কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে মৃত্যু বেড়ে ১৮১, ধ্বংসস্তূপে আটকা অনেকে

প্রকাশ : ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৪৪ , অনলাইন ভার্সন
৭ দশমিক ৪ মাত্রার ওই ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কালি ও পেরেইরা এলাকা; এখনো নিখোঁজ প্রায় ২০০ মানুষ।
কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ধসে পড়া ভবন ও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা।

বিবিসি জানিয়েছে, সোমবারের ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ওই ভূমিকম্পে অন্তত ১৮১ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে দেশটির সরকার ।
তবে স্থানীয় কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য মেলানো হলে মৃতের সংখ্যা ২৪০ ছাড়িয়ে যেতে পারে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের ভাষ্য। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে কালি ও পেরেইরা শহরে।
স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে ওই ভূমিকম্প আঘাত হানে। পশ্চিম কলম্বিয়াজুড়ে কয়েকশ মাইল এলাকায় এর কম্পন অনুভূত হয়। মঙ্গলবারও দেশটির বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক পরাঘাত অনুভূত হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা।
মঙ্গলবার ক্ষতিগ্রস্ত শহর পেরেইরা থেকে পরিস্থিতি নিয়ে হালনাগাদ তথ্য দেন প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, নিহতদের পাশাপাশি প্রায় ২ হাজার ৬০০ মানুষ আহত হয়েছেন এবং প্রায় ২০০ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ১১ শর বেশি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও ৮ হাজারের বেশি বাড়ি।
সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত পেরেইরা ও কালিসহ বিভিন্ন শহরে অনেক মানুষ খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছেন। কারও বাড়ি ধসে পড়েছে, আবার কেউ ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কায় ঘরে ফেরেননি।

কালিতে ধ্বংসস্তূপে শত শত মানুষ
২ কোটি ২০ লাখ মানুষের শহর কালিতে এখন পর্যন্ত ৯৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। উদ্ধার তৎপরতা সমন্বয়ের জন্য সেখানে একটি কেন্দ্রীয় কমান্ড পোস্ট স্থাপন করা হয়েছে।
কালির মেয়র আলেহান্দ্রো এদের মঙ্গলবার জানান, শহরের বিভিন্ন স্থাপনায় ২৩৯ জন এখনও আটকা পড়ে আছেন। আহত হয়েছেন ৯৪৯ জন। শহরে ৪৫টি ভবন পুরোপুরি বা আংশিকভাবে ধসে পড়েছে।
শহরের একটি হাসপাতালের ওপরের কয়েকটি তলাও ধসে পড়েছে। এর কয়েকটি অংশে শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হত। ধসের পর সেখানে কয়েকজন রোগী আটকা পড়েন।
কালির উত্তরের কালিমা এলাকায় জিমনাসিও কালিমা স্কুলের একটি অংশ ধসে চার শিশু মারা গেছে। স্থানীয় মেয়র আন্তোনিও কাদাভিদ জানিয়েছেন, আরও কয়েকজন শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। মোট ৩০ শিশুকে চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।
দুর্যোগের এই পরিস্থিতির মধ্যে লুটপাট ঠেকাতে ওই এলাকায় রাতের বেলা কারফিউ জারি করেছেন মেয়র।

মঙ্গলবারও কালিতে কয়েক দফা কম্পন অনুভূত হয়। কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সোমবারের ভূমিকম্পের পর দেশজুড়ে ৭০টির বেশি পরাঘাত হয়েছে।
মঙ্গলবার ভোরে ৩ দশমিক ৬ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর একটি ছিল সান হোসে দেল পালমারে এবং অন্যটি সান্তান্দেরে।

পেরেইরায় উদ্ধার তৎপরতা
ফায়ার সার্ভিসের হিসাবে পেরেইরায় শহরে ৭৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সোশাল মিডিয়ায় আসা ভিডিওতে সেখানে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারে শত শত স্বেচ্ছাসেবীকে কাজ করতে দেখা গেছে।
পেরেইরার বিমানবন্দরের কাছে পারকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকার এক বাসিন্দা বিবিসিকে বলেন, শহরের পরিস্থিতি ভয়াবহ।

তিনি বলেন, শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। শহরের প্রধান চত্বর বলিভার স্কয়ারে অন্তত একটি ভবন ধসে পড়েছে। আরও কয়েকটি স্থাপনার নিচে বাস ও ট্রাক আটকে আছে। সেগুলোও ধসে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় মানুষ আতঙ্কে রয়েছে।
“আমরা সবাই হতবাক। ঘটনাটি সত্যিই ভয়াবহ ছিল,” বলেন ওই বাসিন্দা।

মানিজালেসেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
মানিজালেস শহরের মেয়র হোর্হে এদুয়ার্দো রোহাস জানিয়েছেন, সেখানে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। শহরের ৬০টি ভবন আংশিক বা পুরোপুরি ধসে পড়েছে।
পরবর্তী পরাঘাতের বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বাসিন্দাদের অজানা উৎস থেকে আসা চেইন মেসেজ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ছড়িয়ে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এ ধরনের বার্তায় মিথ্যা বা যাচাই না করা তথ্য থাকতে পারে, যা মানুষের মধ্যে আরও উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রস্তাব
ভূমিকম্পের পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে সহায়তার প্রস্তাব পাচ্ছে কলম্বিয়া।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে কলম্বিয়ার জনগণ ও সরকারের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন এবং দেশটির উদ্ধার ও জরুরি সাড়াদান কার্যক্রমে সহায়তার কথা জানিয়েছেন।

স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে মানুয়েল আলবারেস বলেছেন, কলম্বিয়ায় থাকা ১৬৪ জন স্প্যানিশ নাগরিক এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত স্পেনের কোনো নাগরিক নিহত বা আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কলম্বিয়াকে ১ কোটি ৫৫ লাখ ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। এ ছাড়া একুয়েডর, ব্রাজিল, এল সালভাদর ও ভেনেজুয়েলাও কলম্বিয়াকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে।

ঠিকানা/এসআর
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]