নিউইয়র্ক: ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের শনাক্ত করার দীর্ঘ প্রচেষ্টায় নতুন সাফল্য এসেছে। অত্যাধুনিক ফরেনসিক ইনভেস্টিগেটিভ জেনেটিক জিনিয়োলজি (এফআইজিজি) প্রযুক্তি ব্যবহার করে হামলায় নিহত এক নারীকে শনাক্ত করেছে নিউইয়র্ক সিটির প্রধান মেডিকেল পরীক্ষকের দপ্তর (ওসিএমই)। ৯/১১ হামলার কোনো ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করতে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ঘটনা এটিই প্রথম।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান কোয়ামে মামদানি এবং ওসিএমই মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে। পরিবারের অনুরোধে শনাক্ত হওয়া ওই নারীর নাম ও পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
সর্বশেষ শনাক্তকরণের ফলে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে নিহত ২ হাজার ৭৫৩ জনের মধ্যে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৬৫৪ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। তবে হামলার প্রায় ২৫ বছর পরও ১ হাজার ৯৯ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। অর্থাৎ মোট নিহতের প্রায় ৪০ শতাংশ এখনো অজ্ঞাত রয়েছেন।
৯/১১ হামলার ২৫তম বার্ষিকী সামনে রেখে মেয়র মামদানি বলেন, ভয়াবহ ওই হামলায় প্রাণ হারানো প্রায় তিন হাজার মানুষকে নিউইয়র্ক গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে প্রিয়জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর প্রতি নগর প্রশাসনের দায়বদ্ধতাও অটুট রয়েছে।
তিনি বলেন, নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে এই শনাক্তকরণ প্রমাণ করেছে যে অত্যাধুনিক বিজ্ঞান ও দৃঢ় অঙ্গীকার একসঙ্গে কাজ করলে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত প্রশ্নেরও উত্তর পাওয়া সম্ভব। অপেক্ষমাণ পরিবারগুলোর কাছে সম্ভাব্য প্রতিটি উত্তর পৌঁছে দিতে এবং তাদের কিছুটা হলেও স্বস্তি ও মানসিক শান্তি দিতে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
ওসিএমইর প্রধান মেডিকেল পরীক্ষক ড. গ্রাহাম বলেন, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে নিহত প্রত্যেক ব্যক্তিকে শনাক্ত করে তাদের পরিবারের কাছে পরিচয় ফিরিয়ে দেওয়ার যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, এত বছর পরও তা বহাল রয়েছে। তাঁর মতে, এফআইজিজি প্রযুক্তি এই দীর্ঘ ও জটিল অনুসন্ধানে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।
এফআইজিজি কীভাবে কাজ করে
ফরেনসিক ইনভেস্টিগেটিভ জেনেটিক জিনিয়োলজি বা এফআইজিজি এমন একটি আধুনিক পদ্ধতি, যেখানে বিশেষায়িত ডিএনএ বিশ্লেষণের সঙ্গে বংশতাত্ত্বিক অনুসন্ধান যুক্ত করে কোনো অজ্ঞাত ব্যক্তির সম্ভাব্য পরিচয় শনাক্ত করা হয়। সম্ভাব্য পরিচয় নির্ধারণের পর ওসিএমই প্রচলিত ডিএনএ পরীক্ষা কিংবা অন্যান্য স্বীকৃত ফরেনসিক পদ্ধতির মাধ্যমে তা চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করে।
এই কাজে ওসিএমইর সঙ্গে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের ইনভেস্টিগেটিভ জেনেটিক জিনিয়োলজি স্কোয়াডও কাজ করছে। দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত দেহাবশেষ নতুন প্রযুক্তিতে পুনরায় পরীক্ষা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নিহতদের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে সংগৃহীত ডিএনএ নমুনার সঙ্গে সেগুলোর তুলনা করে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
সর্বশেষ শনাক্তকরণের পাশাপাশি আগে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া আরও তিন ব্যক্তির দেহাবশেষের সঙ্গেও নতুন যোগসূত্র পাওয়া গেছে। এসব ক্ষেত্রে এফআইজিজি প্রযুক্তি, পরিবারের সদস্যদের ডিএনএ নমুনা এবং ২০০১ সাল থেকে সংরক্ষিত দেহাবশেষের পুনঃপরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
২০২৫ সালের আগস্টের পর এটিই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে নিহত কোনো ব্যক্তির সর্বশেষ নতুন শনাক্তকরণ। প্রায় এক-চতুর্থাংশ শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও ৯/১১ হামলায় নিহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ থামেনি।
নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন জানিয়েছে, যেসব পরিবার এখনো প্রিয়জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে, তাদের উত্তর দিতে বর্তমান ও ভবিষ্যতের কার্যকর সব বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত রাখা হবে।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা। সময়ের সঙ্গে ফরেনসিক বিজ্ঞানের অগ্রগতি সেই ট্র্যাজেডির দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত অধ্যায়গুলো উন্মোচনের নতুন সুযোগ তৈরি করছে। সর্বশেষ শনাক্তকরণ তাই শুধু একটি বৈজ্ঞানিক সাফল্য নয়; ২৫ বছর ধরে উত্তরের অপেক্ষায় থাকা বহু পরিবারের জন্য এটি নতুন আশার বার্তাও।
ঠিকানা/এসআর
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান কোয়ামে মামদানি এবং ওসিএমই মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে। পরিবারের অনুরোধে শনাক্ত হওয়া ওই নারীর নাম ও পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
সর্বশেষ শনাক্তকরণের ফলে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে নিহত ২ হাজার ৭৫৩ জনের মধ্যে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৬৫৪ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। তবে হামলার প্রায় ২৫ বছর পরও ১ হাজার ৯৯ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। অর্থাৎ মোট নিহতের প্রায় ৪০ শতাংশ এখনো অজ্ঞাত রয়েছেন।
৯/১১ হামলার ২৫তম বার্ষিকী সামনে রেখে মেয়র মামদানি বলেন, ভয়াবহ ওই হামলায় প্রাণ হারানো প্রায় তিন হাজার মানুষকে নিউইয়র্ক গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে প্রিয়জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর প্রতি নগর প্রশাসনের দায়বদ্ধতাও অটুট রয়েছে।
তিনি বলেন, নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে এই শনাক্তকরণ প্রমাণ করেছে যে অত্যাধুনিক বিজ্ঞান ও দৃঢ় অঙ্গীকার একসঙ্গে কাজ করলে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত প্রশ্নেরও উত্তর পাওয়া সম্ভব। অপেক্ষমাণ পরিবারগুলোর কাছে সম্ভাব্য প্রতিটি উত্তর পৌঁছে দিতে এবং তাদের কিছুটা হলেও স্বস্তি ও মানসিক শান্তি দিতে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
ওসিএমইর প্রধান মেডিকেল পরীক্ষক ড. গ্রাহাম বলেন, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে নিহত প্রত্যেক ব্যক্তিকে শনাক্ত করে তাদের পরিবারের কাছে পরিচয় ফিরিয়ে দেওয়ার যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, এত বছর পরও তা বহাল রয়েছে। তাঁর মতে, এফআইজিজি প্রযুক্তি এই দীর্ঘ ও জটিল অনুসন্ধানে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।
এফআইজিজি কীভাবে কাজ করে
ফরেনসিক ইনভেস্টিগেটিভ জেনেটিক জিনিয়োলজি বা এফআইজিজি এমন একটি আধুনিক পদ্ধতি, যেখানে বিশেষায়িত ডিএনএ বিশ্লেষণের সঙ্গে বংশতাত্ত্বিক অনুসন্ধান যুক্ত করে কোনো অজ্ঞাত ব্যক্তির সম্ভাব্য পরিচয় শনাক্ত করা হয়। সম্ভাব্য পরিচয় নির্ধারণের পর ওসিএমই প্রচলিত ডিএনএ পরীক্ষা কিংবা অন্যান্য স্বীকৃত ফরেনসিক পদ্ধতির মাধ্যমে তা চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করে।
এই কাজে ওসিএমইর সঙ্গে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের ইনভেস্টিগেটিভ জেনেটিক জিনিয়োলজি স্কোয়াডও কাজ করছে। দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত দেহাবশেষ নতুন প্রযুক্তিতে পুনরায় পরীক্ষা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নিহতদের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে সংগৃহীত ডিএনএ নমুনার সঙ্গে সেগুলোর তুলনা করে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
সর্বশেষ শনাক্তকরণের পাশাপাশি আগে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া আরও তিন ব্যক্তির দেহাবশেষের সঙ্গেও নতুন যোগসূত্র পাওয়া গেছে। এসব ক্ষেত্রে এফআইজিজি প্রযুক্তি, পরিবারের সদস্যদের ডিএনএ নমুনা এবং ২০০১ সাল থেকে সংরক্ষিত দেহাবশেষের পুনঃপরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
২০২৫ সালের আগস্টের পর এটিই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে নিহত কোনো ব্যক্তির সর্বশেষ নতুন শনাক্তকরণ। প্রায় এক-চতুর্থাংশ শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও ৯/১১ হামলায় নিহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ থামেনি।
নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন জানিয়েছে, যেসব পরিবার এখনো প্রিয়জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে, তাদের উত্তর দিতে বর্তমান ও ভবিষ্যতের কার্যকর সব বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত রাখা হবে।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা। সময়ের সঙ্গে ফরেনসিক বিজ্ঞানের অগ্রগতি সেই ট্র্যাজেডির দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত অধ্যায়গুলো উন্মোচনের নতুন সুযোগ তৈরি করছে। সর্বশেষ শনাক্তকরণ তাই শুধু একটি বৈজ্ঞানিক সাফল্য নয়; ২৫ বছর ধরে উত্তরের অপেক্ষায় থাকা বহু পরিবারের জন্য এটি নতুন আশার বার্তাও।
ঠিকানা/এসআর