নেপাল-তিব্বতে আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ১২৪৩

প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৯ , অনলাইন ভার্সন
নেপাল ও তিব্বতে আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানির পর উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে আঘাত হানা ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েই চলেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দুই অঞ্চল মিলিয়ে অন্তত ১ হাজার ২৪৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে কেবল নেপালেই প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ২২২ জন। খবর দ্য হিন্দুর। 

সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিধ্বংসী এই বন্যার এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও বৃষ্টি ও কাদামাটির ধ্বংসাবশেষের নিচে নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।

নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত আটটি জেলা থেকে নতুন করে আরও মরদেহ উদ্ধারের পর নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ২২২ জনে পৌঁছেছে। দেশটির একাধিক শহর ও গ্রাম ধসে পড়া কাদামাটিতে পুরোপুরি তলিয়ে গেছে। বর্তমানে দেশটিতে ৪ হাজার ৮৭৫ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি নাগরিক। ভোতেকোশি নদীর অববাহিকায় থাকা সুড়ঙ্গ ও ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎকেন্দ্রে কেউ আটকে আছেন কি না, সে বিষয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা চিতওয়ান জেলা থেকে ৩৪৮টি, নওয়ালপরাসি ইস্ট থেকে ২১৮টি, নওয়ালপরাসি ওয়েস্ট থেকে ২০৮টি এবং নুয়াকোট থেকে ১৫৫টি মরদেহ উদ্ধার করেছেন। এ ছাড়া রাসুয়া থেকে ১২৭টি, গোরখা থেকে ৬৯টি, ধাদিং থেকে ৬০টি এবং তানাহুন থেকে ৩৮টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

নিখোঁজদের উদ্ধারে নেপাল সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে প্রায় ২১ হাজার ৩১৪ জন নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। তারা আকাশপথ ও স্থলপথে এ পর্যন্ত ১১ হাজার ৯৯৩ জনকে উদ্ধার করেছেন।

অন্যদিকে নেপাল সীমান্তের কাছে তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে আঘাত হানা একই বন্যায় চীনের অংশে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২১ জনে দাঁড়িয়েছে এবং সেখানে এখনও ৫৪১ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

এ নিয়ে পরিবেশবিদ সুনিতা নারায়ণ সতর্ক করে বলেছেন, হিমালয় অঞ্চলে পরিবেশ উপেক্ষা করে অনিয়ন্ত্রিত উন্নয়ন ও ইচ্ছামতো নদী-পাহাড়ের গতিপথ বদলে দেওয়ার ফলেই প্রকৃতি আজ এমন প্রতিশোধ নিচ্ছে। দিল্লিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের’ (সিএসই) এই মহাপরিচালক জানান, হিমালয় অঞ্চলে অপরিকল্পিতভাবে একের পর এক জলবিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তোলাই এই দুর্যোগকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।

ঠিকানা/এসআর
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]