​মানসিক নির্যাতন ও পুরুষ নির্যাতন

প্রকাশ : ২০ অগাস্ট ২০২৬, ১৬:৫১ , অনলাইন ভার্সন
সব সময় নারী ও শিশু নির্যাতন নিয়ে লিখি। নারী ও শিশুর কথা ভাবি। তাদের অসহায়ত্বের বিষয় তুলে ধরি। সমাজে অনেক অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা দেখতে পাই, যেখানে নারী ও শিশুর বিষয় সম্পর্কিত। এসব মূলত সামাজিক অবক্ষয়। এমনও নারী আছেন-কষ্ট বুকে চেপে ধরে জীবন কাটান। অন্তরের ব্যথা প্রকাশ করেন না। নারী ও শিশুর প্রতি নির্যাতন চরম নিন্দনীয় অপরাধ। এসবের অবসান হতে হবে।

এবার ভিন্ন আঙ্গিকে লিখছি, যদিও ব্যতিক্রম ভাবনা। পুরুষ কি কখনো নির্যাতিত হয়-কী করে প্রতিকার পাবে? কখনো তো পুরুষের মুখে অ্যাসিড নিক্ষেপ হয় না। পুরুষ শারীরিকভাবে নির্যাতিত-এমন ঘটনাও খুব কম। পুরুষ পুরুষ দ্বারা নির্যাতিত হয়েছে। পুরুষ মহিলা দ্বারা নির্যাতিত-এমন ঘটনা শোনা যায় না। পুরুষ যেভাবেই নির্যাতিত হন, তিনিও প্রতিকার পেতে পারেন। আমাদের সংবিধানে নারী ও পুরুষের কথা বলা হয়েছে। সেখানে সমঅধিকারের কথা বলা আছে। একজন নাগরিক হিসেবে সবার সমান অধিকার। সাংবিধানিক ব্যাখ্যায় যেকোনো নাগরিক, যেই জেন্ডার হোক না কেন, যদি নির্যাতিত হন, প্রতিকার পেতে পারেন। আমার ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতায় আমি সেসব নিয়ে কাজ করেছি।
সমাজে মানসিক নির্যাতনের সংখ্যা কম নয়। অনেক পরিবারে সে নির্যাতনের দৃশ্য দেখেছি। যদিও সেসব প্রকাশ্যে আসেনি অথবা খুব কমই বোঝা যায়। সমাজে পুরুষ নির্যাতিত হচ্ছে-নির্যাতনের নাম ‘মানসিক নির্যাতন’। এমন পুরুষও আছেন-নীরবে সয়ে যান। দিন যায়, বছর যায় নির্যাতন হজম করেন। একসময় হারিয়ে যান। আমরা সব সময় পুরুষকে অমানবিক বলি কিন্তু সমাজে অনেক নারীও অমানবিক, ধৈর্যহারা। আমি ব্যক্তিগতভাবে নারী বা পুরুষ-বিদ্বেষী নই। তবে অভিজ্ঞতা শেয়ার করছি মাত্র।

ছেলেটি বিয়ে করে। বছরখানেক পর ডিভোর্স হয়। আমার পরিচিত। একটু বিষণ্ন। জানতে চাই-কী হয়েছিল? উত্তরটি এমন ছিল-আমি প্রচণ্ড মানসিক নির্যাতনের শিকার হতাম। সেটি আবার কী রকম? আপু, বছরখানেক পার হয়নি। আমাকে প্রতি সপ্তাহে লম্বা লিস্ট ধরিয়ে দেয়। আমার সাধ্যের বাইরে, সম্পূর্ণ অবাস্তবাদী। আজ এটা চাই, কাল ওটা চাই। যদি পূরণ না হতো দ্বন্দ্ব, বাগবিতণ্ডা, গালিগালাজ ইত্যাদি। আমি পেরে উঠিনি। দীর্ঘ জীবন-ভবিষ্যতের ভাবনা থেকেই এমনটি করেছি।

আমি বলি-মানিয়ে নেওয়া যেত না? আপু, একেবারেই না, আমাকে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করত।
আরেকটি ঘটনা। ছেলেটি চার সন্তানের জনক। মেয়েটি সম্পূর্ণ হাউসওয়াইফ। ছেলেটি একমাত্র উপার্জনশীল। কাজ থেকে ফিরে স্ত্রীর মুখ থেকে মিষ্টি কথা শুনবে, বাচ্চাদের জড়িয়ে ধরবে। হিতে বিপরীত-অন্য চিত্র। ঘরের কাজে লাগানো হয়। এটা করো, ওটা করো, রান্না করো, থালাবাসন ধোও ইত্যাদি। প্রতিদিন এই হুকুম মানতে হয়। ক্লান্ত হয়ে পড়ে। কোথায় স্ত্রীকে মানবিক দেখবে? এ তো দেখছি কালবাঘিনী! মায়া-মমতা-ভালোবাসা কিছুই নেই। ছেলেটি উচ্চশিক্ষিত এবং প্রতিষ্ঠিত একটি পদে আছে। বাচ্চারা বাবার কাছে থাকবে, স্ত্রীর ভালোবাসা দেখবে-এই সৌভাগ্য তার নেই। প্রতিনিয়ত মানসিক নির্যাতনের শিকার।

সমাজে এমন ঘটনা আরও আছে। পুরুষ নির্যাতন হচ্ছে-সেটি মানসিক নির্যাতন। আমরা সব সময় পুরুষকে মানবিক হতে বলি কিন্তু অনেক নারী আছেন, ধৈর্যহারা, অবিবেচক এবং অমানবিক। নারী-পুরুষ একে অপরের পরিপূরক। শুধু নারীর অবিবেচনার জন্য অনেক পুরুষ মানসিকভাবে নির্যাতিত হচ্ছে। নারীকেও ধৈর্যশীল হতে হবে। একে অপরের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব হতে হবে। নারীকেও বাস্তববাদী হতে হবে।

নারী ও শিশু নির্যাতন-কোনোভাবেই দেখতে চাই না। তেমনি যেকোনো নারী কর্তৃক পুরুষ মানসিকভাবে নির্যাতিত হবে-তেমনটিও চাই না। সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে-সত্যটি প্রমাণিত হবে, যদি মানসিক নির্যাতনের হার অনুপস্থিত থাকে। ভালো থাকুন সবাই।
লেখক : অ্যাডভোকেট, সুপ্রিম কোর্ট, ঢাকা, বাংলাদেশ। ঢাবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, নিউইয়র্ক প্রবাসী।
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]