিষ্পত্তিতে ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচন কমিশনের গত জুনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরুর পর থেকে ৮৯ হাজার ৮৯৭টি এনআইডি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ৫৩ হাজার ২২৯ জন বায়োমেট্রিক তথ্য দেন এবং ৪৭ হাজার ১৩২টি আবেদন অনুমোদিত হয়। বাতিল হয় ২২ হাজার ৩৫২টি আবেদন এবং অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল ২ হাজার ৯৭৮টি।
ওই সময় ১৪টি দেশের ২৪টি কেন্দ্রে প্রবাসীদের এনআইডি সেবা চালু ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি, মিয়ামি ও লস অ্যাঞ্জেলেসেও এ কার্যক্রম চলছে। শুধু যুক্তরাষ্ট্র থেকেই আবেদন জমা পড়েছিল ১৬ হাজার ৮১২টি।
প্রবাসীদের অভিযোগ, স্থানীয় পর্যায়ে তদন্তের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কেউ কেউ আবেদনকারীর স্বজনদের কাছে অনানুষ্ঠানিক অর্থ দাবি করছেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া কিংবা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বিলম্ব করা হচ্ছে। নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন এনআইডি নিবন্ধন সেবা বিনামূল্যে দেওয়ার কথা।
এনআইডি সেবায় ঘুষের অভিযোগের একটি ঘটনা সামনে আসে গত সেপ্টেম্বরে। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা খবিরুল আলমের বিরুদ্ধে বাহরাইনপ্রবাসী রাসেল মোল্লার কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। রাসেল মোল্লার দাবি, তাঁর কাছে পাঁচ হাজার টাকা চাওয়া হলে শেষ পর্যন্ত তিনি দুই হাজার টাকা দেন। অর্থ লেনদেনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। পরে ১৬ সেপ্টেম্বর তাঁকে ঝিনাইদহ জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে বদলি করা হয় এবং বিভাগীয় তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে ঘটনাটি দেশে এসে ভোটার নিবন্ধনের আবেদনসংক্রান্ত, বিদেশ থেকে জমা দেওয়া আবেদনের নয়।
প্রবাসীদের এনআইডি আবেদন নিষ্পত্তিতে বিলম্বের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনও স্বীকার করেছে। গত ৩ মার্চ কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ থেকে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অনিষ্পন্ন আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়। চিঠিতে জানানো হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যস্ততার কারণে অনেক প্রবাসীর স্থানীয় তদন্ত সম্পন্ন হয়নি। এর আগে ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বরও একই ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
গত ২১ জুলাই নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন পদ্ধতি সহজ করার উদ্যোগের কথা জানান। নতুন প্রস্তাবে বায়োমেট্রিক তথ্য সরাসরি আপলোড করে স্থানীয় তদন্তের সত্যতা যাচাই শেষে অনুমোদন দেওয়ার কথা বলা হয়। এতে নিবন্ধন প্রক্রিয়ার একটি ধাপ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে গত ৪ আগস্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, তথ্য যাচাইয়ের জন্য একাধিকবার যোগাযোগ করেও আবেদনকারীর সাড়া না পেলে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে বার্তা পাঠাতে পারবেন সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তা। বার্তা পাঠানোর সাত দিনের মধ্যে জবাব না পেলে আবেদন বাতিল করা যাবে।
এ নির্দেশনা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে প্রবাসীদের মধ্যে। বিদেশে অবস্থান, সময়ের পার্থক্য, মোবাইল নম্বর পরিবর্তন কিংবা যোগাযোগের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেকের পক্ষে নির্ধারিত সময়ে সাড়া দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এ কারণে আবেদন বাতিল হলে নতুন করে পুরো প্রক্রিয়া শুরু করার ঝুঁকি রয়েছে।
এনআইডি না থাকায় ব্যাংক হিসাব খোলা ও হালনাগাদ, জমি ক্রয়-বিক্রয়, নামজারি, সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণেও জটিলতায় পড়ছেন প্রবাসীরা। বিশেষ করে দেশে অনুপস্থিত থেকে এসব কাজ পরিচালনা করতে গিয়ে তাঁদের বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে।
প্রবাসীদের দাবি, প্রতিটি আবেদনের তদন্ত ও অনুমোদনের নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ, অনলাইনে আবেদনের অগ্রগতি জানানোর ব্যবস্থা এবং অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়ার কারণ লিখিতভাবে জানানো হোক। পাশাপাশি অর্থ দাবিসহ হয়রানির অভিযোগ তদন্তে কার্যকর ব্যবস্থা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ চান তাঁরা।
নির্বাচন কমিশন অনিষ্পন্ন আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিলেও মাঠপর্যায়ে তার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তথ্যগত জটিলতায় আটকে থাকা আবেদন ও অযৌক্তিক বিলম্বের শিকার আবেদন পৃথকভাবে চিহ্নিত করার দাবিও উঠেছে।
প্রবাসীদের প্রশ্ন, নির্বাচনের সময় তাঁদের ভোটার করতে প্রশাসন যে তৎপরতা দেখিয়েছে, জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে সেই আন্তরিকতা কেন দেখা যাচ্ছে না?
দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে প্রবাসীদের কোনো তদন্ত লাগে না; অথচ নিজের দেশের জাতীয় পরিচয়পত্র পেতে কেন তাঁদের বারবার তদন্ত, অপেক্ষা আর হয়রানির মুখে পড়তে হবে—এ প্রশ্নের জবাব এখন নির্বাচন কমিশনকেই দিতে হবে।
প্রবাসীদের অভিযোগ, বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস ও কনস্যুলেটে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা, ছবি তোলা ও আঙুলের ছাপ দেওয়ার পরও অনেক আবেদন মাসের পর মাস অনিষ্পন্ন থাকছে। দেশে উপস্থিত হতে না পারায় স্বজনদের মাধ্যমে স্থানীয় নির্বাচন কার্যালয়ে বারবার যোগাযোগ করতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তা।
নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে গিয়ে খুব সহজই এনআইডির আবেদন সম্পন্ন করতে পেরে খুশী প্রবাসীরা। কিন্তু আবেদন শেষে পড়তে হচ্ছে নানা ধরনের হয়রানিতে। বিশেষ করে বাংলাদেশে স্বজনদের মাধ্যমে নানা ধরনের কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে। সব কাগজ দেওয়ার পরও এনআইডি অনুমোদন করা হচ্ছে না। আবার অনেকের আবেদন কোনো কারণ ছাড়াই বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে।
রাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জ্যামাইকার একজন প্রবাসী জানান, তিনি কনস্যুলেটে গিয়ে আবেদন সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। এরপর আর আপডেট জানতে পারেননি। পরে এনআইডির ওয়েবসাইটে লগইন করে জানতে পারেন, তার আবেদনটি বাতিল হয়েছে। অথচ তিনি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, ডিজিটাল জন্মসনদ এবং বাবা-মায়ের এনআইডির তথ্য দিয়েছিলেন।
একটি সূত্র জানায়, অনেকেরই আবেদন কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই বাতিল করা হচ্ছে। গত ১০ অক্টোবর শনিবার নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ জি কে গউছ। বেশ কয়েকজন প্রবাসী সেখানে হুইপের কাছে এনআইডি না পাওয়া নিয়ে অভিযোগ করেছেন। হুইপ এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে কথা বলে সমাধানের আশ্বাস দেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে বিশেষ তৎপরতা দেখা যায়। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১২৩টি দেশ থেকে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নিবন্ধন করেন ৭ লাখ ৬৭ হাজার ২৩৩ জন প্রবাসী। তাঁদের মধ্যে ভোট দেন ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৩৮০ জন। তবে পোস্টাল ভোটের নিবন্ধন ও নতুন এনআইডির আবেদন পৃথক প্রক্রিয়া।
নির্বাচনের আগে নিবন্ধন কার্যক্রমে গতি থাকলেও পরে আবেদন নিষ্পত্তিতে ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচন কমিশনের গত জুনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরুর পর থেকে ৮৯ হাজার ৮৯৭টি এনআইডি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ৫৩ হাজার ২২৯ জন বায়োমেট্রিক তথ্য দেন এবং ৪৭ হাজার ১৩২টি আবেদন অনুমোদিত হয়। বাতিল হয় ২২ হাজার ৩৫২টি আবেদন এবং অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল ২ হাজার ৯৭৮টি।
ওই সময় ১৪টি দেশের ২৪টি কেন্দ্রে প্রবাসীদের এনআইডি সেবা চালু ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি, মিয়ামি ও লস অ্যাঞ্জেলেসেও এ কার্যক্রম চলছে। শুধু যুক্তরাষ্ট্র থেকেই আবেদন জমা পড়েছিল ১৬ হাজার ৮১২টি।
প্রবাসীদের অভিযোগ, স্থানীয় পর্যায়ে তদন্তের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কেউ কেউ আবেদনকারীর স্বজনদের কাছে অনানুষ্ঠানিক অর্থ দাবি করছেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া কিংবা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বিলম্ব করা হচ্ছে। নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন এনআইডি নিবন্ধন সেবা বিনামূল্যে দেওয়ার কথা।
এনআইডি সেবায় ঘুষের অভিযোগের একটি ঘটনা সামনে আসে গত সেপ্টেম্বরে। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা খবিরুল আলমের বিরুদ্ধে বাহরাইনপ্রবাসী রাসেল মোল্লার কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। রাসেল মোল্লার দাবি, তাঁর কাছে পাঁচ হাজার টাকা চাওয়া হলে শেষ পর্যন্ত তিনি দুই হাজার টাকা দেন। অর্থ লেনদেনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। পরে ১৬ সেপ্টেম্বর তাঁকে ঝিনাইদহ জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে বদলি করা হয় এবং বিভাগীয় তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে ঘটনাটি দেশে এসে ভোটার নিবন্ধনের আবেদনসংক্রান্ত, বিদেশ থেকে জমা দেওয়া আবেদনের নয়।
প্রবাসীদের এনআইডি আবেদন নিষ্পত্তিতে বিলম্বের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনও স্বীকার করেছে। গত ৩ মার্চ কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ থেকে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অনিষ্পন্ন আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়। চিঠিতে জানানো হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যস্ততার কারণে অনেক প্রবাসীর স্থানীয় তদন্ত সম্পন্ন হয়নি। এর আগে ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বরও একই ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
গত ২১ জুলাই নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন পদ্ধতি সহজ করার উদ্যোগের কথা জানান। নতুন প্রস্তাবে বায়োমেট্রিক তথ্য সরাসরি আপলোড করে স্থানীয় তদন্তের সত্যতা যাচাই শেষে অনুমোদন দেওয়ার কথা বলা হয়। এতে নিবন্ধন প্রক্রিয়ার একটি ধাপ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে গত ৪ আগস্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, তথ্য যাচাইয়ের জন্য একাধিকবার যোগাযোগ করেও আবেদনকারীর সাড়া না পেলে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে বার্তা পাঠাতে পারবেন সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তা। বার্তা পাঠানোর সাত দিনের মধ্যে জবাব না পেলে আবেদন বাতিল করা যাবে।
এ নির্দেশনা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে প্রবাসীদের মধ্যে। বিদেশে অবস্থান, সময়ের পার্থক্য, মোবাইল নম্বর পরিবর্তন কিংবা যোগাযোগের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেকের পক্ষে নির্ধারিত সময়ে সাড়া দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এ কারণে আবেদন বাতিল হলে নতুন করে পুরো প্রক্রিয়া শুরু করার ঝুঁকি রয়েছে।
এনআইডি না থাকায় ব্যাংক হিসাব খোলা ও হালনাগাদ, জমি ক্রয়-বিক্রয়, নামজারি, সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণেও জটিলতায় পড়ছেন প্রবাসীরা। বিশেষ করে দেশে অনুপস্থিত থেকে এসব কাজ পরিচালনা করতে গিয়ে তাঁদের বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে।
প্রবাসীদের দাবি, প্রতিটি আবেদনের তদন্ত ও অনুমোদনের নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ, অনলাইনে আবেদনের অগ্রগতি জানানোর ব্যবস্থা এবং অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়ার কারণ লিখিতভাবে জানানো হোক। পাশাপাশি অর্থ দাবিসহ হয়রানির অভিযোগ তদন্তে কার্যকর ব্যবস্থা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ চান তাঁরা।
নির্বাচন কমিশন অনিষ্পন্ন আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিলেও মাঠপর্যায়ে তার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তথ্যগত জটিলতায় আটকে থাকা আবেদন ও অযৌক্তিক বিলম্বের শিকার আবেদন পৃথকভাবে চিহ্নিত করার দাবিও উঠেছে।
প্রবাসীদের প্রশ্ন, নির্বাচনের সময় তাঁদের ভোটার করতে প্রশাসন যে তৎপরতা দেখিয়েছে, জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে সেই আন্তরিকতা কেন দেখা যাচ্ছে না?
দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে প্রবাসীদের কোনো তদন্ত লাগে না; অথচ নিজের দেশের জাতীয় পরিচয়পত্র পেতে কেন তাঁদের বারবার তদন্ত, অপেক্ষা আর হয়রানির মুখে পড়তে হবে—এ প্রশ্নের জবাব এখন নির্বাচন কমিশনকেই দিতে হবে।