​সৌদির তেল পাইপলাইন বন্ধ, হুমকিতে বিশ্বের ৪% তেল সরবরাহ : রয়টার্স

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:১৬ , অনলাইন ভার্সন
সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ একটি তেল পাইপলাইন কয়েক দিনের মধ্যে সচল করা না গেলে দেশটির রফতানি তেলের মজুত ফুরিয়ে যেতে পারে। এতে বিশ্ববাজারে দৈনিক প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ।

সৌদি তেল ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, পাইপলাইনটি দ্রুত চালু করা 'না' গেলে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহের সংকট আরও তীব্র হতে পারে। এরই মধ্যে জ্বালানির দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে, বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বন্ডের সুদহার ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।

পাইপলাইনটি মেরামতে কত সময় লাগবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন ধারণা রয়েছে। একজন সূত্র জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতি মেরামতে পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। 

তবে অন্য আরেকজন সূত্রের দাবি, এর চেয়ে দ্রুত মেরামত শেষ করা সম্ভব এবং কাজ চলাকালীনও সীমিত পরিসরে পাইপলাইন দিয়ে তেল সরবরাহ চালু করা যেতে পারে।

এ বিষয়ে সৌদি সরকারের মিডিয়া অফিস ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

গত ছয় মাস ধরে, আরব উপদ্বীপের মরুভূমির মধ্য দিয়ে যাওয়া এই পাইপলাইনটি সৌদি আরবকে হরমুজ প্রণালির যুদ্ধকালীন অচলাবস্থার বড় ধরনের প্রভাব থেকে কিছুটা রক্ষা করেছে।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল রফতানিকারক সৌদি আরব হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে পাঠিয়েছে। এই পরিমাণ বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ।

কিন্তু পাইপলাইনটি এখন অচল হয়ে পড়ায় ইয়ানবু বন্দরে থাকা মজুত দিয়ে মাত্র পাঁচ থেকে সাত দিন তেল রফতানি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন সৌদি তেল রফতানি সম্পর্কে অবগত তিন শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।

এছাড়া সৌদি আরব মিশরের দুটি বন্দর: লোহিত সাগরের আইন সোখনা এবং ভূমধ্যসাগরের সিদি কেরির মজুত থেকেও কয়েক দিন গ্রাহকদের তেল সরবরাহ করতে পারবে বলে জানিয়েছেন আরেকটি সূত্র।

শিল্পসংশ্লিষ্টদের হিসাব অনুযায়ী, ইয়ানবু বন্দরের তেল সংরক্ষণ সক্ষমতা প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল। অন্যদিকে আইন সোখনা বন্দরে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ এবং সিদি কেরি বন্দরে প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল সংরক্ষণ করা যায়।

তবে এসব মজুত পুরোপুরি পূর্ণ নয়। ফলে পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনটি আবার চালু করা না গেলে শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের রপ্তানির জন্য রাখা তেলও ফুরিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চারটি সূত্র।

সৌদি আরবের তেল সরবরাহ এরই মধ্যে কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) শুক্রবার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগর দিয়ে তেল পরিবহন কমে যাওয়ায় আগস্টে সৌদির তেল সরবরাহ ৩০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

আইইএ'র পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর বিশ্বে দৈনিক তেল সরবরাহ প্রায় ৫৭ লাখ ব্যারেল কমতে পারে, যা মোট বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ৬ শতাংশ।

এদিকে, পাইপলাইনে হামলার পাশাপাশি লোহিত সাগরের মুখে সৌদি তেল পরিবহনের জন্য নতুন হুমকি তৈরি করেছে ইয়েমেনের হুতি যোদ্ধারাও। শুক্রবার তারা লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে একটি দ্বীপ দখল করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে সৌদি আরবের তেলবাহী জাহাজে হামলার হুমকিও দিয়েছে গোষ্ঠীটি।

ঠিকানা/এএস 
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]