ইউরোপকে ডিজেলের মজুদ ছাড়তে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ

প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:১২ , অনলাইন ভার্সন
বিশ্বজুড়ে ডিজেলের সংকটের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এ জ্বালানির রপ্তানি নিষিদ্ধ করার কথা ভাবছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট  ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তিনি এও বলেছেন, ইউরোপের দেশগুলো যাতে তাদের কিছু ডিজেল মজুদ বাজারে ছাড়ে, সেই অনুরোধ তিনি করতে পারেন।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইউরোপকে দ্রুত তাদের এমন মজুদ বাজারে ছাড়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এর পুরো চাপ যেন যুক্তরাষ্ট্রের ‘কৃষক, ট্রাকচালক ও ব্যবসায়ীদের’ ওপর না পড়ে।

বিবিসি লিখেছে, ইরান যুদ্ধের কারণে ডিজেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপের হুমকি দিয়েছে। নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্র যদি ডিজেল রপ্তানি বন্ধ করে, সেক্ষেত্রে মজুদ জ্বালানি কীভাবে বাজারে ছাড়া যায় তা নিয়ে যুক্তরাজ্য বৃহস্পতিবার ইউরোপের অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ডিজেল সরবরাহকারী যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি প্রতিদিন ১২ লাখ থেকে ১৫ লাখ ব্যারেল ডিজেল রপ্তানি করে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বিদেশে ডিজেল সরবরাহ বন্ধ করলে অন্য দেশগুলোতেও এ জ্বালানির দাম আরও চড়তে পারে।

রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ট্রাম্প সপ্তাহ শেষে বলেন, “আমরা বিষয়টি খুব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি।”

ট্রাম্প বৃহস্পতিবার এও বলেন, তিনি ইউরোপের দেশগুলোকে তাদের কিছু ডিজেল মজুদ বাজারে ছাড়ার বিষয়ে অনুরোধ করতে পারেন।

আর ইউরোপের দেশগুলোর ‘অবিলম্বে’ তা করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বেসেন্ট।

এক্স পোস্টে বেসেন্ট বলেন, “আমাদের ইউরোপীয় অংশীদারদের উচিত তাদের আগের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের গতি বাড়ানো এবং সরবরাহের চলমান ব্যাঘাত মোকাবিলায় অতিরিক্ত জ্বালানি অবিলম্বে বাজারে সরবরাহ করা।”
 
বিবিসি লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরের নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে ডিজেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ওই নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে রিপাবলিকানদের হয়ে প্রচারে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় সফর করবেন।

ব্রিটিশ মোটরিং সংগঠন আরএসি জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে যুক্তরাজ্যে ডিজেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছে। প্রতি লিটারের দাম এখন ২০০ পেনির ঠিক নিচে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বৃহস্পতিবার ইউরোপের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন যুক্তরাজ্যের জ্বালানিমন্ত্রী মার্টিন ম্যাকক্লাসকি।

আলোচনার বিষয়ে অবগত একজন বিবিসিকে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসহ অন্য দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

তবে বছরের শুরুতে কৌশলগত জ্বালানি মজুদ সমন্বিতভাবে বাজারে ছাড়ার পরও ইউরোপে কিছু মজুদ এখনো রয়েছে বলে তিনি জানান।

ব্রিটিশ সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, “আমাদের জ্বালানি সরবরাহের উৎস বৈচিত্র্যময় এবং স্থিতিশীল।

“আমরা আন্তর্জাতিক অংশীদার ও যুক্তরাজ্যের জ্বালানি শিল্পের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি।”

সম্ভাব্য ডিজেল সংকট নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে সরকার জোর দিয়ে জানিয়েছে। তবে দাম আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইউরোপীয় কমিশনের এক মুখপাত্র বৃহস্পতিবার বলেন, ডিজেল পরিস্থিতি নিয়ে “অনেক ফোন, অনেক বৈঠক” হচ্ছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের “উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের” সঙ্গেও যোগাযোগ রয়েছে।

বিবিসি লিখেছে, বিশ্বের ডিজেল বাজারে চাপ বাড়তে পারে চীনের কারণেও। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে চীনা শোধনাগারগুলো অক্টোবরে কিছু জ্বালানি পণ্যের রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে।

এ বিষয়ে ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের মন্তব্য জানার চেষ্টা করছে বিবিসি।

ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিশ্বজুড়ে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।
 
সাধারণত বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে তেল থেকে তৈরি বিভিন্ন জ্বালানি পণ্যের দাম বেড়েছে।

ডিজেলের আরেক বড় সরবরাহকারী রাশিয়া রপ্তানি বন্ধ করায় বাজারে দামের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।

ট্রাম্পের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত ডিজেল মজুদ রাখলে দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারে খুচরা দাম কমবে। তাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে চালক, ট্রাকচালক ও ব্যবসায়ীরা দ্রুত স্বস্তি পাবেন।

তবে আরগাস মিডিয়ার প্রধান অর্থনীতিবিদ ডেভিড ফাইফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

যুক্তরাজ্যে ডিজেলের দাম এখন সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে। আরএসি’র সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ফিলিং স্টেশনে ডিজেলের গড় দাম প্রতি লিটার ১৯৯ দশমিক ৭৯ পেনি। এর আগে দাম ছিল ১৪২ দশমিক ৩৮ পেনি।

পেট্রোলের তুলনায় ডিজেল পরিশোধন করা কঠিন। আবার পরিবহন খাত ও কৃষিকাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হওয়ায় এর চাহিদা কমানোও খুব কঠিন।

ডিজেলের জন্য যুক্তরাজ্য আমদানির ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। দেশটির চারটি শোধনাগার অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর জন্য চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি পেট্রোল উৎপাদন করে। কিন্তু দেশের প্রয়োজন মেটানোর মতো পর্যাপ্ত ডিজেল তারা উৎপাদন করে না।

যুক্তরাজ্যের পরিবহন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জুনের শেষে দেশটির সড়কে ১ কোটি ৫১ লাখ ডিজেলচালিত যানবাহন ছিল। এক বছর আগে এই সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৫৭ লাখ।

এর মধ্যে ডিজেলচালিত গাড়ির সংখ্যা ৯৮ লাখ, যা এক বছর আগে ছিল ১ কোটি ৪ লাখ।

ঠিকানা/এসআর
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]