​গ্যাসে স্বস্তি শিল্পে গতি

প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:০০ , অনলাইন ভার্সন
দুই মাসের জ্বালানি সংকটে ধাক্কা খাওয়া দেশের শিল্পকারখানায় আবারও উৎপাদনের গতি ফিরতে শুরু করেছে। শিল্পাঞ্চল- গুলোতে গ্যাসের সরবরাহ ও চাপ বাড়ায় অনেক কারখানায় উৎপাদন সক্ষমতা ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুতের লোডশেডিংও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে সাভার, আশুলিয়া ও মানিকগঞ্জসহ কিছু এলাকায় এখনো গ্যাসের চাপ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। শিল্প উদ্যোক্তারা জানান, চট্টগ্রাম, ঢাকা, ময়মনসিংহ, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে গ্যাস পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। আগে যেসব কারখানায় গ্যাসের চাপ ২ পিএসআইয়ের নিচে বা শূন্যের কাছাকাছি ছিল, সেখানে এখন কোনো কোনো এলাকায় তা ৭ পিএসআই পর্যন্ত উঠেছে। ফলে জ্বালানির সংকটে ৫০ শতাংশের নিচে নেমে যাওয়া উৎপাদন অনেক কারখানায় আবার ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশে পৌঁছেছে। সরকারি তথ্যেও জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ ২ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি হওয়ার কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ বেড়েছে। তবে সাভার, আশুলিয়া ও মানিকগঞ্জে এখনো কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হয়নি। বিদ্যুতের লোডশেডিংও কমেছে। আগে কোনো কোনো এলাকায় ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকলেও এখন তা এক থেকে দেড় ঘণ্টায় নেমে এসেছে। এতে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম অনেকটাই স্বাভাবিক হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাস সরবরাহ উন্নত হওয়ায় পোশাকশিল্পে স্বস্তি ফিরেছে বলেও তিনি জানান। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১১৯টি উৎপাদনশীল কূপ রয়েছে। এসব কূপের সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৩ হাজার ৮৫৪ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে সাম্প্রতিক ২৪ ঘণ্টায় দেশীয় গ্যাস উৎপাদন হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর সঙ্গে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) যুক্ত হয়ে জাতীয় গ্রিডে মোট সরবরাহ ২ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি হয়েছে। তবে শিল্পোদ্যোক্তাদের বড় উদ্বেগ এখন এই উন্নতি কতটা স্থায়ী হবে। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, গত দুই মাসের জ্বালানি সংকটে কোনো পোশাক কারখানা বন্ধ হয়নি। তবে এর প্রকৃত অর্থনৈতিক প্রভাব তিন-চার মাস পর স্পষ্ট হতে পারে। তার মতে, গ্যাসের চাপ কমে ডায়িং, ওয়াশিংসহ ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে সমস্যা সমাধানে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত নানা কারণে ৩১টি কারখানা বন্ধ হয়েছে, যেখানে প্রায় ১৪ হাজার শ্রমিক কাজ করতেন। একই সময়ে ৫৩টি নতুন কারখানা সংগঠনটির সদস্য হয়েছে, যেখানে প্রায় ২৪ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান হবে। বিজিএমইএ বলছে, জ্বালানি সংকটের কারণে এখন পর্যন্ত কোনো কারখানা বন্ধ হয়নি। গ্যাস সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে আরও এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিকে পোশাকশিল্পের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণেও নানা কর্মসূচি নিচ্ছে বিজিএমইএ। আগামী ১৮ ও ১৯ নভেম্বর ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ১২ বছরের বেশি সময় পর অনুষ্ঠিত হবে বাটেক্সপো ২০২৬। একই সঙ্গে ২৮ ও ২৯ অক্টোবর হংকংয়ে আয়োজন করা হবে বাংলাদেশ অ্যাপারেল রোডশো। জাপানের বাজারে রপ্তানি বাড়াতে বিজিএমইএতে চালু হচ্ছে ‘জাপান ডেস্ক’। শিল্প খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক গ্যাস সরবরাহের উন্নতি উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে স্বস্তি ফিরিয়েছে। তবে শিল্পের পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগাতে হলে গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]