​ওয়ার্ক ভিসার ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বাতিলের প্রস্তাব

চাকরি হারালেই ছাড়তে হবে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৩ , অনলাইন ভার্সন
যুক্তরাষ্ট্রে কর্মভিত্তিক অস্থায়ী ভিসায় থাকা বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে এইচ-১বিসহ কয়েকটি ওয়ার্ক ভিসার অধীনে থাকা কেউ চাকরি হারালে বা ছেড়ে দিলে বর্তমানে প্রচলিত সর্বোচ্চ ৬০ দিনের ‘গ্রেস পিরিয়ড’ আর পাবেন না। অন্য কোনো বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস না থাকলে চাকরি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বৈধ ভিত্তিও হারাতে পারেন।
তবে এটি এখনো চূড়ান্ত বিধি নয়। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএস ১১ সেপ্টেম্বর ফেডারেল রেজিস্টারে ‘এলিমিনেটিং দ্য ডিসক্রিশনারি সিক্সটি-ডে গ্রেস প্রিয়ড’ শিরোনামে প্রস্তাবটি প্রকাশ করেছে। এ বিষয়ে জনমত গ্রহণ চলবে ১০ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। এরপর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত বিধি জারি হলে পরিবর্তনটি কার্যকর হতে পারে।
বর্তমান ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট কর্মভিত্তিক নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাধারীর চাকরি নির্ধারিত সময়ের আগে শেষ হলে সর্বোচ্চ ৬০ দিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে তারা নতুন নিয়োগকর্তা খুঁজে প্রয়োজনীয় আবেদন করতে, অন্য বৈধ স্ট্যাটাসে যাওয়ার উদ্যোগ নিতে অথবা দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে পারেন। ২০১৭ সাল থেকে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
প্রস্তাবিত পরিবর্তনের আওতায় ই-১, ই-২, ই-৩, এইচ-১বি, এইচ-১বি১, এল-১, ও-১ এবং টিএন ভিসাধারীরা পড়বেন। এর মধ্যে এইচ-১বি ভিসা প্রযুক্তি, প্রকৌশল, গবেষণা ও অন্যান্য বিশেষায়িত পেশায় বহুল ব্যবহৃত। এল-১ বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের জন্য, ও-১ বিজ্ঞান, শিক্ষা, ব্যবসা, ক্রীড়া ও শিল্পকলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য এবং টিএন ভিসা যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তির আওতায় কানাডা ও মেক্সিকোর নির্দিষ্ট পেশাজীবীদের জন্য ব্যবহৃত হয়।
ডিএইচএস-এর প্রস্তাব অনুযায়ী, চাকরি শেষ হওয়ার পর অন্য কোনো বৈধ ভিত্তি না থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তার নন-ইমিগ্র্যান্ট স্ট্যাটাস বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে বিবেচিত হতে পারেন। পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার মুখোমুখিও হতে পারেন।
এর প্রভাব শুধু মূল ভিসাধারীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্মীর ওপর নির্ভরশীল স্ত্রী-স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস এবং কাজের অনুমতিও প্রভাবিত হতে পারে।
ডিএইচএস বলছে, কর্মভিত্তিক নন-ইমিগ্র্যান্ট স্ট্যাটাসের সঙ্গে যে চাকরির ভিত্তিতে একজন বিদেশি যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন, তার সরাসরি সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠাই এ পরিবর্তনের উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে এতে প্রশাসনিক চাপ কমবে বলেও সংস্থাটির দাবি।
তবে প্রস্তাবটি কার্যকর হলে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য চাকরি পরিবর্তন অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বর্তমানে হঠাৎ চাকরি হারালেও ৬০ দিনের মধ্যে নতুন নিয়োগকর্তা ও প্রয়োজনীয় ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা করার সুযোগ থাকে। সেই সময়সীমা উঠে গেলে চাকরি হারানো এবং বৈধ স্ট্যাটাস হারানোর ঝুঁকি প্রায় একই সঙ্গে দেখা দিতে পারে।
প্রযুক্তি, প্রকৌশল, গবেষণা, স্বাস্থ্যসেবাসহ যেসব খাত বিদেশি দক্ষ পেশাজীবীদের ওপর নির্ভরশীল, সেসব প্রতিষ্ঠানও এর প্রভাব অনুভব করতে পারে। ডিএইচএস নিজেও সম্ভাব্য ব্যবসায়িক প্রভাবের কথা স্বীকার করেছে। তবে সংস্থাটির ধারণা, প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী সমান যোগ্যতাসম্পন্ন মার্কিন কর্মী নিয়োগ অথবা নতুন পিটিশনের মাধ্যমে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে পারবে।
চাকরি হারানো মানেই অবশ্য ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। যোগ্য ব্যক্তি নতুন চাকরি পেলে এবং প্রয়োজনীয় পিটিশন ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করলে পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদন করতে পারবেন।
প্রস্তাবটি তাই যুক্তরাষ্ট্রে থাকা হাজারো বিদেশি পেশাজীবী ও তাদের পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে বর্তমান ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড এখনো বহাল রয়েছে। জনমত গ্রহণ ও বিধি প্রণয়নের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে এটি কার্যকর হচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত প্রস্তাবটি কোন রূপে চূড়ান্ত হয়, তার ওপরই নির্ভর করবে চাকরি হারানোর পর বিদেশি কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে থেকে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ খোঁজার বর্তমান ব্যবস্থা বহাল থাকবে কি না।
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]