​মন্ত্রী উপদেষ্টা এমপি সচিব কনফ্লিক্ট ♦ পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট তছনছ

বিদেশি কূটনীতির চক্করে রাজনীতি

প্রকাশ : ২০২৬-০৯-৩০ ২০:০৫:০০ , অনলাইন ভার্সন
ঢালাও অভিযোগ, ঢালাও অস্বীকার, তর্ক, বাদানুবাদ, ষড়যন্ত্র মাড়িয়ে টেইক ব্যাক বাংলাদেশের নামে আজকের ক্ষমতাসীনরা টেইক ওভার করে ফেলেছে বিগতদের চাঁদাবাজি, দখলবাজি, নিয়োগবাজি, বালুর ব্যবসা, আদম ব্যবসা, টেন্ডারবাজিসহ মাদক নেটওয়ার্কও। প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও তাদের দখল, হামলা, ভাঙচুর, লুট-কাণ্ড। সেই সঙ্গে কিশোর গ্যাং ও মাদকের ভয়ানক বিস্তার। কোথাও জমি ও স্থাপনা দখল, কোথাও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং কোথাও আবাসন প্রকল্পে হামলার এক একটি ঘটনার মধ্য দিয়ে এরা ভেতরে ভেতরে মহাবিপর্যয় ঘটিয়ে খেতে বসেছে সরকারকে-বিএনপিকে।
সরকার, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর দৃশ্যমান চেষ্টায় কুলাচ্ছে না। কাজে দিচ্ছে না সরকারের কোর্স অব অ্যাকশন। এতে অভিযোগ ও ব্যর্থতার তীর তার সেটআপের দিকে। মন্ত্রী, উপদেষ্টা, এমপিদের কারও কারও ক্ষমতার অপচর্চাও চরমে। নীতি, ক্ষমতা, তদবির ও কাজ দেওয়ার ব্যাপারে কনফ্লিক্টও হচ্ছে তাদের মধ্যে। খাওয়াখাওয়ি-ভাগাভাগি নিয়েও মতদ্বন্দ্বের কিছু তথ্যও ছড়িয়ে পড়েছে। এসবের জেরে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সিদ্ধান্ত সচিবালয়ে গিয়ে আটকে থাকছে, পলিসি বাস্তবায়ন হচ্ছে না। উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রী ও সচিবের চতুর্মুখিতা সরকারের পাওয়ার ম্যানেজমেন্টকে বরবাদ করে দিচ্ছে। তার ওপর কূটনৈতিক ডামাঢোল। কেউ জানল না, বুঝল না ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল গোপনে ঢাকা সফর করে গেছেন বলে খবর চাউর। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও করে গেছেন বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় গরম খবর।
ভারতীয় ও বাংলাদেশি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে সফরটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত বা অস্বীকার করা হয়নি। তবে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার সম্ভাব্য সফরটি তারেক রহমানের ভারত সফরের প্রস্তুতি এবং দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম রেডিফ ১৯ সেপ্টেম্বর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় পৌঁছান। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফরের প্রস্তুতি ছিল এই সফরের উদ্দেশ্য। আরেক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার আসাদ আলম সিয়াম অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে অথবা নভেম্বরের শুরুতে দায়িত্ব নিতে ঢাকায় পৌঁছানোর পর সফরটি পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ আরও গতি পেতে পারে।
আগের একটি প্রচেষ্টা ভেস্তে যাওয়ার পর ভারত ও বাংলাদেশ আগামী নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের সময়সূচি নির্ধারণের চেষ্টা করছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কিছু জানানো হয়নি। নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে কিছু না বলা পর্যন্ত পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা কিছু বলবেন না। এই ধোঁয়াশার মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে, ভারত কেন এত মরিয়া হয়ে তারেক রহমানকে দিল্লিতে নিতে চাইছে? এর পেছনে কী স্বার্থ কাজ করছে? প্রশ্নের জবাবে না গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে তাড়াহুড়োর কিছু নেই বলে মন্তব্য করেছেন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। এও বলেছেন, এ নিয়ে দুই দেশের আলোচনা ইতিবাচক, দুই দেশের সরকারপ্রধানের সুবিধাজনক সময়ে সফর হবে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঢাকা-নয়াদিল্লির সম্পর্কে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, তা কমিয়ে আনতে চাইছে ভারত। বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সরাসরি রাজনৈতিক যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে পুরোনো কাঠামো সচল রাখার সুযোগ দেখছে তারা।
এ প্রেক্ষাপটেই তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। গত এপ্রিলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান দিল্লি সফর করেন এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন। জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামসুল ইসলাম দিল্লিতে দোভালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। আগস্টে ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং পরদিন দিল্লিতে গিয়ে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। গত আগস্টে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ (রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং) এর প্রধান পরাগ জৈনও ঢাকা সফর করে গেছেন। বাংলাদেশের আমন্ত্রণে তিনি চার সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন অশ্বিন মুকুন্দ কোটনিস, রাহুল নেগি এবং শৈবাল রায় চৌধুরী। ওই সফরের বিষয়ে ভারত বা বাংলাদেশ কোনোটিই আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। ঢাকা সফরের আগে পরাগ জৈন চীন সফর করেছিলেন। সব মিলিয়ে তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফরকে শুধু একটি আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় সফর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের নতুন কাঠামো নির্ধারণ, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, সীমান্ত ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, বাণিজ্য ও জ্বালানি, পানিবণ্টন এবং দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক সমীকরণ।
এমন সমীকরণের মাঝেই ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট থমাস ক্রিস্টেনসেন আবারও ভারত সফরে গেছেন। গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিকালে তিনি ঢাকা থেকে নয়াদিল্লির উদ্দেশে রওনা হন। চার মাসের মধ্যে এটি তার তৃতীয় ভারত সফর। সফরের নির্দিষ্ট কর্মসূচি এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। তবে ভারতীয় গণমাধ্যমে এ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। ভারতের নিউজ২৪-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রিস্টেনসেনের এবারের দিল্লি সফর এমন সময়ে হয়েছে, যখন বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক নতুন করে গতি পাওয়ার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও পাঁচ দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে ২৭ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরেছেন। ফলে একই দিনে ঢাকার মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দিল্লি যাত্রাকে কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটি। নবভারত টাইমসও একই বিষয় সামনে এনেছে। পত্রিকাটির প্রতিবেদনের শিরোনামে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, চার মাসে তৃতীয়বার ক্রিস্টেনসেনের দিল্লি সফরের নেপথ্যে কী চলছে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপোড়েন এবং তারেক রহমানের দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
ক্রিস্টেনসেনের এবারের সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নয়াদিল্লিতে তার মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোরের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা। নিউজ২৪ ও নবভারত টাইমস—দুই সংবাদমাধ্যমই এই সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এমন কোনো বৈঠক হয়েছে কি না কিংবা হলে সেখানে কী আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই। তার ওপর আলোচনায় বিশ্বব্যাপী রেজিম চেঞ্জের জন্য আলোচিত জর্জ সরসের ছেলে আলেক্স। হিলারির প্রাক্তন সঙ্গিনী আলোচিত হুমা আবেদীনের স্বামী। ছড়ানো খবরে বলা হচ্ছে, আলেক্স নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেছেন। তিনি প্রফেসর ড. ইউনূসেরও খুব ঘনিষ্ঠজন। আলেক্সের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি ছবিও ঘুরছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ছবিটিতে তারেক রহমানের সর্বনাশ হয়ে গেছে মর্মে বয়ান বেশ জোরদার। বয়ানকারীদের বয়ানে বিশ্বজুড়ে রেজিম চেঞ্জ ঘটানোর অন্যতম পাণ্ডব জর্জ সরোস। তার ছেলে আলেক্স আরও ভয়ংকর। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকে শুরু করে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, এমনকি পাকিস্তানের রাজনীতিবিদদের বড় একটা অংশ সরোসদের বাঁকা চোখে দেখেন। নভেম্বরে আমেরিকায় যে মধ্যবর্তী নির্বাচন হবে, যেখানে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির কংগ্রেস এবং সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা কেড়ে নেওয়ার ফন্দি আঁটছে সরোসরা। এরা মূলত ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সমর্থক এবং ডোনার। তাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আলেক্স সরোসের ছবি দেখে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পসহ অন্যরা খেপে যাবেন।
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]