​নিউইয়র্কে স্কুল খুলছে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর

প্রকাশ : ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১৩:৪২ , অনলাইন ভার্সন
দীর্ঘ গ্রীষ্মের ছুটি শেষে আবারও স্কুলমুখী হচ্ছে নিউইয়র্কের হাজারো শিক্ষার্থী। নতুন শিক্ষাবর্ষকে সামনে রেখে বই-খাতা, স্কুলের প্রয়োজনীয় সামগ্রী, পোশাক, যাতায়াত, ঘুমের রুটিন ও পড়াশোনার পরিকল্পনা নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রথম ক্লাস শুরু হবে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর। শেষ হবে ২৮ জুন ২০২৭।
নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে ইতোমধ্যে স্কুলগুলো তাদের একাডেমিক ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি শুরু করেছে। দীর্ঘ ছুটির পর শ্রেণিকক্ষে ফিরতে শিক্ষার্থীদের যেমন নতুন উদ্দীপনা কাজ করছে, তেমনি পরিবারগুলোর মধ্যেও চলছে প্রস্তুতি। বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইতোমধ্যে নিম্ন আয়ের পরিবারের শিশুদের জন্য ‘ব্যাক টু স্কুল’ প্যাক বিতরণ শুরু করেছে। এসব প্যাকের মাধ্যমে অনেক পরিবার সন্তানদের প্রয়োজনীয় খাতা, কলম, পেন্সিলসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ সংগ্রহ করতে পারছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দোকানেও স্কুলসামগ্রীর ওপর ছাড় থাকায় অভিভাবকেরা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনছেন।
নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের আওতাধীন শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুলে খাবারের ব্যবস্থাও রয়েছে। যোগ্য অনেক শিক্ষার্থী বিনা মূল্যে ব্রেকফাস্ট ও লাঞ্চ পেয়ে থাকে। ফলে এসব পরিবারের অভিভাবকদের প্রতিদিন স্কুলের খাবার প্রস্তুত করার বাড়তি চাপ থাকে না। তবে কেউ কেউ স্কুলের খাবারের পরিবর্তে বাড়ির খাবার পছন্দ করে, আবার কেউ খাবারের স্বাদ বা পছন্দের কারণে বাসা থেকে খাবার নিয়ে যায়।
নিউইয়র্কের মতো ব্যস্ত মহানগরে স্কুলে ফেরার প্রস্তুতি শুধু বই-খাতা কেনা বা প্রথম দিনের জন্য ব্যাগ গোছানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিদিনের যাতায়াত, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, মানসিক প্রস্তুতি, স্কুল-পরবর্তী কার্যক্রম এবং পরিবারের দৈনন্দিন রুটিনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নতুন করে মানিয়ে নিতে হয়।
গ্রীষ্মের ছুটিতে অনেক শিক্ষার্থী দেরিতে ঘুমানো ও সকালে দেরিতে ওঠার অভ্যাস করে। স্কুল শুরু হলে হঠাৎ করে ভোরে ওঠা এবং নির্দিষ্ট সময়ে স্কুলে পৌঁছানো তাদের জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, স্কুল খোলার কয়েক দিন আগে থেকেই ঘুম ও জাগরণের সময় ধীরে ধীরে স্বাভাবিক রুটিনে ফিরিয়ে আনা উচিত। পর্যাপ্ত ঘুম শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ও শেখার সক্ষমতা বাড়াতেও সহায়তা করে।
নতুন শিক্ষাবর্ষের আগে অভিভাবকদের স্কুলের সব নির্দেশনা ভালোভাবে পড়ে দেখা প্রয়োজন। ক্লাসের সময়সূচি, বই-খাতার তালিকা, স্কুলের নিয়ম, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম এবং অন্যান্য সামগ্রী আগে থেকেই প্রস্তুত করে রাখা ভালো। স্কুলব্যাগে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জিনিস না রাখার পাশাপাশি ছোট শিক্ষার্থীদের ব্যাগের ওজনের বিষয়েও নজর দেওয়া উচিত।
যাতায়াতের নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ। স্কুল বাস, সাবওয়ে, গণপরিবহন কিংবা হেঁটেÑযেভাবেই শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাক না কেন, স্কুলে যাওয়ার পথ আগে থেকে নির্ধারণ করা দরকার। ছোট সন্তানদের সঙ্গে অভিভাবকেরা কয়েকবার স্কুলে যাওয়ার পথ অনুশীলন করতে পারেন। রাস্তা পার হওয়ার সময় ট্রাফিক সিগন্যাল ও ক্রসওয়াক ব্যবহার এবং গণপরিবহনে নির্ধারিত রুট ও স্টপেজ সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি।
নতুন শিক্ষাবর্ষ শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন লক্ষ্য নির্ধারণেরও সুযোগ। আগের বছরের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নতুন বছরে কীভাবে উন্নতি করা যায়, সে বিষয়ে পরিকল্পনা করা যেতে পারে। প্রতিদিনের পড়াশোনার জন্য নির্দিষ্ট সময় রাখার পাশাপাশি বই পড়া, খেলাধুলা, সৃজনশীল কাজ এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগও থাকা উচিত। শুধু পরীক্ষার ফল নয়, শিক্ষার্থীর শেখার আগ্রহ, সৃজনশীলতা, প্রশ্ন করার ক্ষমতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
প্রযুক্তির ব্যবহারও শিক্ষার্থীদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। কম্পিউটার, ট্যাবলেট ও অনলাইন শিক্ষা পড়াশোনায় সহায়ক হলেও বিনোদনমূলক স্ক্রিন ব্যবহারের সময় নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। অতিরিক্ত ভিডিও দেখা, গেম খেলা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের কারণে ঘুম ও পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই পরিবারে ভারসাম্যপূর্ণ দৈনিক রুটিন তৈরি করা প্রয়োজন।
শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়েও অভিভাবকদের নজর দিতে হবে। পর্যাপ্ত ঘুম, পুষ্টিকর খাবার, পানি পান এবং নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। কোনো শিশুর বিশেষ স্বাস্থ্যগত প্রয়োজন থাকলে স্কুল শুরুর আগেই স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত।
দীর্ঘ ছুটির পর নতুন ক্লাস, নতুন শিক্ষক বা নতুন সহপাঠীদের সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সন্তানের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করা এবং তার উদ্বেগ বা ভয়কে গুরুত্ব দিয়ে শোনা উচিত। অন্য শিক্ষার্থীর সঙ্গে তুলনা না করে নিজের সন্তানের অগ্রগতিকে গুরুত্ব দেওয়াই বেশি কার্যকর।
এদিকে নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলস ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের পূর্ণাঙ্গ ক্যালেন্ডার প্রকাশ করেছে। এতে স্কুল খোলা ও বন্ধের দিন, বিভিন্ন ছুটি, ধর্মীয় ও জাতীয় দিবস, প্যারেন্ট-টিচার কনফারেন্স, পেশাগত উন্নয়ন দিবস এবং রিজেন্টস পরীক্ষাসহ গুরুত্বপূর্ণ তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে। ১০ সেপ্টেম্বর শিক্ষাবর্ষ শুরু হয়ে ২৮ জুন ২০২৭ শিক্ষার্থীদের শেষ স্কুল দিবস হবে।
তবে প্রাইভেট, প্যারোকিয়াল, চার্টার স্কুল, নিউইয়র্ক সিটি আর্লি এডুকেশন সেন্টার বা ফ্যামিলি চাইল্ডকেয়ার প্রোগ্রামে পড়া শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের ক্যালেন্ডার অনুসরণ করতে হবে। একইভাবে আবহাওয়া বা জরুরি পরিস্থিতিতে স্কুল ভবন বন্ধ হলে অনলাইন বা রিমোট ক্লাস চালু হতে পারে। তাই অভিভাবকদের স্কুল ও নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের সর্বশেষ নির্দেশনা নিয়মিত দেখা উচিত।
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]