
১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ সোসাইটি গড়ে তোলার মাধ্যমে নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির গোড়াপত্তন হয়েছিল। কিন্তু বিভেদ, অনৈক্য ও মতলববাজির কারণে সুদীর্ঘ ৫০ বছরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে মর্যাদার আসন পায়নি এ সংগঠনটি। ভোটাভুটির আনন্দেই কেটে গেছে অর্ধশতাব্দি। অথচ সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে এগোলে এ সংগঠনটি হতে পারতো মার্কিন মুল্লুকে বাংলাদেশিদের প্রকৃত আমব্রেলা সংগঠন।
প্রবাসের বহু গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি বাংলাদেশ সোসাইটির নেতৃত্ব দিয়েছেন। নানান প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে সংগঠনটিকে এগিয়ে নিতে তারা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছেন। কিন্তু ‘ভোটের রাজনীতি’ চর্চা করে যখনই কিছু অযোগ্য ও দুষ্টু লোক নেতৃত্ব পেয়েছেন, তখনই কল্যাণকর সব চেষ্টায় ভাটা পড়েছে। ৫০ বছর পর এসে বাংলাদেশ সোসাইটির এমন একটা অবস্থানে রয়েছে, যেখানে গর্ব করার মত তেমন কিছু নেই। আছে শুধু এলমহার্স্টে হুইটনি অ্যাভিনিউতে ঋণমুক্ত একটি প্রাইভেট হাউজ। এমন প্রাইভেট হাউজ ছোটখাটো অনেক আঞ্চলিক সংগঠনেরও রয়েছে এই নিউইয়র্কে। অথচ ৫০ বছরের সংগঠন হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারায় দাপিয়ে বেড়াতে পারতো বাংলাদেশ সোসাইটি।
বিভিন্ন সময় কর্মকর্তারা গা বাঁচাতে যেসব ফিরিস্তি তুলে ধরেন তার মধ্যে থাকে- আমরা বড় ইফতার পার্টি করেছি। আমরা বাংলাদেশের জাতীয় দিবস পালন করি। আমরা বাংলা স্কুল গড়েছি। তারা জোর গলায় বলতে পারেন না- আমরা নতুন ইমিগ্র্যান্টদের চাকরি দিয়ে সহায়তা করেছি। নিউইয়র্কের বুকে বাংলাদেশ ডে প্যারেড করেছি।
বিভিন্ন ইমিগ্র্যান্ট কমিউনিটির আমব্রেলা সংগঠন স্টেট ও সিটি থেকে মিলিয়ন ডলারের সরকারি অনুদান পায়। আর বাংলাদেশ সোসাইটির লক্ষ্য একটাই, সেটা হলো দুই বছর পর একটা করে ব্যয়বহুল নির্বাচন। এই নির্বাচন আয়োজন করে মোটা অংকে মনোনয়ন বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করে সংগঠনটি। যত না অর্থ আসে, নির্বাচন করেই তার সিংহভাগ ব্যয় হয়ে যায়। নির্বাচনের আগে ভোটার তৈরির অশুভ প্রতিযেগিতায় মেতে ওঠে কিছু লোক। আর এই সুযোগে বিত্তবান কিছু দুর্বৃত্ত প্যানেলভিত্তিক নির্বাচনে অংশ নিয়ে কমিউনিটি লিডার বনে যান রাতারাতি। হঠাৎ উদয় হওয়া এসব লিডারকে আগে কখনো কেউ দেখেনি। এভাবে গত কয়েক দশক চলার কারণে বাংলাদেশ সোসাইটি হারাতে বসেছে তার হৃত গৌরব।
বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক একজন সাধারণ সম্পাদক নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঠিকানাকে বলেন, যারা যখন নেতৃত্বে থাকেন তাদের লক্ষ্যই থাকে নিজেদের মত করে সংগঠন পরিচালনা করা। বলতে গেলে বাংলাদেশ সোসাইটি শুধুই নির্বাচনকেন্দ্রিক একটি সংগঠনে পরিণত হয়েছে। নির্বাচনের আগে প্রার্থীরা মাথাপিছু ২০ ডলারের মাধ্যমে বাংলাদেশিদের ভোটার করেন। এরপর ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে এনে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেন। অথচ অধিকাংশ ভোটার জানেন না তারা কাকে ভোট দিচ্ছেন, কেন দিচ্ছেন, তিনি যোগ্য কীনা। যে বা যারা ২০ ডলার খরচ করে ভোটার করেছেন সাধারণত তাকেই ভোট দেন ভোটাররা। নির্বাচন শেষ, তাদের সদস্যপদও শেষ। এ নিয়ে অনেক কথা হয়েছে।
নির্বাচনের আগে প্রার্থীরা নানান প্রতিশ্রুতির ফুলঝুঁড়ি ছড়ান। কিন্তু নির্বাচন শেষ, প্রতিশ্রুতিও শেষ। তা না হলে এ পর্যন্ত যত প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তাতে ৫০ বছরে আর না হোক- একটা বাংলাদেশ সেন্টার হতো এই নিউইয়র্কে।
বাংলাদেশ সোসাইটির একজন সাবেক সভাপতি নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঠিকানাকে বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটিতে এখন পদ বিক্রি হয়। এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে ভালো মানুষ সোসাইটির নেতৃত্বে আসতে চান না। এমনকী ট্রাস্টি বোর্ডে যারা মনোনীত হন তাদের মনোনয়নও প্রশ্নবিদ্ধ। যোগ্যতা নয়, ব্যক্তিগত সম্পর্ক এখানে প্রাধান্য পায়।
বর্তমান কমিটির একজন নারী সদস্য এবার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলেন, গত ১৪ বছর বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছি। কিন্তু যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলাম তা পূরণ করতে পারিনি। এর কারণ হিসাবে ওই নারী নেত্রী বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটিতে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। কেউ চাইলেও পারবেন না। বাংলাদেশ সোসাইটি ব্যক্তিবিশেষের পকেটে ঢুকে গেছে। সেখান থেকে বের হওয়ার সুযোগ কম।
তিনি মনে করেন আগামী ২৭ অক্টোবর রোববার বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন। এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্যানেলে ভালো কিছু প্রার্থী আছেন, যারা কমিউনিটিতে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। ভোটারদের উচিত, কে তাকে ভোটার বানিয়েছে এটা না ভেবে যোগ্যদের ভোট দেওয়া। এক্ষেত্রে প্যানেলকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত নয়। দুই প্যানেলই কার্যকর অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। নির্বাচিত হলে এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ঘটালে বাংলাদেশ সোসাইটি আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। কিন্তু তার আগে ব্যক্তিবিশেষের পকেট থেকে বের করতে আনতে হবে সোসাইটিকে। এটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রবাসের বহু গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি বাংলাদেশ সোসাইটির নেতৃত্ব দিয়েছেন। নানান প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে সংগঠনটিকে এগিয়ে নিতে তারা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছেন। কিন্তু ‘ভোটের রাজনীতি’ চর্চা করে যখনই কিছু অযোগ্য ও দুষ্টু লোক নেতৃত্ব পেয়েছেন, তখনই কল্যাণকর সব চেষ্টায় ভাটা পড়েছে। ৫০ বছর পর এসে বাংলাদেশ সোসাইটির এমন একটা অবস্থানে রয়েছে, যেখানে গর্ব করার মত তেমন কিছু নেই। আছে শুধু এলমহার্স্টে হুইটনি অ্যাভিনিউতে ঋণমুক্ত একটি প্রাইভেট হাউজ। এমন প্রাইভেট হাউজ ছোটখাটো অনেক আঞ্চলিক সংগঠনেরও রয়েছে এই নিউইয়র্কে। অথচ ৫০ বছরের সংগঠন হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারায় দাপিয়ে বেড়াতে পারতো বাংলাদেশ সোসাইটি।
বিভিন্ন সময় কর্মকর্তারা গা বাঁচাতে যেসব ফিরিস্তি তুলে ধরেন তার মধ্যে থাকে- আমরা বড় ইফতার পার্টি করেছি। আমরা বাংলাদেশের জাতীয় দিবস পালন করি। আমরা বাংলা স্কুল গড়েছি। তারা জোর গলায় বলতে পারেন না- আমরা নতুন ইমিগ্র্যান্টদের চাকরি দিয়ে সহায়তা করেছি। নিউইয়র্কের বুকে বাংলাদেশ ডে প্যারেড করেছি।
বিভিন্ন ইমিগ্র্যান্ট কমিউনিটির আমব্রেলা সংগঠন স্টেট ও সিটি থেকে মিলিয়ন ডলারের সরকারি অনুদান পায়। আর বাংলাদেশ সোসাইটির লক্ষ্য একটাই, সেটা হলো দুই বছর পর একটা করে ব্যয়বহুল নির্বাচন। এই নির্বাচন আয়োজন করে মোটা অংকে মনোনয়ন বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করে সংগঠনটি। যত না অর্থ আসে, নির্বাচন করেই তার সিংহভাগ ব্যয় হয়ে যায়। নির্বাচনের আগে ভোটার তৈরির অশুভ প্রতিযেগিতায় মেতে ওঠে কিছু লোক। আর এই সুযোগে বিত্তবান কিছু দুর্বৃত্ত প্যানেলভিত্তিক নির্বাচনে অংশ নিয়ে কমিউনিটি লিডার বনে যান রাতারাতি। হঠাৎ উদয় হওয়া এসব লিডারকে আগে কখনো কেউ দেখেনি। এভাবে গত কয়েক দশক চলার কারণে বাংলাদেশ সোসাইটি হারাতে বসেছে তার হৃত গৌরব।
বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক একজন সাধারণ সম্পাদক নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঠিকানাকে বলেন, যারা যখন নেতৃত্বে থাকেন তাদের লক্ষ্যই থাকে নিজেদের মত করে সংগঠন পরিচালনা করা। বলতে গেলে বাংলাদেশ সোসাইটি শুধুই নির্বাচনকেন্দ্রিক একটি সংগঠনে পরিণত হয়েছে। নির্বাচনের আগে প্রার্থীরা মাথাপিছু ২০ ডলারের মাধ্যমে বাংলাদেশিদের ভোটার করেন। এরপর ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে এনে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেন। অথচ অধিকাংশ ভোটার জানেন না তারা কাকে ভোট দিচ্ছেন, কেন দিচ্ছেন, তিনি যোগ্য কীনা। যে বা যারা ২০ ডলার খরচ করে ভোটার করেছেন সাধারণত তাকেই ভোট দেন ভোটাররা। নির্বাচন শেষ, তাদের সদস্যপদও শেষ। এ নিয়ে অনেক কথা হয়েছে।
নির্বাচনের আগে প্রার্থীরা নানান প্রতিশ্রুতির ফুলঝুঁড়ি ছড়ান। কিন্তু নির্বাচন শেষ, প্রতিশ্রুতিও শেষ। তা না হলে এ পর্যন্ত যত প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তাতে ৫০ বছরে আর না হোক- একটা বাংলাদেশ সেন্টার হতো এই নিউইয়র্কে।
বাংলাদেশ সোসাইটির একজন সাবেক সভাপতি নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঠিকানাকে বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটিতে এখন পদ বিক্রি হয়। এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে ভালো মানুষ সোসাইটির নেতৃত্বে আসতে চান না। এমনকী ট্রাস্টি বোর্ডে যারা মনোনীত হন তাদের মনোনয়নও প্রশ্নবিদ্ধ। যোগ্যতা নয়, ব্যক্তিগত সম্পর্ক এখানে প্রাধান্য পায়।
বর্তমান কমিটির একজন নারী সদস্য এবার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলেন, গত ১৪ বছর বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছি। কিন্তু যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলাম তা পূরণ করতে পারিনি। এর কারণ হিসাবে ওই নারী নেত্রী বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটিতে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। কেউ চাইলেও পারবেন না। বাংলাদেশ সোসাইটি ব্যক্তিবিশেষের পকেটে ঢুকে গেছে। সেখান থেকে বের হওয়ার সুযোগ কম।
তিনি মনে করেন আগামী ২৭ অক্টোবর রোববার বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন। এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্যানেলে ভালো কিছু প্রার্থী আছেন, যারা কমিউনিটিতে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। ভোটারদের উচিত, কে তাকে ভোটার বানিয়েছে এটা না ভেবে যোগ্যদের ভোট দেওয়া। এক্ষেত্রে প্যানেলকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত নয়। দুই প্যানেলই কার্যকর অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। নির্বাচিত হলে এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ঘটালে বাংলাদেশ সোসাইটি আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। কিন্তু তার আগে ব্যক্তিবিশেষের পকেট থেকে বের করতে আনতে হবে সোসাইটিকে। এটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।