
পেটের ক্যানসার বা গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল বা জিআই ক্যানসার হলো পরিপাকতন্ত্র ও এর সঙ্গে যুক্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ যেমন- খাদ্যনালী, পাকস্থলী, অগ্ন্যাশয়, পিত্তনালী, ক্ষুদ্র ও বৃহদান্ত্র, মলদ্বারসহ পুরো হজমতন্ত্রে সৃষ্ট ক্যানসার।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বজুড়ে জিআই ক্যানসারের নতুন রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। তবে ফল ও শাকসবজি ক্যানসারের ঝুঁকি কমায় এমন প্রমাণ দীর্ঘদিন ধরেই আছে। সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার একদল গবেষক নতুন এক গবেষণায় এ তথ্য আরও স্পষ্ট করেছেন।
তাদের গবেষণা Nutrition Research জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এতে ২০০৭ সালের অক্টোবর থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কোরিয়ার ন্যাশনাল ক্যানসার সেন্টারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে আসা ১১ হাজারেরও বেশি অংশগ্রহণকারীর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। গড়ে আট বছর ধরে পর্যবেক্ষণে থাকা এসব অংশগ্রহণকারীর মধ্যে ২১৪ জনের জিআই ক্যানসার ধরা পড়ে।
সাদা ফল ও সবজি সবচেয়ে কার্যকর
গবেষণায় দেখা গেছে, আপেল, নাশপাতি, পেঁয়াজ, রসুন ও মাশরুমের মতো সাদা রঙের ফল ও সবজি প্রতিদিন অন্তত ১৮৮ গ্রাম খেলে জিআই ক্যানসারের ঝুঁকি ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত কমে। এ ধরনের খাবারে থাকা বিশেষ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পুষ্টি উপাদান হজমতন্ত্রের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। বিশেষ করে রসুন ও পেঁয়াজের ক্যানসার প্রতিরোধী যৌগ নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ইতিবাচক ফল মিলেছে।
লাল ও বেগুনি সবজির সুরক্ষা
টমেটো, লাল বাঁধাকপি, বিট ও বেগুনি গাজরের মতো লাল ও বেগুনি রঙের সবজি খেলে জিআই ক্যানসারের ঝুঁকি ৩২ শতাংশ পর্যন্ত কমে। এসব সবজিতে থাকা ‘অ্যান্থোসায়ানিন’ ও ‘লাইকোপেন’ নামক উপাদান শরীরকে ক্যানসারের ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত মদ্যপান করেন, তাদের ক্ষেত্রে লাল ও বেগুনি সবজি খেলে ক্যানসারের ঝুঁকি ৪৩ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।
রঙিন খাবার মানেই পুষ্টির বৈচিত্র্য
গবেষণা বলছে, ভিন্ন ভিন্ন রঙের ফল ও সবজিতে ভিন্ন ভিন্ন ক্যানসার প্রতিরোধী উপাদান থাকে। যেমন সবুজ সবজিতে থাকে ফলেট ও আঁশ, আর কমলা-হলুদ সবজিতে থাকে বিটা-ক্যারোটিন ও ভিটামিন সি। তাই প্লেটে যত বেশি রঙিন সবজি থাকবে, শরীর তত বেশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন পাবে।
কতটুকু খেতে হবে?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) প্রতিদিন অন্তত ৪০০ গ্রাম বা পাঁচ ভাগ ফল ও সবজি খাওয়ার পরামর্শ দেয়। গবেষকরা বলছেন, প্রতিদিন ১৮৮ গ্রাম সাদা ফল ও সবজি এবং ৩৪ গ্রাম লাল-বেগুনি সবজি খেলে সর্বোচ্চ সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব।
কীভাবে ক্যানসার প্রতিরোধ করে?
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট: শরীরে ক্ষতিকর ফ্রি-র্যাডিকেল ধ্বংস করে, যা কোষের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
আঁশ (ফাইবার): হজমতন্ত্রকে সুস্থ রাখে, টক্সিন বের করে দেয় এবং গাট মাইক্রোবায়োম ভারসাম্য বজায় রাখে।
অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান: দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ কমিয়ে ক্যানসারের ঝুঁকি হ্রাস করে।
এ প্রতিবেদন শুধুমাত্র তথ্যের জন্য। কোনো চিকিৎসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
ঠিকানা/এএস
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বজুড়ে জিআই ক্যানসারের নতুন রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। তবে ফল ও শাকসবজি ক্যানসারের ঝুঁকি কমায় এমন প্রমাণ দীর্ঘদিন ধরেই আছে। সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার একদল গবেষক নতুন এক গবেষণায় এ তথ্য আরও স্পষ্ট করেছেন।
তাদের গবেষণা Nutrition Research জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এতে ২০০৭ সালের অক্টোবর থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কোরিয়ার ন্যাশনাল ক্যানসার সেন্টারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে আসা ১১ হাজারেরও বেশি অংশগ্রহণকারীর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। গড়ে আট বছর ধরে পর্যবেক্ষণে থাকা এসব অংশগ্রহণকারীর মধ্যে ২১৪ জনের জিআই ক্যানসার ধরা পড়ে।
সাদা ফল ও সবজি সবচেয়ে কার্যকর
গবেষণায় দেখা গেছে, আপেল, নাশপাতি, পেঁয়াজ, রসুন ও মাশরুমের মতো সাদা রঙের ফল ও সবজি প্রতিদিন অন্তত ১৮৮ গ্রাম খেলে জিআই ক্যানসারের ঝুঁকি ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত কমে। এ ধরনের খাবারে থাকা বিশেষ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পুষ্টি উপাদান হজমতন্ত্রের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। বিশেষ করে রসুন ও পেঁয়াজের ক্যানসার প্রতিরোধী যৌগ নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ইতিবাচক ফল মিলেছে।
লাল ও বেগুনি সবজির সুরক্ষা
টমেটো, লাল বাঁধাকপি, বিট ও বেগুনি গাজরের মতো লাল ও বেগুনি রঙের সবজি খেলে জিআই ক্যানসারের ঝুঁকি ৩২ শতাংশ পর্যন্ত কমে। এসব সবজিতে থাকা ‘অ্যান্থোসায়ানিন’ ও ‘লাইকোপেন’ নামক উপাদান শরীরকে ক্যানসারের ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত মদ্যপান করেন, তাদের ক্ষেত্রে লাল ও বেগুনি সবজি খেলে ক্যানসারের ঝুঁকি ৪৩ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।
রঙিন খাবার মানেই পুষ্টির বৈচিত্র্য
গবেষণা বলছে, ভিন্ন ভিন্ন রঙের ফল ও সবজিতে ভিন্ন ভিন্ন ক্যানসার প্রতিরোধী উপাদান থাকে। যেমন সবুজ সবজিতে থাকে ফলেট ও আঁশ, আর কমলা-হলুদ সবজিতে থাকে বিটা-ক্যারোটিন ও ভিটামিন সি। তাই প্লেটে যত বেশি রঙিন সবজি থাকবে, শরীর তত বেশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন পাবে।
কতটুকু খেতে হবে?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) প্রতিদিন অন্তত ৪০০ গ্রাম বা পাঁচ ভাগ ফল ও সবজি খাওয়ার পরামর্শ দেয়। গবেষকরা বলছেন, প্রতিদিন ১৮৮ গ্রাম সাদা ফল ও সবজি এবং ৩৪ গ্রাম লাল-বেগুনি সবজি খেলে সর্বোচ্চ সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব।
কীভাবে ক্যানসার প্রতিরোধ করে?
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট: শরীরে ক্ষতিকর ফ্রি-র্যাডিকেল ধ্বংস করে, যা কোষের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
আঁশ (ফাইবার): হজমতন্ত্রকে সুস্থ রাখে, টক্সিন বের করে দেয় এবং গাট মাইক্রোবায়োম ভারসাম্য বজায় রাখে।
অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান: দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ কমিয়ে ক্যানসারের ঝুঁকি হ্রাস করে।
এ প্রতিবেদন শুধুমাত্র তথ্যের জন্য। কোনো চিকিৎসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
ঠিকানা/এএস