তহবিল সংকটে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা

প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৩৪ , অনলাইন ভার্সন
মারাত্মক তহবিল ঘাটতির ফলে বিশ্বজুড়ে বিপুল সংখ্যক মানুষের বাস্তুচ্যুতির মতো বিষয়গুলোকে সমন্বয় করতে চরমভাবে হিমশিম খাচ্ছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা- ইউএনএইচসিআর। সমস্যাটির গভীরতা বোঝাতে গিয়ে সংস্থাটির প্রধান বারহাম সালিহ বলেছেন, তার সংস্থাকে এখন অসম্ভব কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ জানান, বাজেট কাটছাঁটের কারণে শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর তাদের কর্মী সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করেছে, অন্যদিকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা এখনও ইতিহাসের প্রায় রেকর্ড সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।

বারহাম সালিহ বলেন, ‘ঠিক এমন একটি সময়ে শরণার্থী সহায়তা সংস্থার কাছ থেকে আমরা আরও বেশি প্রত্যাশা করছি, যখন সেই সহায়তা টিকিয়ে রাখার জন্য পাওয়া সম্পদ সবচেয়ে কম। গত ৯ অক্টোবর পর্যন্ত আমাদের তহবিলে ছিল ৩ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৬ সালের জন্য প্রয়োজনীয় ৮.৫ বিলিয়ন ডলার চাহিদার মাত্র ৩৫ শতাংশ।’

ইউএনএইচসিআর বর্তমানে ২০২৭ সালের জন্য আনুমানিক ২.৬৮ বিলিয়ন ডলারের তহবিলের পূর্বাভাস দিচ্ছে।

বারহাম সালিহ বলেন, ‘সরকারগুলো যে বাজেট চাপের মুখোমুখি হচ্ছে তা আমি বুঝি, তবে কম খরচে বেশি কাজ করা এবং অসম্ভব কাজ করতে বলার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আমরা টিকে থাকার জন্য লড়াই করা সংস্থাগুলোকে লাখ লাখ মানুষকে বাঁচিয়ে রাখার নির্দেশ দিতে পারি না।’

সালিহ জানান, চলতি বছর ইউএনএইচসিআর ১৮টি দেশে ২২টি জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণায় সাড়া দিয়েছে—যার মধ্যে ১৫টি দেশে ১৭টি নতুন জরুরি পরিস্থিতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারহাম সালিহ নিজেও একসময় শরণার্থী ছিলেন। তিনি ইউএনএইচসিআর-এর বার্ষিক নির্বাহী কমিটির বৈঠক শুরুর সময় এই নির্মম পরিস্থিতি তুলে ধরেন। বৈঠকটি শুক্রবার পর্যন্ত চলবে। তিনি জানান, ২০২৪ সাল থেকে প্রায় ৮ হাজার মানুষ ইউএনএইচসিআর ছেড়ে গেছেন। যার ফলে এর মোট কর্মী সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজারের কিছু নিচে।

বারহাম সালিহ বলেন, সংস্থাটি যেসব অভিজ্ঞ কর্মীদের হারিয়েছে তাদের ঘাটতি সহজে পূরণ করা সম্ভব নয়।

বংশানুক্রমিক বাস্তুচ্যুতি
ইউএনএইচসিআর-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১১ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন—যা ২০২৪ সালের ১২ কোটি ৩২ লাখের রেকর্ড থেকে কিছুটা কম।

এই ১১ কোটি ৭৮ লাখ মানুষের মধ্যে ৩ কোটি ৫৬ লাখ মানুষ ইউএনএইচসিআর-এর ম্যান্ডেটের অধীনে থাকা শরণার্থী ছিলেন, যাদের দুই-তৃতীয়াংশ এসেছেন ভেনেজুয়েলা, ইউক্রেন, সিরিয়া, আফগানিস্তান এবং সুদান থেকে।

ঐতিহ্যগতভাবে বিশ্বের সর্ববৃহৎ দাতা দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে তাদের বৈদেশিক সাহায্য ব্যাপকভাবে ছাঁটাই করেছে, অন্যদিকে অন্যান্য প্রধান দাতারাও নিজেদের হাত গুটিয়ে নিয়েছেন।

২০২৬ সালে স্বেচ্ছাসেবী অনুদান হিসেবে পাওয়া ২.৪৪ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ইউএনএইচসিআর-এর শীর্ষ দাতা ছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন (৪০৮ মিলিয়ন ডলার)। এরপর একক দেশ হিসেবে বৃহত্তম অবদানকারী ছিল জার্মানি, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস এবং ডেনমার্ক।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছিল নবম বৃহত্তম অবদানকারী দেশ (৮৯ মিলিয়ন ডলার)—যা গত বছরের ৮১২ মিলিয়ন ডলার থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
চীন অনুদান দিয়েছে ১.৮ মিলিয়ন ডলার—যা ফিলিপাইনের বেসরকারি দাতাদের অনুদানের চেয়ে কিছুটা কম।

বারহাম সালিহ বলেন, শরণার্থীদের জন্য যা প্রায়শই একটি সাময়িক সমাধান হিসেবে শুরু হয়, তা স্থায়ী রূপ নেয়; বাস্তুচ্যুতদের শিবিরে জন্ম নেওয়া শিশুরা সেখানেই প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে ওঠে এবং নিজেদের সন্তান জন্ম দেয়। তিনি বলেন, ‘আমাদের এমন একটি ভবিষ্যতের দিকে কাজ করতে হবে যেখানে এক প্রজন্মের শরণার্থীদের বাস্তুচ্যুতির অভিশাপ পরবর্তী প্রজন্মের কাছে হস্তান্তর করতে বাধ্য হতে না হয়।’

ঠিকানা/এএস
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]