সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। জোটের দাবি, বিমানবন্দরের যাত্রী টার্মিনালে হামলা চালিয়ে বেসামরিক মানুষকে হতাহত করা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও যুদ্ধের বিধিবিধানের গুরুতর লঙ্ঘন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) স্থানীয় সময় দুপুরে চালানো এ হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩০৯ জন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ রোববার হতাহতের এ সংখ্যা নিশ্চিত করেছে। হামলায় বিমানবন্দরের অবকাঠামোরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সৌদি গেজেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনে বৈধ সরকারকে সমর্থনকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি বলেছেন, যাত্রী টার্মিনাল লক্ষ্য করে চালানো এ হামলায় বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও যুদ্ধের প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী এটি সুস্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ। তিনি হামলাটিকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এর জবাব দেওয়া হবে এবং জোট আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
নিহতদের মধ্যে দুই বাংলাদেশি
সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন (জিএসিএ) জানিয়েছে, হামলায় নিহত ১২ জনের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক এবং আটজন বিদেশি। বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, জর্ডান, সিরিয়া, ফিলিস্তিন ও সুদানের একজন করে নাগরিক নিহত হয়েছেন।
হামলায় আহত ৩০৯ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। বিমানবন্দরের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।
হামলার পরপরই নিরাপত্তা যাচাই ও ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের জন্য বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। এতে বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং বিভিন্ন ফ্লাইট বাতিল ও অন্যত্র পাঠানোর পরিস্থিতি তৈরি হয়।
এক সপ্তাহে বিমানবন্দরে একাধিক হামলা
রিয়াদ বিমানবন্দরে শনিবারের হামলাটি সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল স্থাপনাকে লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক ধারাবাহিক হামলার অংশ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে এর আগেও বিমানবন্দরটিতে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। বৃহস্পতিবারের পৃথক হামলায় তিন সৌদি নাগরিক নিহত হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন বলে সৌদি সূত্র জানিয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে দেশটির বিমানবন্দর, যাত্রী পরিবহন ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র রিয়াদে এ ধরনের হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি বেসামরিক বিমান পরিবহনেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
বাড়ছে সৌদি-হুথি সংঘাতের উত্তেজনা
ইয়েমেনের হুথি আন্দোলন এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলছে। ২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক হস্তক্ষেপের পর দুই পক্ষের সংঘাত আঞ্চলিক নিরাপত্তার অন্যতম বড় সংকটে পরিণত হয়। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগে সহিংসতা কিছুটা কমলেও পরবর্তী সময়ে আবার উত্তেজনা বেড়েছে।
হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে। গোষ্ঠীটি ইরানের সমর্থন পায় বলে সৌদি আরব ও তার মিত্রদের অভিযোগ। অন্যদিকে, হুথিরা সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করে আসছে। তবে রিয়াদ বিমানবন্দরে শনিবারের হামলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের তথ্য বিবেচনা করা জরুরি।
বিমানবন্দরের মতো বেসামরিক স্থাপনায় হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর প্রশ্ন সামনে এনেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হামলাটিকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বর্ণনা করলেও এ বিষয়ে চূড়ান্ত আইনগত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে ঘটনার তথ্য-প্রমাণ ও প্রযোজ্য আইনের মূল্যায়নের ওপর।
হামলার পর সৌদি জোটের কঠোর প্রতিক্রিয়ার ঘোষণা ইয়েমেন সংঘাতকে আরও বিস্তৃত সামরিক উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিতে পারে। জোট কী ধরনের পদক্ষেপ নেয় এবং তার জবাবে হুথিরা কী অবস্থান গ্রহণ করে, তা এখন আঞ্চলিক পরিস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একই সঙ্গে হতাহতদের চিকিৎসা, বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় চালু এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনরুদ্ধারও সৌদি কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে।
সূত্র: সৌদি গেজেট, রয়টার্স, আলজাজিরা
ঠিকানা/এসআর
শনিবার (১০ অক্টোবর) স্থানীয় সময় দুপুরে চালানো এ হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩০৯ জন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ রোববার হতাহতের এ সংখ্যা নিশ্চিত করেছে। হামলায় বিমানবন্দরের অবকাঠামোরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সৌদি গেজেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনে বৈধ সরকারকে সমর্থনকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি বলেছেন, যাত্রী টার্মিনাল লক্ষ্য করে চালানো এ হামলায় বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও যুদ্ধের প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী এটি সুস্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ। তিনি হামলাটিকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এর জবাব দেওয়া হবে এবং জোট আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
নিহতদের মধ্যে দুই বাংলাদেশি
সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন (জিএসিএ) জানিয়েছে, হামলায় নিহত ১২ জনের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক এবং আটজন বিদেশি। বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, জর্ডান, সিরিয়া, ফিলিস্তিন ও সুদানের একজন করে নাগরিক নিহত হয়েছেন।
হামলায় আহত ৩০৯ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। বিমানবন্দরের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।
হামলার পরপরই নিরাপত্তা যাচাই ও ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের জন্য বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। এতে বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং বিভিন্ন ফ্লাইট বাতিল ও অন্যত্র পাঠানোর পরিস্থিতি তৈরি হয়।
এক সপ্তাহে বিমানবন্দরে একাধিক হামলা
রিয়াদ বিমানবন্দরে শনিবারের হামলাটি সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল স্থাপনাকে লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক ধারাবাহিক হামলার অংশ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে এর আগেও বিমানবন্দরটিতে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। বৃহস্পতিবারের পৃথক হামলায় তিন সৌদি নাগরিক নিহত হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন বলে সৌদি সূত্র জানিয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে দেশটির বিমানবন্দর, যাত্রী পরিবহন ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র রিয়াদে এ ধরনের হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি বেসামরিক বিমান পরিবহনেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
বাড়ছে সৌদি-হুথি সংঘাতের উত্তেজনা
ইয়েমেনের হুথি আন্দোলন এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলছে। ২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক হস্তক্ষেপের পর দুই পক্ষের সংঘাত আঞ্চলিক নিরাপত্তার অন্যতম বড় সংকটে পরিণত হয়। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগে সহিংসতা কিছুটা কমলেও পরবর্তী সময়ে আবার উত্তেজনা বেড়েছে।
হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে। গোষ্ঠীটি ইরানের সমর্থন পায় বলে সৌদি আরব ও তার মিত্রদের অভিযোগ। অন্যদিকে, হুথিরা সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করে আসছে। তবে রিয়াদ বিমানবন্দরে শনিবারের হামলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের তথ্য বিবেচনা করা জরুরি।
বিমানবন্দরের মতো বেসামরিক স্থাপনায় হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর প্রশ্ন সামনে এনেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হামলাটিকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বর্ণনা করলেও এ বিষয়ে চূড়ান্ত আইনগত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে ঘটনার তথ্য-প্রমাণ ও প্রযোজ্য আইনের মূল্যায়নের ওপর।
হামলার পর সৌদি জোটের কঠোর প্রতিক্রিয়ার ঘোষণা ইয়েমেন সংঘাতকে আরও বিস্তৃত সামরিক উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিতে পারে। জোট কী ধরনের পদক্ষেপ নেয় এবং তার জবাবে হুথিরা কী অবস্থান গ্রহণ করে, তা এখন আঞ্চলিক পরিস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একই সঙ্গে হতাহতদের চিকিৎসা, বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় চালু এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনরুদ্ধারও সৌদি কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে।
সূত্র: সৌদি গেজেট, রয়টার্স, আলজাজিরা
ঠিকানা/এসআর