হার্ট অ্যাটাকের ১২ বছর আগেই যেসব ইঙ্গিত দেখা দেয় শরীরে, উঠে এলো গবেষণায়

প্রকাশ : ২১ অগাস্ট ২০২৫, ১২:২১ , অনলাইন ভার্সন
হার্ট অ্যাটাক সাধারণত হঠাৎ ঘটে যাওয়া জরুরি পরিস্থিতি হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, এ রোগের শুরু হয় অনেক আগে থেকেই ধীরে ধীরে, নিঃশব্দে। নতুন এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি তৈরি হওয়ার প্রায় ১২ বছর আগেই শারীরিক কর্মক্ষমতা বা সক্রিয়তা (এক্সারসাইজ টলারেন্স) কমতে শুরু করে। আর চূড়ান্ত রোগ নির্ণয়ের দুই বছর আগে এ পতন দ্রুততর হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হঠাৎ ক্লান্তি বেড়ে যাওয়া, হাঁটাহাঁটি বা ব্যায়ামে অস্বাভাবিকভাবে শ্বাসকষ্ট হওয়া, দৈনন্দিন কাজে আগের মতো সহনশীলতা না থাকা এসবকেই শুধু বার্ধক্য ভেবে অবহেলা করা ঠিক নয়। এগুলো হার্টের আগাম সংকেত হতে পারে। যেমনটি বলছেন হায়দরাবাদের অ্যাপোলো হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সুধীর কুমার ‘শরীরের স্ট্যামিনা হঠাৎ কমে যাওয়া স্বাভাবিক বয়সজনিত নয়, বরং এটি হৃদ্‌রোগের পূর্বাভাস হতে পারে।’ 

গবেষণার ফলাফল: যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রকল্প  ‘ক্যারডিয়া’র তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন—যারা পরবর্তীতে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের শারীরিক কার্যকলাপ (যেমন দ্রুত হাঁটা, সাইক্লিং, সাঁতার) ১২ বছর আগেই কমতে শুরু করে। বিশেষ করে রোগ নির্ণয়ের আগের দুই বছরে এ পতন সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট হয়।

কেন শারীরিক কার্যকলাপ কমে যাওয়া বিপজ্জনক: নিয়মিত নড়াচড়া বা ব্যায়াম কমে গেলে শরীরে নানা পরিবর্তন ঘটে—
  • হৃদ্‌যন্ত্রের পাম্পিং ক্ষমতা কমে যায়।
  • রক্তনালীর ভেতরে চর্বি জমে অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস বাড়ে।
  • ওজন বৃদ্ধি, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও কোলেস্টেরল বেড়ে যায়।
  • শরীরে প্রদাহ ও হৃৎস্পন্দনের ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়।
  • এসব মিলিয়েই হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি দ্রুত বাড়তে থাকে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সবার শারীরিক কর্মক্ষমতা কমে। তবে নারী ও কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই লক্ষণ বেশি স্পষ্ট। বিশেষত কৃষ্ণাঙ্গ নারীরা তুলনামূলকভাবে কম সক্রিয় থাকেন, যা তাদের হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।

যেভাবে সতর্ক থাকবেন
  • সপ্তাহে কমপক্ষে ১৫০ মিনিট মাঝারি-তীব্র ব্যায়াম বা ৭৫ মিনিট তীব্র ব্যায়াম করুন।
  • শরীরচর্চা ছোট ছোট সেশন করে ধীরে ধীরে বাড়ান।
  • পছন্দসই ব্যায়াম বেছে নিন যেমন, হাঁটা, সাইক্লিং, সাঁতার বা নাচ।
  • দৈনন্দিন রুটিনে সক্রিয় থাকুন। আর সে কারণে সিঁড়ি ব্যবহার, হাঁটাহাঁটি বা অফিসে দাঁড়িয়ে কাজ করা।
  • অ্যাক্টিভিটি ট্র্যাক করতে লোগ বা অ্যাপ ব্যবহার করুন।

যদি কারো ফিজিক্যাল অ্যাকটিভিটি ধীরে ধীরে কমতে থাকে, তবে বেসিক হার্ট চেকআপ রক্তচাপ, বিএমআই, লিপিড, ফাস্টিং গ্লুকোজ করানো উচিত। পাশাপাশি জীবনধারা পরিবর্তন, ডায়েট, স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।

হার্টের সমস্যা একটি ধীর, নীরব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শুরু হয়। নিয়মিত শারীরিক ক্রিয়াশীলতা কমে যাওয়া প্রথম সতর্কতা হতে পারে। নিজের স্ট্যামিনা ও কার্যকলাপের ধারা মনিটর করলে, সময়মতো জীবনধারার পরিবর্তন এবং চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে বড় ধরনের হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করা সম্ভব। ছোট সতর্কতা এবং ধারাবাহিক মনিটরিংই দীর্ঘমেয়াদে হার্টের স্বাস্থ্য রক্ষার চাবিকাঠি। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া  

ঠিকানা/এএস 
M M Shahin, Chairman Board of Editors, Thikana

Corporate Headquarter :

THIKANA : 7409 37th Ave suite 403

Jackson Heights, NY 11372

Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806



Bangladesh Bureau : THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath),
5th Floor, Dhaka- 1205, Bangladesh.
Mobile: 01711238078