পরাধীনতার লৌহশৃঙ্খল ছিন্ন করতে গিয়ে আধুনিক বিশ্ব-তিলোত্তমা যুক্তরাষ্ট্রের অগণিত বীর সন্তানকে বুকের তাজা রক্তের ঢল বইয়ে দিতে হয়েছে। পরিশেষে ১৭৭৬ সালের ২ জুলাই দ্য কন্টিনেন্টাল কংগ্রেস আমেরিকার স্বাধীনতার পক্ষে ভোট প্রদান ও ডিক্লারেশন অব ইন্ডিপেন্ডেন্স (স্বাধীনতার ঘোষণা) আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করে। পাশাপাশি ৪ জুলাই ডিক্লারেশন অব ইন্ডিপেন্ডেন্স কংগ্রেসে পাস হওয়ার মধ্য দিয়েই বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন-সার্বভৌম যুক্তরাষ্ট্র স্থান করে নেয়। সময়ের অগ্রযাত্রায় নিজস্ব মেধা-মনন-উদ্ভাবনী শক্তি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আমেরিকানরা সাড়ে ৩৪ কোটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত এবং সর্বমোট ৩৮ লাখ বর্গমাইল বা ৯৮ লাখ ৪১ হাজার ৪৫৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনবিশিষ্ট যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বসেরার গৌরবোজ্জ্বল মুকুট পরিয়ে দেয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অদ্বিতীয় পরাশক্তি এবং রীতিমতো সর্বেসর্বা। যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরে রয়েছে কানাডা, পূর্বে আটলান্টিক মহাসাগর, দক্ষিণে মেক্সিকো উপসাগর ও মেক্সিকো এবং পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগর। আকার-আয়তনের বিচারে সমগ্র বিশ্বে রাশিয়া, কানাডা ও চীনের পর চতুর্থ বৃহত্তম রাষ্ট্রের স্থান দখল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিচিত্র বর্ণ-ধর্ম-সংস্কৃতি-গাত্রবর্ণ-ভাষা-কৃষ্টি জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব অভিবাসীর আশ্রয়স্থল হিসেবেও স্বীকৃত। অবশ্য বিগত ২৫০ বছরে অভ্যন্তরীণ এবং বহির্বিশ্বের সশস্ত্র হামলায় অনেক দেশপ্রেমিক আমেরিকানকে আত্মাহুতি দিতে হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং পার্ল হারবার হামলার পরবর্তী ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের বিষাদময় হামলার দগদগে ক্ষত আমেরিকানদের মনের গভীরে অদ্যাবধি রাবণের চিতাসম অশান্তির অনল দাউদাউ করে প্রজ্জ্বলিত করে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের ঐশ্বর্যশালী ওসামা বিন লাদেন ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের অনুগ্রহধন্য ব্যক্তি। কথায় বলে, আমেরিকা যার মিত্র, তার অন্য শত্রুর প্রয়োজন হয় না। ইসলামের মৌলিক আদর্শচ্যুত ওসামা বিন লাদেনের ক্ষেত্রেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। নিজের স্বার্থ হাসিলের পর যুক্তরাষ্ট্র লাদেনকে উচ্ছিষ্টের মতো ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলে দিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের আচরণে ক্ষুব্ধ লাদেন প্রতিশোধ গ্রহণে অন্ধ হয়ে ওঠেন এবং রাশি রাশি অর্থ ব্যয়ে কিছুসংখ্যক বিপথগামী ও অনটনক্লিষ্ট জনগোষ্ঠীকে নিয়ে আল-কায়েদা বাহিনী গঠন করেছিলেন। ওই বাহিনীর সদস্যদের উন্নতমানের সামরিক প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহের পেছনে ওসামা বিন লাদেন টাকার শ্রাদ্ধ করেছিলেন বলেও পত্রিকান্তরে প্রকাশ। অবশেষে লাদেনের সরাসরি নির্দেশে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৯টায় আল-কায়েদার ১৯ জন সদস্য ছিনতাইকৃত চারটি বাণিজ্যিক বিমানযোগে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারসহ যুক্তরাষ্ট্রের অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছিল। আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ২০ হাজার গ্যালন জেট জ্বালানি ভর্তি ছিনতাইকৃত একটি বোয়িং ৭৬৭ যোগে ছিনতাইকারীরা প্রথমেই বিশ্ব রাজধানী হিসেবে অভিহিত নিউইয়র্ক সিটির ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উত্তর টাওয়ারে সজোরে আঘাত হানল। ১১০ তলাবিশিষ্ট আকাশচুম্বী ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ৮০তম তলায় আঘাত হানার মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যেই টাওয়ারটি পুড়ে ছারখার হয়ে গেল এবং চোখের নিমেষে কয়েক শ মানুষ অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর শিকার হলো। প্রথম বিমানটি আঘাত হানার ১৮ মিনিট পর ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৬৭ ফ্লাইট ১৭৫ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার অভিমুখে ঝটিকা বেগে ছুটে এল এবং ৬০তম ফ্লোরের নিকটবর্তী সাউথ টাওয়ারে সজোরে আঘাত হানল। সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ নর্থ ভবনটিও ধূলিসাৎ হয়ে গেল।
এই অবিশ্বাস্য ও অমানবিক হামলায় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে অবস্থানরতদের মধ্যে মাত্র ১৮ জন প্রাণে বেঁচেছিলেন বলে পরে জানা যায়। হামলার সঙ্গে সঙ্গেই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার এবং এর আশপাশ কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায় এবং আহতদের আর্ত আহাজারিতে চারপাশের আকাশ-বাতাস ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। জীবনঝুঁকি নিয়ে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগ এবং অগ্নিনির্বাপক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উদ্ধারকাজে মরিয়া হয়ে ওঠেন। পরে জানা যায়, নর্থ টাওয়ারের স্টেয়ারওয়েল বি-তে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত পুলিশ এবং অগ্নিনির্বাপক কর্মকর্তা প্রাণ হারিয়েছিলেন এবং বহু লোক আহত হয়েছিলেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ওই বর্বরোচিত হামলায় আল-কায়েদার ১৯ জন আত্মঘাতী ছিনতাইকারীসহ নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি এবং পেনসিলভানিয়ায় বাংলাদেশি-আমেরিকানসহ ৭৮ দেশের সর্বমোট ২ হাজার ৯৯৬ ব্যক্তির প্রাণপ্রদীপ চিরতরে নির্বাপিত হয়েছিল। টুইন টাওয়ারে বোয়িং দুটি আঘাত হানার পর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ভবলীলা সাঙ্গ হয়েছিল ২ হাজার ৭৩৩ জনের। এর মধ্যে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত অগ্নিনির্বাপক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্যারামেডিকস ছিলেন ৩৪৩ জন, সিটি পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ছিলেন ২৩ জন এবং পোর্ট অথরিটির পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন ৩৭ জন। ১১০ তলাবিশিষ্ট ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ধূলিসাৎ হওয়ায় লোয়ার ম্যানহাটনের বিস্তীর্ণ এলাকা ছাই-ভস্ম ও ধ্বংসাবশেষে ঢাকা পড়েছিল, জনদুর্ভোগ তুঙ্গে উঠেছিল এবং পরিবেশের ভারসাম্য চরমভাবে ব্যাহত হয়েছিল। শ্বাসরুদ্ধকর আবহাওয়ার কারণে হাজার হাজার লোক শ্বাসকষ্টসহ নানাবিধ উপসর্গে স্বল্প-মধ্যম ও দীর্ঘ মেয়াদে ভুগেছিলেন এবং কমপক্ষে ১০ সহস্রাধিক আহত ও অসুস্থ লোককে সরকারিভাবে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছিল। আবার অনেক লোক ক্যানসারসহ নানাবিধ জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে অদ্যাবধি মরণযন্ত্রণায় ছটফট করছেন। এককথায়, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলার ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সিটিকে রীতিমতো গলদঘর্ম হতে হয়েছিল।
পেন্টাগনে ধ্বংসাত্মক হামলা : আমেরিকান এয়ারলাইন্স ফ্লাইট ৭৭ বিমানটি ওয়াশিংটন ডিসির সামান্য দূরবর্তী ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনস্থ পেন্টাগন সামরিক সদর দপ্তরের পশ্চিম পাশে সকাল পৌনে নয়টায় আঘাত হানার পূর্বে বেশ কয়েকবার চক্কর দিয়েছিল। বোয়িংয়ের জ্বালানির দরুন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ভবনে আগুন ধরে গেল এবং ভবনটি ছাইভস্মে পরিণত হলো। অধিকন্তু সামরিক বাহিনীর ১২৫ সদস্য ও বেসামরিক জনগণ এবং আমেরিকান এয়ারলাইন্স ফ্লাইট ৭৭ এর ৬৪ জন আরোহী সবারই ভবলীলা সাঙ্গ হলো। নিউজার্সির নিউআর্ক লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার অভিমুখে ছেড়ে যাওয়া ইউনাইটেড ফ্লাইট ৯৩-কে নামক চতুর্থ বিমানটি উড্ডয়নের ৪০ মিনিট পর ছিনতাইকারীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
এদিকে উড্ডয়নে বিলম্ব হওয়ায় বিমানের আরোহীরা সেলফোন এবং এয়ারফোনের মাধ্যমে নিউইয়র্ক এবং ওয়াশিংটনে হামলার খবর জানতে পেরেছিলেন। চারজন ছিনতাইকারীর দাবি অনুসারে, বিমানটি নির্দিষ্ট বিমানবন্দরে যাওয়ার আদেশ প্রত্যাখ্যান করার খবরটি ইতোমধ্যে চাউর হয়ে পড়া বিমানের যাত্রী ও ক্রুগণ সম্মিলিতভাবে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। অন্যদিকে বিমানের পাইলট ঘণ্টায় ৫০০ মাইল বেগে বিমানটিকে চালিয়ে দ্রুত অবতরণের চেষ্টা করেন। ফলে সকাল ১০টা ১০ মিনিটে বিমানটি ওয়েস্টার্ন পেনসিলভানিয়ার সানকসভিলের নিকট একটি গ্রামীণ মাঠে ভূপতিত হয় এবং ফ্লাইট ৯৩ এর ৪৪ জন আরোহীর জীবনলীলার অবসান ঘটে।
অনেকের বিশ্বাস, হোয়াইট হাউস, আমেরিকার রাজধানী কিংবা ম্যারিল্যান্ডে ক্যাম্প ডেভিড প্রেসিডেনশিয়াল আবাসে হামলার নিমিত্তে বিমানটি ছিনতাই করা হয়েছিল। টেলিভিশনের মাধ্যমে বিশ্বের আনাচ-কানাচে এই বর্বরোচিত হামলার সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছিল।
লোকচক্ষুর অন্তরালের তথ্যাবলি : হামলাকারীদের কয়েকজন এক বছর বা তার আগ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করে আসছিল এবং আমেরিকান কমার্শিয়াল ফ্লাইট স্কুল থেকে ফ্লাইং বা বিমান চালনার শিক্ষণ গ্রহণ করেছিল। আর অবশিষ্টরা ১১ সেপ্টেম্বরের আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিল এবং হামলায় পেশিশক্তি হিসেবে কাজ করেছিল। পূর্ব উপকূলীয় বস্টনের লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, ওয়াশিংটন ডিসির ডুলেস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট এবং নিউজার্সির নিউআর্ক ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের সিকিউরিটি কর্মকর্তাদের ফাঁকি দিয়ে ১৯ জন হামলাকারী সন্ত্রাসী বক্স-কাটার ও ছোরা নিয়ে পুরোপুরি জ্বালানিভর্তি ক্যালিফোর্নিয়া অভিমুখী বিমানে আরোহণ করল। উড্ডয়নের অব্যবহিত পরপরই সন্ত্রাসীরা বিমানটি একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় এবং সাধারণ যাত্রীবাহী চারটি বিমানকে গাইডেড মিসাইলে পরিণত করে।
তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বুশের পদক্ষেপ : হামলার মুহূর্তে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ফ্লোরিডায় অবস্থান করছিলেন এবং নিরাপত্তার কারণে দিনভর সারা দেশ ঘুরে অবশেষে সন্ধ্যা সাতটায় হোয়াইট হাউসে আগমন করেন। অতঃপর রাত নয়টায় ওভাল অফিস থেকে জাতির উদ্দেশে টেলিভিশনযোগে জ্বালাময়ী বক্তব্য দেন। ওই ভাষণে প্রতিশোধ গ্রহণে কৃতসংকল্প প্রেসিডেন্ট বুশ তাৎক্ষণিকভাবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট গঠন এবং আফগানিস্তান ও ইরাকে সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা ও সন্ত্রাস নির্মূলের ধনুর্ভাঙা পণ গ্রহণ করেন। প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের পটভূমিকায় আফগানিস্তান থেকে তালেবান শাসনের অবসান এবং ওসামা বিন লাদেনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মূলোচ্ছেদের খাতিরে অপারেশন এনডিউরিং ফ্রিডমের আওতায় ৭ অক্টোবর অভিযান শুরু করা হয়। পাশাপাশি সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধেও সামরিক অভিযান শুরু করা হয়। সেই দুর্ধর্ষ অভিযানের মুখে দুই মাসের মধ্যে আফগানিস্তানে মোল্লা ওমরের সরকারের পতন ঘটলেও কার্যত তালেবানদের বিরুদ্ধে কোয়ালিশন বাহিনীর হামলা অব্যাহত থাকে।
এদিকে সাদ্দামের সুশিক্ষিত সেনাবাহিনী গোড়ার দিকে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত অনুগত ও পদস্থ সেনা কর্মকর্তাদের অনেকেই মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে সাদ্দামের পক্ষ ত্যাগ করেন। প্রাণপণ যুদ্ধ-বিগ্রহের পর সাদ্দাম আটক হন এবং আমেরিকার আশীর্বাদপুষ্ট ইরাক সরকার সাদ্দামকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলিয়ে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে। এদিকে ২০০৭ সালে প্রেসিডেন্ট বুশ সদম্ভে ইরাক যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। তিনি ইরাক ও আফগান যুদ্ধে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জিত হয়েছে বলে দাবি করেন। মূলত বুশের ওই ঘোষণা ছিল নেহাত আইওয়াশ এবং বিশ্ববাসীকে ধোঁকা দেওয়ার নামান্তর। প্রকৃত প্রস্তাবে মোল্লা ওমর এবং সাদ্দাম সরকারের পতন ঘটলেও ইরাকে চোরাগোপ্তা হামলা এবং ভ্রাতৃঘাতী সংঘর্ষ অব্যাহত ছিল ২০১৬ সাল নাগাদ। অধিকন্তু অশান্ত ইরাকের মরুপ্রান্তর এখনো মুসলমানদের তাজা রক্তে প্রতিনিয়ত রঞ্জিত হচ্ছে। আর দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে বর্তমানে তালেবান সম্প্রদায় আফগানিস্তানের মসনদ দখল করেছে।
২০১১ সালের ২ মে পর্যন্ত ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা কিংবা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে ২ মে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদের একটি গোপন আস্তানায় অভিযান চালিয়ে আমেরিকান বাহিনী লাদেনকে হত্যা করে। অবশেষে ২০১১ সালের জুন মাসে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আফগানিস্তান থেকে বিপুলসংখ্যক সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন এবং ২০২১ সালের আগস্টে আমেরিকার সকল সৈন্য আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ত্যাগ করে।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরসহ বিভিন্ন সশস্ত্র হামলায় নিহতদের আত্মার চিরপ্রশান্তি ও আহতদের আরোগ্য কামনা এবং তাদের স্বজনদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করছি।
লেখক : সাবেক প্রধান শিক্ষক, গ্রন্থকার ও সহযোগী সম্পাদক, নিউইয়র্ক।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের ঐশ্বর্যশালী ওসামা বিন লাদেন ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের অনুগ্রহধন্য ব্যক্তি। কথায় বলে, আমেরিকা যার মিত্র, তার অন্য শত্রুর প্রয়োজন হয় না। ইসলামের মৌলিক আদর্শচ্যুত ওসামা বিন লাদেনের ক্ষেত্রেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। নিজের স্বার্থ হাসিলের পর যুক্তরাষ্ট্র লাদেনকে উচ্ছিষ্টের মতো ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলে দিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের আচরণে ক্ষুব্ধ লাদেন প্রতিশোধ গ্রহণে অন্ধ হয়ে ওঠেন এবং রাশি রাশি অর্থ ব্যয়ে কিছুসংখ্যক বিপথগামী ও অনটনক্লিষ্ট জনগোষ্ঠীকে নিয়ে আল-কায়েদা বাহিনী গঠন করেছিলেন। ওই বাহিনীর সদস্যদের উন্নতমানের সামরিক প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহের পেছনে ওসামা বিন লাদেন টাকার শ্রাদ্ধ করেছিলেন বলেও পত্রিকান্তরে প্রকাশ। অবশেষে লাদেনের সরাসরি নির্দেশে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৯টায় আল-কায়েদার ১৯ জন সদস্য ছিনতাইকৃত চারটি বাণিজ্যিক বিমানযোগে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারসহ যুক্তরাষ্ট্রের অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছিল। আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ২০ হাজার গ্যালন জেট জ্বালানি ভর্তি ছিনতাইকৃত একটি বোয়িং ৭৬৭ যোগে ছিনতাইকারীরা প্রথমেই বিশ্ব রাজধানী হিসেবে অভিহিত নিউইয়র্ক সিটির ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উত্তর টাওয়ারে সজোরে আঘাত হানল। ১১০ তলাবিশিষ্ট আকাশচুম্বী ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ৮০তম তলায় আঘাত হানার মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যেই টাওয়ারটি পুড়ে ছারখার হয়ে গেল এবং চোখের নিমেষে কয়েক শ মানুষ অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর শিকার হলো। প্রথম বিমানটি আঘাত হানার ১৮ মিনিট পর ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৬৭ ফ্লাইট ১৭৫ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার অভিমুখে ঝটিকা বেগে ছুটে এল এবং ৬০তম ফ্লোরের নিকটবর্তী সাউথ টাওয়ারে সজোরে আঘাত হানল। সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ নর্থ ভবনটিও ধূলিসাৎ হয়ে গেল।
এই অবিশ্বাস্য ও অমানবিক হামলায় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে অবস্থানরতদের মধ্যে মাত্র ১৮ জন প্রাণে বেঁচেছিলেন বলে পরে জানা যায়। হামলার সঙ্গে সঙ্গেই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার এবং এর আশপাশ কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায় এবং আহতদের আর্ত আহাজারিতে চারপাশের আকাশ-বাতাস ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। জীবনঝুঁকি নিয়ে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগ এবং অগ্নিনির্বাপক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উদ্ধারকাজে মরিয়া হয়ে ওঠেন। পরে জানা যায়, নর্থ টাওয়ারের স্টেয়ারওয়েল বি-তে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত পুলিশ এবং অগ্নিনির্বাপক কর্মকর্তা প্রাণ হারিয়েছিলেন এবং বহু লোক আহত হয়েছিলেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ওই বর্বরোচিত হামলায় আল-কায়েদার ১৯ জন আত্মঘাতী ছিনতাইকারীসহ নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি এবং পেনসিলভানিয়ায় বাংলাদেশি-আমেরিকানসহ ৭৮ দেশের সর্বমোট ২ হাজার ৯৯৬ ব্যক্তির প্রাণপ্রদীপ চিরতরে নির্বাপিত হয়েছিল। টুইন টাওয়ারে বোয়িং দুটি আঘাত হানার পর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ভবলীলা সাঙ্গ হয়েছিল ২ হাজার ৭৩৩ জনের। এর মধ্যে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত অগ্নিনির্বাপক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্যারামেডিকস ছিলেন ৩৪৩ জন, সিটি পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ছিলেন ২৩ জন এবং পোর্ট অথরিটির পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন ৩৭ জন। ১১০ তলাবিশিষ্ট ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ধূলিসাৎ হওয়ায় লোয়ার ম্যানহাটনের বিস্তীর্ণ এলাকা ছাই-ভস্ম ও ধ্বংসাবশেষে ঢাকা পড়েছিল, জনদুর্ভোগ তুঙ্গে উঠেছিল এবং পরিবেশের ভারসাম্য চরমভাবে ব্যাহত হয়েছিল। শ্বাসরুদ্ধকর আবহাওয়ার কারণে হাজার হাজার লোক শ্বাসকষ্টসহ নানাবিধ উপসর্গে স্বল্প-মধ্যম ও দীর্ঘ মেয়াদে ভুগেছিলেন এবং কমপক্ষে ১০ সহস্রাধিক আহত ও অসুস্থ লোককে সরকারিভাবে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছিল। আবার অনেক লোক ক্যানসারসহ নানাবিধ জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে অদ্যাবধি মরণযন্ত্রণায় ছটফট করছেন। এককথায়, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলার ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সিটিকে রীতিমতো গলদঘর্ম হতে হয়েছিল।
পেন্টাগনে ধ্বংসাত্মক হামলা : আমেরিকান এয়ারলাইন্স ফ্লাইট ৭৭ বিমানটি ওয়াশিংটন ডিসির সামান্য দূরবর্তী ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনস্থ পেন্টাগন সামরিক সদর দপ্তরের পশ্চিম পাশে সকাল পৌনে নয়টায় আঘাত হানার পূর্বে বেশ কয়েকবার চক্কর দিয়েছিল। বোয়িংয়ের জ্বালানির দরুন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ভবনে আগুন ধরে গেল এবং ভবনটি ছাইভস্মে পরিণত হলো। অধিকন্তু সামরিক বাহিনীর ১২৫ সদস্য ও বেসামরিক জনগণ এবং আমেরিকান এয়ারলাইন্স ফ্লাইট ৭৭ এর ৬৪ জন আরোহী সবারই ভবলীলা সাঙ্গ হলো। নিউজার্সির নিউআর্ক লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার অভিমুখে ছেড়ে যাওয়া ইউনাইটেড ফ্লাইট ৯৩-কে নামক চতুর্থ বিমানটি উড্ডয়নের ৪০ মিনিট পর ছিনতাইকারীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
এদিকে উড্ডয়নে বিলম্ব হওয়ায় বিমানের আরোহীরা সেলফোন এবং এয়ারফোনের মাধ্যমে নিউইয়র্ক এবং ওয়াশিংটনে হামলার খবর জানতে পেরেছিলেন। চারজন ছিনতাইকারীর দাবি অনুসারে, বিমানটি নির্দিষ্ট বিমানবন্দরে যাওয়ার আদেশ প্রত্যাখ্যান করার খবরটি ইতোমধ্যে চাউর হয়ে পড়া বিমানের যাত্রী ও ক্রুগণ সম্মিলিতভাবে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। অন্যদিকে বিমানের পাইলট ঘণ্টায় ৫০০ মাইল বেগে বিমানটিকে চালিয়ে দ্রুত অবতরণের চেষ্টা করেন। ফলে সকাল ১০টা ১০ মিনিটে বিমানটি ওয়েস্টার্ন পেনসিলভানিয়ার সানকসভিলের নিকট একটি গ্রামীণ মাঠে ভূপতিত হয় এবং ফ্লাইট ৯৩ এর ৪৪ জন আরোহীর জীবনলীলার অবসান ঘটে।
অনেকের বিশ্বাস, হোয়াইট হাউস, আমেরিকার রাজধানী কিংবা ম্যারিল্যান্ডে ক্যাম্প ডেভিড প্রেসিডেনশিয়াল আবাসে হামলার নিমিত্তে বিমানটি ছিনতাই করা হয়েছিল। টেলিভিশনের মাধ্যমে বিশ্বের আনাচ-কানাচে এই বর্বরোচিত হামলার সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছিল।
লোকচক্ষুর অন্তরালের তথ্যাবলি : হামলাকারীদের কয়েকজন এক বছর বা তার আগ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করে আসছিল এবং আমেরিকান কমার্শিয়াল ফ্লাইট স্কুল থেকে ফ্লাইং বা বিমান চালনার শিক্ষণ গ্রহণ করেছিল। আর অবশিষ্টরা ১১ সেপ্টেম্বরের আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিল এবং হামলায় পেশিশক্তি হিসেবে কাজ করেছিল। পূর্ব উপকূলীয় বস্টনের লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, ওয়াশিংটন ডিসির ডুলেস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট এবং নিউজার্সির নিউআর্ক ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের সিকিউরিটি কর্মকর্তাদের ফাঁকি দিয়ে ১৯ জন হামলাকারী সন্ত্রাসী বক্স-কাটার ও ছোরা নিয়ে পুরোপুরি জ্বালানিভর্তি ক্যালিফোর্নিয়া অভিমুখী বিমানে আরোহণ করল। উড্ডয়নের অব্যবহিত পরপরই সন্ত্রাসীরা বিমানটি একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় এবং সাধারণ যাত্রীবাহী চারটি বিমানকে গাইডেড মিসাইলে পরিণত করে।
তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বুশের পদক্ষেপ : হামলার মুহূর্তে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ফ্লোরিডায় অবস্থান করছিলেন এবং নিরাপত্তার কারণে দিনভর সারা দেশ ঘুরে অবশেষে সন্ধ্যা সাতটায় হোয়াইট হাউসে আগমন করেন। অতঃপর রাত নয়টায় ওভাল অফিস থেকে জাতির উদ্দেশে টেলিভিশনযোগে জ্বালাময়ী বক্তব্য দেন। ওই ভাষণে প্রতিশোধ গ্রহণে কৃতসংকল্প প্রেসিডেন্ট বুশ তাৎক্ষণিকভাবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট গঠন এবং আফগানিস্তান ও ইরাকে সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা ও সন্ত্রাস নির্মূলের ধনুর্ভাঙা পণ গ্রহণ করেন। প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের পটভূমিকায় আফগানিস্তান থেকে তালেবান শাসনের অবসান এবং ওসামা বিন লাদেনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মূলোচ্ছেদের খাতিরে অপারেশন এনডিউরিং ফ্রিডমের আওতায় ৭ অক্টোবর অভিযান শুরু করা হয়। পাশাপাশি সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধেও সামরিক অভিযান শুরু করা হয়। সেই দুর্ধর্ষ অভিযানের মুখে দুই মাসের মধ্যে আফগানিস্তানে মোল্লা ওমরের সরকারের পতন ঘটলেও কার্যত তালেবানদের বিরুদ্ধে কোয়ালিশন বাহিনীর হামলা অব্যাহত থাকে।
এদিকে সাদ্দামের সুশিক্ষিত সেনাবাহিনী গোড়ার দিকে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত অনুগত ও পদস্থ সেনা কর্মকর্তাদের অনেকেই মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে সাদ্দামের পক্ষ ত্যাগ করেন। প্রাণপণ যুদ্ধ-বিগ্রহের পর সাদ্দাম আটক হন এবং আমেরিকার আশীর্বাদপুষ্ট ইরাক সরকার সাদ্দামকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলিয়ে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে। এদিকে ২০০৭ সালে প্রেসিডেন্ট বুশ সদম্ভে ইরাক যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। তিনি ইরাক ও আফগান যুদ্ধে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জিত হয়েছে বলে দাবি করেন। মূলত বুশের ওই ঘোষণা ছিল নেহাত আইওয়াশ এবং বিশ্ববাসীকে ধোঁকা দেওয়ার নামান্তর। প্রকৃত প্রস্তাবে মোল্লা ওমর এবং সাদ্দাম সরকারের পতন ঘটলেও ইরাকে চোরাগোপ্তা হামলা এবং ভ্রাতৃঘাতী সংঘর্ষ অব্যাহত ছিল ২০১৬ সাল নাগাদ। অধিকন্তু অশান্ত ইরাকের মরুপ্রান্তর এখনো মুসলমানদের তাজা রক্তে প্রতিনিয়ত রঞ্জিত হচ্ছে। আর দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে বর্তমানে তালেবান সম্প্রদায় আফগানিস্তানের মসনদ দখল করেছে।
২০১১ সালের ২ মে পর্যন্ত ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা কিংবা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে ২ মে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদের একটি গোপন আস্তানায় অভিযান চালিয়ে আমেরিকান বাহিনী লাদেনকে হত্যা করে। অবশেষে ২০১১ সালের জুন মাসে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আফগানিস্তান থেকে বিপুলসংখ্যক সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন এবং ২০২১ সালের আগস্টে আমেরিকার সকল সৈন্য আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ত্যাগ করে।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরসহ বিভিন্ন সশস্ত্র হামলায় নিহতদের আত্মার চিরপ্রশান্তি ও আহতদের আরোগ্য কামনা এবং তাদের স্বজনদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করছি।
লেখক : সাবেক প্রধান শিক্ষক, গ্রন্থকার ও সহযোগী সম্পাদক, নিউইয়র্ক।