জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ট্রাম্পের হুঙ্কার

চুক্তি নয়তো ইরানকে ধ্বংসের হুঁশিয়ারি

প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৯ , অনলাইন ভার্সন
জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে আবারও শক্তির ভাষায় কথা বললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তার সবচেয়ে কঠোর বার্তা ছিল ইরানের প্রতি- সমঝোতায় না এলে ভয়াবহ সামরিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে তেহরানকে। একই সঙ্গে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির পুনরুচ্চারণ করে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। 
ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, তার প্রশাসনের পদক্ষেপ ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রেখেছে। তিনি অন্য দেশগুলোকেও ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো এবং দেশটিকে আরও বিচ্ছিন্ন করার আহ্বান জানান। সমঝোতা না হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নিতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। 
তবে কঠোর হুঁশিয়ারির মধ্যেও কূটনৈতিক সমাধানের দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেননি ট্রাম্প। ভাষণের পর তিনি জানান, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা চলছে এবং শেষ পর্যন্ত একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। ইরানের পক্ষ থেকেও হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে কিছু শর্তসাপেক্ষ ইতিবাচক ইঙ্গিত এসেছে। 
নিজের পররাষ্ট্রনীতির পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়ে ট্রাম্প বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে বলেন, অন্যরা যখন কথা বলেছে, তার প্রশাসন তখন কাজ করেছে—এমন বার্তাই তুলে ধরে হোয়াইট হাউজ। ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি এবং একতরফাভাবে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার সক্ষমতাকে সামনে আনেন তিনি। 
ট্রাম্পের বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল, বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার চেয়ে তিনি স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে বেশি গুরুত্ব দিতে চান। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বার্থের প্রশ্নে ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের অনুমতির অপেক্ষায় থাকবে না।
নিজে জাতিসংঘের মঞ্চে দাঁড়িয়েই সংস্থাটির আমলাতন্ত্র ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত- আইসিসির বিরুদ্ধেও তিনি কঠোর অবস্থান নেন। মার্কিন সামরিক সদস্যদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনি কর্তৃত্ব মানতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত নয়—এমন অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। 
বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘের ভূমিকা ও প্রাসঙ্গিকতা নিয়েও যখন নতুন করে আলোচনা চলছে, তখন ট্রাম্পের এই বক্তব্য বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সঙ্গে তার প্রশাসনের দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন আবারও সামনে আনল।
লাতিন আমেরিকা নিয়েও ছিল ট্রাম্পের কড়া বার্তা। মাদক কার্টেলগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি। মেক্সিকোর কার্টেল সহিংসতা, কিউবার সরকার এবং ভেনেজুয়েলাকে কেন্দ্র করে তার প্রশাসনের কঠোর নীতির পক্ষে অবস্থান নেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। 
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। চলমান যুদ্ধগুলো বন্ধ করতে নিজের প্রশাসনের কূটনৈতিক তৎপরতার কথা তুলে ধরেন তিনি। জাতিসংঘ অধিবেশনকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে একাধিক বিশ্বনেতার সঙ্গে আলোচনার কর্মসূচিও রয়েছে তার। 
ভাষণের আরেকটি আলোচিত অংশ ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা অও। ট্রাম্প বলেন, তার প্রশাসন এআই’কে ‘সুপার ইন্টেলিজেনস’ নামে অভিহিত করতে চায়। এই প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বনেতা হিসেবে ধরে রাখার অঙ্গীকার করেন তিনি। অন্যদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস একই অধিবেশনে এআই-এর জন্য শক্তিশালী আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন—যা প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নে দুই ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি সামনে এনেছে। 
সব মিলিয়ে এবারের জাতিসংঘ ভাষণে ট্রাম্প তার পরিচিত রাজনৈতিক দর্শনই আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন, জাতীয় সার্বভৌমত্ব, মার্কিন সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তির ব্যবহার এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে সবার আগে রাখা।
তবে পুরো ভাষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ইরান। একদিকে নজিরবিহীন কঠোর সামরিক হুঁশিয়ারি, অন্যদিকে আলোচনার সম্ভাবনা—এই দুই বার্তার মধ্য দিয়েই জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে নিজের পররাষ্ট্রনীতির অবস্থান স্পষ্ট করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ঠিকানা/শই
-




 
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]