প্রতিবছর ২০ জুন পালিত হওয়া বিশ্ব শরণার্থী দিবসের ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য হলো ‘শরণার্থীদের প্রতি সংহতি’ (‘Solidarity with Refugees’ A_ev ‘Until Everyone Is Safe’), যা বিশ্বজুড়ে সংঘাত বা নিপীড়নের কারণে বাস্তুচ্যুত হওয়া মানুষদের সুরক্ষা, মর্যাদা এবং শরণার্থীদের সুরক্ষা ও মর্যাদার প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করার আহ্বান জানায়।
সংঘাত বা নিপীড়ন থেকে বাঁচতে নিজ দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হওয়া মানুষদের শক্তি ও সাহসিকতাকে এই দিনটি সম্মান জানায়। এ বছরের মূলভাব হলো ‘শরণার্থীদের প্রতি সংহতি’, যা মানুষকে শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পালিয়ে আসতে বাধ্য হওয়া মানুষদের সমর্থনে অর্থপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানায়।
শরণার্থী বা উদ্বাস্তু (ইংরেজি : refugee) হচ্ছে এমন ব্যক্তি, যিনি নিজ ভূমি ছেড়ে অথবা আশ্রয়ের সন্ধানে অন্য দেশে অস্থায়ীভাবে অবস্থান করেন। জাতিগত সহিংসতা, ধর্মীয় উগ্রতা, জাতীয়তাবোধ, রাজনৈতিক আদর্শগত কারণে সমাজবদ্ধ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তাহীনতাই এর প্রধান কারণ।
আমরা যদি ইতিহাসের দিকে তাকাই, তাহলে দেখি হিজরত করে মানুষ বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে গিয়েছে ধর্ম প্রচার করতে। ধর্ম প্রচারকের পরিবারের পরবর্তী প্রজন্ম আবার জীবন-জীবিকার তাগিদে মাইগ্রেশন করছে অন্য দেশে। আবার আমাদের মতো দেশের বেশির ভাগ মানুষ শুধু একটু ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য, পরিবারকে ভালো রাখার জন্য উন্নত দেশে অনেক ঝুঁকি নিয়ে পাড়ি দেয় এবং একসময় হয়ে যায় শরণার্থী।
২০২৬ সালের বিশ্ব শরণার্থী দিবসের থিম ‘শরণার্থীদের প্রতি সংহতি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে শরণার্থী সপ্তাহ ২০২৬ আমাদের ‘সাহস’-এই বিষয়বস্তুটি অন্বেষণ করতে আহ্বান জানাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে শরণার্থীদের জন্য সাহস একটি দৈনন্দিন প্রয়োজন।
বিশ্ব শরণার্থী দিবসের হ্যাশট্যাগ হলো বিশ্ব শরণার্থী দিবস আসন্ন, এ উপলক্ষে জেআরএস বিশ্বজুড়ে সকল মানুষকে শরণার্থীদের পাশে দাঁড়াতে এবং নিরাপত্তা ও সুরক্ষা চাওয়ার অধিকারকে সমর্থন করতে আহ্বান জানাচ্ছে। আমরা যদি অ্যালান গ্রাৎজের লেখা ‘রিফিউজি’ বইটিতে আলোকপাত করি, তাহলে দেখি, ইসাবেল এমন একটি চরিত্র, যিনি কিউবা থেকে পালিয়ে আসার সময় বহু প্রতিকূলতা সহ্য করেন। তার একটি উল্লেখযোগ্য উক্তি হলো : ‘আমরা ভয়কে আমাদের থামাতে দেব না। এখানে থেকে যাওয়ার চেয়ে ঝুঁকি নেওয়াই ভালো।’ এই উক্তিটি বিপদের মুখে তার সাহস ও দৃঢ়সংকল্পকে ফুটিয়ে তোলে।
জেনেভা কনভেনশন শরণার্থী হওয়ার পাঁচটি কারণ উল্লেখ করে, যার ভিত্তিতে শরণার্থী মর্যাদা স্বীকৃত হয়। এগুলো হলো জাতি, ধর্ম, জাতীয়তা, কোনো নির্দিষ্ট সামাজিক গোষ্ঠীর সদস্যপদ এবং রাজনৈতিক মতামত। এগুলো পরস্পর বিচ্ছিন্ন নয় এবং কোনো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে একাধিক কারণ প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
ধরা যাক, আমাদের বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সমস্যা, রোহিঙ্গাদের নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে চলমান সংকট ঝুলে রয়েছে বছরের পর বছর। সীমান্ত অতিক্রম করে মিয়ানমারের এই নাগরিকদের বাংলাদেশে ঢোকা থামানো যাচ্ছে না কোনোভাবেই। এই অবস্থায় রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন বিশ্লেষকেরা।
পরিশেষে আশা করতে পারি, পৃথিবীর সকল শরণার্থী নিরাপদ জীবন পাক। মৌল মানবিক চাহিদা পূরণ করে আত্মসম্মান নিয়ে জীবন যাপন করুক। শুভকামনা।
সংঘাত বা নিপীড়ন থেকে বাঁচতে নিজ দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হওয়া মানুষদের শক্তি ও সাহসিকতাকে এই দিনটি সম্মান জানায়। এ বছরের মূলভাব হলো ‘শরণার্থীদের প্রতি সংহতি’, যা মানুষকে শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পালিয়ে আসতে বাধ্য হওয়া মানুষদের সমর্থনে অর্থপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানায়।
শরণার্থী বা উদ্বাস্তু (ইংরেজি : refugee) হচ্ছে এমন ব্যক্তি, যিনি নিজ ভূমি ছেড়ে অথবা আশ্রয়ের সন্ধানে অন্য দেশে অস্থায়ীভাবে অবস্থান করেন। জাতিগত সহিংসতা, ধর্মীয় উগ্রতা, জাতীয়তাবোধ, রাজনৈতিক আদর্শগত কারণে সমাজবদ্ধ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তাহীনতাই এর প্রধান কারণ।
আমরা যদি ইতিহাসের দিকে তাকাই, তাহলে দেখি হিজরত করে মানুষ বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে গিয়েছে ধর্ম প্রচার করতে। ধর্ম প্রচারকের পরিবারের পরবর্তী প্রজন্ম আবার জীবন-জীবিকার তাগিদে মাইগ্রেশন করছে অন্য দেশে। আবার আমাদের মতো দেশের বেশির ভাগ মানুষ শুধু একটু ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য, পরিবারকে ভালো রাখার জন্য উন্নত দেশে অনেক ঝুঁকি নিয়ে পাড়ি দেয় এবং একসময় হয়ে যায় শরণার্থী।
২০২৬ সালের বিশ্ব শরণার্থী দিবসের থিম ‘শরণার্থীদের প্রতি সংহতি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে শরণার্থী সপ্তাহ ২০২৬ আমাদের ‘সাহস’-এই বিষয়বস্তুটি অন্বেষণ করতে আহ্বান জানাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে শরণার্থীদের জন্য সাহস একটি দৈনন্দিন প্রয়োজন।
বিশ্ব শরণার্থী দিবসের হ্যাশট্যাগ হলো বিশ্ব শরণার্থী দিবস আসন্ন, এ উপলক্ষে জেআরএস বিশ্বজুড়ে সকল মানুষকে শরণার্থীদের পাশে দাঁড়াতে এবং নিরাপত্তা ও সুরক্ষা চাওয়ার অধিকারকে সমর্থন করতে আহ্বান জানাচ্ছে। আমরা যদি অ্যালান গ্রাৎজের লেখা ‘রিফিউজি’ বইটিতে আলোকপাত করি, তাহলে দেখি, ইসাবেল এমন একটি চরিত্র, যিনি কিউবা থেকে পালিয়ে আসার সময় বহু প্রতিকূলতা সহ্য করেন। তার একটি উল্লেখযোগ্য উক্তি হলো : ‘আমরা ভয়কে আমাদের থামাতে দেব না। এখানে থেকে যাওয়ার চেয়ে ঝুঁকি নেওয়াই ভালো।’ এই উক্তিটি বিপদের মুখে তার সাহস ও দৃঢ়সংকল্পকে ফুটিয়ে তোলে।
জেনেভা কনভেনশন শরণার্থী হওয়ার পাঁচটি কারণ উল্লেখ করে, যার ভিত্তিতে শরণার্থী মর্যাদা স্বীকৃত হয়। এগুলো হলো জাতি, ধর্ম, জাতীয়তা, কোনো নির্দিষ্ট সামাজিক গোষ্ঠীর সদস্যপদ এবং রাজনৈতিক মতামত। এগুলো পরস্পর বিচ্ছিন্ন নয় এবং কোনো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে একাধিক কারণ প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
ধরা যাক, আমাদের বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সমস্যা, রোহিঙ্গাদের নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে চলমান সংকট ঝুলে রয়েছে বছরের পর বছর। সীমান্ত অতিক্রম করে মিয়ানমারের এই নাগরিকদের বাংলাদেশে ঢোকা থামানো যাচ্ছে না কোনোভাবেই। এই অবস্থায় রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন বিশ্লেষকেরা।
পরিশেষে আশা করতে পারি, পৃথিবীর সকল শরণার্থী নিরাপদ জীবন পাক। মৌল মানবিক চাহিদা পূরণ করে আত্মসম্মান নিয়ে জীবন যাপন করুক। শুভকামনা।