ভবনের প্রধান ফটক ভাঙচুর, ডিম নিক্ষেপ

নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের  সামনে ‘বেপরোয়া’ বিক্ষোভ 

প্রকাশ : ২৮ অগাস্ট ২০২৫, ১৮:২২ , অনলাইন ভার্সন
অন্তর্বর্তী তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজের আগমনকে কেন্দ্র করে গত ২৪ আগস্ট রোববার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সামনে ‘বেপরোয়া’ বিক্ষোভ করেছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা। এসময় একদল উচ্ছৃঙ্খল নেতা-কর্মী ভবনের প্রধান ফটকের একটি কাঁচের দরজা ভাঙচুর করে। তারা লিফট লক্ষ্য করে ডিম ও পানির বোতল ছুঁড়ে মারে। বিপুলসংখ্যক পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মধ্যরাত পর্যন্ত পুলিশ কনস্যুলেটের সামনে অবস্থান নেয়। 
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান দাবি করেন, আমাদের বিক্ষোভ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ছিল। কিন্তু কনস্যুলেটের অনুষ্ঠানে আসা কিছু ছাত্র সমন্বয়কের উস্কানিতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এসময় ধাক্কাধাক্কিতে ওই ভবনের একটি কাঁচের দরজা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি বলেন, পানির বোতল ও ডিম ছুঁড়ে মারায় তাদের কাঁপুনি শুরু হয়েছে। 
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ কনস্যুলেট এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র সফররত অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম। তার আগমন প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠন কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করে। তবে তথ্য উপদেষ্টা কনস্যুলেটে ঢোকার সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দেখা হয়নি। কনস্যুলেটের কর্মকর্তাদের দাবি- ‘তথ্য উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম ভবনের গ্যারেজ দিয়ে কনস্যুলেটে প্রবেশ করেন’। 
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরো জানান, বাইরে বিক্ষোভের কারণে কনস্যুলেট ভবনের প্রধান ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত ছিল। কনস্যুলেটের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত কয়েকজন ছাত্র সমন্বয়ক লিফট ব্যবহার করে ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। এসময় তাদের লক্ষ করে ডিম ও পানির বোতল ছুঁড়ে মারা হয়। একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি শুরু হলে কে বা কারা কাঁচের একটি দরজা ভাঙচুর করে। পুলিশ দুজন বিক্ষোভকারীকে আটক করলেও সাথে সাথে ছেড়ে দেয়। 
এদিকে অনুষ্ঠান চলাকালে উপদেষ্টা মাহফুজ আলম কখন বের হবেন, সে জন্য যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বাইরে অপেক্ষা করেন। তাদের অবস্থান জেনে রাত ১২টার পর নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এনওয়াইপিডি) পাহারায় উপদেষ্টা কনস্যুলেট অফিস থেকে বের হয়ে যান।
এখানে উল্লেখ্য, নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট লং আইল্যান্ড সিটির একটি বাণিজ্যিক ভবনের দোতলার একপাশে অবস্থিত। সেখানে আরো বেশকিছু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রধান ফটকের কাঁচের দরজা ও লিফট ওই ভবনের যাতায়াতকারী সবাই ব্যবহার করেন। 
নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট এক ব্যাখ্যায় বলেছে- জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান দিবসের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ২৪ আগস্ট রোববার নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। কনস্যুলেটে তার আগমনকে কেন্দ্র করে যে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেছে সে বিষয়ে নিউইয়র্ক বাংলাদেশ কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে একটি ব্যাখা  দেওয়া হয়েছে।  
ব্যাখ্যায় বলা হয়- ‘সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে অনুষ্ঠানের আগেই নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ কন্স্যুলেটের আশেপাশে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে।  
বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে আয়োজিত মতবিনিময় সভাটি পণ্ড করার উদ্দেশ্যে এবং অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথিকে সরাসরি আক্রমণ করার হিংস্র মনোভাব নিয়ে বিকেল ৫টা থেকেই যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের সামনে অবস্থান নেয়। তারা বাংলাদেশ সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং অশ্লীল-অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা অনুষ্ঠানে আগত আমন্ত্রিত অতিথিদের ধাওয়া করে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণে বাধা প্রদান করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা আরও নানাবিধ অপকৌশল অবলম্বন করে যার অংশ হিসেবে তারা অতিথিদের উদ্দেশ্যে ডিম নিক্ষেপ করে এবং অত্যন্ত ন্যক্কারজনকভাবে বাংলাদেশ কন্স্যুলেট জেনারেলের প্রবেশপথের পার্শ্ববর্তী অন্য একটি অফিসের (একই ভবনের) কাঁচের দরজায় আঘাত করে, যার পরিপ্রেক্ষিতে ওই দরজায় ফাটল ধরে।’
পুলিশ দুষ্কৃতিকারীদের এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কাজে বাধা দেয় এবং কয়েকজনকে আটক করে। দুষ্কৃতিকারীদের এই ন্যক্কারজনক ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমের স্থিরচিত্র ও ভিডিও ফুটেজ প্রমাণ হিসেবে ইতোমধ্যে পুলিশের হস্তগত হয়েছে এবং তারা এ ব্যাপারে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে মর্মে আশ্বস্ত করেছে।
পতিত সরকারের দোসররা প্রধান অতিথিকে হেনস্তা ও জীবননাশের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের দলীয় পতাকাসহ কন্স্যুলেট জেনারেলের চতুর্দিকে মধ্যরাত অবধি অবস্থান করে। তবে পুরো সময় নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশের উপস্থিতি লক্ষণীয় ছিল।   
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথি যথাসময়ে কন্স্যুলেট জেনারেরেল গাড়িযোগে প্রবেশের জন্য নির্ধারিত পথে নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান। প্রাণবন্ত মতবিনিময়, আগত অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় এবং রাতের খাবার শেষে প্রধান অতিথি কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ব্যতিরেকে নির্ধারিত গাড়িতে তার গন্তব্যে পৌঁছান। প্রধান অতিথি প্রস্থান করার পরে পুলিশ অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করে। দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়ে কনস্যুলেট জেনারেল ইতোমধ্যে স্থানীয় পুলিশ, মেয়র এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের স্থানীয় অফিসে পত্র প্রেরণ করেছে।
প্রধান অতিথির অনুষ্ঠানে আগমন কিংবা প্রস্থানের সময় দুষ্কৃতিকারীদের সঙ্গে উপদেষ্টার কোনো ধরনের সাক্ষাৎ বা দূরতম কোনো সংযোগ কিংবা সংশ্লেষও ঘটেনি। বিক্ষোভকারীদের শত চেষ্টা সত্ত্বেও তাদের অসাধু উদ্দেশ্য সাধন করতে পারেনি এবং এরকম কার্যে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নানাবিধ অপতথ্য এবং প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। 
এই ধরনের মিথ্যা তথ্য এবং প্রোপাগান্ডায় বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট। 
যুক্তরাষ্ট্রকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান : নিউইয়র্কে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেটে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী। 
সোমবার (২৫ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, নিউইয়র্কে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেটে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কতিপয় দুষ্কৃতিকারীর হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে। অবিলম্বে এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। আমি বিশ্বাস করি, যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের সহকর্মীরা বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।
যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিদেশে অবস্থিত সকল বাংলাদেশি মিশন ও দূতাবাস কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা স্বাগতিক দেশের দায়িত্ব। বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম বৃহৎ অংশীদার যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে, বাংলাদেশের পতিত স্বৈরশাসকের সমর্থকদের এমন ন্যক্কারজনক হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দীর্ঘদিন হোয়াইট হাউজ, স্টেট ডিপার্টমেন্টে সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই রাষ্ট্রদূত বলেন, এ বিষয়ে আমার সহকর্মীদের (বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা) প্রয়োজনীয় যে কোনো সহযোগিতা প্রদানে আমি প্রস্তুত।
ঢাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ : নিউইয়র্কে তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন তার সমর্থক শিক্ষার্থীরা। ২৬ আগস্ট মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘জুলাই বিপ্লবী শিক্ষার্থী ও নাগরিকবৃন্দ’ ব্যানারে এই বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। 
সমাবেশে বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব ফজলুর রহমান বলেন, যারা এই আন্দোলনের মূলে ছিলেন, জুলাই বিপ্লবের এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই তাদের ওপর হামলা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ নিজেদের গণতান্ত্রিক দল দাবি করলেও বাস্তবে ফ্যাসিবাদী রাজনীতি করছে। এমনকি একজন দায়িত্বশীল উপদেষ্টাও হামলা থেকে রেহাই পাননি। আমাদেরও হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
নিউইয়র্কে সংঘটিত ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, নিউইয়র্কে উপদেষ্টা মাহফুজ আলমকে হেনস্থা ও হামলা করা হয়েছে। অথচ এ নিয়ে কোনো প্রতিবাদ হয়নি।
একজন উপদেষ্টার নিরাপত্তাহীনতা শুধু তাঁর জন্য নয়, আমাদের সবার জন্য চিন্তার বিষয়। বিপ্লবের সফলতা ব্যাহত হলে আওয়ামী লীগও শান্তি পাবে না। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে আওয়াজ তুলতে হবে।
হামলাকারীদের বিচারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, যদি উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা হয়, তাহলে আওয়ামী লীগের টিকে থাকা প্রশ্নের মুখে পড়বে।


 
M M Shahin, Chairman Board of Editors, Thikana

Corporate Headquarter :

THIKANA : 7409 37th Ave suite 403

Jackson Heights, NY 11372

Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806



Bangladesh Bureau : THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath),
5th Floor, Dhaka- 1205, Bangladesh.
Mobile: 01711238078