উয়েফা নেশন্স লিগে টানা তৃতীয় জয় পর্তুগালের

প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৭ , অনলাইন ভার্সন
গত কয়েকদিন ধরেই উত্তাল পর্তুগাল শিবির। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে কোচের দ্বন্দ্ব বড় জায়গা করে নেয় গণমাধ্যমে। দুইজনের দ্বন্দ্বে শেষ পর্যন্ত‍ পর্তুগালের ক্যাম্পই ছাড়েন রোনালদো। মাঠের বাইরের এসব বিতর্ক প্রভাব ফেলেনি মাঠের খেলায়। ডেনমার্কের বিপক্ষে দারুণ জয় তুলে নিয়েছে পর্তুগাল। এতে উয়েফা নেশন্স লিগে টানা তৃতীয় জয় পেল কোচ জর্জ জেসুসের দল।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দিনগত রাতে ‘এ’ লিগের চার নম্বর গ্রুপের ম্যাচে ডেনমার্ককে তাদের ঘরের মাঠে ৪-২ গোলে হারিয়েছে পর্তুগাল। টানা তিন জয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে গ্রুপ টেবিলের এক নম্বরে অবস্থান করছে পর্তুগাল।

পর্তুগাল-ডেনমার্কের লড়াইটা বেশ জমে উঠেছিল। ম্যাচের প্রথমার্ধে জোয়াও কান্সেলো পর্তুগালকে এগিয়ে নেওয়ার পর দ্রুতই সমতা ফেরান মিকেল ডামসগার্ড। তবে গোল হজমের ঠিক পরপরই দুর্দান্ত নৈপুণ্যে গনসালো রামোস আবার এগিয়ে দেন পর্তুগালকে। এরপর ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই রাসমুস হয়লুনের দারুণ এক গোলে দ্বিতীয়বারের মতো সমতায় ফেরে স্বাগতিক ডেনমার্ক।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর পেরে ওঠেনি ডেনিশরা। ম্যাচের ত্রাতা হয়ে এসে ভিতিনিয়া পর্তুগালকে তৃতীয়বারের মতো এগিয়ে দেন। আর শেষ দিকে বদলি নেমে গোল করে স্বাগতিকদের পয়েন্ট পাওয়ার সমস্ত আশায় বালি ঢেলে দেন ফরোয়ার্ড জোয়াও ফেলিক্স।

স্কোরলাইনের মতো ম্যাচের সার্বিক পরিসংখ্যানেও পর্তুগিজদের নিরঙ্কুশ আধিপত্য দেখা গেছে। বল দখলে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও গোলের জন্য পুরো ম্যাচে ১৯টি শট নিয়েছে পর্তুগাল, যার মধ্যে ১০টি শটই ছিল গোলমুখে। বিপরীতে ডেনমার্ক ১২টি শট নিয়ে কেবল তিনটি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়।
 
এই ম্যাচের ঠিক আগে পর্তুগাল জাতীয় দলে ঘটে গেছে বেশ কিছু নাটকীয় ঘটনা। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোচের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে গত বুধবার হুট করে দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা নিজেই পরবর্তীতে দল ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে কোচ জর্জে জেসুসের একটি সিদ্ধান্ত। রোনালদোর ঐতিহাসিক ‘সাত নম্বর জার্সিটি’ তরুণ ফরোয়ার্ড রাফায়েল লেয়াওকে দেওয়ার ঘোষণা চলমান বিতর্ককে যেন আরও উসকে দেয়। তবে মাঠের বাইরে এত সব বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড় বইলেও ফার্নান্দেস-রামোসরা বুটজোড়া পায়ে মাঠে নেমে ঠিকই নিজেদের সেরাটা দিয়ে জয় ছিনিয়ে এনেছেন।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে পর্তুগাল। ভাগ্য সহায় হলে ম্যাচের মাত্র দ্বাদশ মিনিটেই গোল পেতে পারত তারা, কিন্তু গনসালো রামোসের জোরালো শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। তবে তার পরের মিনিটেই দারুণ এক আক্রমণ থেকে দলকে এগিয়ে দেন কান্সেলো।

ম্যাচের ১৩তম মিনিটে পোস্ট থেকে ফেরা বল পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হয় ডেনমার্ক রক্ষণভাগ। ডি-বক্সের বাইরে থেকে রামোসকে ছোট পাস দিয়েই বক্সে ঢুকে পড়েন কান্সেলো। এরপর ফিরতি পাস নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দারুণ দক্ষতায় আগুয়ান গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে বল জালে জড়ান এই বার্সেলোনা ডিফেন্ডার।

যদিও সেই লিড বেশক্ষণ টিকিয়ে রাখতে পারেনি পর্তুগাল। ম্যাচের ২৩তম মিনিটে ডি-বক্সের বাঁ দিকে সতীর্থের কাছ থেকে ফাঁকায় বল পেয়ে উঁচু ও জোরালো শটে চমৎকার এক গোল করে সমতা ফেরান ডামসগার্ড। জাতীয় দলের জার্সিতে এটি ছিল তার শেষ ১০ ম্যাচে ষষ্ঠ গোল।

ড্যানিশদের এই স্বস্তি অবশ্য দুই মিনিটও স্থায়ী হয়নি। মাঝমাঠের কাছে সতীর্থের বাড়ানো বল দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান থেকে পেয়ে দ্রুত এগিয়ে যান রামোস। এরপর অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেসের ফিরতি থ্রু পাস নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে নিখুঁত শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন এসি মিলান স্ট্রাইকার। প্রথমার্ধে আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় পর্তুগাল। 

ম্যাচের প্রথমার্ধে খুব একটা সুবিধা করতে না পারলেও দ্বিতীয়ার্ধের অষ্টম মিনিটে দারুণ কাউন্টার অ্যাটাক থেকে দলকে সমতায় ফেরান হয়লুন। মাঝমাঠ থেকে ডামসগার্ডের বাড়ানো থ্রু বল ধরে দ্রুত ডি-বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করেন নাপোলি ফরোয়ার্ড।

খেলার এই সমতা বজায় থাকার পর ৬২তম মিনিটে দুর্দান্ত একটি সুযোগ পায় পর্তুগাল। তবে ফার্নান্দেসের চমৎকার থ্রু বল পেয়েও ভালো পজিশন থেকে শট লক্ষ্যে রাখতে ব্যর্থ হন রামোস। এর দুই মিনিট পর রুবেন নেভেসের দুরূহ কোণ থেকে নেওয়া একটি শটও দারুণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন ডেনমার্কের গোলরক্ষক।

অবশেষে ম্যাচের ডেডলক ভাঙেন ভিতিনিয়া। ফার্নান্দেসের বাড়ানো নিখুঁত ক্রসে দারুণ এক হেডের সাহায্যে জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের প্রথম গোলটি আদায় করে নেন এই মিডফিল্ডার।

এদিকে আগের দুই ম্যাচে গোল করা জোয়াও ফেলিক্সকে এই ম্যাচে কিছুটা বিশ্রাম দিতে শুরুর একাদশে রাখেননি কোচ। তবে খেলার শেষ দিকে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই নিজের জাত চেনান আল নাসর তারকা। ৮১তম মিনিটে পেদ্রো নেতোর বদলি নামার মাত্র ছয় মিনিট পর, ডালোটের বাড়ানো পাস ডি-বক্সে পেয়ে ডান পায়ের দারুণ এক শটে বল জাل জড়িয়ে দলের জয় ও দলের পূর্ণ পয়েন্ট নিশ্চিত করেন ফেলিক্স।

ঠিকানা/এসআর
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]