দুর্গাপূজা ও আমাদের ভাবনা

প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৪ , অনলাইন ভার্সন
দুর্গাপূজা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধের এক অনন্য প্রকাশ। শরতের নির্মল আকাশ, কাশফুলের দোলা, শিউলির সুবাস আর ঢাকের শব্দ—সব মিলিয়ে দুর্গাপূজা আমাদের মনে আনন্দের পাশাপাশি নতুন আশারও সঞ্চার করে। দেবী দুর্গার আগমন যেন অশুভের বিরুদ্ধে শুভ শক্তির জাগরণের প্রতীক।

পুরাণে দেবী দুর্গাকে অসুরবিনাশিনী ও শক্তির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। মহিষাসুরের বিরুদ্ধে তাঁর বিজয় আমাদের একটি গভীর শিক্ষা দেয়—অন্যায়, অহংকার, হিংসা ও অশুভ শক্তি যতই প্রবল হোক, সত্য ও ন্যায়ের শক্তির কাছে তার পরাজয় অনিবার্য। তাই দুর্গাপূজার প্রকৃত তাৎপর্য শুধু প্রতিমা নির্মাণ, পূজা-অর্চনা বা আনন্দ-উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর অন্তর্নিহিত শিক্ষা আমাদের নিজেদের জীবনেও ধারণ করা প্রয়োজন।

আজকের পৃথিবীতে মানুষের মধ্যে বিভেদ, হিংসা, বিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতা নানা রূপে দেখা যায়। এই বাস্তবতায় দুর্গাপূজা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—শক্তি শুধু নিজের জন্য নয়, দুর্বল ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্যও। দেবীর দশ হাতে যে বিভিন্ন অস্ত্রের প্রতীকী উপস্থিতি, তা যেন আমাদের দায়িত্ব ও সাহসের কথা বলে। অন্যায়ের সামনে নীরব না থেকে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোই হতে পারে দেবী আরাধনার একটি বাস্তব রূপ।

দুর্গাপূজার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মাতৃভাবনা। দেবী দুর্গা একই সঙ্গে মা, শক্তি ও মমতার প্রতীক। আমাদের সমাজে নারীর প্রতি সম্মান, নিরাপত্তা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা না হলে দেবীকে পূজা করার ভাবনা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। যে সমাজ নারীর মধ্যে শক্তি ও সম্ভাবনাকে সম্মান করে, সে সমাজই প্রকৃত অর্থে দুর্গার আদর্শকে ধারণ করে।

দুর্গাপূজা সামাজিক সম্প্রীতিরও এক বড় উপলক্ষ। পূজামণ্ডপে বিভিন্ন বয়স, পেশা ও সম্প্রদায়ের মানুষ একত্রিত হন। আনন্দ ভাগ করে নেওয়া, একে অপরের খোঁজ নেওয়া এবং মানবিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করা—এসবই উৎসবের সৌন্দর্য। ধর্মীয় বিশ্বাস যার যার, কিন্তু আনন্দ ও মানবিকতা সবার। তাই দুর্গাপূজার মূল চেতনা হতে পারে—ভক্তিতে নিজের ধর্ম আর মানবতায় সমগ্র পৃথিবী।
প্রবাসের মাটিতেও দুর্গাপূজার গুরুত্ব কমে না; বরং নতুন প্রজন্মের কাছে নিজের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে এর ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশে বসবাসরত বাঙালিরা যখন পূজার আয়োজন করেন, তখন তাঁরা শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান করেন না—তাঁরা নিজেদের শিকড় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গেও নতুন প্রজন্মের একটি সেতুবন্ধ তৈরি করেন।

আমাদের ভাবনা তাই হওয়া উচিত—পূজার কয়েকটি দিনের আনন্দ যেন সারা বছরের মানবিক আচরণে প্রতিফলিত হয়। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, ক্ষুধার্তকে খাবার দেওয়া, শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত শিশুকে সহযোগিতা করা, প্রকৃতিকে রক্ষা করা এবং সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা—এসবই হতে পারে দুর্গাপূজার চেতনার বাস্তব প্রয়োগ।
দুর্গা মানে শক্তি, দুর্গা মানে সাহস, দুর্গা মানে মমতা; আর দুর্গাপূজা মানে অশুভকে পরাজিত করে শুভ, সত্য ও মানবতার পথে এগিয়ে চলার অঙ্গীকার।

এই দুর্গাপূজায় আমাদের প্রার্থনা হোক—শুধু নিজের সুখের জন্য নয়, সকল মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা ও কল্যাণের জন্য। পৃথিবী হোক হিংসামুক্ত, সমাজ হোক সম্প্রীতিপূর্ণ আর মানুষের হৃদয়ে জাগ্রত হোক ভালোবাসা ও মানবতার শক্তি।
শুভ শক্তির জয় হোক, মানবতার জয় হোক। শুভ দুর্গাপূজা।
লেখক : যুগ্ম সমন্বয়ক, মহালয়া উদযাপন পরিষদ, শ্রীহট্ট।
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]