বাংলাদেশি পাটপণ্যে টনপ্রতি সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার শুল্ক আরোপ করল ভারত

প্রকাশ : ২০২৬-০৯-২৯ ০০:০৬:০০ , অনলাইন ভার্সন
বাংলাদেশ থেকে আমদানিকৃত বিভিন্ন পাটপণ্যের ওপর নির্দিষ্ট হারে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক পুনর্নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের রাজস্ব বিভাগ। গত ২৪ সেপ্টেম্বর জারি করা এই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ছাড়া বাংলাদেশের অন্যান্য প্রস্তুতকারকের পাটের সুতা ও টুইনের ওপর প্রতি মেট্রিক টনে সর্বোচ্চ ৪৪৫ মার্কিন ডলার অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

এ ছাড়া তালিকাভুক্ত ব্যতীত অন্য প্রতিষ্ঠানের প্রস্তুতকৃত হেসিয়ান ফেব্রিকের ওপর প্রতি মেট্রিক টনে ৮৮ মার্কিন ডলার এবং স্যাকিং ব্যাগের ওপর প্রতি মেট্রিক টনে ২৮৩ মার্কিন ডলার শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশের ১ থেকে ৫৫ নম্বর ক্রমিকে নির্দিষ্ট উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের তালিকা দেওয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য পণ্যের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হারে শুল্ক ধরা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আশা জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের পাটের সুতায় সবচেয়ে কম (প্রতি টনে ৫৯ ডলার) শুল্ক ধরা হয়েছে। এর বাইরে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রজ্ঞাপনভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর প্রতি টনে ৫৯, ৬৯, ৮৮, ১০৭, ১২০, ১৩৯ ও ১৫৫ ডলার পর্যন্ত শুল্ক আরোপিত হয়েছে। অন্যদিকে এ. এম. জুট ইন্ডাস্ট্রিজ, বোনানজা জুট কম্পোজিট, লাভলী জুট মিলস, নওহাটা (নওয়াপাড়া) জুট মিলস, পোদ্দার অ্যাগ্রো ও রানু অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ তাদের সব পণ্যে এবং নাটোর জুট মিলস ও জনতা জুট মিলস পাটের বস্তা ও হেসিয়ান কাপড়ে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, বিশেষ শুল্ক হার পেতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে বৈধ বাণিজ্যিক চালান জমা দিতে হবে, অন্যথায় সর্বোচ্চ হার কার্যকর হবে। পাশাপাশি ‘জুট স্যাকিং ক্লথ’-এর ক্ষেত্রেও শর্তাধীনে স্যাকিং ব্যাগের মতো শুল্ক প্রযোজ্য হবে।

ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ট্রেড রেমেডিজের (ডিজিটিআর) মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনার পর এই সিদ্ধান্ত আসে। ইন্ডিয়ান জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন ও এপি মেস্তা টুইন মিলস অ্যাসোসিয়েশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে ডিজিটিআর তদন্ত পরিচালনা করে জানায়, বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা ডাম্পিং অব্যাহত রাখায় স্থানীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তদন্তে দেখা যায়, ভারতের বাজারে পাটপণ্যের চাহিদা ২০ শতাংশ কমলেও বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি কমেছে মাত্র ১৩ শতাংশ।

ডিজিটিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতে বাংলাদেশের পাটপণ্য রপ্তানি ১৮ শতাংশ কমে ১ লাখ ১৭ হাজার টনে নেমেছে। এ ছাড়া ইপিবির তথ্যমতে, ২০২০-২১ অর্থবছরে পাট ও পাটপণ্য থেকে বাংলাদেশের আয় ১১৬ কোটি ডলার থাকলেও ২০২৪-২৫ সালে তা কমে ৮২ কোটি ডলারে দাঁড়ায় এবং ২০২৫-২৬ সালে তা বেড়ে ৮৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার হয়।

ভারতের এই পদক্ষেপকে ‘একতরফা’ ও ‘জুলুমবাজি’ অ্যাখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএসএ) চেয়ারম্যান তাপস প্রামাণিক। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে পাটের সুতা ও বস্তায় মাত্র ৩-৫ শতাংশ ভর্তুকি দেয়, যা ভারত অনেক বেশি মনে করছে।

ঠিকানা/এনআই
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]