নেপালে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা, নিহত ৮০০ ছাড়িয়েছে

প্রকাশ : ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৩৩ , অনলাইন ভার্সন
নেপাল ও তিব্বতে গত বুধবারের ভয়াবহ হিমবাহ ধসের কারণে আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়েছে। এই দুর্যোগে তিন হাজারের বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যেই নেপালের ভোতেকোশি নদীতে পানির স্তর আবার বাড়তে থাকায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় দুর্গত জেলাগুলোর বাসিন্দাদের সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলেছে কর্তৃপক্ষ।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী ধর্ম রাজ উপ্রেতি জানান, উজানে পানির প্রবাহ বেড়েছে বলে চীনা কর্তৃপক্ষ নেপালকে অবহিত করেছে। এরপর সর্বশেষ নতুন করে বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়।

তবে বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, বুধবারের বিপর্যয়ের পর থেকে বারবার পাওয়া সতর্কবার্তায় তারা আতঙ্কের মধ্যে আছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা গোবিন্দ শ্রেষ্ঠা বলেন, ‘কখনো বলা হচ্ছে বন্যা আসছে, তখন আবার রাতেও উঁচু জায়গায় দৌড়ে যেতে হচ্ছে। আমার ৭২ বছর বয়সী বাবা ও ৭০ বছর বয়সী মা আছেন। আমাকে তাদের বহন করতে হয়। আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।’

ভয়াবহ ওই আকস্মিক বন্যার পঞ্চম দিনেও উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। সেই সঙ্গে রাজধানী কাঠমান্ডুর সঙ্গে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলো পরিষ্কারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারী দল।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রোববার দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮৮ জনে দাঁড়িয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৫০২ জন।

এছাড়া সীমান্তের চীনা অংশে এখন পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যু এবং ৫৪৬ জন নিখোঁজ থাকার খবর দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফলে নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮০৪ জনে এবং নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৩ হাজার ৪৮ জন।

নিখোঁজদের মধ্যে প্রায় ৩০টি দেশের কয়েক শ’ নাগরিক রয়েছেন। তারা ওই অঞ্চলে কাজ, পর্বতে ভ্রমণ অথবা হিমালয়ের পবিত্র কৈলাস শৃঙ্গে তীর্থযাত্রার উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তিব্বতে ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে শতাধিক নেপালি রয়েছেন।

নেপালের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর অন্যতম ধাদিংয়ে কিছু বাসিন্দা আজ প্রায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়িঘরে ফিরে গেছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ কাদামাটি ও ধ্বংসাবশেষ সরাচ্ছিলেন, আবার কাউকে কাদার মধ্যে হারিয়ে যাওয়া জিনিসপত্র উদ্ধারের চেষ্টা করতে দেখা গেছে।

ধাদিংয়ের বাসিন্দা শর্মিলা তামাং বলেন, ‘সবকিছু শেষ। কিছুই অবশিষ্ট নেই, এমনকি আমাদের বাড়িটাও না।’

বন্যায় মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্রে রোববার কর্মীরা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে স্থাপনাগুলো পরিদর্শন শুরু করেন। চারটি জেলার ২০ হাজারের বেশি মানুষ এ বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সুবিধা পেয়ে থাকেন।

বন্যার পর অক্ষত থাকা অনেক বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও আজ বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে। বিদ্যুতের খুঁটি ও তার কাদার মধ্যে জট পাকিয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কাঠমান্ডুতে খাদ্য, জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্য সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ পৃথ্বী মহাসড়কের বেশির ভাগ অংশ চালু থাকলেও কয়েকটি অংশ এখনও সংস্কারের অপেক্ষায়।

বন্যায় বড় কংক্রিট সেতু ও ছোট ঝুলন্ত সেতু ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় নদীর দুই পাশের বহু জনপদ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

হিমালয়ের উঁচু অঞ্চলে হিমবাহ ধসের পর গেগল বুধবার আকস্মিক এই বন্যার সূত্রপাত হয়। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, একটি হিমবাহের নিচের শিলাস্তর ধসে পড়ার সময় হিমবাহের একটি অংশও ধসে যায়।

ধসে পড়া পাথর ও গলিত পানি পরে নিচের উপত্যকার নদীগুলো ফুলিয়ে তোলে। এরপর প্রবল স্রোত তিব্বত ও নেপালে ভবন, সেতু ও বিপুল পরিমাণ মাটি ভাসিয়ে নিয়ে যায়।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে নেপালের অবদান মাত্র শূন্য দশমিক ১ শতাংশ হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের বড় শিকার হয়ে উঠেছে দেশটির মানুষ।

তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, বুধবারের বিপর্যয়ের সঙ্গে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সরাসরি সম্পর্ক নির্ধারণ করার জন্য এখনও সময় প্রয়োজন। যদিও তাদের মতে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, বিশেষ করে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা হিমালয় অঞ্চলে এ ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে।

এদিকে, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম রোববার বলেছেন, নেপালে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা এবং দুর্যোগে আক্রান্ত মালয়েশীয় নাগরিকদের সরিয়ে নিতে একটি বিশেষায়িত অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল পাঠাবে তার দেশ। এছাড়া নেপালকে ১০ লাখ ডলার আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে মালয়েশিয়া।

ঠিকানা/এসআর
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]