মা-হাসিনার জন্মমাসে পুত্র জয়ের নতুন চমক। ২৮ সেপ্টেম্বর-এর আগমনে ইতালির ভেনিসে রঙিন চিয়ার্স। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নিয়ে প্রবাস সম্মিলনী। কার্যত দলটি দেশে নিষিদ্ধ, তবে প্রবাসে সক্রিয়। সচেতন মহল বলছে— ‘আওয়ামী লীগ এখন প্রবাসলীগ’। রাজনীতিতে নতুন অভিষেক ঘটালেন হাসিনাপুত্র জয়। শরীরে স্যুটেড-বুটেড পোশাকের অতিসাজ নেই। সাধারণ হাওয়াই সার্ট, মাথায় ক্যাপ, ফ্রেঞ্চকাট দাড়ি। নতুন লুকে জয় নামলেন মাঠে। সেই মাঠ, মানে আওয়ামী রাজনীতির নব-অভিযাত্রা। এই যাত্রাধ্বনির ভেতর লুকিয়ে আছে মাতৃপ্রত্যাশা। ৭১ বছর বয়সী আওয়ামী লীগে বংশীয় চারারোপন। দাদু ‘মুজিব-বৃক্ষভূমে’ হাসিনাপুত্র ‘জয়-বৃক্ষ’-এর রোপন। হাসিনাবাদী আওয়ামী লীগাররা তেমনটিই প্রত্যাশা করছেন।
‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ ঠেকাতে হাসিনার শেষ চেষ্টা
শেখ সেলিম তথা বঙ্গবন্ধু পরিবারেই নেতৃত্বের আভাষ
‘দ্য ওয়াল’ নামের ভারতীর মিডিয়া সরব। নির্বাহী সম্পাদক অমল রায় অডিও সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। শেখ হাসিনা বলেছেন— বাংলাদেশ আমার দেশ। আমার বাবা বঙ্গবন্ধু এটি স্বাধীন করেছে। আমি আমার দেশে যেভাবে হোক ফিরবোই। তারেক রহমান ১৬-১৭ বছর বৃটেনে ছিলো। সেখানে বসে সমানে রাজনীতি করেছে। ২০২৪-এর জুলাই-এ সরকার উৎখাতের ঘোষণা দিয়েছে। কই, বৃটেন সরকারের কাছে তো অভিযোগ দেইনি। কিন্তু তারেক সরকার ভারত সরকারকে নোটিশ পাঠাচ্ছে। আমাকে বন্দি বিনিময় চুক্তির অধীনে প্রত্যাপর্ণ করতে চায়। কিন্তু ভুলে যায় আমি বঙ্গবন্ধু কন্যা। আমি নিজে থেকেই বাংলাদেশে ফিরতে চাই। কোন পাসপোর্ট, ট্রাভেল ডকুমেন্ট লাগবে না। প্রয়োজনে পায়ে হেঁটে সীমান্ত পাড়ি দেবো। যশোর-বেনাপোল হয়ে গোপালগঞ্জ-টুঙ্গিপাড়া যাবো। বাবার গড়া ঐতিহাসিক দল আওয়ামী লীগকে আবার ঐশ্বর্যময় করবো।
সচেতন মহল বুঝেছে, শেখ হাসিনার অবসর নেই। নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু পরিবারের বিকল্পও হবে না। রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকেও থামিয়ে দিয়েছেন। হঠাৎ করেই বলেছেন দলের গঠনতন্ত্রের কথা। বলেছেন সভাপতির পর আছেন প্রেসিডিয়াম সদস্যবৃন্দ। কোন কারণে সভাপতি অনুপস্থিত থাকলে ওনারা আছেন। সিনিয়রিটির ভিত্তিতে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হবেন। কিন্তু বাংলাদেশে দলের সিনিয়র নেতারা কারাগারে। মতিয়া চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ, রমেশ’দা মারা গেলেন। কেউ দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে এলেই গ্রেফতার হচ্ছেন। প্রেসিডিয়ামের সিনিয়র নেতা শেখ সেলিম আছেন। কিন্তু তিনিও রাজনৈতিক রোষানলে এখন পলাতক।
শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যে শেখ সেলিমের নাম ভাইরাল। অনেকের ধারণা, তিনিই হচ্ছেন আগামী সভাপতি। ওনার জীবনী নতুন করে পর্যালোচনায় এসেছে। ব্যক্তিগতভাবে শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই।
যুবলীগ প্রতিষ্ঠাতা শেখ মণির কনিষ্ঠ সহোদর। পচাঁত্তর-পরবর্তী দৈনিক বাংলার বাণী’র সাম্পাদক। হাসিনা সরকারের সাবেক মন্ত্রীও।
বিএনপি সরকারের সঙ্গে রয়েছে আত্মীয়তার বন্ধন। বিদ্যুৎ, জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান টুকুর আপন বেয়াই। তথ্যমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। বা শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের নিকটাত্মীয়। অনেকের ধারণা শেখ সেলিম ভালো অবস্থানে আছেন। আওয়ামী লীগের পক্ষে বিএনপি সরকারে প্রভাব রাখতে পারবেন। সব জেনে-বুঝেই শেখ হাসিনা শেখ সেলিমের নাম নিয়েছেন।
তবে কার্যত তেমন কোন দায়িত্ব দেয়া হয়নি। তবে দলের নেতৃত্ব বঙ্গবন্ধু পরিবারে রাখার আভাষ দিয়েছেন। ফলে ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগে’র প্রত্যাশীরা হতাশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেখ সেলিম-বিরোধী মন্তব্যে মুখর। পরোক্ষভাবে যারা শেখ হাসিনার নেতৃত্বেরও সমালোচনা করছেন।
আ.লীগের নতুন প্রকল্প : মুজিব টু সজীব
ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে নানা জল্পনা। ভারত বলছে, নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতি ছাড়া বাংলাদেশে প্রেরণ সম্ভব নয়। বরং শেখ হাসিনার উচিত জাতিসংঘ মোকাবিলা করা। কারণ ১৪০০ হত্যার দাবিটি জাতিসংঘ তুলেছে।
সূত্র মতে, ভারত চেয়েছিলো শেখ হাসিনা জাতিসংঘমুখী হোন। সন্তান জয় এখন মার্কিন নাগরিক। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের চেয়ে আমেরিকায় ঢোকা সহজতর।
পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলাদেশে আওয়ামী রাজনীতির মৃত্যু হয়নি। আইনগতভাবে কার্যক্রম সাময়িক নিষিদ্ধ হয়েছে। রাজনীতিকে টিকিয়ে রাখার জন্য ডিসেম্বরে প্রত্যাবর্তন কর্মসূচি। নেত্রী ফিরতে পারুক আর না পারুক। দলের হারিয়ে যাওয়া মনোবল অনেকটাই ফিরছে। সেই সাথে মনোবল ফেরানো হচ্ছে সন্তান জয়ের ইমেজ।
একটি মিডিয়া বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। স্বদেশে ও প্রবাসে জয়-এর শিক্ষাগত যোগ্যতার বিবরণ মেলে ধরছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে করা হচ্ছে তুলনা। আইসিটি বিশেষজ্ঞ হিসেবে হাসিনা সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। সেখানেও দেখানো হচ্ছে জয়ের সাফল্যচিত্র। বলা হচ্ছে দেশ ও দলের জন্য তিনি নিবেদিতপ্রাণ। জয় বিষয়ক মিডিয়া প্রকল্পের নামটিও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। যেমন ‘মুজিব টু সজীব’। অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব দিয়ে শুরু। অতঃপর ‘সজীব ওয়াজেদ জয়’-এ আপাতত সমাপনী। সে লক্ষ্যেই হাসিনাবাদী আওয়ামী লীগ চালাচ্ছে নেপথ্য প্রচেষ্টা।
ইতালির ভেনিস দিয়ে জয়ের জয়যাত্রা। কিন্তু শুরুতেই বুমেরাং হয়েছে কার্যক্রম। সভ্য দেশে অসভ্যতা দেখিয়েছে প্রবাস ছাত্রলীগ। অভিনেত্রী আজমেরী জামান বাঁধনকে ‘মব’ করেছে। মবকারীরা সকলে সফররত জয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। বিকেলে জুলাইযোদ্ধা বাঁধন’কে ‘মব’ উপহার দিয়েছে। বিষয়টি স্বদেশ প্রবাস-বিদেশে আলোড়ন তুলেছে। ফলে মন্তব্য এসেছে— একি ঘটনা। ইতালিতে জয়ের অর্জন, ‘বাঁধন-মবে’ তা বিসর্জন!
‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ ঠেকাতে হাসিনার শেষ চেষ্টা
শেখ সেলিম তথা বঙ্গবন্ধু পরিবারেই নেতৃত্বের আভাষ
‘দ্য ওয়াল’ নামের ভারতীর মিডিয়া সরব। নির্বাহী সম্পাদক অমল রায় অডিও সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। শেখ হাসিনা বলেছেন— বাংলাদেশ আমার দেশ। আমার বাবা বঙ্গবন্ধু এটি স্বাধীন করেছে। আমি আমার দেশে যেভাবে হোক ফিরবোই। তারেক রহমান ১৬-১৭ বছর বৃটেনে ছিলো। সেখানে বসে সমানে রাজনীতি করেছে। ২০২৪-এর জুলাই-এ সরকার উৎখাতের ঘোষণা দিয়েছে। কই, বৃটেন সরকারের কাছে তো অভিযোগ দেইনি। কিন্তু তারেক সরকার ভারত সরকারকে নোটিশ পাঠাচ্ছে। আমাকে বন্দি বিনিময় চুক্তির অধীনে প্রত্যাপর্ণ করতে চায়। কিন্তু ভুলে যায় আমি বঙ্গবন্ধু কন্যা। আমি নিজে থেকেই বাংলাদেশে ফিরতে চাই। কোন পাসপোর্ট, ট্রাভেল ডকুমেন্ট লাগবে না। প্রয়োজনে পায়ে হেঁটে সীমান্ত পাড়ি দেবো। যশোর-বেনাপোল হয়ে গোপালগঞ্জ-টুঙ্গিপাড়া যাবো। বাবার গড়া ঐতিহাসিক দল আওয়ামী লীগকে আবার ঐশ্বর্যময় করবো।
সচেতন মহল বুঝেছে, শেখ হাসিনার অবসর নেই। নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু পরিবারের বিকল্পও হবে না। রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকেও থামিয়ে দিয়েছেন। হঠাৎ করেই বলেছেন দলের গঠনতন্ত্রের কথা। বলেছেন সভাপতির পর আছেন প্রেসিডিয়াম সদস্যবৃন্দ। কোন কারণে সভাপতি অনুপস্থিত থাকলে ওনারা আছেন। সিনিয়রিটির ভিত্তিতে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হবেন। কিন্তু বাংলাদেশে দলের সিনিয়র নেতারা কারাগারে। মতিয়া চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ, রমেশ’দা মারা গেলেন। কেউ দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে এলেই গ্রেফতার হচ্ছেন। প্রেসিডিয়ামের সিনিয়র নেতা শেখ সেলিম আছেন। কিন্তু তিনিও রাজনৈতিক রোষানলে এখন পলাতক।
শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যে শেখ সেলিমের নাম ভাইরাল। অনেকের ধারণা, তিনিই হচ্ছেন আগামী সভাপতি। ওনার জীবনী নতুন করে পর্যালোচনায় এসেছে। ব্যক্তিগতভাবে শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই।
যুবলীগ প্রতিষ্ঠাতা শেখ মণির কনিষ্ঠ সহোদর। পচাঁত্তর-পরবর্তী দৈনিক বাংলার বাণী’র সাম্পাদক। হাসিনা সরকারের সাবেক মন্ত্রীও।
বিএনপি সরকারের সঙ্গে রয়েছে আত্মীয়তার বন্ধন। বিদ্যুৎ, জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান টুকুর আপন বেয়াই। তথ্যমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। বা শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের নিকটাত্মীয়। অনেকের ধারণা শেখ সেলিম ভালো অবস্থানে আছেন। আওয়ামী লীগের পক্ষে বিএনপি সরকারে প্রভাব রাখতে পারবেন। সব জেনে-বুঝেই শেখ হাসিনা শেখ সেলিমের নাম নিয়েছেন।
তবে কার্যত তেমন কোন দায়িত্ব দেয়া হয়নি। তবে দলের নেতৃত্ব বঙ্গবন্ধু পরিবারে রাখার আভাষ দিয়েছেন। ফলে ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগে’র প্রত্যাশীরা হতাশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেখ সেলিম-বিরোধী মন্তব্যে মুখর। পরোক্ষভাবে যারা শেখ হাসিনার নেতৃত্বেরও সমালোচনা করছেন।
আ.লীগের নতুন প্রকল্প : মুজিব টু সজীব
ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে নানা জল্পনা। ভারত বলছে, নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতি ছাড়া বাংলাদেশে প্রেরণ সম্ভব নয়। বরং শেখ হাসিনার উচিত জাতিসংঘ মোকাবিলা করা। কারণ ১৪০০ হত্যার দাবিটি জাতিসংঘ তুলেছে।
সূত্র মতে, ভারত চেয়েছিলো শেখ হাসিনা জাতিসংঘমুখী হোন। সন্তান জয় এখন মার্কিন নাগরিক। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের চেয়ে আমেরিকায় ঢোকা সহজতর।
পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলাদেশে আওয়ামী রাজনীতির মৃত্যু হয়নি। আইনগতভাবে কার্যক্রম সাময়িক নিষিদ্ধ হয়েছে। রাজনীতিকে টিকিয়ে রাখার জন্য ডিসেম্বরে প্রত্যাবর্তন কর্মসূচি। নেত্রী ফিরতে পারুক আর না পারুক। দলের হারিয়ে যাওয়া মনোবল অনেকটাই ফিরছে। সেই সাথে মনোবল ফেরানো হচ্ছে সন্তান জয়ের ইমেজ।
একটি মিডিয়া বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। স্বদেশে ও প্রবাসে জয়-এর শিক্ষাগত যোগ্যতার বিবরণ মেলে ধরছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে করা হচ্ছে তুলনা। আইসিটি বিশেষজ্ঞ হিসেবে হাসিনা সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। সেখানেও দেখানো হচ্ছে জয়ের সাফল্যচিত্র। বলা হচ্ছে দেশ ও দলের জন্য তিনি নিবেদিতপ্রাণ। জয় বিষয়ক মিডিয়া প্রকল্পের নামটিও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। যেমন ‘মুজিব টু সজীব’। অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব দিয়ে শুরু। অতঃপর ‘সজীব ওয়াজেদ জয়’-এ আপাতত সমাপনী। সে লক্ষ্যেই হাসিনাবাদী আওয়ামী লীগ চালাচ্ছে নেপথ্য প্রচেষ্টা।
ইতালির ভেনিস দিয়ে জয়ের জয়যাত্রা। কিন্তু শুরুতেই বুমেরাং হয়েছে কার্যক্রম। সভ্য দেশে অসভ্যতা দেখিয়েছে প্রবাস ছাত্রলীগ। অভিনেত্রী আজমেরী জামান বাঁধনকে ‘মব’ করেছে। মবকারীরা সকলে সফররত জয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। বিকেলে জুলাইযোদ্ধা বাঁধন’কে ‘মব’ উপহার দিয়েছে। বিষয়টি স্বদেশ প্রবাস-বিদেশে আলোড়ন তুলেছে। ফলে মন্তব্য এসেছে— একি ঘটনা। ইতালিতে জয়ের অর্জন, ‘বাঁধন-মবে’ তা বিসর্জন!