আইসিসিকে ‘টুকরো টুকরো করে’ ভেঙে দেওয়ার হুমকি রুবিওর, মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদ

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৯ , অনলাইন ভার্সন
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে (আইসিসি) এবার সরাসরি অচল করে দেওয়ার অভিযানে নেমেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে নিয়োজিত বিশ্বের প্রথম স্থায়ী আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতটির ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একে ‘নিয়ন্ত্রণহীন আদালত’ আখ্যা দিয়েছেন। হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানটিকে ‘টুকরো টুকরো করে’ ভেঙে দেওয়ার অভিযান চলবে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) আইসিসির সাবেক বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আসে ওয়াশিংটনের এই কঠোর ঘোষণা। মার্কিন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় মিত্রদেশ, জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিবাদের মুখে আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা এবং যুদ্ধাপরাধের বিচার নিশ্চিত করার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের এবারের নিষেধাজ্ঞা আগের যেকোনো পদক্ষেপের তুলনায় বিস্তৃত। এত দিন আইসিসির নির্দিষ্ট বিচারক ও কৌঁসুলিদের লক্ষ্যবস্তু করা হলেও এবার সরাসরি পুরো প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আদালতটির মার্কিন ব্যাংকিং ব্যবস্থা, ডলারে লেনদেন, প্রযুক্তিসেবা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। আন্তর্জাতিক বিচারিক প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সীমিত করাই এই পদক্ষেপের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে স্পষ্ট করেছেন রুবিও।

নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার সময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কখনোই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে মার্কিন নাগরিকদের বিচার করার সুযোগ দেবেন না। যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য নয় উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, আদালতটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করছে এবং মার্কিন নাগরিক ও

দেশটির মিত্রদের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে বিচারিক ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চালাচ্ছে।
রুবিও বলেন, আইসিসি হয় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হুমকি বন্ধ করবে, নয়তো যুক্তরাষ্ট্র আদালতটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেবে। তিনি মার্কিন মিত্রদেশগুলোকেও আদালতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে প্রতিষ্ঠানটিকে ভেঙে দেওয়ার অভিযান অব্যাহত রাখবে বলে সতর্ক করেন।

মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের এখতিয়ারভুক্ত আইসিসির সম্পদ অবরুদ্ধ হবে। মার্কিন ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আদালতের লেনদেনও বন্ধ বা সীমিত হবে। তবে আদালতের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গুটিয়ে নেওয়ার জন্য মার্কিন প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা না গেলে আদালতের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রম, তথ্যপ্রযুক্তি, নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনে বড় ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে।

ওয়াশিংটনের সঙ্গে আইসিসির বিরোধ নতুন নয়। এর অন্যতম প্রধান কারণ ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে তাঁদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়। ইসরায়েল অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানও ইসরায়েলের পক্ষে। ওয়াশিংটনের দাবি, ইসরায়েল আইসিসির সদস্য নয়, তাই দেশটির নেতাদের বিরুদ্ধে আদালতের বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ গ্রহণযোগ্য নয়।

অন্যদিকে আইসিসির যুক্তি, ফিলিস্তিন আদালতের সদস্য হওয়ায় ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সংঘটিত অপরাধের অভিযোগ তদন্ত ও বিচারের এখতিয়ার তার রয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি কোনো সদস্যরাষ্ট্রের নাগরিক না হলেও অপরাধ সংঘটনের স্থান আদালতের এখতিয়ারভুক্ত হলে নির্দিষ্ট শর্তে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়।

আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা সদস্যদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের তদন্ত নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে আদালতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধ চলছে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন আইসিসির ১৩ জন বিচারক ও কৌঁসুলির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এবার পুরো প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করায় সেই বিরোধ নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এদিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে দক্ষিণ আফ্রিকার বিশিষ্ট আইনবিদ নাভি পিল্লাইকে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায় নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি। আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবং গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ৮৫ বছর বয়সী এই আইনবিদকে সম্মানিত করা হচ্ছে। আগামী ১০ ডিসেম্বর নরওয়ের রাজধানী অসলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।

নাভি পিল্লাই ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারপতি ছিলেন। এর আগে রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবেও কাজ করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় নিপীড়িত মানুষের অধিকার রক্ষায় আইনজীবী হিসেবে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

পিল্লাই বর্তমানে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগসংক্রান্ত মামলায় অ্যাডহক বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতন ও গণহত্যার অভিযোগের সঙ্গে এই মামলার সম্পর্ক থাকায় তাঁর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাংলাদেশের জন্যও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

নোবেল কমিটি পুরস্কার ঘোষণার সময় আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা ও আইনের শাসন রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে। কমিটির বক্তব্যে বলা হয়, বিশ্বে শক্তির রাজনীতি ক্রমেই আন্তর্জাতিক আইন ও বিচারিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এমন পরিস্থিতিতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সাহসী ও স্বাধীন বিচারকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে নাভি পিল্লাইয়ের নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি কয়েক মাস ধরেই চলছিল এবং দুটি ঘোষণার সময়ের মিল কাকতালীয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, স্বাধীন বিচারিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞা আইনের শাসন এবং আন্তর্জাতিক আইনভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থার মৌলিক ভিত্তির ওপর আঘাত। আদালতের কাজ বাধাগ্রস্ত করা এবং এর কর্মকর্তা ও সহযোগীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করাই এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য।

আইসিসির প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে বলেছেন, বিষয়টি শুধু একটি আদালতকে রক্ষার প্রশ্ন নয়; বরং আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বিশ্বব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখার বিষয়। আদালতের ১২৫টি সদস্যরাষ্ট্রকে প্রতিষ্ঠানটির স্বাধীনতা ও বিচারিক কার্যক্রম রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিকও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠার সম্মিলিত প্রচেষ্টার জন্য এই সিদ্ধান্ত বড় ধরনের আঘাত।

যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্রদেশগুলোর মধ্যেও নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কানাডা, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাজ্য যৌথ বিবৃতিতে মার্কিন সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করেছে। দেশগুলো জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা, আইনের শাসন সমুন্নত রাখা এবং গুরুতর অপরাধের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে তারা একযোগে কাজ করবে।

আদালতের স্বাগতিক দেশ নেদারল্যান্ডসও সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিশেষ আইনি সুরক্ষাব্যবস্থা কার্যকর করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে, যাতে ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠান ও আদালতের কর্মীদের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব সীমিত করা যায়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, আইসিসির কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে তারা প্রস্তুত।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের নির্বাহী পরিচালক ফিলিপ বোলপিয়ন বলেছেন, ক্ষমতাবান ব্যক্তিরাও যাতে আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে না পারেন, সেই লক্ষ্যেই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তাঁর মতে, মানবাধিকার ও জবাবদিহির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ দেশগুলোর উচিত মার্কিন পদক্ষেপের বিরোধিতা করা এবং আদালতকে সুরক্ষা দিতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া।

২০০২ সালে কার্যক্রম শুরু করা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বিশ্বের প্রথম স্থায়ী আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত। গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ এবং আগ্রাসনের অপরাধের বিচার করাই এর প্রধান দায়িত্ব। কোনো দেশের জাতীয় বিচারব্যবস্থা গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার করতে অক্ষম বা অনিচ্ছুক হলে নির্দিষ্ট শর্তে আদালতটি বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।

ইতিমধ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আইসিসি। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের অভিযোগও আদালতের তদন্তাধীন। ফলে প্রতিষ্ঠানটির বিচারিক সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়লে তার প্রভাব দক্ষিণ এশিয়ার মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক বিচারপ্রক্রিয়াতেও পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ২০০০ সালের ৩১ ডিসেম্বর আইসিসি প্রতিষ্ঠার ভিত্তি রোম সংবিধিতে স্বাক্ষর করলেও তা কখনো অনুসমর্থন করেনি। ফলে দেশটি আদালতের সদস্য নয়। তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারিক এখতিয়ার শুধু অভিযুক্ত ব্যক্তির নাগরিকত্বের ওপর নির্ভর করে না; অপরাধ সংঘটনের স্থান ও অন্যান্য আইনগত ভিত্তিও বিবেচনায় নেওয়া হয়। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে আদালতের কার্যক্রম ব্যাহত করতে পারলেও এককভাবে আন্তর্জাতিক চুক্তির ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটিকে বিলুপ্ত করার ক্ষমতা রাখে না।

আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচারিক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন। ওয়াশিংটন বিষয়টিকে জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অংশ হিসেবে দেখছে। বিপরীতে আইসিসি ও এর সমর্থক দেশগুলোর অবস্থান হচ্ছে, গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের মতো গুরুতর অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে স্বাধীন আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থা অপরিহার্য।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তাই ওয়াশিংটন ও হেগের মধ্যকার কূটনৈতিক বিরোধের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের ভবিষ্যৎ নিয়েও গভীর প্রশ্ন তুলেছে। একদিকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার। এই দুই বিপরীত অবস্থানের মধ্যে আইসিসি কতটা স্বাধীনভাবে কার্যক্রম চালাতে পারবে এবং এর ১২৫টি সদস্যরাষ্ট্র আদালতটির অস্তিত্ব ও বিচারিক সক্ষমতা রক্ষায় কতটা কার্যকর ভূমিকা নেবে, এখন সেটিই বড় প্রশ্ন।

ঠিকানা/এসআর
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]