ত্বক টানটান রাখতে যে তেল মাখেন অভিনেত্রী শর্মিলা

প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৭ , অনলাইন ভার্সন
ত্বকের নিস্তেজ ভাব দূর করে সতেজ চেহারা পেতে অনেকেই ভেষজ তেল ব্যবহার করেন। কুমকুমাদি তেলে থাকা জাফরান ও অন্যান্য উদ্ভিজ্জ উপাদান ত্বকের পরিচর্যায় ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি তেলের আর্দ্রতা ধরে রাখার বৈশিষ্ট্য ত্বককে কোমল ও প্রাণবন্ত দেখাতে সাহায্য করতে পারে। তবে ত্বকের দাগছোপ বা কালচে ভাব দূর করার ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতার পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

শুষ্ক ত্বকে আর্দ্রতা জোগায়
শুষ্ক ত্বকে আর্দ্রতার অভাব হলে টানটান ভাব, খসখসে ভাব ও অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। উপযুক্ত তেল ত্বকের ওপর একটি সুরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। কুমকুমাদি তেলও এ ক্ষেত্রে কিছুটা উপকারী হতে পারে। তবে সব ধরনের ত্বকে একইভাবে কাজ করে না। তৈলাক্ত বা ব্রণপ্রবণ ত্বকে অতিরিক্ত তেল ব্যবহারে সমস্যা বাড়তে পারে।

বয়সের ছাপ কমানোর পরিচর্যায় ব্যবহার
বয়স বাড়ার সঙ্গে ত্বকে সূক্ষ্ম রেখা, বলিরেখা ও শিথিলতা দেখা দিতে পারে। ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখলে সূক্ষ্ম রেখা সাময়িকভাবে কম দৃশ্যমান হতে পারে। কুমকুমাদি তেল ত্বককে আর্দ্র ও কোমল রাখতে সহায়তা করতে পারে। তবে রোমকূপ স্থায়ীভাবে ছোট করা কিংবা বলিরেখা দূর করার কার্যকারিতা প্রমাণিত নয়। বয়সের ছাপ প্রতিরোধে নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

ব্রণপ্রবণ ত্বকে ব্যবহারে সতর্কতা জরুরি
ভেষজ উপাদানের প্রদাহরোধী বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা থাকলেও কুমকুমাদি তেল সরাসরি ব্রণ সারায়—এমন পর্যাপ্ত নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। বরং তেলটির উপাদান ও ঘনত্বের ওপর নির্ভর করে কারও কারও রোমকূপ বন্ধ হয়ে ব্রণ বাড়তে পারে। তাই ব্রণপ্রবণ ত্বকে ব্যবহার করার আগে উপাদান যাচাই করা এবং প্রয়োজনে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

ত্বকের শুষ্কতা ও অস্বস্তি কমাতে পারে
ত্বক শুষ্ক হয়ে গেলে লালচে ভাব, টানটান অনুভূতি ও অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। উপযুক্ত তেল ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। তবে ত্বকে আগে থেকেই প্রদাহ, অ্যালার্জি বা সংবেদনশীলতার সমস্যা থাকলে ভেষজ তেল ব্যবহারে উল্টো প্রতিক্রিয়াও হতে পারে।

কীভাবে ব্যবহার করবেন কুমকুমাদি তেল?
কুমকুমাদি তেল ব্যবহারের ক্ষেত্রে ত্বকের ধরন ও পণ্যের নির্দেশনা মাথায় রাখা জরুরি। সাধারণভাবে ব্যবহার করতে চাইলে কয়েকটি বিষয় অনুসরণ করতে পারেন:

* প্রথমে মৃদু ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিন।

* তেল ব্যবহারের আগে হাতের ভেতরের দিকে বা ত্বকের ছোট একটি অংশে পরীক্ষা করুন। ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করুন, কোনো প্রতিক্রিয়া হয় কি না।

* কোনো সমস্যা না হলে অল্প পরিমাণ তেল নিয়ে মুখের ছোট একটি অংশে লাগিয়ে দেখতে পারেন।

* ত্বকে জ্বালাপোড়া, চুলকানি, লালচে ভাব কিংবা ব্রণ বেড়ে গেলে ব্যবহার বন্ধ করুন।

* দিনের বেলায় তেল ব্যবহার করলেও সানস্ক্রিনের বিকল্প হিসেবে এটি ব্যবহার করবেন না।

* রাতে তেল ব্যবহার করতেই হবে, এমন কোনো নিয়ম নেই। ত্বকের ধরন ও পণ্যের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবহারের সময় ঠিক করা ভালো। বেশি পরিমাণে তেল লাগালেই যে বেশি উপকার পাওয়া যাবে, তা-ও নয়।

ব্যবহারের আগে যা জানতে হবে
প্রাকৃতিক বা ভেষজ উপাদানে তৈরি হলেই কোনো প্রসাধনী সবার জন্য নিরাপদ, এমন ধারণা ঠিক নয়। কুমকুমাদি তেলের বিভিন্ন উপাদানে অ্যালার্জি হতে পারে। তাই কেনার আগে উপাদানের তালিকা দেখে নেওয়া উচিত। সংবেদনশীল ত্বক, একজিমা বা ব্রণপ্রবণ ত্বক থাকলে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।                                   

ত্বকের কালচে দাগ, ব্রণ কিংবা বলিরেখার পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। শুধু একটি তেলের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ত্বকের উপযোগী ময়েশ্চারাইজার, সানস্ক্রিন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।

রূপচর্চায় কুমকুমাদি তেল একটি ভেষজ বিকল্প হতে পারে। তবে ত্বকের যত্নে এর উপকারিতা নিয়ে প্রচলিত ধারণা ও বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত কার্যকারিতার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তাই ত্বকের ধরন বুঝে, সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ঠিকানা/এসআর
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]