​জাতিসংঘে প্রথম দিনে ১০ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ প্রধানমন্ত্রীর, পেলেন ৩ দেশ সফরের আমন্ত্রণ

প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:৩৫ , অনলাইন ভার্সন
জাতিসংঘে প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০টি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন, যার মধ্য দিয়ে ৩৬০ ডিগ্রি কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক কৌশলের প্রতিফলন ঘটেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, দিনের কর্মসূচিতে বহুপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়, রোহিঙ্গা সংকট ও উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়াই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। সফরের সূচনাতেই সেই লক্ষ্য সফলভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৫টা) জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের ডিপ্লোম্যাট সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মাহদী আমিন এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কের উদ্বোধনী পর্বে যোগদানসহ নিউইয়র্ক সফরের প্রথম দিনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম নিয়ে এই প্রেস ব্রিফিং করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে চার দিনের সরকারি সফরের প্রথম দিনেই অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া তার এই ব্যস্ততা অব্যাহত ছিল রাত ৮টা পর্যন্ত। পূর্বনির্ধারিত ১২টি কর্মসূচির মধ্যে সময়স্বল্পতার কারণে দুটি বাদে বাকি ১০টি কর্মসূচিতেই তিনি সশরীরে অংশ নিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী দিনের কর্মসূচি শুরু করেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দেওয়া প্রাতঃরাশে (ব্রেকফাস্ট) অংশ নিয়ে। রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে আয়োজিত ওই প্রাতঃরাশের পর তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক পর্বের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেন।

আঞ্চলিক পর্যায়ে তারেক রহমান ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ও মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেন। এছাড়া তিনি হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। ভুটান ও মালদ্বীপ ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিজ দেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। একইসঙ্গে বাংলাদেশ ও তুরস্কের বহুমাত্রিক সম্পর্ককে কীভাবে আরও জোরদার করা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ও অংশীদারত্ব জোরদারসহ অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে এসব বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

তিনি বলেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে প্রতিরক্ষা, বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক ও বহুপক্ষীয় ফোরামে সহযোগিতাসহ দুই দেশের সামগ্রিক অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা হয়।
 
হুমায়ুন কবির বলেন, ভুটানের প্রধানমন্ত্রীও দুই দেশের বিশেষ সম্পর্ক এবং এ অংশীদারত্ব আরও জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে মাহ্‌দী বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধিদের ও মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূতের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।

এছাড়া তিনি বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গে বৈঠক করেন। এতে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার এবং বৈশ্বিক ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে অংশীদারত্ব জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, তেল, গ্যাস ও সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে সৃষ্ট বৈদেশিক অর্থনৈতিক ধাক্কা মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহায়তা এবং তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি ও কর্মসংস্থান কর্মসূচিতে সহায়তা বাড়াতে বিশ্বব্যাংক সম্মত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির মধ্যে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী ও প্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা ছিল বলেও জানান মাহ্‌দী।

অন্যদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে প্রধানমন্ত্রী নিজে উপস্থিত থাকতে না পারায় তার মনোনীত একটি উচ্চপর্যায়ের দল মেটার সঙ্গে বৈঠক করেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে মেটার ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনেক হওয়ায় আলোচনায় কোম্পানিটির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এবং দেশের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো উঠে আসে।

প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রীর ১২টি কর্মসূচি নির্ধারিত ছিল। এর মধ্যে সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে ইউরোপীয় কাউন্সিল ও মেটার সঙ্গে বৈঠক—এ দুটি কর্মসূচিতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে অংশ নিতে পারেননি বলে মাহ্‌দী জানান।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের স্বার্থ ও দেশের মানুষের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার সরকারের প্রচেষ্টা প্রতিফলিত হয়েছে।

সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান, জাতিসংঘে বাংলাদেশের ডেপুটি পার্মানেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিউর রহমান রুমন, উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি ও সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক খান উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিশ্ব সংস্থাটিতে এটিই হবে তার প্রথম ভাষণ।

ঠিকানা/এসআর
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]