আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিরুদ্ধে চলমান চাপ আরও বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আদালতটির প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে এবং জ্যেষ্ঠ ট্রায়াল আইনজীবী আবদুলায়ে সেয়েকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।
১৮ আগস্ট মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ ঘোষণা দিয়ে বলেন, আইসিসির ক্ষমতার অপব্যবহার মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র যে কূটনৈতিক অভিযান শুরু করেছে, তার অংশ হিসেবেই নতুন এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, জাপানের নাগরিক ও আইসিসি প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে এবং সেনেগালের নাগরিক আবদুলায়ে সেয়ে এমন দেশের সরকারি কর্মকর্তাদের তদন্ত, গ্রেপ্তার, আটক কিংবা বিচারের আওতায় আনার প্রচেষ্টায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন, যেসব দেশ আইসিসির বিচারিক এখতিয়ার মেনে নেয়নি।
রুবিওর ভাষায়, আইসিসি একটি ‘রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত’ প্রতিষ্ঠান এবং আদালতটি তার ম্যান্ডেটের সীমা অতিক্রম করেছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার জাতীয় সার্বভৌমত্বের ওপর আইসিসির কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ মেনে নেবে না।
নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের আওতায়। নির্বাহী আদেশটি ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি জারি করা হয়। এতে আইসিসির এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও অন্যান্য নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যেগুলোকে ওয়াশিংটন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের বিরুদ্ধে ‘অবৈধ ও ভিত্তিহীন’ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করে।
যুক্তরাষ্ট্র আইসিসি প্রতিষ্ঠার ভিত্তি রোম সংবিধির সদস্য রাষ্ট্র নয়। ইসরায়েলও এই চুক্তির সদস্য নয়। ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, কোনো দেশের সম্মতি ছাড়া সে দেশের নাগরিকদের ওপর আইসিসির বিচারিক কর্তৃত্ব প্রয়োগের চেষ্টা রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের জন্য বিপজ্জনক নজির তৈরি করে।
তবে আইসিসির অবস্থান ভিন্ন। আদালতটির মতে, কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তি রোম সংবিধির সদস্য নয় এমন দেশের নাগরিক হলেও, অভিযোগে উল্লেখিত অপরাধ যদি আদালতের বিচারিক এখতিয়ারভুক্ত কোনো ভূখণ্ডে সংঘটিত হয়ে থাকে, তাহলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আইসিসি তার বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। ফিলিস্তিন পরিস্থিতি নিয়ে আইসিসির প্রি-ট্রায়াল চেম্বারও আদালতের এখতিয়ার বহাল রেখেছে।
এই আইনি বিরোধই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওয়াশিংটন ও হেগভিত্তিক আদালতটির মধ্যে উত্তেজনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
আইসিসির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিরোধের বড় অংশ ইসরায়েল-ফিলিস্তিন পরিস্থিতি ঘিরে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে আইসিসি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের আদালতের এখতিয়ার নিয়ে করা আপত্তিও প্রত্যাখ্যান করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ওই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। ট্রাম্প প্রশাসন এর আগে আইসিসির প্রসিকিউটর করিম খানকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে। মঙ্গলবারের ঘোষণায় এবার আদালতের প্রেসিডেন্ট এবং একজন জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউশন কর্মকর্তাকে একই ব্যবস্থার আওতায় আনা হলো।
আবদুলায়ে সেয়ে আইসিসির ফিলিস্তিন-সংক্রান্ত মামলার প্রসিকিউশন টিমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আইসিসির প্রকাশিত নথিতেও তাকে ‘সিচুয়েশন ইন দ্য স্টেট অব প্যালেস্টাইন’ মামলায় প্রসিকিউটরের দপ্তরের কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
রুবিও জানিয়েছেন, আইসিসির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান শুধু নতুন নিষেধাজ্ঞায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। ওয়াশিংটন চায় অন্যান্য দেশও আইসিসির অর্থায়ন ও কার্যক্রমে অংশগ্রহণ পুনর্বিবেচনা করুক।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমেরিকান নাগরিক এবং রোম সংবিধির সদস্য নয়, এমন দেশের নাগরিকদের টার্গেট করার সক্ষমতা আইসিসির থাকা উচিত নয়।
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, প্রয়োজন হলে ট্রাম্প প্রশাসন অতিরিক্ত ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলার মতো সক্ষমতা আইসিসির না থাকা পর্যন্ত ওয়াশিংটনের অভিযান অব্যাহত থাকতে পারে বলেও তার বক্তব্যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
এদিকে আইসিসি অতীতেও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে বলেছে, আদালতের স্বাধীন বিচারিক কার্যক্রমের ওপর রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক চাপ আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার ব্যবস্থাকে দুর্বল করে। আইসিসি প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানেও জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে আদালতের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে আইসিসি ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হলো। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আদালতের এখতিয়ার বনাম রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব-এই পুরোনো বিতর্কও নতুন করে সামনে এসেছে।
১৮ আগস্ট মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ ঘোষণা দিয়ে বলেন, আইসিসির ক্ষমতার অপব্যবহার মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র যে কূটনৈতিক অভিযান শুরু করেছে, তার অংশ হিসেবেই নতুন এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, জাপানের নাগরিক ও আইসিসি প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে এবং সেনেগালের নাগরিক আবদুলায়ে সেয়ে এমন দেশের সরকারি কর্মকর্তাদের তদন্ত, গ্রেপ্তার, আটক কিংবা বিচারের আওতায় আনার প্রচেষ্টায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন, যেসব দেশ আইসিসির বিচারিক এখতিয়ার মেনে নেয়নি।
রুবিওর ভাষায়, আইসিসি একটি ‘রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত’ প্রতিষ্ঠান এবং আদালতটি তার ম্যান্ডেটের সীমা অতিক্রম করেছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার জাতীয় সার্বভৌমত্বের ওপর আইসিসির কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ মেনে নেবে না।
নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের আওতায়। নির্বাহী আদেশটি ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি জারি করা হয়। এতে আইসিসির এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও অন্যান্য নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যেগুলোকে ওয়াশিংটন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের বিরুদ্ধে ‘অবৈধ ও ভিত্তিহীন’ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করে।
যুক্তরাষ্ট্র আইসিসি প্রতিষ্ঠার ভিত্তি রোম সংবিধির সদস্য রাষ্ট্র নয়। ইসরায়েলও এই চুক্তির সদস্য নয়। ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, কোনো দেশের সম্মতি ছাড়া সে দেশের নাগরিকদের ওপর আইসিসির বিচারিক কর্তৃত্ব প্রয়োগের চেষ্টা রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের জন্য বিপজ্জনক নজির তৈরি করে।
তবে আইসিসির অবস্থান ভিন্ন। আদালতটির মতে, কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তি রোম সংবিধির সদস্য নয় এমন দেশের নাগরিক হলেও, অভিযোগে উল্লেখিত অপরাধ যদি আদালতের বিচারিক এখতিয়ারভুক্ত কোনো ভূখণ্ডে সংঘটিত হয়ে থাকে, তাহলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আইসিসি তার বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। ফিলিস্তিন পরিস্থিতি নিয়ে আইসিসির প্রি-ট্রায়াল চেম্বারও আদালতের এখতিয়ার বহাল রেখেছে।
এই আইনি বিরোধই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওয়াশিংটন ও হেগভিত্তিক আদালতটির মধ্যে উত্তেজনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
আইসিসির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিরোধের বড় অংশ ইসরায়েল-ফিলিস্তিন পরিস্থিতি ঘিরে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে আইসিসি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের আদালতের এখতিয়ার নিয়ে করা আপত্তিও প্রত্যাখ্যান করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ওই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। ট্রাম্প প্রশাসন এর আগে আইসিসির প্রসিকিউটর করিম খানকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে। মঙ্গলবারের ঘোষণায় এবার আদালতের প্রেসিডেন্ট এবং একজন জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউশন কর্মকর্তাকে একই ব্যবস্থার আওতায় আনা হলো।
আবদুলায়ে সেয়ে আইসিসির ফিলিস্তিন-সংক্রান্ত মামলার প্রসিকিউশন টিমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আইসিসির প্রকাশিত নথিতেও তাকে ‘সিচুয়েশন ইন দ্য স্টেট অব প্যালেস্টাইন’ মামলায় প্রসিকিউটরের দপ্তরের কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
রুবিও জানিয়েছেন, আইসিসির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান শুধু নতুন নিষেধাজ্ঞায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। ওয়াশিংটন চায় অন্যান্য দেশও আইসিসির অর্থায়ন ও কার্যক্রমে অংশগ্রহণ পুনর্বিবেচনা করুক।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমেরিকান নাগরিক এবং রোম সংবিধির সদস্য নয়, এমন দেশের নাগরিকদের টার্গেট করার সক্ষমতা আইসিসির থাকা উচিত নয়।
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, প্রয়োজন হলে ট্রাম্প প্রশাসন অতিরিক্ত ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলার মতো সক্ষমতা আইসিসির না থাকা পর্যন্ত ওয়াশিংটনের অভিযান অব্যাহত থাকতে পারে বলেও তার বক্তব্যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
এদিকে আইসিসি অতীতেও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে বলেছে, আদালতের স্বাধীন বিচারিক কার্যক্রমের ওপর রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক চাপ আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার ব্যবস্থাকে দুর্বল করে। আইসিসি প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানেও জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে আদালতের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে আইসিসি ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হলো। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আদালতের এখতিয়ার বনাম রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব-এই পুরোনো বিতর্কও নতুন করে সামনে এসেছে।