বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি নিয়ে পত্রপত্রিকায় খবর প্রকাশিত হচ্ছে সব সময়ই। কিন্তু তা নিয়ে কথাবার্তা তেমন শোনা যায় না। অথচ জনশক্তি রপ্তানি থেকে আয়ই ছিল জাতীয় আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। সেই উৎসের বর্তমান কী অবস্থা, ভালো-মন্দ কিছুই তেমন শোনা যায় না। দীর্ঘদিন থেকেই বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বেশ বেহাল অবস্থা। বিশেষ করে, কোভিড-১৯ এর অতিমারির কারণে জনশক্তি আমদানিকারক অনেক দেশেই জনশক্তির বাজার অনেকটাই সংকুচিত হয়েছে বটে, তবে একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে এ কথা ঠিক নয়। যতটুকু সুযোগ আছে, আমরা তার যথার্থ ব্যবহার করতে পারছি কি না, সে প্রশ্নও সামনে আসে। এ সত্য তো বারবার প্রমাণিত হয়েছে, অনেক সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সেসব হাতছাড়া হয়েছে আমাদের নিজেদের দোষে, কখনো আমলাতান্ত্রিক জটিলতায়।
বাংলাদেশে একটি প্রবাসী মন্ত্রণালয় আছে। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, দফতর-কর্মকর্তা-কর্মচারী সবই আছে। মাঝে মাঝে তারা বিদেশ সফরেও যান। প্রবাসীদের উন্নয়ন বা বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে তাদের সাফল্য কী, সেটা আর কারও চোখে পড়ে না। আমাদের দেশে মন্ত্রী-এমপি, সরকারি কর্মকর্তাদের যত হাঁকডাক, তর্জন-গর্জন, তত বর্ষে না। দোষ না নিলে সাহস করে বলা যায়, ‘শূন্য পাত্র বাজে বেশি’-এই প্রবাদ বাক্যটির মতো। তোড়জোড়, হাঁকডাক, প্রচার-প্রচারণায় যত, ফল দিতে তত দেখা যায় না।
গৌরচন্দ্রিকা হিসেবে কথাগুলো বলা হলো পত্রিকায় আবারও জনশক্তি রপ্তানি নিয়ে একটি সংবাদ চোখে পড়ায়। ঠিকানার গত ২৯ জুলাই সংখ্যার প্রথম পৃষ্ঠায় খবরটি প্রকাশিত হয়েছে। শিরোনাম : ‘জনশক্তি রপ্তানির মহাপরিকল্পনা’। মহাপরিকল্পনা বা মেগা প্রকল্পের কথা শুনলেই ভয় লাগে। ‘ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ডরায়’ যেমন, ঠিক তেমনি। অতীতের অভিজ্ঞতা তেমনই বলে।
খবরটিতে বলা হয়েছে, ‘মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক প্রচলিত শ্রমবাজারের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ায় সরকার দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ইউরোপ, পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকা ও এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ জনশক্তি তৈরি, ভাষা শিক্ষার বিস্তার এবং কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের মাধ্যমে পাঁচ বছরে দেশে ও বিদেশে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চলতি বছর ১৫ লাখ এবং আগামী বছর ২০ লাখ কর্মী বিদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।’ একই সঙ্গে শ্রমচুক্তি, প্রয়োজনে লবিস্ট নিয়োগ এবং অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে স্বচ্ছ নিয়োগ-ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।
খবরটিতে আরও অনেক আশাবাদের কথা আছে, যা সত্যি সত্যি আমাদের আশাবাদী করে তোলে। কিন্তু আশাবাদ কেবল কল্পনায় আটকে থাকলেই হবে না। তার বাস্তবায়ন না হলে সে আশাবাদ হতাশায় নিমজ্জিত হয়। তাই সরকার জনশক্তি রপ্তানির যে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তার প্রতি সাধারণ মানুষ অকুণ্ঠ সমর্থন জানাবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কেননা স্বপ্নভঙ্গের প্রথম শিকার হয় খেটে খাওয়া মানুষ। যারা তাদের শেষ সম্বল বিক্রি করে বিদেশে গিয়ে ভাগ্য গড়ার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু তারা নানাভাবে প্রতারণার শিকার হন। সরকার অনুমোদিত এজেন্টরাও সরকার নির্ধারিত অর্থের চেয়েও নানা ছলচাতুরী করে অধিক অর্থ আদায় করে নেন বিদেশগামী শ্রমিকদের কাছ থেকে। অনেকে আবার প্রতারক দালালদের খপ্পরে পড়ে সহায়-সম্বল সব হারান। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে প্রাণ পর্যন্ত বিসর্জন দেন। তাদের মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায় না।
সব বিবেচনায় এবারে গৃহীত মহাপরিকল্পনায় বিদেশগামী মানুষদের এসব দুর্ভোগের অবসান ঘটবেÑএই প্রত্যাশা। তা ছাড়া দালালদের জালে আটকে পড়ার আশঙ্কাও হ্রাস পাবে। দেশে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের চাপ কমবে, কর্মসংস্থানের সুযোগও সম্প্রসারিত হবে। সরকার যেন এই প্রকল্প বাস্তবায়নে আন্তরিক হয়।
বাংলাদেশে একটি প্রবাসী মন্ত্রণালয় আছে। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, দফতর-কর্মকর্তা-কর্মচারী সবই আছে। মাঝে মাঝে তারা বিদেশ সফরেও যান। প্রবাসীদের উন্নয়ন বা বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে তাদের সাফল্য কী, সেটা আর কারও চোখে পড়ে না। আমাদের দেশে মন্ত্রী-এমপি, সরকারি কর্মকর্তাদের যত হাঁকডাক, তর্জন-গর্জন, তত বর্ষে না। দোষ না নিলে সাহস করে বলা যায়, ‘শূন্য পাত্র বাজে বেশি’-এই প্রবাদ বাক্যটির মতো। তোড়জোড়, হাঁকডাক, প্রচার-প্রচারণায় যত, ফল দিতে তত দেখা যায় না।
গৌরচন্দ্রিকা হিসেবে কথাগুলো বলা হলো পত্রিকায় আবারও জনশক্তি রপ্তানি নিয়ে একটি সংবাদ চোখে পড়ায়। ঠিকানার গত ২৯ জুলাই সংখ্যার প্রথম পৃষ্ঠায় খবরটি প্রকাশিত হয়েছে। শিরোনাম : ‘জনশক্তি রপ্তানির মহাপরিকল্পনা’। মহাপরিকল্পনা বা মেগা প্রকল্পের কথা শুনলেই ভয় লাগে। ‘ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ডরায়’ যেমন, ঠিক তেমনি। অতীতের অভিজ্ঞতা তেমনই বলে।
খবরটিতে বলা হয়েছে, ‘মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক প্রচলিত শ্রমবাজারের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ায় সরকার দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ইউরোপ, পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকা ও এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ জনশক্তি তৈরি, ভাষা শিক্ষার বিস্তার এবং কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের মাধ্যমে পাঁচ বছরে দেশে ও বিদেশে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চলতি বছর ১৫ লাখ এবং আগামী বছর ২০ লাখ কর্মী বিদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।’ একই সঙ্গে শ্রমচুক্তি, প্রয়োজনে লবিস্ট নিয়োগ এবং অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে স্বচ্ছ নিয়োগ-ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।
খবরটিতে আরও অনেক আশাবাদের কথা আছে, যা সত্যি সত্যি আমাদের আশাবাদী করে তোলে। কিন্তু আশাবাদ কেবল কল্পনায় আটকে থাকলেই হবে না। তার বাস্তবায়ন না হলে সে আশাবাদ হতাশায় নিমজ্জিত হয়। তাই সরকার জনশক্তি রপ্তানির যে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তার প্রতি সাধারণ মানুষ অকুণ্ঠ সমর্থন জানাবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কেননা স্বপ্নভঙ্গের প্রথম শিকার হয় খেটে খাওয়া মানুষ। যারা তাদের শেষ সম্বল বিক্রি করে বিদেশে গিয়ে ভাগ্য গড়ার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু তারা নানাভাবে প্রতারণার শিকার হন। সরকার অনুমোদিত এজেন্টরাও সরকার নির্ধারিত অর্থের চেয়েও নানা ছলচাতুরী করে অধিক অর্থ আদায় করে নেন বিদেশগামী শ্রমিকদের কাছ থেকে। অনেকে আবার প্রতারক দালালদের খপ্পরে পড়ে সহায়-সম্বল সব হারান। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে প্রাণ পর্যন্ত বিসর্জন দেন। তাদের মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায় না।
সব বিবেচনায় এবারে গৃহীত মহাপরিকল্পনায় বিদেশগামী মানুষদের এসব দুর্ভোগের অবসান ঘটবেÑএই প্রত্যাশা। তা ছাড়া দালালদের জালে আটকে পড়ার আশঙ্কাও হ্রাস পাবে। দেশে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের চাপ কমবে, কর্মসংস্থানের সুযোগও সম্প্রসারিত হবে। সরকার যেন এই প্রকল্প বাস্তবায়নে আন্তরিক হয়।