ডিমের সাদা অংশ নাকি কুসুম, কোন অংশে প্রোটিন বেশি?

প্রকাশ : ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৮:৩৭ , অনলাইন ভার্সন
প্রোটিনের অন্যতম সহজলভ্য উৎস ডিম। সকালের নাশতা থেকে শুরু করে দিনের বিভিন্ন সময়ে অনেকেই ডিম খেয়ে থাকেন। শরীরের পেশি গঠন, নতুন কোষ তৈরি ও ক্ষত সারাতে ডিমের প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—ডিমের সাদা অংশে বেশি প্রোটিন, নাকি কুসুমে?

পুষ্টিবিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, ডিমে ভিটামিন ও খনিজসহ ১৩টিরও বেশি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এর মধ্যে ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি১২, সেলেনিয়াম, আয়োডিন ও কোলিন উল্লেখযোগ্য।

প্রোটিনের বড় অংশ কোথায়?

একটি ডিমের মোট প্রোটিনের বেশিরভাগই থাকে সাদা অংশে। একটি মাঝারি আকারের ডিমের সাদা অংশে প্রায় ৩ দশমিক ৫ থেকে ৪ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়।

সাদা অংশের আরেকটি সুবিধা হলো এতে ক্যালোরি কম এবং চর্বি নেই বললেই চলে। এতে রিবোফ্লাভিন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও সোডিয়ামের মতো কিছু খনিজও রয়েছে।

তবে সাদা অংশে চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন এ, ডি, ই ও কে পাওয়া যায় না।

কুসুমে প্রোটিন কম, কিন্তু পুষ্টি বেশি

একটি মাঝারি আকারের ডিমের কুসুমে প্রায় ২ দশমিক ৫ থেকে ৩ গ্রাম প্রোটিন থাকে। অর্থাৎ একটি ডিমে মোট প্রোটিনের পরিমাণের হিসাবে সাদা অংশ এগিয়ে।

তবে প্রতি ১০০ গ্রাম হিসাবে হিসাব করলে চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন। সাদা অংশে প্রতি ১০০ গ্রামে প্রায় ১০ দশমিক ৮ গ্রাম প্রোটিন থাকলেও কুসুমে থাকে প্রায় ১৬ দশমিক ৪ গ্রাম। অর্থাৎ প্রোটিনের ঘনত্ব কুসুমে বেশি।

শুধু প্রোটিন নয়, কুসুমে রয়েছে ভিটামিন বি৬, বি১২, ফোলেট, সেলেনিয়াম, জিঙ্ক, আয়রন ও ফসফরাস। পাশাপাশি ভিটামিন এ, ডি, ই ও কে-ও পাওয়া যায়।

এছাড়া কুসুমে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, কোলিন, লিউটিন ও জিয়াজ্যানথিন—যেগুলো সাদা অংশে থাকে না।

তাহলে কোন অংশ খাবেন?

শুধু প্রোটিনের পরিমাণের দিকে নজর দিলে ডিমের সাদা অংশ এগিয়ে। বিশেষ করে যারা কম ক্যালোরি ও কম চর্বিযুক্ত খাবার বেছে নিতে চান, তারা সাদা অংশ খেতে পারেন।

তবে কোনো বিশেষ শারীরিক সমস্যা না থাকলে শুধু সাদা অংশ খেয়ে কুসুম বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ ডিমের কুসুমেই রয়েছে এমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি, যা সাদা অংশে পাওয়া যায় না।

সুস্থ প্রাপ্তবয়স্করা সাধারণভাবে দিনে ১ থেকে ২টি সিদ্ধ গোটা ডিম খেতে পারেন। তবে হৃদ্‌রোগ বা অন্য কোনো বিশেষ স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে খাদ্যতালিকায় ডিম রাখার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

ডিমের প্রোটিন কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ডিমের প্রোটিনকে উচ্চমানের প্রোটিন হিসেবে ধরা হয়। এতে শরীরের প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের অ্যামিনো অ্যাসিড রয়েছে। ফলে পেশি গঠন ও পুনর্গঠন, নতুন কোষ তৈরির পাশাপাশি শরীরের ক্ষত সারাতেও এটি সহায়তা করে।

এছাড়া ডিম খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকার অনুভূতি তৈরি হতে পারে। ফলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণেও এটি সহায়ক হতে পারে।

যা জানা দরকার 
  • একটি ডিমের মোট প্রোটিনের বেশিরভাগ থাকে সাদা অংশে।
  • মাঝারি ডিমের সাদা অংশে প্রায় ৩ দশমিক ৫–৪ গ্রাম প্রোটিন থাকে।
  • কুসুমে প্রোটিনের ঘনত্ব সাদা অংশের চেয়ে বেশি।
  • কুসুমে ভিটামিন এ, ডি, ই, কে, কোলিন ও ওমেগা-৩ রয়েছে।
  • বিশেষ স্বাস্থ্য সমস্যা না থাকলে গোটা ডিম খাওয়াই বেশি পুষ্টিকর।
  • সুস্থ প্রাপ্তবয়স্করা দিনে ১–২টি সিদ্ধ গোটা ডিম খেতে পারেন।
  • হৃদ্‌রোগ বা বিশেষ শারীরিক সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ঠিকানা/এএস 
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]