কিলিয়ে কাঁঠাল পাকানো যায় না!

প্রকাশ : ২১ অগাস্ট ২০২৫, ১৩:১৩ , অনলাইন ভার্সন
সাম্য, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন কার্যকরের মানদণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রকে বলা হয় সতী মায়ের সতী কন্যা। আর চিকিৎসা পরিষেবা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও পারমাণবিক যুদ্ধোপকরণের নিরিখে যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের অদ্বিতীয় ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি বললে সম্ভবত বাড়িয়ে বলা হবে না। ১৯৪৫ সালের ৫ ও ৮ আগস্ট জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সর্বপ্রথম নিজেকে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে জাহির করেছিল। অবশ্য পরবর্তী সময়ে ভিয়েতনাম, ইরাক, আফগানিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সামরিক অভিযান পরিচালনা করলেও যুক্তরাষ্ট্র কাক্সিক্ষত সাফল্যের মুখ দেখেনি। এমনকি বিশ্বমানবতার জঘন্যতম শত্রু নেতানিয়াহুর সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রচলিত নিয়ম-রীতির তোয়াক্কা না করে সর্বশেষ ইরানে পারমাণবিক হামলা চালিয়েছিলেন এবং গালভরা সাফল্যের দাবি করেছিলেন। বাস্তবে বিধি বাম! ইরানের পুঞ্জীভূত ইউরেনিয়ামের নাগাল আমেরিকা পায়নি এবং পরিণতিতে যুক্তরাষ্ট্রের গৌরবোজ্জ্বল মুখে কলঙ্কের কালিমা লেপন করেছে বলে ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ। সিংহভাগ আমেরিকানের বিশ্বাস, আমেরিকার ইরানে হামলা ছিল পুরোপুরি অবিবেচনাপ্রসূত এবং নেহাত অবিমৃশ্যকারিতার বাস্তব নিদর্শন। ওই হামলায় ইরানের বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হয়নি এবং হামলা-পরবর্তী ইরান পারমাণবিক অস্ত্র প্রস্তুতিতে পুরোপুরি আত্মনিয়োগ করেছে। আর অল্প দিনেই উত্তর কোরিয়ার মতো পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্রসমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। ফলে আমেরিকাসহ বিশ্বের পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্রসমৃদ্ধ অনেক রাষ্ট্রপ্রধানের বর্তমানে কম্প দিয়ে জ্বর আসার উপক্রম এবং অনেকের আরামের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।

আমেরিকা মূলত বিশ্ব অভিবাসীর দেশ। ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠী-ভাষাভাষী-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সারা বিশ্বের কোটি কোটি অভিবাসীর শ্রম-ঘাম ও ফোঁটা ফোঁটা রক্তের বিনিময়ে গড়ে উঠেছে আমেরিকার সভ্যতা-সংস্কৃতি-আভিজাত্য-প্রাচুর্য ও আকাশ-আড়াল-করা সমৃদ্ধি। অথচ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রাজনৈতিক দল এবং রিপাবলিকানরা যেকোনো মূল্যে আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব এবং শ্বেতাঙ্গদের আভিজাত্য বজায়ে বদ্ধপরিকর। আর ডেমোক্র্যাটরা অভিবাসীদের জন্য কুম্ভীরাশ্রু বর্ষণ করলেও মূলত দেশের স্বার্থে রিপাবলিকান-আমেরিকান অভিন্ন আত্মা। অনস্বীকার্য যে আধুনিক বিশ্বের অমরাবতী আমেরিকার মায়া মরীচিকার হাতছানিতে প্রলুব্ধ হয়ে সারা বিশ্বের অসংখ্য ভাগ্যান্বেষী জনতা এবং ১০ লক্ষাধিক ড্রিমার জীবনঝুঁকি নিয়ে আমেরিকায় ভিড় জমিয়েছে। বর্তমানে আমেরিকার ৩৩ কোটি ৪৫ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় সোয়া কোটি কাগজপত্রহীন বা অবৈধ অভিবাসী ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন পদক্ষেপের অধীনে বহিষ্কারের ঝুঁকি নিয়ে চকিত চরণ হরিণীর মতো উৎকর্ণ জীবন যাপন করছে। কনজারভেটিভ জাস্টিস নিয়ন্ত্রিত সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ নির্দেশে (বর্তমানে সাময়িকভাবে স্থগিত) ১৭৭৯ সালে প্রণীত যুদ্ধকালীন আইনকে ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসী বিতাড়নের অব্যর্থ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সর্বোপরি রক্তক্ষয়, অরাজকতা এবং বিশৃঙ্খলা দমনের অজুহাতে ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ার মেয়র মুরিয়েল বাউজার এবং পুলিশ বাহিনীকে না জানিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১১ আগস্ট ওয়াশিংটন ডিসিতে ফেডারেল গার্ড মোতায়েন করেছেন। ট্রাম্প উল্লেখ করেন, তিনি ডিসি পুলিশকে সরাসরি ফেডারেলের নিয়ন্ত্রণে এনেছেন এবং অপরাধ নির্মূল ও বাস্তুহারাদের উপদ্রব থেকে সিটির সড়কগুলোকে মুক্ত রাখার খাতিরে সড়কে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেছেন। সিংহভাগ আমেরিকানের বিশ্বাস, মূলত অবৈধ অভিবাসী বিতাড়নে অধিকতর গতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যেই ট্রাম্প অবৈধদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত ক্যালিফোর্নিয়া, নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসিসহ কমপক্ষে পাঁচটি স্টেটে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

উত্থান-পতনের ধারাবাহিকতায় ট্রাম্প : নিউইয়র্কে জন্মগ্রহণকারী লব্ধপ্রতিষ্ঠ রিয়েলটর ট্রাম্পের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবির্ভাব ঘটে অনেকটা প্রজ্জ্বলিত উল্কাপিণ্ডের মতো। প্রথিতযশা রিয়েলটর ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৬ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকান দলীয় প্রার্থী হিসেবে চার তারকাবিশিষ্ট সাবেক জেনারেল ও ডাকসাইটে সিনেটর জন কেরিকে পরাজিত করে রিপাবলিকান দলের মনোনয়ন পান। এরপর ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। হোয়াইট হাউসে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একক সিদ্ধান্তে রাষ্ট্র পরিচালনায় মেতে ওঠেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স এবং গুরুত্বপূর্ণ ক্যাবিনেট সদস্যদের পরামর্শ বিন্দুমাত্র আমলে না নিয়ে ট্রাম্প রাষ্ট্র পরিচালনা করেন। ট্রাম্পের হঠকারিতায় অতিষ্ঠ হয়ে তার প্রথম দফা কার্যকালে সিংহভাগ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় পদত্যাগ করেছিলেন। ফলে মেয়াদকালের শেষের দিকে ট্রাম্প পুরোপুরি নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছিলেন। আবার ২০১৬ সালের নির্বাচনে রাশিয়ার গোপন হস্তক্ষেপ, মুখ বন্ধ রাখার শর্তে পর্নো তারকা স্টার ড্যানিয়েলকে গোপনে অর্থ প্রদান, ব্যবসায়িক দলিলপত্র জালিয়াতি ইত্যাদি নানা অভিযোগে ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত হাউস ট্রাম্পকে একবার অভিসংশন করেছিল এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সিনেটে প্রেরণ করেছিল। অবশ্য অভিসংশনের হাত থেকে ট্রাম্প অব্যাহতি পেলেও ২০২০ সালের বেশির ভাগ সময় ট্রাম্পকে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার পরিবর্তে নানাবিধ অভিযোগ এবং মামলা-মোকদ্দমার পেছনে আদালতের কাঠগড়ায় কাটাতে হয়েছিল। অবশেষে নির্বাচনে সূক্ষ্ম কারচুপি এবং জালিয়াতির ভিত্তিহীন অভিযোগে ট্রাম্প ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি একক সিদ্ধান্তে ক্যাপিটল হিল দাঙ্গার ইন্ধন জুগিয়েছিলেন। ফলে ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ট্রাম্পকে অনবরত চরম নাকানি-চুবানি খেতে হয়েছিল। এমনকি ফৌজদারি মামলায় ৪৪ কাউন্টে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একমাত্র বিদায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে জীবনের বাদবাকি সময় ট্রাম্পের রিকারস আইল্যান্ড ফ্যাসিলিটিতে কাটানোর সম্ভাবনাও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল। অবশেষে ভাগ্য সুপ্রসন্ন হওয়ায় ২০২৪ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে রিপাবলিকান দলীয় প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প হাউস, কংগ্রেস এবং পপুলার ভোটে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন এবং ৪৭তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প : দ্বিতীয় দফা ওভাল অফিসে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি, ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি, স্টেট ল’ এনফোর্সমেন্ট, হাইওয়ে প্যাট্রোল, দ্য স্টেট কোস্ট গার্ড, দ্য ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচারাল ল’ এনফোর্সমেন্ট এবং ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডফায়ার কনজারভেশন কমিশন সদস্যদের সমন্বয়ে বিশেষ বাহিনী গঠন করেন। আর স্থানীয় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তা সমভিব্যাহারে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট ফার্স্ট-অব-ইটস-কাইন্ড শিরোনামে ম্যাসিভ, মাল্টি এজেন্সি ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট ক্র্যাকডাউনের আওতায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে হাজার হাজার অভিবাসীকে গ্রেপ্তার এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করেন।
অযাচিত করারোপ ও প্রত্যাহার : রাজস্ব আয় বৃদ্ধির অজুহাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার কানাডা, চীন, ভারত, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর বিভিন্ন হারে আবগারি শুল্ক প্রয়োগ করেন। পক্ষান্তরে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ রাষ্ট্রগুলো আমেরিকার পণ্যসামগ্রীর ওপর উল্টো করারোপ করায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পিছু হটতে বাধ্য হন। চীন-কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর আরোপিত করের কার্যকারিতা স্থগিত করেন এবং পারস্পরিক আলোচনার পথ বেছে নেন। পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্রসমৃদ্ধ পাক-ভারত, রুয়ান্ডা-কঙ্গো যুদ্ধবিরতিতে ট্রাম্পের ভূমিকা প্রশংসনীয় হলেও ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের ভূমিকা ব্যাপক সমালোচনার দাবি রাখে। সর্বোপরি ইরানে আমেরিকার পুনরায় হামলার হুমকি সারা বিশ্বে নিন্দার ঝড় তুলেছে। কারণ খামেনির নেতৃত্বে ইরানিরা মরতে প্রস্তুত কিন্তু আমেরিকা বা বিশ্ব মোড়লদের নিকট মাথানত না করার সিদ্ধান্তে হিমালয়ের মতো অটল-অবিচল। এদিকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে গাজা ও পশ্চিম উপকূলে ইসরায়েলি বাহিনীর পাশবিক ও বর্বর হামলায় প্রায় ৬২ হাজার স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছে। লাখ লাখ আবালবৃদ্ধবনিতা চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছে। অধিকৃত ও মৃত্যুপুরী গাজায় খাদ্য-পানীয় এবং অপরিহার্য ওষুধের সংকট চরমে ওঠায় প্রতিনিয়ত বহু শিশু-কিশোর-আবালবৃদ্ধবনিতা জ্বরা-ক্ষুধা-অপুষ্টি এবং অনাহারে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। অথচ এমনতর অমানবিক কর্মকাণ্ডেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মানবতার জঘন্যতম শত্রু নেতানিয়াহুর আগ্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে চরমভাবে অনীহ।

প্রাকৃতিক প্রতিশোধ : ২০২৪ সালের ভূমিধস বিজয়ের সাত মাসের মাথায় ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডের অনুমোদনের হার বর্তমানে তলানিতে। সিএনএনের এসএসআরএস জরিপ প্রতিবেদন অনুসারে, বিগত ৭০ বছরের মধ্যে নির্বাচিত প্রেসিডেন্টদের মধ্যে একমাত্র ডুয়েট আইজেনআওয়ারের পর ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডের অনুমোদনের হার বর্তমানে ৪২ শতাংশে নেমে এসেছে। ৫৮ শতাংশ আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড অনুমোদন করেন না। অবশ্য ৬০ শতাংশ রিপাবলিকান ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
অর্থনীতি : অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের বর্ণনায়, বিশ্বের অন্যতম অপরাজেয় শক্তি চীন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ গোটা বিশ্বকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পণ্যসামগ্রীর ওপর ট্যারিফ বা আবগারি শুল্ক আরোপ করে ট্রাম্প আমেরিকার অর্থনৈতিক মুমূর্ষু কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকেছেন। আর সিএনএনের সর্বশেষ জরিপ প্রতিবেদন অনুসারে, ৭০ শতাংশ আমেরিকানের দৃষ্টিতে ট্রাম্পের অবিবেচনাপ্রসূত কর্মকাণ্ডের বিষময় প্রতিক্রিয়া হিসেবে আমেরিকার অর্থনীতি বর্তমানে মুমূর্ষু দফায় উপনীত হয়েছে। পণ্যসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, বেকারত্ব ও বাড়ি ভাড়ার দৌরাত্ম্য, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এজেন্সির সীমাহীন বাড়াবাড়ি ও নানাবিধ অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতিতে সাধারণ আমেরিকানদের বর্তমানে নাভিশ্বাস ওঠার উপক্রম। আবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম দফা কার্যকালে প্রেসিডেন্ট ব্যক্তিগত স্বার্থে খেয়ালখুশিমতো ক্যাবিনেট সদস্যদের নিয়োগ দিতেন এবং পান থেকে চুন খসে পড়ার মতো কর্মকাণ্ডে তাদের সাজঘরে পাঠাতেন। এবারও হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়ালতসকে সাজঘরে পাঠিয়েছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে সাময়িকভাবে তার স্থলাভিষিক্ত করেছেন। তাই সামগ্রিক পরিস্থিতি জানার জন্য শুধু অপেক্ষার পালা।

হে প্রেসিডেন্ট : বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির আশীর্বাদধন্য একুশ শতকে বিশ্ববাসীর চিন্তা-চেতনা এবং মনোজগতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ঢেউ খেলে যাচ্ছে। রক্তচক্ষুর শাসানির যুগ বহু আগেই জগৎ থেকে বিদায় নিয়েছে। মোদ্দাকথা, কোনো জাতি-গোষ্ঠীর ন্যায্য অধিকারকে পদদলিত করে কিলিয়ে কাঁঠাল পাকানোর আদলে সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত যাবতীয় উদ্যোগ-আয়োজন আকাশে কুসুম রচনার মতো ভেস্তে যাবে। পারস্পরিক সমঝোতা এবং আলোচনার ভিত্তিতেই যুদ্ধবিগ্রহ-রণদামামা থামাতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যের বিষফোড়া ইসরায়েলকে পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্রসমৃদ্ধ মিনি ক্যান্টনমেন্ট সাজিয়ে এবং মুক্তিকামী ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য অধিকারকে সিন্দাবাদের একচোখা দৈত্যের মতো হত্যা করে মানবতার ফেরির গালভরা দম্ভ বারবার অসাড় প্রতিপন্ন হয়েছে। তাই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অধিকারবঞ্চিত ও মুক্তিকামী বিশ্ববাসীর মৌলিক অধিকারের দাবিকে অবশ্যই স্বীকৃতি দিতে হবে। জানামতো মুক্তিকামী জনতা মৃত্যুঞ্জয়ী এবং নিজেদের জীবনের বিনিময়ে ন্যায্য অধিকার ছিনিয়ে আনে কালোত্তীর্ণ ইতিহাস রচনা করে।
লেখক : সহযোগী সম্পাদক, ঠিকানা, নিউইয়র্ক।
 
M M Shahin, Chairman Board of Editors, Thikana

Corporate Headquarter :

THIKANA : 7409 37th Ave suite 403

Jackson Heights, NY 11372

Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806



Bangladesh Bureau : THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath),
5th Floor, Dhaka- 1205, Bangladesh.
Mobile: 01711238078