জাতিসংঘের অধিবেশন

বাংলাদেশের অবস্থান ও প্রবাসীদের অধিকার

প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:০৭ , অনলাইন ভার্সন
জাতিসংঘ বিশ্বের সর্বরাষ্ট্র ও সর্বজাতিসমূহের কল্যাণমূলক কার্যক্রমের সর্ববৃহৎ সংস্থা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৫ সালে পৃথিবীর উল্লেখযোগ্য ৫১ রাষ্ট্রের সমন্বয়ে মৌলিক সনদ স্বাক্ষর করার মাধ্যমে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়। সেইসঙ্গে পূর্বেকার( প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর) প্রতিষ্ঠিত ‘লীগ অব নেশন্স’-এর বিলুপ্তি ঘোষণা করা হয়। 
তারপর থেকে জাতিসংঘের কার্যক্রমের পরিবৃদ্ধি ঘটতে থাকে। বর্তমানে জাতিসংঘের সদস্য সংখ্যা ১৯৩।
প্রতিষ্ঠার সময় জাতিসংঘের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কি হবে তা নির্ধারিত হয়। সেইসব লক্ষ্যসমূহের মধ্যে—আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আইন, বিভিন্ন রাষ্ট্রপুঞ্জের স্বাধীনতা ,নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক অগ্রগতি এবং বৈষম্যহীন মানবাধিকার বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করা। এছাড়া কোন রাষ্ট্রপুন্জের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের হুমকি কিংবা একদেশ অন্য দেশের আগ্রাসন ও মানববিধ্বংসী কর্মকান্ডসহ বিভিন্ন রকম অরাজকতা নিরসনের জন্য নানাবিধ সমস্যার সমাধানের কাজেও সহায়তা করবার অঙ্গীকার রয়েছে। মোটকথা,—জাতিসংঘের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে,পৃথিবীর রাষ্ট্রপুঞ্জের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশের জনগণের মধ্যে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক সংস্কার,অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করা। সকল রাষ্ট্র ও জাতির মধ্যে বৈষম্যহীন সমতা প্রতিষ্ঠা, স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণের সুপারিশ ও চাপ সৃষ্টি করা। আর্তমানবতার কল্যাণে নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। এছাড়া পৃথিবীর রাষ্ট্রপুঞ্জের ইন্ধনে অথবা সরাসরিভাবে কোন দেশ যদি আক্রান্ত হয় এবং অন্য কোন স্বাধীন রাষ্ট্র ও ভূখন্ডে আগ্রাসন চালায়।

এক দেশ আরেক দেশের মধ্যে অন্যায়ভাবে যুদ্ধ করে,সেরকম আগ্রাসী রাষ্ট্রের উপর অর্থনৈতিক অবরোধ এবং যুদ্ধবন্ধের জন্য চাপ প্রয়োগ করার ক্ষেত্রেও জাতিসংঘের বিশেষ নীতিমালা রয়েছে। এছাড়া জাতিসংঘের নীতিমালা বহির্ভূত কোন রাষ্ট্রকর্তৃক পারমানবিক মারণাস্র তৈরি ও সেসব মারণাস্রের অপপ্রয়োগ করার ক্ষেত্রেও রয়েছে কঠোর বিধি-নিষেধ। যদিও দুর্ভাগ্যজনকভাবে পৃথিবীর কোন কোন শক্তিধর রাষ্ট্র এবং অনেক স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্রপুন্জের অবৈধ মারণাস্ত্রের ব্যবহার অবলীলায় চলতে থাকে। পৃথিবীর অনেক রাষ্ট্রের ও জনগণের স্বাধীনতা বিপন্ন হয়ে যায়। সেখানে জোর যার মুল্লুক তার! তাদের শিকার হয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন হয়ে যায়। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কোনো নীতিমালা আগ্রাসী রাষ্ট্র মানে না !
প্রতিবছর সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘের বাৎসরিক সাধারণ পরিষদের সভা হয়ে থাকে। সদস্যভুক্ত রাষ্ট্রসমূহ তাতে অংশগ্রহন করেন। প্রত্যেক দেশের রাষ্ট্রপ্রধানগণ পর্বে পর্বে সেসব অধিবেশনে অংশগ্রহনের মাধ্যমে নিজস্ব মতামত,দাবি-দাওয়া ও প্রস্তাবনা পেশ করেন। 
অন্যান্য দেশের রাষ্ট্র প্রধানের মতো বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যোগদান করেন। 
প্রতিবছরের ন্যায় বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগদানের উদ্দেশ্যে নিউইয়র্ক আসছেন।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে জাতিসংঘের এবারের অধিবেশন গুরুত্বপূর্ণ।
রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ,মধ্যপ্রাচ্েযর ইরান,ইসরাইল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের ফলে সারাবিশ্বের অর্থনৈতিক মন্দাভাব অর্থনৈতিক সংকটে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন তা পরিমাণ নিরূপণ করা 
অসম্ভব। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভুমিকম্প, বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি। ফিলিস্তিন ও লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের যুদ্ধ-বিগ্রহের ঘটনায় সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

এমতাবস্থায় জাতিসংঘে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সম্মিলিত যোগদান এবং অধিবেশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 
একই কারণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরের গুরুত্বও কম নয়। 
অপরদিকে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের সভাপতি হিশাবে বাংলাদেশ নির্বাচিত হওয়ার পর নিশ্চয়ই বাংলাদেশকে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। পদাধিকার বলে সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীই সভাপতি হয়েছেন। জেনারেল এরশাদের আমলে হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
কিন্তু সেই সময়কার দুর্নীতি ও অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত ছিল।

বাংলাদেশের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে দেশের রাজনৈতিক মহল ও সুশীল সমাজের মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। সেটি তিনি বুঝবেন। বাংলাদেশকে একটি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধশীল রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যে বহুমুখী প্রচেষ্টার মধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আশাকরি সরকার সেটির ওপর গুরুত্ব দিবেন।
বর্তমান সরকারকে অতীতের সেসব ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে দুর্নীতিমুক্ত অর্থনৈতিক স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলার দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

অতএব,বর্তমান পররাষ্ট্রনীতিতে বাংলাদেশের স্বার্থের কথাই সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কেননা প্রতিবেশী দেশের প্রভাবমুক্ত বাংলাদেশের আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে এগুতে হবে। অন্যথায় হিতে-বিপরীত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হয়ত একগুচ্ছ প্রস্তাবনা নিয়ে জাতিসংঘে ভাষণ দিবেন। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা,স্বাস্থ্য-চিকিৎসাখাত,অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বাংলাদেশের স্বার্থসাধনের জন্য আন্তর্জাতিক ক্ষেত্র ও বিশ্বব্যাংক থেকে কি কি সুযোগ-সুবিধা আদায় করা যায়; সে সব বিষয়সমূহ নিয়েই সর্বাধিক গুরুত্ব থাকবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।

কিন্তু আমেরিকান জনগণ ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন কঠিণ সময়ে বাংলাদেশের যুদ্ধপীড়িত আর্তমানবতার সাহায্যার্থে ফান্ড রাইজিং এর জন্য বিশ্ব বিখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী আমেরিকান নাগরিক জর্জ হ্যারিসনের উদ্যোগে বব ডিলানও তাদের পুরো দল নিয়ে নিউইয়র্ক এ বিরাট কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়। উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠতম সেতার বাদক রবী শংকর , আলী আকবর খান ও আল্লারাখা সহ মিউজিশিয়ানের অংশগ্রহন নিউইয়র্কের ‘মেডিসন স্কয়ার গার্ডেন’ এ স্মরণকালের দর্শক সমাবেশ
ঘটেছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রাণের ভয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের এককোটি মানুষের সাহায্যের ক্ষেত্রে ব্যাপক সারা যুগিয়েছিল এবং উক্ত ফান্ড রাইজিং অনুষ্ঠান শতভাগ সফল
হয়েছিল। 

বলাবাহুল্য , সেদিনের (১৯৭১)উপচেপড়া লক্ষ দর্শকের অনুরোধে জর্জ হ্যারিসন,বব ডিলান এবং তাঁদের পুরো টীমকে দু’টি কনসার্ট করতে হয়েছিল। সেই ফান্ড রাইজিং এর নেতৃত্বে ছিলেন,—বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু ও হিতাকাংখী জর্জ হ্যারিসন। 
বর্তমানে সেই পরিস্থিতি নেই। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক অনেক বেশি মজবুত ও শক্তিশালী করার পথ সুগম হয়েছে। বাংলাদেশের অসংখ্য নাগরিক বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিরাট ভূমিকা রাখছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো।
যাইহোক,বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে নিজের দেশের নাগরিকদের সুরক্ষা, বানিজ্য সুবিধা অর্জনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ সর্বক্ষেত্রে উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে যেতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশ সমূহের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে আদায়ের লক্ষ্যে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
এবার আসি। জাতিসংঘের অধিবেশন সংক্রান্তে। 
১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে। 
সদস্যপদ লাভের আট দিনের মাথায় স্বাধীন বাংলাদেশ থেকে বঙ্গবন্ধু নিউইয়র্ক আসেন এবং ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে একটি দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দিয়েছিলেন। বাংলাভাষায় প্রদত্ত তাঁর ভাষণটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ ও বিশ্লেষণধর্মী। 

একইভাবে স্বাধীনতার ঘোষক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগদান করেন। যেখানে বাংলাদেশের বাংলাদেশসহ বিশ্বের অধিকারবঞ্চিত,নির্যাতিত ,নিষ্পেষিত মানুষের ন্যায়সঙ্গত অধিকার প্রতিষ্ঠা ও বিশ্বশান্তি, ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠার বলিষ্ঠ উচ্চারণ ও সাহসী পদক্ষেপ এবং গুরুত্বপূর্ণ। তারপর থেকে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের জনশক্তির পথ প্রশস্ত হয়ে ওঠে।

বলাবাহল্য, ৭৪ সালে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ঢাকা থেকে সরকারের সফরসঙ্গী হিসেবে বেশি লোক
আসেননি। এক্ষেত্রে পররাষ্ট্র বিষয়ক এবং সরকারের কতিপয় নীতিনির্ধারক ছাড়া বেশি লোকের দরকারও নেই। জেনারেল জিয়াউর রহমানের সময়েও জাতিসংঘ অধিবেশনে অংশগ্রহনকালে সফরসঙ্গী বেশি ছিল না। 
কিন্তু পরবর্তীতে দেখা গেছে যে, জেনারেল এরশাদের শাসনামলে জাতিসংঘে যোগদান উপলক্ষে তার সফরসঙ্গীদের হিরিক পড়ে যায়। পরবর্তীতে সেই সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকে। বিগত পনেরো শেখ হাসিনার সরকারের আমলে সেই সংখ্যা অভাবনীয়ভাবে বেড়ে গিয়েছিল। জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে পারাটা অনেকটাই বিনোদনের খোরাক হয়ে উঠেছিল।
বাংলাদেশ একটি বহুমাত্রিক রাজনৈতিক দর্শনের উপর ভিত্তি করে প্রজাতন্ত্রের সকল জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারে এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রসনদ নিয়ে জন্মগ্রহন করেছিল। 
দেশের এবং জনগণের স্বার্থকে সবার উপর গুরুত্ব দিয়েই রাজনীতি ও মানবাধিকার ,অর্থনীতি এবং রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম হওয়ার কথা। অতীতের সরকারসমূহের মাধ্যমে সেগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।
বরং নাগরিক সমাজের মানবিক অধিকার অনেকাংশ ক্ষেত্রে ক্ষুন্ন হয়েছে। দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্ষুন্ন এবং স্বাধীন নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার সুষ্ঠু নিয়ম লংঘিত হয়েছে। বর্তমান সরকারকে সেই বিষয়গুলোর ওপর সজাগ থাকতে হবে।

তিক্ত হলেও সত্যি যে, রাষ্ট্রপ্রধানের সফরসঙ্গীতে সরকারি অর্থে অনেকেই জাতিসংঘের অধিবেশনসমূহে যোগদান উপলক্ষে নিউইয়র্কে আসেন। কিন্তু তারা অধিবেশনসমূহে যোগদান না করে,আত্মীয়-স্বজন কিংবা বন্ধুদের বিনোদনসঙ্গী হয়ে থাকেন(!) বলে ইতিপূর্বের জনশ্রুতি আছে। শুধু তাই নয়, অনুষ্ঠানসূচিতে রাষ্ট্রের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উপর অভিবাসীদের প্রতিনিধি সমন্বয়ে যেসব সভা-সেমিনার ও প্যানেল ডিস্কাশন হয়, সেখানেও অনেককেই পাওয়া যায় না। এটি দুঃখজনক। আমরা আশা করছি যে ভবিষ্যতে এমনটি আর হবে না।
গণতন্ত্রের পথে এগুতে হলে, সরকারের ভিতর বাহিরের সর্বত্র গণতন্ত্রের চর্চা থাকতে হয়। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জনকল্যাণের স্বার্থে সর্বোচ্চ নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
দেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা চালু করতে হবে। এজন্য প্রকৃতভাবে মেধাবী,সত্যনিষ্ঠ সৎ বিচারক নিয়োগ দিতে হবে। তাহলে, বিচারপ্রার্থী অন্তত ন্যায় বিচারটুকু পাবেন। যাতে তাঁদের পাহাড়সম দুঃখ,কষ্ট ও বেদনার কিছুটা লাঘব হতে পারে।
দেশের বিরাট সংখ্যক মানুষের বেকারত্ব দূরিকরণে সরকারের সঠিক মেধাভিত্তিক অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে চাকুরিতে নিয়োগ দেয়া 
উচিত। বিজ্ঞান, টেকনোলজি ও আইটি সেক্টরকে উন্নতিকরণসহ সরকারের নিরপেক্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। 

প্রবাসীদের কল্যাণে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়ে সঠিক কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।
বাংলাদেশ বিশ্বের একটি উন্নয়নমুখি রাষ্ট্র। অনেক প্রতিকুলতার মধ্যেও বাংলাদেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখাটাই অনেক চ্যালেঞ্জ। কিন্তু রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনার দেউলাত্বে মুদ্রাস্ফীতির হ্রাস এবং অর্থনীতি কোন দিকে যাচ্ছে(?)সে ব্যাপারে রাষ্ট্রের আরও কার্যকরী ভূমিকা থাকা দরকার। 
বাংলাদেশে রাজস্বখাত ও রাষ্ট্রপুঞ্জের অর্থনৈতিক অরাজকতার উদাহরণ অনেক আছে। 
বিগত শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ব্যাংকগুলো থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ গ্রহন করে সঙ্গবদ্ধ কুচক্রিদল সেসব টাকা পরিশোধ না করার উদাহরণ অনেক আছে। যে দেশের কেন্দ্রিয় ব্যাংক থেকে ৮০ কোটি ডলার হ্যাক হয়ে যায়। সেসব অর্থ ফেরত আনার ব্যাপারে কোন অ্যাকশন হয়না !
আজও তৎকালীন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং সংশ্লিষ্টদের সেজন্য কোন সঠিক বিচার ও জবাবদিহিতার আওতার আনানো হয়নি। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা বহিঃর্বিশ্বে অবৈধভাবে পাচার হয়ে যায়(!),তাদের কোনো বিচার করা হয় না। 
অথচ প্রবাসীদের রেমিট্যান্সে সরকারের ব্যাংকসমূহের মুদ্রাস্ফীতি লাঘব হয়। দেশ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে। সেই রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের উপযুক্ত সম্মান প্রদান ও নিরাপত্তা বিধানে সরকার ব্যর্থ হয়। এক্ষেত্রে প্রবাসীরা নিজ দেশে ফিরে চরম হয়রানির শিকার হন এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।
আগেও উল্লেখ করেছি যে,—তাঁদের প্রতি অমানবিকভাবে অবহেলা শুরু হয় বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন থেকে। বহু বছর ধরেই এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে সহযোগিতার পরিবর্তে চরম অবহেলা ও অবমাননাকর আচরণ করা হয় বলে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। সেইসব অভিযোগের কোনো সুরাহা হয়না। বর্তমান সরকারকে সেগুলোর দিকে দৃষ্টি দিতে হবে।

আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে,
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসীর অবদান বেশি। এটি অবশ্যই সরকারের মনে রাখতে হবে। বহিঃর্বিশ্বে বাংলাদেশের শ্রমিকদের প্রতি আন্তরিক ও উদার দৃষ্টি রাখতে হবে। 
এক্ষেত্রে সর্বজন স্বীকৃত দিক হচ্ছে যে, —প্রবাসে অবস্থানরত: রেমিটেন্সের উপর বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরে এবং এই কারণে বাংলাদেশ সমৃদ্ধ হয়ে উঠছে। প্রবাসীগণ মাতৃভূমিকে হৃদয়ে লালন করেই তারা নিজেদের পারিবারিক, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধায় উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির স্বপ্ন দেখেন। 
কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি যে, বাংলাদেশে প্রবাসীরাই বেশি হয়রানি ও নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হন। দুষ্টচক্রের পাল্লায় তাদের অর্থসম্পদ ও সর্বস্ব হারান। এছাড়া প্রবাসীদের কষ্টার্জিত সম্পদের উপর স্থানীয় মোড়লদের লোলুপদৃষ্টিতো আছেই। 

ঐসব দুষ্টু লোকের তালিকা করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা হলে সেসব অরাজকতা বন্ধ হবে।
মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত: প্রবাসীদের দুর্ভোগ শুরু হয় ঢাকা বিমানবন্দর থেকে। কাস্টম কর্মকর্তাগণের অবহেলায় বিদেশে স্বল্প আয়ের কঠিণ পরিশ্রমী প্রবাসীরা বিমানবন্দরে সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হন। দেশে ফিরে আসার পর স্থানীয় মাস্তান-মোড়ল এবং সন্ত্রাসীর কবলে অনেকের জীবনও বিপন্ন হওয়ার নজির আছে। 
নিজ মাতৃভূমি থেকে সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে বিদেশে চাকুরি নিয়ে যাওয়ার পরও দেশের সন্মানিত শ্রমিকবৃন্দ প্রতারণার শিকার হন, অথবা চাকুরি ও সর্বস্ব হারিয়ে দেশে ফেরৎ আসতে বাধ্য হন। আবার অনেকে স্বদেশে ফিরে প্রতারিত হয়ে নিজস্ব সম্পদ ভোগ করতে পারেন না। এমতাবস্থায় সীমাহীন সমস্যা ও সংকটের মধ্যদিয়ে তাদের সংসার চলে। 

সরকার চাইলে সেইসব নাগরিকদের সুদমুক্ত ঋণ অথবা স্বল্প সুদের বিনিময়ে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোয় ঋণ দেয়ার ব্যবস্থার মাধ্যমে জনগণ ও প্রবাসীদের সহায়তা করতে পারেন। 
সংশ্লিষ্ট পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার ক্ষেত্রে এবং মেধাবী ছাত্রদের উচ্চশিক্ষার্থে বহি:র্বিশ্বে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পারেন। আইটি সেক্টরকে সমৃদ্ধ করে উপযুক্ত লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত যুবকদের ট্রেনিংএর মাধ্যেমে বেকারত্ব দূরিকরণ ও বিদেশে প্রেরণের ব্যবস্থা করতে পারেন। 

বলাবাহুল্য,প্রযুক্তিগত দিকদিয়ে বাংলাদেশ এখনও অনেক পিছিয়ে। এদিক থেকে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত অনেক এগিয়ে আছে। বাংলাদেশ সরকারকে সেটির প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে এবং দেশের মেধার উন্নয়নে কাজ করতে হবে।
আরেকটি বিষয়,
মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের এককোটি মানুষকে ভারত আশ্রয় প্রদান করেছে। তার জন্য বাংলাদেশ কৃতজ্ঞ। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত ভারত বাংলাদেশ থেকে তার ব্যবসা-বাণিজ্য সমৃদ্ধির বিরাট সুযোগ নিয়েছে অনেক বেশি। কিন্তু বিনিময়ে বাংলাদেশের পানির হিস্যাসহ কি কি সুবিধা এসেছে(?), সরকার থেকে তার কোনো জবাবদিহিতা নেই। সীমান্তে প্রতিনিয়ত ভারতীয় বাহিনীর বাংলাদেশীদের হয়রানি ও হত্যার শিকার হচ্ছে। সরকারিভাবে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয় না।

বিগত কয়েকবছর ধরে ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট চালু
নেই। বিমান কর্মকর্তাদের একচেটিয়া দুর্নীতি ও চুরির ফলে বছরের পর বছর উপর্যুপরি ভুর্তগি ও লোকসানের ফলে সরকার নিউইয়র্কের বিমান চলাচল বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়। অথচ আমেরিকায় অবস্থারত: বৃহৎ সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি প্রতিনিয়ত অন্যান্য এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে ঢাকায় যাতায়াত করেন এবং সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স সমূহ বিপুল পরিমাণ লাভ করে থাকে। বিমান সংস্থা তথা সরকার প্রবাসীদের থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থলাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সরকারের নিয়োগকৃত কর্মকর্তা ও কর্মচারী ও মন্ত্রীদের একচ্ছত্র আধিপত্য এবং দুর্নীতির কারণেই বছরের পর বছর বিমান লোকসানের ঘানি টানতে হচ্ছে।

দু:খজনক হলেও সত্যি যে, পৃথিবীর সব এয়ারলাইন্স লাভবান হলেও দুর্নীতি ও চুরির কারণেই মূলতঃ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কখনও লাভের মুখ দেখেনি ! সরকার বিমানের সে সময়কার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চুরির বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে যথাযথ পদক্ষেপ নিলে সঠিক রেজাল্ট পেতে পারে। 
সরকারকে এখনই বিমান পর্যটন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে পারলে অচিরেই রাষ্ট্রীয় কল্যাণের সুফল মিলবে।

দেশে অগনিত মানুষ চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর মুখামুখি। শিশুরা হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে! কী কারণে সহস্রাধিক শিশুর করুণ মৃত্যু হলো! বর্তমান সরকার অন্তর্বর্তী কালীন অথর্ব সরকারের গাফিলতি,অবহেলাজনিত কারণ এবং সেই সময়কার অযোগ্য লোকদের ব্যাপারে সরকার কেন মুখ খুলছেনা। সেটার সুরাহা হওয়া প্রয়োজন।
ড, ইউনূসের কাছে দেশের জনগণ যা আশা করেছিলো, তিনি সেখানে প্রতারণা করেছেন বলে অনেক অভিযোগ আছে। তিনি অতি চালাকি করে সরকারে তাঁর সুবিধাভোগীদের নিয়োগ দিয়েছেন। নিজের সুবিধাগুলোকে আরও পাকাপোক্ত করেছেন! তাঁর শাসনামলে সারা দেশের মব-সন্ত্রাসের জের রাষ্ট্র এখনও বহন করে চলেছে ! কোন কোনো ক্ষেত্রে তিনি মবকে উচকে দিয়েছেন।

ছাত্রদেরকে শিক্ষাবিমুখ করে বিনা পরীক্ষায় পাশ করার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। 
অনেক ছাত্রদের মধ্যে পড়াশোনা করার পরিবর্তে লোভ ও ক্ষমতার রাজনীতি করার কার্যক্রমতো আগে থেকেই বিদ্যমান। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অনেক ছাত্রদের মধ্যে ক্ষমতার মোহ সৃষ্টি হয়েছে।
মনে রাখা উচিত, ‘যে ব্যক্তি যতটা শিক্ষিত, সংস্কৃতি বোধসম্পন্ন ভদ্র ও বিনয়ী হয়, সেই একটি জাতিকে সভ্য বানাতে পারে।’
তিক্ত হলেও সত্যি যে,বাংলাদেশে কতিপয় ছাত্র ও একশ্রেণীর শিক্ষকদের মধ্য থেকে বড়দের প্রতি সেই সন্মান, শ্রদ্ধাবোধ,ভদ্রতা ও বিনয় উঠে গেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেটিই উপলব্ধি করেছি। 
সংবিধান সংশোধনের নামে আলী রীয়াজ গং-দের কার্যক্রম নিয়ে জনমনে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। সেসময়কার বুদ্ধিজীবী নামধারী কেউ কেউ দেশের সংবিধান ছিড়ে ছুড়ে ফেলার কথাও বলেছেন। 

কিন্তু কোনো প্রতিকার হয়নি। সেসময়কার অনেক ক্ষেত্রেই চরম অনিয়ম অযোগ্যতার অভিযোগ আছে। সরকারের উচিত সেসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করা এবং জনগণের কাছে প্রকাশ করা। যারা বিদেশে এক পা রেখে বাংলাদেশে গিয়ে সরকারের সঙ্গী হয়ে আবার নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে চম্পট দেয়! তারা দেশ জাতির শত্রু। তাদের সম্পর্কেও বর্তমান সরকারের উচিত সবকিছু খোলসা করা। 

জনাব তারেক রহমানের সরকারের কাছে জনগণের কল্যাণ ও অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে বলে সবার প্রত্যাশা।
দেশের অর্থনৈতিক কঠিণ অবস্থার মধ্যে যেখানে সরকারকে হিমশিম খেতে হচ্ছে,—সেখানে কতিপয় চোর-বাটপার দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার কবলে পুরো দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে?সেটা তো হওয়া উচিত নয়। প্রয়োজনে সরকারের মন্ত্রী পরিষদের পুনর্গঠন করা উচিত। কেননা, সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিতর্কিত লোকদের সরিয়ে সরকার ইচ্ছা করলে তার দলের অনেক ত্যাগী সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে পারে। তাতে দেশের কল্যাণ হবে, সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।

রাষ্ট্রের একটি টাকাও যেনো আর বিদেশে পাচার হয়ে যেতে না পারে, সেদিকে সরকারের কঠোর দৃষ্টি রাখতে হবে। চোরা কারবারিদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মাধ্যমে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে মনে রাখতে হবে যে, তাঁর বাবা বীরউত্তম মুক্তিযোদ্ধা শহীদ জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় সৎ প্রেসিডেন্ট। তাঁর মা আপোষহীন নেত্রী দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। যিনি তাঁর জীবনকে গণতন্ত্র ও গণঅধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য উৎসর্গ করেছেন।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁদের যোগ্য সন্তান হিশেবে যেমন আনন্দিত ও পুলকিত করে। 
তেমনই তার সরকারের অযোগ্য,বিতর্কিত লোকদের নিয়োগের ফলে জনজীবনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত,খুন-হত্যা ও দুর্নীতিবাজদের সুবিধার পথ খুলে গেলে এবং রাষ্ট্রের ক্ষতিসাধনের আশঙ্কার খবরে আমরা ব্যথিত ও মর্মাহত হই। 
শুনেছি,জনাব তারেক রহমান প্রবাসীদের কল্যাণের স্বার্থে খুবই আন্তরিক। তিনি নিজেও দীর্ঘদিন বিদেশে নির্বাসিত ছিলেন। তাঁর উচিত প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে পরিবর্তন করে ঢেলে সাজানো। একইভাবে সরকারের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, সড়ক ও নৌ মন্ত্রণালয়,স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পুনর্গঠন করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে শক্তিশালী করা এবং তদস্থলে সৎ ও যোগ্য লোকের নিয়োগ প্রদান করা।

মনে রাখা দরকার,যারা বিদেশে নিজের আসল খুঁটি রেখে সরকারের ক্ষমতা ভোগ করে এবং দেশের বিপদের সময় আবার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়, যতই যোগ্য হোক তারা জনগণের বন্ধু নয়। মুলত তারাই দেশের দুশমন।
জনাব তারেক রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে উপরোক্ত সমস্যাবলীর প্রতি দৃষ্টি দিলে তিনিও প্রবাসীদের সুখ-দু:খের সঙ্গী হতে পারেন। ইতিমধ্যে কোন কোন ক্ষেত্রে তাঁর আন্তরিকতা এবং বুদ্ধিসচেতন নিষ্ঠাবোধ প্রশংসনীয়। শুধু তাঁকেই মিতব্যয়ী হলে চলবে না,পুরো সরকার ব্যবস্থাটা যদি সেরকম হতে পারে,—তাহলেই তিনি ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ অনেক সমস্যা রয়েছে। জাতিসংঘের অধিবেশনে সেসব সমস্যা নিয়ে কোন পদ্ধতিতে সরকারি প্রস্তাবনা তুলে ধরবার দায়িত্ব তো সরকারের। সেটি সরকারি বিষয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সংশ্লিষ্টরা সেটি সাজিয়ে দেন। এখানে প্রবাসী বাংলাদেশীদের কিছু করবার নেই। তারা শুধু সমস্যা ও দুঃখ-কষ্টের কথাগুলোই প্রকাশ করতে পারেন। 

বাংলাদেশে দশ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরনার্থির একটি মানবধর্মী সন্তোষজনক সমাধান হোক সেটি সকলের কাম্য। এব্যাপারে আন্তর্জাতিক সাহায্য এবং বার্মার স্বৈরতন্ত্রী পৈশাচিক সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার এবং কঠোর ব্যবস্থার দাবি বিশ্বের সকল মানবতাবাদী মানুষের। 
জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগদানকারী রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের মতামত ও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ন্যায্য দাবিগুলোর একটা সুরহা সকলের কাম্য। 

লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের কঠিণ দিনগুলোর কথা কারুর বিস্মৃত হওয়ার নয়। মনে রাখতে হবে যে,বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, সংবিধান ও জাতীয় পতাকার পূর্ণ মর্যাদার হানি ঘটলে ইতিহাস কখনো তাদের ক্ষমা করবে না।
একইভাবে চব্বিশের ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানের কথা ভুলে গেলে চলবে না। ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসনামলের গুম,খুন নির্যাতন চব্বিশের নির্দয় নিষ্ঠুরতম গণহত্যার শিকার হয়ে শিশু, নারী ও ছাত্রজনতার প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক অধিকার ও সুফলকে কাজে লাগাতে হবে। শহীদ পরিবার ও ও অসংখ্য আহত জুলাই যোদ্ধাদের পূর্ণ মর্যাদা ও সম্মান প্রদান করতে হবে।

দেশের উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠী,স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে সরকারকে সজাগ থাকতে হবে।
সরকার যদি জনগণের হয়; তাহলে জনগণও সরকারের অংশ এবং আসল প্রাণ। সেজন্যে, দেশে রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনাকে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে সরকারকে জোড়ালো ভূমিকা রাখতে হবে। 
এক্ষেত্রে আব্রাহাম লিংকনের বিখ্যাত উক্তি হলো—“সরকার জনগণের, জনগণের দ্বারা এবং জনগণের জন্য।”
আর জন এফ কেনেডি বলেছেন:”জিজ্ঞাসা করো না দেশ তোমাদের জন্য কী করেছে, বরং জিজ্ঞাসা করো তোমরা দেশের জন্য কী করতে পারো।”

যে বৈষম্যহীনতার শিকার হয়ে দেশের ছাত্রজনতা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সরকারকে জনগণের সেসব অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং সকল প্রকার বৈষম্য দূরীকরণে সচেষ্ট থাকতে হবে। 
দেশ, মাটি ও মাতৃকাকে সবাই ভালবাসেন। আর প্রবাসীরা নিজের দেশ,মাটি ও মাতৃভূমিকে আরও বেশি ভালোবাসেন। তাদের দেশপ্রেম ও ভালোবাসার তুলনা করা সম্ভব নয়। বিশ্বের উন্নয়নধারার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ আরও উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে তাই হোক আজকের প্রত্যাশা। 
——লেখক: কবি ও কলামিস্ট। 
 
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]