আশ্রয় আবেদনে নতুন স্ট্যাটাস, উদ্বেগে অভিবাসীরা

প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:৫১ , অনলাইন ভার্সন
যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করা অনেক অভিবাসীর ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের (ইউএসসিআইএস) অনলাইন অ্যাকাউন্টে মামলার পরবর্তী ধাপ-সংক্রান্ত বার্তায় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আগে যেখানে ‘নেক্সট স্টেপ ইজ দি ইন্টারভিউ’ বা পরবর্তী ধাপ সাক্ষাৎকার লেখা ছিল, সেখানে এখন অনেকের অ্যাকাউন্টে ‘নেক্সট স্টেপ ইজ অ্যাডজুডিকেশন’ বা পরবর্তী ধাপ আবেদন নিষ্পত্তি দেখাচ্ছে। এ পরিবর্তনে আবেদনকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু অনলাইন স্ট্যাটাস দেখে আশ্রয়ের আবেদন অনুমোদন, প্রত্যাখ্যান কিংবা ইমিগ্রেশন আদালতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
আবেদনকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে বিভিন্ন সময়ে এ পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এমনকি ২০১৯ সালে বা তারও আগে আশ্রয়ের আবেদন জমা দিয়েও এখনো সাক্ষাৎকারের তারিখ পাননি, এমন ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্টেও নতুন বার্তা এসেছে। তবে ঠিক কতটি আবেদন এ পরিবর্তনের আওতায় পড়েছে এবং এর সুনির্দিষ্ট কারণ কী, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।
অ্যাডজুডিকেশন বলতে সাধারণত কোনো আবেদন বা মামলার নথি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়াকে বোঝায়। আশ্রয়ের আবেদনের ক্ষেত্রে এ বার্তা দেখানোর অর্থ এই নয় যে আবেদন অনুমোদিত হয়েছে। একইভাবে আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে কিংবা আবেদনকারীকে আদালতে পাঠানো হচ্ছে, এমনটিও শুধু এ বার্তা থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় না। প্রকৃত অবস্থা জানতে ইউএসসিআইএসের আনুষ্ঠানিক নোটিশ ও মামলার নথি যাচাই করা জরুরি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের একটি অন্তর্বর্তীকালীন চূড়ান্ত বিধি ২৮ জুলাই ২০২৬ কার্যকর হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিধিটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কিছু অ্যাফারমেটিভ অ্যাসাইলাম আবেদন সাক্ষাৎকার ছাড়াই ইমিগ্রেশন আদালতে পাঠানোর সুযোগ দেয়। অ্যাফারমেটিভ অ্যাসাইলাম হলো যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত কোনো ব্যক্তির ইউএসসিআইএসের কাছে সরাসরি আশ্রয়ের আবেদন করার প্রক্রিয়া।
নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে আবেদনের সময়সীমা, আশ্রয়ের যোগ্যতা কিংবা আইনগত বাধা-সংক্রান্ত বিষয় বিবেচনায় আবেদন আদালতে পাঠানো হতে পারে। তবে সব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে একই নিয়মে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, এমন নয়। প্রতিটি মামলার তথ্য, আবেদনকারীর অভিবাসন অবস্থা এবং প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হয়।
আদালতে আবেদন পাঠানো আর আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা এক বিষয় নয়। কোনো মামলা ইমিগ্রেশন আদালতে পাঠানো হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চূড়ান্ত বহিষ্কারাদেশে পরিণত হয় না। সে ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে বিচারকের সামনে নিজের আশ্রয়ের দাবি ও সংশ্লিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপনের সুযোগ পেতে হতে পারে। বিচারক প্রযোজ্য আইন ও প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আবেদনকারীদের ইউএসসিআইএস অনলাইন অ্যাকাউন্টের ‘ডকুমেন্টস’ বিভাগ নিয়মিত পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নতুন কোনো নোটিশ, অতিরিক্ত তথ্য চেয়ে পাঠানো চিঠি কিংবা আদালতে পাঠানোর নথি এসেছে কি না, তা দেখতে হবে। সরকারি নোটিশ ডাকযোগেও আসতে পারে। তাই ডাকবাক্স নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং ঠিকানা পরিবর্তন হলে ইউএসসিআইএসকে নির্ধারিত নিয়মে জানানো জরুরি।
আবেদন আদালতে পাঠানো হয়েছে কি না কিংবা শুনানির তারিখ নির্ধারিত হয়েছে কি না, তা জানতে ইমিগ্রেশন রিভিউ-বিষয়ক নির্বাহী দপ্তরের (ইওআইআর) কেস ইনফরমেশন সিস্টেমে এ নম্বর ব্যবহার করে খোঁজ নেওয়া যেতে পারে। তবে শুধু অনলাইন স্ট্যাটাস পরিবর্তনের কারণে আদালতে মামলা শুরু হয়েছে বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।
আশ্রয়ের আবেদনের পক্ষে ব্যক্তিগত বিবৃতি, পরিচয়-সংক্রান্ত নথি, নিজ দেশের পরিস্থিতির প্রমাণ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও গুছিয়ে রাখা উচিত। চলমান আবেদন থাকা অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ভ্রমণের আগে অভিজ্ঞ ইমিগ্রেশন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া জরুরি, কারণ অনুমতি ছাড়া দেশ ছাড়লে আবেদন-সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, অনলাইন স্ট্যাটাসের পরিবর্তন দেখে আতঙ্কিত না হয়ে সরকারি নোটিশ ও মামলার নথি যাচাই করতে হবে। ইমিগ্রেশন আদালতের শুনানির নোটিশ পেলে নির্ধারিত তারিখ ও নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে। কারণ শুনানিতে অনুপস্থিত থাকলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আবেদনকারীর অনুপস্থিতিতেই বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হতে পারে।
 
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]