​কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃত বেড়ে ১১১, নিখোঁজ শত শত

প্রকাশ : ১১ অগাস্ট ২০২৬, ১১:১৫ , অনলাইন ভার্সন
কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ১১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। দেশটির কর্মকর্তারা এটিকে চলতি শতাব্দীতে দেশটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প বলে উল্লেখ করেছেন।
১০ আগস্ট (সোমবার) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে পশ্চিম কলম্বিয়ার কালি, পেরেইরা, কুইবদো ও মানিজালেসসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এটি প্রতিবেশী দেশ ইকুয়েডর ও পানামাতেও অনুভূত হয়েছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল রাজধানী বোগোটা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমারে। ভূমিকম্পটি ভূপৃষ্ঠের ১০৭ কিলোমিটার গভীরে আঘাত হানে। ভূমিকম্পের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ২১টি আফটারশক অনুভূত হয়েছে।

কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার বিধ্বংসী ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা
দেশের তৃতীয় বৃহত্তম শহর কালিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শহরটিতে অন্তত ২০টি ভবন ধসে পড়েছে এবং ৩৮০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বহু মানুষ আটকা পড়েছেন।

কালি শহরের ৬৪ বছর বয়সী ট্যাক্সিচালক হোর্হে মনকায়ো অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, ভবনগুলো ধসে পড়ার সময় শহরজুড়ে ধুলোর মেঘ আকাশ গ্রাস করেছিল।

তিনি বলেন, আমার পুরো বাড়িটা কেঁপে উঠেছিল। আমি জীবনে এত শক্তিশালী ভূমিকম্প দেখিনি। আমরা বেঁচে আছি বলে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

জরুরি অবস্থা জারি
প্রেসিডেন্ট হিসেবে আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলার শপথ গ্রহণের মাত্র কয়েক দিন পরেই কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পটি আঘাত হেনেছে। এ ঘটনায় নতুন প্রশাসন বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে।

ভূমিকম্পের পর দেশজুড়ে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট বলেন, জীবন রক্ষা করতে, ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়কে সহায়তা করতে এবং যেখানে প্রয়োজন সেখানে ত্রাণ পৌঁছে দিতে জাতীয় সরকার তার সমস্ত সক্ষমতা কাজে লাগিয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হলো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া মানুষদের উদ্ধার করা।

দে লা এসপ্রিয়েলা বলেন, প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী ১১১ জনের মৃত্যু ও ৮৭ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া কয়েক ডজন ভবন ধসে পড়েছে এবং বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মৃতদের মধ্যে কলম্বিয়ার কফি উৎপাদনকারী অঞ্চলের অংশ রিসারালদা অঞ্চলের অন্তত ৪০ জন রয়েছেন। অঞ্চলটির রাজধানী পেরেইরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা ধসে পড়া ভবনগুলোতে জীবিতদের সন্ধানে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়া ভ্যালে দেল কাউকা অঞ্চলে তিন শিশুসহ অন্তত ২৭ জন মারা গেছেন।

শত শত নিখোঁজ
সোমবার বিকেল নাগাদ লোকজন ডিজিটাল ডেটাবেসে তাদের প্রিয়জনদের নিখোঁজ হওয়ার খবর জানাতে শুরু করেন। এ তালিকায় ১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষের নাম রয়েছে। এসব ব্যক্তির বেশিরভাগই কালি ও পেরেইরার বাসিন্দা। এই সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।

পেরেইরায় স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, বিমানবন্দরের ছাদের একটি অংশ আশ্রয় নেওয়া যাত্রীদের ওপর ভেঙে পড়ছে এবং তারা চিৎকার করছেন। ফুটেজে সেখানে একটি চারতলা ভবন ধসে পড়তেও দেখা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকৌশলীরা কাঠামোগত পরিদর্শন চালানোর জন্য কলম্বিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের পেরেইরা, মানিজালেস, কুইবদো, আরমেনিয়া, কার্তাগো এবং বুয়েনাভেন্তুরাসহ বেশ কয়েকটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত করেছে।

কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক পরিষেবা জানিয়েছে, সোমবারের ভূমিকম্পটি ছিল ‘একবিংশ শতাব্দীতে’ দেশটিতে রেকর্ড করা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।

নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ভূকম্পবিদ সুজান ভ্যান ডার লি বলেছেন, ভূমিকম্পটির যথেষ্ট গভীরতা থাকা সত্ত্বেও এর শক্তিশালী মাত্রা, স্থলভাগের অভ্যন্তরে অবস্থান এবং স্ট্রাইক-স্লিপ গতির কারণে জনবহুল উপত্যকাগুলোতে ক্ষয়ক্ষতি আরও বেড়ে থাকতে পারে।

তিনি বলেন, এটি ভূপৃষ্ঠের অনেক নিচে ছিল এবং তাত্ত্বিকভাবে এর কারণে ততটা কম্পন হওয়ার কথা নয়। কিন্তু এই মাত্রার কারণে এটি প্রকৃতপক্ষে প্রচণ্ড কম্পন সৃষ্টি করেছিল। সূত্র : আল জাজিরা 

ঠিকানা/এসআর
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]