সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দ্বিতীয় দিনের মতো হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১১ অক্টোবর) নতুন করে চালানো এ হামলায় এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন। সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগের দিন শনিবার একই বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ ১৩ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হন।
সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রোববার বিমানবন্দরের একটি টার্মিনালে অজ্ঞাত একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে দ্বিতীয় দিনের হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরন এবং হতাহতদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে শনিবারের হামলায় বিমানবন্দরের টার্মিনাল ৩-এ আঘাত হানে ক্ষেপণাস্ত্র। সৌদি কর্তৃপক্ষের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ওই হামলায় নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক এবং দুইজন বাংলাদেশি রয়েছেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, জর্ডান, সিরিয়া, ফিলিস্তিন ও সুদানের একজন করে নাগরিক নিহত হন। আহত হন ৩০৯ জন।
বাংলাদেশের নিহত দুই প্রবাসী হলেন বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মো. শাহেদ আহমেদ এবং কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরী। বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় আরও ২৪ বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১১ জন প্রবাসী কর্মী এবং ১৩ জন ওমরাহযাত্রী। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবে একাধিক হামলার দায় স্বীকার করেছে। তাদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আরও হামলার হুমকি দিয়েছেন। হুথিদের দাবি, সৌদি আরবের পাশাপাশি দাম্মাম বিমানবন্দর এবং দেশটির তেল স্থাপনাও তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এসব দাবির সবকটির স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হামলার জবাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। জোটের পক্ষ থেকে হুথিদের সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলার কথাও জানানো হয়েছে। ফলে ইয়েমেনের সংঘাত সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তার ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে।
পরপর হামলার পর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ রাখা হয়েছে। বিমানবন্দরের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও নিরাপত্তা পরীক্ষা চলছে। সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও হামলার ঘটনা নিশ্চিত করেছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। সেখানে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কিং খালিদ বিমানবন্দরের কাছে একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, পূর্বাঞ্চলে একটি ড্রোন এবং খামিস মুশাইতের দিকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে। হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরবে বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
হুথিদের হামলার পর সৌদি আরবের পাশে যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে যুক্ত হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র অংশ নেবে কি না, তা বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন। তবে সরাসরি মার্কিন সামরিক অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের পর সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে সংলাপ সহজতর করতে তেহরানের সহযোগিতার আগ্রহ জানিয়েছেন। এতে সংঘাতের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে।
সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার দাবি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে ইয়েমেনের উপকূলের কাছে বাব আল-মান্দেব প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ। সেখানে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের বাহিনীর মধ্যে লড়াই নতুন করে তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলাগুলো ঘটেছে। সৌদি আরবের পাল্টা সামরিক অভিযান, হুথিদের নতুন হামলার হুমকি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)। উল্লেখ্য, ১২ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববারের হামলায় একজন পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হয়েছেন; আগের দিনের হামলায় নিহতের সংখ্যা ১৩-তে পৌঁছায়।
ঠিকানা/এসআর
সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রোববার বিমানবন্দরের একটি টার্মিনালে অজ্ঞাত একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে দ্বিতীয় দিনের হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরন এবং হতাহতদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে শনিবারের হামলায় বিমানবন্দরের টার্মিনাল ৩-এ আঘাত হানে ক্ষেপণাস্ত্র। সৌদি কর্তৃপক্ষের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ওই হামলায় নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক এবং দুইজন বাংলাদেশি রয়েছেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, জর্ডান, সিরিয়া, ফিলিস্তিন ও সুদানের একজন করে নাগরিক নিহত হন। আহত হন ৩০৯ জন।
বাংলাদেশের নিহত দুই প্রবাসী হলেন বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মো. শাহেদ আহমেদ এবং কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরী। বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় আরও ২৪ বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১১ জন প্রবাসী কর্মী এবং ১৩ জন ওমরাহযাত্রী। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবে একাধিক হামলার দায় স্বীকার করেছে। তাদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আরও হামলার হুমকি দিয়েছেন। হুথিদের দাবি, সৌদি আরবের পাশাপাশি দাম্মাম বিমানবন্দর এবং দেশটির তেল স্থাপনাও তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এসব দাবির সবকটির স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হামলার জবাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। জোটের পক্ষ থেকে হুথিদের সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলার কথাও জানানো হয়েছে। ফলে ইয়েমেনের সংঘাত সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তার ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে।
পরপর হামলার পর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ রাখা হয়েছে। বিমানবন্দরের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও নিরাপত্তা পরীক্ষা চলছে। সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও হামলার ঘটনা নিশ্চিত করেছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। সেখানে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কিং খালিদ বিমানবন্দরের কাছে একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, পূর্বাঞ্চলে একটি ড্রোন এবং খামিস মুশাইতের দিকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে। হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরবে বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
হুথিদের হামলার পর সৌদি আরবের পাশে যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে যুক্ত হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র অংশ নেবে কি না, তা বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন। তবে সরাসরি মার্কিন সামরিক অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের পর সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে সংলাপ সহজতর করতে তেহরানের সহযোগিতার আগ্রহ জানিয়েছেন। এতে সংঘাতের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে।
সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার দাবি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে ইয়েমেনের উপকূলের কাছে বাব আল-মান্দেব প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ। সেখানে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের বাহিনীর মধ্যে লড়াই নতুন করে তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলাগুলো ঘটেছে। সৌদি আরবের পাল্টা সামরিক অভিযান, হুথিদের নতুন হামলার হুমকি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)। উল্লেখ্য, ১২ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববারের হামলায় একজন পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হয়েছেন; আগের দিনের হামলায় নিহতের সংখ্যা ১৩-তে পৌঁছায়।
ঠিকানা/এসআর