​ভোটের মাঠে সরব প্রার্থীরা : চলছে মতবিনিময়

সোসাইটির নির্বাচন পেছালো : নতুন তারিখ ২৫ অক্টোবর

প্রকাশ : ২০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫:২৯ , অনলাইন ভার্সন
প্রবাসের সবচেয়ে বড় সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ অক্টোবর রোববার। এর আগে ঘোষিত তফসিলে নির্বাচনের তারিখ ছিল ১৮ অক্টোবর রোববার। কিন্তু এদিন বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজার অষ্টমী। আর এ কারণে দিনটির গুরুত্ব বিবেচনায় ১৮ অক্টোবরের পরিবর্তে নতুন তারিখ ২৫ অক্টোবর রোববার নির্ধারণ করে নির্বাচন কমিশন। 
১৮ আগস্ট মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ সোসাইটির কার্যালয়ে আয়োজিত কার্যকরি কমিটি, নির্বাচন কমিশন ও ট্রাস্টি বোর্ডের যৌথসভায় নির্বাচনের নতুন তারিখ গৃহীত হয়। যৌথসভা শেষে রাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের ঠিকানাকে জানান, যৌথসভায় কার্যকরী কমিটির পক্ষ থেকে নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং দিনটির গুরুত্ব অনুধাবন করে নির্বাচনের নতুন তারিখ ঘোষণার ব্যাপারে সভায় সর্বসম্মতি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ কারণে ১৮ অক্টোবরের পরিবর্তে ২৫ অক্টোবর রোববার নির্বাচনের নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়।  
আবু নাসের আরো জানান, নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন হওয়ায় তফসিলেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন তারিখ অনুযায়ী মনোনয়নপত্র বিতরণের দিন ধার্য করা হয়েছে ২ সেপ্টেম্বর বুধবার। মনোনয়নপত্র জমা ৬ সেপ্টেম্বর রোববার। মনোনয়নপত্র বাছাই ৭ সেপ্টেম্বর সোমবার। আপিল করা যাবে ৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে ৯ সেপ্টেম্বর বুধবার। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার। 
নির্বাচনে প্রার্থিতার শর্ত ও বিধিমালা অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের। 
বাংলাদেশ সোসাইটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রিজু মোহাম্মদ ঠিকানাকে জানান, যৌথসভায় বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান শাহ নেওয়াজসহ অন্যান্য ট্রাস্টিগণ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসেরসহ অন্যান্য কমিশনারগণ এবং সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীসহ কার্যকরী কমিটির অধিকাংশ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। 
রিজু মোহাম্মদ জানান, ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার ছিল সদস্য যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিন। তবে সদস্যদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই তারিখও পরিবর্তন করে আগামী ২৫ আগস্ট মঙ্গলবার পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এই তারিখের মধ্যে বাংলাদেশ সোসাইটির ওয়েবসাইট ও অফিসে এসে সদস্য তথ্য যাচাই ও সংশোধন করা যাবে। 
এদিকে, বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে সম্ভাব্য সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী রাব্বী সৈয়দও গত ১৪ আগস্ট প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবরে আবেদন করে নির্বাচনের তারিখ ১৮ অক্টোবর পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছেন। ওই আবেদনে তিনি ওইদিন দুর্গাপূজার অষ্টমী বলে উল্লেখ করে নতুন তারিখ ঘোষণার দাবি জানান। 
আবেদনে তিনি আরো উল্লেখ করেন, অষ্টমীর দিন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা ধর্মীয় আচার পালন করেন। এদিন অনেকে উপবাসও করেন। ফলে তাদের পক্ষে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে। 
প্রচার সম্পাদক রিজু মোহাম্মদ জানান, বাংলাদেশ সোসাইটির কার্যকরী কমিটি ছাড়াও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তির পক্ষ থেকে নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের দাবি জানানো হয়েছিল। 
এদিকে, বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের মাঠে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক তফসিল ঘোষণার পর শুধু প্রার্থীরা নয়, সম্ভাব্য প্যানেলভিত্তিক প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে। ব্রঙ্কসে প্রস্তবিত কুনু-ফিরোজ প্যানেলের মতবিনিময় সভা হয়েছে। সেখানে গঠিত হয়েছে নির্বাচন পরিচালন কমিটিও। 
অন্যদিকে, বর্তমান কার্যকরী কমিটিতে থাকা সেলিম-আলী প্যানেলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরু হয়নি। তবে ওজোন পার্কে এই প্যানেলের চার প্রার্থীর পক্ষে একটি সভা হয়েছে। চার প্রার্থীই বিয়ানীবাজারের বাসিন্দা। তাদের সমর্থনে আয়োজিত সভাটি পরে বিশাল রূপ নেয়। সেখানে সেলিম-আলী প্যানেলের অধিকাংশ প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন। 
ব্রঙ্কসে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সমাবেশ : আসন্ন বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্রঙ্কসে বিশাল সমাবেশের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে কুনু-ফিরোজ পরিষদ। গত ১১ আগস্ট মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ব্রঙ্কসের বাংলাবাজারের গোল্ডেন প্যালেস মিলনায়তনে পরিষদের ব্রঙ্কস ব্যরো কমিটির উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ব্রঙ্কসের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশির অংশগ্রহণে সভাটি একপর্যায়ে বড় ধরনের নির্বাচনী সমাবেশে রূপ নেয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি ও ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান এমএ আজিজ বর্তমান কমিটির কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। 
তিনি অভিযোগ করেন, কবরস্থান ক্রয়ের জন্য দেয়া অর্থ দিয়ে কবরস্থান না কিনে সেই অর্থ ফেরৎ নিয়ে বর্ষপূর্তির নামে নাচ-গানের অনুষ্ঠানে ব্যয় করা হয়েছে, যা বাংলাদেশ সোসাইটির জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। বর্তমান কমিটি তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ও বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং জামিল আনসারীর সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দিকী, বাবুল চৌধুরী, ফারুক চৌধুরী, আনোয়ার হোসাইন, রফিকুল ইসলাম ডালিম, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মইনুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী শেফাজ, অধ্যাপক শাহজাহান এবং কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী খসরু।
সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত এবং দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা আবুল কাসেম ইয়াহিয়া। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন মো. ফুল মিয়া।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন নুরুল আলম জিকু, আলতাফ হোসেন, জগলুল চৌধুরী মঞ্জুর, জাবেদ উদ্দিন, লেইছ চৌধুরী, বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কসের প্রচার সম্পাদক শেখ শফিকুর রহমান, সাংবাদিক এম ইদ্রিছ আলী, গোল্ডেন প্যালেসের কর্ণধার বেলাল ইসলাম, আখতারুজ্জামান হ্যাপি, মোজাফ্ফর হোসেন, অধ্যাপক আব্দুল করিম, মোশাহিদ চৌধুরী ও মোস্তাকুর রহমান লিটন। 
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতি প্রার্থী আজমল হোসেন কুনু তার বক্তব্যের একপর্যায়ে কুনু-ফিরোজ পরিষদের প্রার্থীদের উপস্থিত সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন- সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রার্থী দুলাল মেহেদু, সহ-সভাপতি প্রার্থী আবুল কালাম, সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ফিরোজ আহমেদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী নওশাদ হোসেন এবং কয়েস আহমেদ, আব্দুল বাসির, ইঞ্জিনিয়ার আলম, আবুল বাশার ও মুর্শেদ আলম। ব্রঙ্কস থেকে পরিষদের চার প্রার্থী হলেনÑ সৈয়দ গৌছুল হোসেন, জামিল আনসারি, মাইনুদ্দিন নটু ও কাজী হাসান।
অনুষ্ঠানে কুনু-ফিরোজ পরিষদের ব্রঙ্কস ব্যরো নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দের নামও ঘোষণা করা হয়। এতে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে সোলায়মান ভূঁইয়া, প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী, আহ্বায়ক হিসেবে আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী খসরু, সদস্যসচিব হিসেবে কৃষিবিদ সুলায়মান এবং প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে লেইছ চৌধুরী চেয়ারম্যানের নাম ঘোষণা করা হয়। পূর্ণাঙ্গ কমিটি পরে ঘোষণা করা হবে বলে সভায় জানানো হয়।
এমএ আজিজ বলেন, ‘আজ বাংলাদেশ সোসাইটি যেভাবে চলছে, এভাবে চলতে থাকলে একদিন সংগঠনটি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। তাই সংগঠনের স্বার্থে সাবেক সফল সভাপতি আজমল হোসেন কুনু ও ফিরোজ আহমেদের নেতৃত্বাধীন কুনু-ফিরোজ পরিষদকে আমি সমর্থন দিয়েছি।’
সভাপতি প্রার্থী আজমল হোসেন কুনু বলেন, ‘আমাদের নির্বাচিত করলে আপনাদের কাছে জবাবদিহির প্রশ্ন এড়িয়ে যাবো না। আমাদের পরিষদ যে প্রতিশ্রুতি দেবে, তা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করবে, ইনশাআল্লাহ।’
সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি যেভাবে এগিয়ে যাওয়ার কথা ছিল, নেতৃত্বের দক্ষতার অভাবে সেভাবে অগ্রগতি হয়নি। আমরা নির্বাচিত হলে মানুষের চাহিদা অনুযায়ী সব সেবামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে কাজ করবো, ইনশাআল্লাহ।’
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি অধ্যুষিত অন্যতম বৃহৎ এলাকা ব্রঙ্কসের বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী মতবিনিময় সভায় যোগ দেন। উপস্থিতির কারণে গোল্ডেন প্যালেস মিলনায়তনের আসন পূর্ণ হয়ে যায় এবং অনেককে দাঁড়িয়ে অনুষ্ঠান উপভোগ করতে দেখা যায়। আয়োজকেরা এ উপস্থিতিকে কুনু-ফিরোজ পরিষদের প্রতি ব্রঙ্কসবাসীর সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সবশেষে উপস্থিত অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের নৈশভোজে আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
বিয়ানীবাজারের চার প্রার্থীর পক্ষে মতবিনিময় সভা : বিয়ানীবাজারের মুরব্বি ও তরুণ সমাজের সঙ্গে বাংলাদেশ সোসাইটির আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বিয়ানীবাজারের চার প্রার্থীর প্রার্থিতা নিয়ে এক আন্তরিক ও প্রাণবন্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় বিপুলসংখ্যক মুরব্বি, তরুণ ও কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতি চার প্রার্থীর প্রতি বিয়ানীবাজারবাসীর আন্তরিকতা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটায়। বিশেষ করে প্রবীণ মুরব্বিদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি এবং তাঁদের মূল্যবান মতামত চার প্রার্থীকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে।
বিয়ানীবাজার সমিতির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে এবং সমিতির নির্বাচন কমিশনের অন্যতম সদস্য আমিনুল হোসেনের সঞ্চালনায় সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত ও দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা রফিক উদ্দীন।
সভায় সঞ্চালক বাংলাদেশ সোসাইটির আসন্ন নির্বাচনে বিয়ানীবাজার থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আগ্রহী চার প্রার্থীকে উপস্থিত সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। তাঁরা হলেন বাংলাদেশ সোসাইটির বর্তমান সাংস্কৃতিক সম্পাদক অনিক রাজ, প্রচার সম্পাদক রিজু মোহাম্মদ, কার্যকরী সদস্য হাছান খান এবং বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি মরহুম কামাল আহমদের কন্যা রুমানা আহমদ।
চার প্রার্থীর পক্ষ থেকে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রিজু মোহাম্মদ। তিনি অত্যন্ত বিনয় ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে উপস্থিত মুরব্বি ও তরুণ সমাজের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, অতীতে বিয়ানীবাজারবাসী তাঁদের আস্থা ও ভালোবাসা দিয়ে নির্বাচিত করে বাংলাদেশ সোসাইটিতে পাঠিয়েছেন। সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা এবং বিয়ানীবাজার উপজেলার সম্মান ও মর্যাদা সমুন্নত রাখার জন্য তাঁরা সাধ্যমতো কাজ করেছেন।
তিনি বলেন, “আমাদের কোনো কর্মকাণ্ডের কারণে যেন আমাদের মুরব্বি, আমাদের জন্মস্থান এবং বিয়ানীবাজারের মানুষের সম্মান ক্ষুণ্ন না হয়, আমরা সবসময় সেই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেছি।”
আসন্ন বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি জানান, গত নির্বাচনে যে সেলিম-আলী পরিষদ থেকে তাঁরা নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন, এবারও সেই পরিষদ থেকে তাঁদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিয়ানীবাজারের মুরব্বি ও তরুণ সমাজের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কারণেই এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে।
রিজু মোহাম্মদ বলেন, “আপনারা যদি আমাদের চারজনকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি ও সমর্থন দেন, তাহলে আমরা সেলিম-আলী পরিষদের সঙ্গে নির্বাচন করতে আগ্রহী। তবে আপনারা যদি মনে করেন, বিয়ানীবাজার থেকে আমাদের চেয়েও যোগ্য কোনো প্রার্থীকে সামনে আনা উচিত, সেটিও আপনারা বিবেচনা করতে পারেন। আপনাদের যে সিদ্ধান্তই হোক, আমরা সেটিকে সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করব এবং বিয়ানীবাজারের স্বার্থে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।”
তিনি আরও জানান, গত প্রায় এক বছর ধরে বিয়ানীবাজারসহ বৃহত্তর কমিউনিটির সদস্য নিবন্ধন কার্যক্রমে চার প্রার্থী সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন এবং প্রবাসীদের সদস্যপদ গ্রহণে উৎসাহিত করেছেন। বিশেষ করে বিয়ানীবাজার উপজেলার সদস্য নিবন্ধন কার্যক্রমে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। 
পরবর্তীতে অপর তিন প্রার্থীও তাঁদের বক্তব্য তুলে ধরেন এবং বিয়ানীবাজারের মুরব্বি ও তরুণ সমাজের পরামর্শ, দিকনির্দেশনা ও সিদ্ধান্তকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বিয়ানীবাজার সমিতির সাবেক সভাপতি মকবুল রহিম চুনই, মোস্তফা কামাল, উপদেষ্টা গহর চৌধুরী কিনু, অধ্যাপক কামাল চৌধুরী, শাহীন চৌধুরী, এনাম আহমদ, ছমীর উদ্দিন, সাবেক রেফারি ইসলাম উদ্দীন, মরহুম কামাল আহমদের ভাই আবুল ফজল লিটন, আব্দুল করিম, উজ্জ্বল চৌধুরী, শাব্বির আহমদ, ফয়সল আলমসহ আরও অনেকে।
সভায় উপস্থিত মুরব্বিরা চার প্রার্থীর বিষয়ে উপস্থিত সবার মতামত জানতে চাইলে উপস্থিত সকলে হাত তুলে তাঁদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রতি সমর্থন জানান। মুহূর্তটি সভায় এক আবেগঘন ও উৎসাহপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করে।
এ সময় চার প্রার্থী মুরব্বি এবং উপস্থিত সবার এই ভালোবাসা, আস্থা ও সমর্থনে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, এই সমর্থন তাঁদের জন্য শুধু নির্বাচনী শক্তি নয়, বরং বিয়ানীবাজারের মানুষের প্রতি আরও বেশি দায়িত্বশীল হওয়ার অনুপ্রেরণা।
সভায় বিপুলসংখ্যক বিশিষ্ট ব্যক্তি ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন আজিজুর রহমান পাখি, মকবুল রহিম চুনই, ছমির উদ্দিন, মোস্তফা কামাল, আঃ হান্নান কটন, ফারুক আহমদ, এনাম উদ্দিন, আঃ হামিদ, আব্দুল করিম, আহমদ হোসেন, গহর কিনু চৌধুরী, ময়েজ উদ্দিন, আহমদ মুস্তফা বাবুল, শাহীন চৌধুরী, আব্দুল আহাদ, কামাল চৌধুরী, আব্দুল জলিল বাবুল, ফখর উদ্দিন লোদী, সেহিমুল্স তানিম, শাহিন আহমদ, আবুল হোসেন, নাজিম উদ্দিন, মাহবুব আহমদ জনু, রফিকুল আলম বাবু, ফখরুল ইসলাম, আলি হাসান চৌধুরী বাবলা, মোহাম্মদ নুরুল সায়েব, শাব্বির আহমদ, মোহাম্মদ আসিফ, হেলাল উদ্দিন, আবুল ফজল লিটন, হারিছ আলী, মিজানুর রহমান, মামুনুর রশীদ, ফয়সল আহমদ, মুন্না আহমদ, জসিম উদ্দিন, ইব্রাহীম, অলিউর রায়েন, তারেক আহমদ, মাসুম মুন্না বখসী, আশরাফুজ্জামান মুক্তা, রেদ্বোয়ান আল মামুন, জিল্লুর রহমান, মোহাম্মদ হাফিজ লোদী, জুনায়েদ উদ্দিন, আদনান খান রবি, তাহিদুর রহমান তওয়াব, আহরার হোসেন রিফাত, শাহেদুজ্জামান অনিক, আহলাম হোসেন, কায়েস আহমদ, খালেদ খান, মোঃ আনিছুর রহমান, সুহেল আহমদ, মাতবুর রহমান মাতাব, জালাল আহমদ, জামিল আহমদ ও আঃ গাফ্ফারসহ অনেকে।
সভাপতির বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, প্রবীণের অভিজ্ঞতা ও যুক্তি এবং তারুণ্যের শক্তি ও উদ্যমের কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, শুধু মতামত গ্রহণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; সেই মতামতকে বাস্তব কাজে পরিণত করতে হবে। 
তিনি চার প্রার্থীকে মুরব্বি ও তরুণ সমাজের সঙ্গে পরামর্শ করে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান এবং উপস্থিত সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন। 
অডিট রিপোর্ট না দেওয়ায়র অভিযোগ ওসমান চৌধুরীর : ঠিকানা রিপোর্ট: বাংলাদেশ সোসাইটির অডিট রিপোর্ট চেয়েছেন সোসাইটির আসন্ন নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসাবে প্রচারনা চালানো প্রার্থী ও সোসাইটির সাবেক নেতা ওসমান চৌধুরী। তিনি দাবি করেছেন, আদালতের পূর্ববর্তী আদেশ অনুযায়ী গত বছরের ৩১ অক্টোবর এর মধ্যে প্রয়োজনীয় নথি সরবরাহ করার কথা থাকলেও বাংলাদেশ সোসাইটির পক্ষ থেকে তিনি তার চাওয়া অভ্যন্তরীণ অডিট রিপোর্ট এখনো পাননি। 
আদালতের নির্ধারিত সময়সীমার পরও সোসাইটির আইনজীবীর কাছে তিনি একাধিকবার চিঠি পাঠিয়েছেন। কিন্তু তিনি তার প্রয়োজনীয় রিপোর্ট পাননি। তার অভিযোগ সংশ্লিষ্ট নথি সরবরাহ না করে বিষয়টি দীর্ঘায়িত করা হয়েছে। 
ওসমান চৌধুরী দাবি করেছেন, সম্প্রতি বিবাদীপক্ষ ২০১৮ সালের একটি সার্টিফাইড পাবলিক অ্যাকাউটেন্ট (সিপিএ) রিপোর্ট তাকে দিয়েছে। এটি তার চাওয়া ইন্টারনাল অডিট রিপোর্ট নয়। বাংলাদেশ সোসাইটির ২০১৪ সাল থেকে পরবর্তী বছরগুলোর অভ্যন্তরীণ অডিট রিপোর্ট চেয়েছিলেন। কিন্তু তা পাচ্ছেন না। 
ওসমান এ চৌধুরী জানান, বাংলাদেশ সোসাইটি ইনকর্পোরেটেডের অভ্যন্তরীণ অডিট রিপোর্ট সংক্রান্ত একটি চলমান মামলায় আদালতের নির্দেশনা চেয়েছি। নিউইয়র্কের আদালতে চলমান ওসমান চৌধুরী ভার্সেস বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক.ইটি,এএল মামলায়, ইনডেক্স নম্বর ৭২৬৭৩০/২০২১-এর প্রেক্ষাপটে তিনি ৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে মাননীয় বিচারক টিমোথি জে. ডাফিসি-এর কাছে লিখিতভাবে এ আবেদন জানান।
চিঠিতে ওসমান চৌধুরী দাবি করেন, আদালতের পূর্ববর্তী আদেশ অনুযায়ী ৩১ অক্টোবর ২০২৫-এর মধ্যে প্রয়োজনীয় নথি সরবরাহ করার কথা থাকলেও বাংলাদেশ সোসাইটির পক্ষ থেকে তিনি চাহিদাকৃত অভ্যন্তরীণ অডিট রিপোর্ট এখনো পাননি। তিনি জানান, আদালতের নির্ধারিত সময়সীমার পরও বিবাদীপক্ষের আইনজীবীর কাছে তিনি একাধিকবার সদিচ্ছাপূর্ণ চিঠি পাঠিয়েছেন। তবে তার অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট নথি সরবরাহ না করে বিষয়টি দীর্ঘায়িত করা হয়েছে।
ওসমান চৌধুরীর ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি বিবাদীপক্ষ ২০১৮ সালের একটি সার্টিফাইড পাবলিক অ্যাকাউটেন্ট (সিপিএ) রিপোর্ট তাকে দিয়েছে। কিন্তু তিনি দাবি করেন, এটি তার চাওয়া ইন্টারনাল অডিট রিপোর্ট নয়। তার বক্তব্য, তিনি বাংলাদেশ সোসাইটির ২০১৪ সাল থেকে পরবর্তী বছরগুলোর অভ্যন্তরীণ অডিট রিপোর্ট চেয়েছিলেন।
চিঠিতে আরও বলা হয়, বিবাদীপক্ষের দাবি-আগের নির্বাহী কমিটি তাদের কাছে সংশ্লিষ্ট অভ্যন্তরীণ রিপোর্টগুলো হস্তান্তর করেনি। এ অবস্থায় ওসমান চৌধুরী আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছেন।
তিনি আদালতের কাছে ডিসকভারী মোশন দাখিলের অনুমতি ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়েছেন। একই সঙ্গে, বিবাদীপক্ষের জবাব বাতিল (স্ট্রাইকিং দ্য আনসার), নির্দিষ্ট বিষয়ে প্রিক্লুসন এবং আদালতের আদেশ অমান্যের জন্য কনটেম্পট-সংক্রান্ত আবেদন করার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধও জানিয়েছেন।
চিঠিতে ওসমান চৌধুরী বলেন, সংশ্লিষ্ট নথি পাওয়ার জন্য তিনি আদালতের হস্তক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এ বিষয়ে তিনি এনওয়াইএসসিইএফ ডক নম্বর ৭৯-এর প্রতি আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে আইনজীবী অ্যান্ড্রু মলিনসকে। তার ঠিকানা হিসেবে স্টাইনওয়ে স্ট্রিট, অ্যস্টোরিয়া, নিউইয়র্ক এর ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে। ও তার ফোন নম্বরও উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ওসমান চৌধুরীর চিঠিতে উত্থাপিত বিষয়গুলো তার পক্ষের বক্তব্য ও অভিযোগ। আদালত এ বিষয়ে পরবর্তী কী নির্দেশনা দেন বা ডিসকভারী, প্রিক্লুসন কিংবা কনটেম্পট সংক্রান্ত কোনো আবেদন গ্রহণ করেন কি না-তা আদালতের পরবর্তী আদেশের ওপর নির্ভর করবে। 
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]