বাংলাদেশে এফডিআর, টার্ম ডিপোজিট বা অন্য কোনো মেয়াদি আমানত খোলার পর শুধু টাকা জমা রাখলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। মেয়াদপূর্তির তারিখ, অটো-রিনিউয়ের শর্ত, অর্থ কোথায় যাবে এবং প্রয়োজনে কীভাবে আমানত ভাঙানো বা নিষ্পত্তি করা যাবে—এসব তথ্যও নজরে রাখা জরুরি। বিশেষ করে, অটো-রিনিউ না করার নির্দেশ দেওয়া থাকলে মেয়াদপূর্তির পর হিসাবটির কী হবে, তা ব্যাংক থেকে আগেই জেনে নেওয়া উচিত।
অনেক আমানতকারী দীর্ঘমেয়াদি এফডিআর খোলার পর মেয়াদপূর্তির তারিখ মনে রাখেন না। কর্মব্যস্ততা, বিদেশে অবস্থান, অসুস্থতা কিংবা অন্য কোনো কারণে সময়মতো ব্যাংকে যোগাযোগ করাও সম্ভব হয় না। ফলে মেয়াদপূর্তির পরও কোনো কোনো আমানত দীর্ঘদিন নিষ্পত্তি না হয়ে পড়ে থাকতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে প্রতিটি আমানতের মেয়াদপূর্তির তারিখ লিখে রাখা এবং নিয়মিত হিসাব পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
অটো-রিনিউ না করার নির্দেশ থাকলেও মেয়াদপূর্তির পর আমানতের অর্থ কীভাবে নিষ্পত্তি হবে, তা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পণ্য ও হিসাব খোলার সময় নির্ধারিত শর্তের ওপর নির্ভর করতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৪ সালের ‘সিবিএস ফিচার্স অ্যান্ড কন্ট্রোলস’ নির্দেশনায় আমানতকারীর নির্দেশনা অনুযায়ী এফডিআর নবায়নের ব্যবস্থা থাকার কথা বলা হয়েছে। আবার গ্রাহকের নির্দেশনা না থাকলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে নবায়ন বা অন্য হিসাবে অর্থ স্থানান্তরের ব্যবস্থাও থাকতে পারে। তাই একটি এফডিআরের মেয়াদ শেষ হলেই সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নগদ হয়ে যাবে—এমন ধারণা করা ঠিক নয়।
নিজের সব ব্যাংক হিসাবের একটি নিরাপদ তালিকা রাখা যেতে পারে। সেখানে ব্যাংক ও শাখার নাম, প্রয়োজনীয় হিসাব শনাক্তকারী তথ্য, আমানতের ধরন, মেয়াদপূর্তির তারিখ, অটো-রিনিউয়ের অবস্থা এবং নমিনির নাম ও যোগাযোগের তথ্য রাখা ভালো। এসব তথ্য সবার সঙ্গে প্রকাশ করার প্রয়োজন নেই। তবে পরিবারের অন্তত একজন বিশ্বস্ত সদস্য বা নমিনিকে প্রয়োজনীয় তথ্য জানিয়ে রাখা নিরাপদ। বিশেষ করে, কোনো আমানতকারী মারা গেলে তার ব্যাংক হিসাব সম্পর্কে পরিবার অবগত না থাকলে অর্থ দাবি করার প্রক্রিয়া জটিল হতে পারে। পরিবারের সদস্যরা যদি না জানেন মৃত ব্যক্তির কোন কোন ব্যাংকে হিসাব ছিল, তাহলে কোনো কোনো আমানত দীর্ঘদিন অদাবিকৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় লেনদেন না হওয়া নির্দিষ্ট ধরনের আমানত অদাবিকৃত আমানত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং এ ধরনের অর্থের জন্য নির্ধারিত আইন ও প্রক্রিয়া রয়েছে।
তবে হিসাবধারী মারা গেলেই তার অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরকারের হয়ে যায়—এমন ধারণা সঠিক নয়। প্রকৃত দাবিদারকে সংশ্লিষ্ট আইন, ব্যাংকের নিয়ম এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অনুসরণ করে অর্থ দাবি করতে হয়। এ কারণে জীবিত থাকতেই কোন ব্যাংকে কী ধরনের আমানত রয়েছে এবং নমিনি কে—তা পরিবারের বিশ্বস্ত সদস্যকে জানিয়ে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যাংক থেকে কোনো চিঠি, ফোন বা ই-মেইল এলে সেটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। ঠিকানা, মোবাইল নম্বর বা ই-মেইল পরিবর্তিত হলে ব্যাংকের রেকর্ডে তা হালনাগাদ করা দরকার। কোনো ব্যাংক কর্মকর্তা পরিচয়ে কেউ বাড়িতে এলে পরিচয় যাচাই না করে কোনো তথ্য দেওয়া উচিত নয়। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট শাখায় ফোন করে ওই ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা যেতে পারে। ওটিপি, পিন, পাসওয়ার্ড বা অনলাইন ব্যাংকিংয়ের গোপন তথ্য কাউকেই দেওয়া যাবে না।
মেয়াদপূর্তির পর ব্যাংকে যাওয়া সম্ভব না হলে শাখা ব্যবস্থাপক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে হিসাবটির বর্তমান অবস্থা জেনে নেওয়া যেতে পারে। প্রয়োজনে ব্যাংককে জানিয়ে রাখা উচিত যে আমানতকারী নির্দিষ্ট সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
ব্যাংকে টাকা রাখা মানেই শুধু আমানত খোলা নয়; মেয়াদপূর্তি, নবায়ন, নমিনি ও ভবিষ্যৎ দাবির বিষয়টিও নজরে রাখা জরুরি। তাই এফডিআর বা মেয়াদি আমানত ‘মেয়াদ শেষ হয়েছে, পরে দেখা যাবে’—এভাবে ফেলে না রেখে সময়মতো ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। একই সঙ্গে পরিবারের বিশ্বস্ত সদস্য ও নমিনিকে প্রয়োজনীয় তথ্য জানিয়ে রাখলে আমানতকারীর অনুপস্থিতিতে অর্থ শনাক্ত ও আইনসম্মতভাবে দাবি করার প্রক্রিয়াও সহজ হতে পারে।
অনেক আমানতকারী দীর্ঘমেয়াদি এফডিআর খোলার পর মেয়াদপূর্তির তারিখ মনে রাখেন না। কর্মব্যস্ততা, বিদেশে অবস্থান, অসুস্থতা কিংবা অন্য কোনো কারণে সময়মতো ব্যাংকে যোগাযোগ করাও সম্ভব হয় না। ফলে মেয়াদপূর্তির পরও কোনো কোনো আমানত দীর্ঘদিন নিষ্পত্তি না হয়ে পড়ে থাকতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে প্রতিটি আমানতের মেয়াদপূর্তির তারিখ লিখে রাখা এবং নিয়মিত হিসাব পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
অটো-রিনিউ না করার নির্দেশ থাকলেও মেয়াদপূর্তির পর আমানতের অর্থ কীভাবে নিষ্পত্তি হবে, তা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পণ্য ও হিসাব খোলার সময় নির্ধারিত শর্তের ওপর নির্ভর করতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৪ সালের ‘সিবিএস ফিচার্স অ্যান্ড কন্ট্রোলস’ নির্দেশনায় আমানতকারীর নির্দেশনা অনুযায়ী এফডিআর নবায়নের ব্যবস্থা থাকার কথা বলা হয়েছে। আবার গ্রাহকের নির্দেশনা না থাকলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে নবায়ন বা অন্য হিসাবে অর্থ স্থানান্তরের ব্যবস্থাও থাকতে পারে। তাই একটি এফডিআরের মেয়াদ শেষ হলেই সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নগদ হয়ে যাবে—এমন ধারণা করা ঠিক নয়।
নিজের সব ব্যাংক হিসাবের একটি নিরাপদ তালিকা রাখা যেতে পারে। সেখানে ব্যাংক ও শাখার নাম, প্রয়োজনীয় হিসাব শনাক্তকারী তথ্য, আমানতের ধরন, মেয়াদপূর্তির তারিখ, অটো-রিনিউয়ের অবস্থা এবং নমিনির নাম ও যোগাযোগের তথ্য রাখা ভালো। এসব তথ্য সবার সঙ্গে প্রকাশ করার প্রয়োজন নেই। তবে পরিবারের অন্তত একজন বিশ্বস্ত সদস্য বা নমিনিকে প্রয়োজনীয় তথ্য জানিয়ে রাখা নিরাপদ। বিশেষ করে, কোনো আমানতকারী মারা গেলে তার ব্যাংক হিসাব সম্পর্কে পরিবার অবগত না থাকলে অর্থ দাবি করার প্রক্রিয়া জটিল হতে পারে। পরিবারের সদস্যরা যদি না জানেন মৃত ব্যক্তির কোন কোন ব্যাংকে হিসাব ছিল, তাহলে কোনো কোনো আমানত দীর্ঘদিন অদাবিকৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় লেনদেন না হওয়া নির্দিষ্ট ধরনের আমানত অদাবিকৃত আমানত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং এ ধরনের অর্থের জন্য নির্ধারিত আইন ও প্রক্রিয়া রয়েছে।
তবে হিসাবধারী মারা গেলেই তার অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরকারের হয়ে যায়—এমন ধারণা সঠিক নয়। প্রকৃত দাবিদারকে সংশ্লিষ্ট আইন, ব্যাংকের নিয়ম এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অনুসরণ করে অর্থ দাবি করতে হয়। এ কারণে জীবিত থাকতেই কোন ব্যাংকে কী ধরনের আমানত রয়েছে এবং নমিনি কে—তা পরিবারের বিশ্বস্ত সদস্যকে জানিয়ে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যাংক থেকে কোনো চিঠি, ফোন বা ই-মেইল এলে সেটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। ঠিকানা, মোবাইল নম্বর বা ই-মেইল পরিবর্তিত হলে ব্যাংকের রেকর্ডে তা হালনাগাদ করা দরকার। কোনো ব্যাংক কর্মকর্তা পরিচয়ে কেউ বাড়িতে এলে পরিচয় যাচাই না করে কোনো তথ্য দেওয়া উচিত নয়। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট শাখায় ফোন করে ওই ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা যেতে পারে। ওটিপি, পিন, পাসওয়ার্ড বা অনলাইন ব্যাংকিংয়ের গোপন তথ্য কাউকেই দেওয়া যাবে না।
মেয়াদপূর্তির পর ব্যাংকে যাওয়া সম্ভব না হলে শাখা ব্যবস্থাপক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে হিসাবটির বর্তমান অবস্থা জেনে নেওয়া যেতে পারে। প্রয়োজনে ব্যাংককে জানিয়ে রাখা উচিত যে আমানতকারী নির্দিষ্ট সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
ব্যাংকে টাকা রাখা মানেই শুধু আমানত খোলা নয়; মেয়াদপূর্তি, নবায়ন, নমিনি ও ভবিষ্যৎ দাবির বিষয়টিও নজরে রাখা জরুরি। তাই এফডিআর বা মেয়াদি আমানত ‘মেয়াদ শেষ হয়েছে, পরে দেখা যাবে’—এভাবে ফেলে না রেখে সময়মতো ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। একই সঙ্গে পরিবারের বিশ্বস্ত সদস্য ও নমিনিকে প্রয়োজনীয় তথ্য জানিয়ে রাখলে আমানতকারীর অনুপস্থিতিতে অর্থ শনাক্ত ও আইনসম্মতভাবে দাবি করার প্রক্রিয়াও সহজ হতে পারে।