​স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

কিসের হাসিনা! মাঝেমধ্যে শুধু আওয়াজ-টাওয়াজ শোনা যায়

প্রকাশ : ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ১৭:৪৯ , অনলাইন ভার্সন
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, কিসের হাসিনা! তার চেহারা কী দেখা গেছে? মাঝেমধ্যে শুধু আওয়াজ-টাওয়াজ শোনা যায়। তারা চেষ্টা করছে, বাংলাদেশে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি করা যায় কি না। বাংলাদেশের মানুষ কখনোই তাদের এসব রাজনীতি গ্রহণ করবে না। ৭ আগস্ট (শুক্রবার) দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজারের ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতি বাংলাদেশের মানুষ আর গ্রহণ করবে না। তারা দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, দেশের মানুষ এখন উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা চায়। কোনো ধরনের অস্থিরতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতি ব্যাহত করার চেষ্টা সফল হবে না।

এর আগে সকালে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) আবাসিক ‘ফ্ল্যাট উন্নয়ন প্রকল্প-১’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেন সালাহউদ্দিন আহমদ। সেখানে তিনি কক্সবাজারের পর্যটন সম্ভাবনা, সমুদ্রসম্পদ, নীল অর্থনীতি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং উচ্চশিক্ষা ও সামুদ্রিক গবেষণার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন।

কউকের আবাসিক ফ্ল্যাট উন্নয়ন প্রকল্প-১ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সমুদ্রসম্পদ ও সমুদ্রবন্দরকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশ বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করতে সক্ষম হবে। সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘ব্লু ইকোনমি’ বা নীল অর্থনীতির বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের। সমুদ্রকে শুধু যোগাযোগ বা পর্যটনের ক্ষেত্র হিসেবে দেখলে হবে না। এর সঙ্গে মৎস্যসম্পদ, সামুদ্রিক গবেষণা, বন্দর, জ্বালানি, পর্যটনসহ অর্থনীতির বিভিন্ন খাতকে যুক্ত করতে হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কক্সবাজারের অপরিসীম পর্যটন সম্ভাবনাকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগাতে পারলে জাতীয় অর্থনীতিতে এ জেলা আরও বড় অবদান রাখতে পারে। কক্সবাজারকে শুধু দেশের মানুষের কাছে নয়, বিশ্ববাসীর কাছে আরও আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরতে হবে।

কক্সবাজারের পর্যটন উন্নয়নে পরিবেশ সংরক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, প্রকৃতিকে সংরক্ষণ করেই পর্যটনের উন্নয়নের পরিকল্পনা করতে হবে। শুধু উঁচু উঁচু ইমারত নির্মাণ করলেই পর্যটনের উন্নয়ন হবে না। কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষা করে পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু উঁচু ইমারত নির্মাণই পর্যটন হতে পারে না। কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সব এলাকাজুড়েই পরিকল্পিতভাবে এসব কর্মকাণ্ড হতে হবে। বিশ্বব্যাপী কক্সবাজারের সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিয়ে ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে হবে। পরিবেশের ভারসাম্য ও প্রকৃতির সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রেখেই পর্যটন সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিতে হবে।

কক্সবাজারের পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে পরিবেশগত বিধিনিষেধের বিষয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইতঃপূর্বে ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে ইচ্ছেমতো বিভিন্ন এলাকাকে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা বা ইসিএ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। পর্যটনের বিকাশে এসব এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করে জরিপ পরিচালনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পুনর্বিবেচনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পরিবেশ রক্ষার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে কোথায় কীভাবে পর্যটনের বিকাশ ঘটানো যায়, তা বাস্তবতা ও বৈজ্ঞানিক জরিপের ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে।

কক্সবাজারকে ঘিরে উচ্চশিক্ষা ও সামুদ্রিক গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণে সরকার একটি মেরিন ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, কক্সবাজার সমুদ্র ও সামুদ্রিক সম্পদের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল। এখানে মেরিন ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করা হলে সামুদ্রিক শিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির সুযোগ আরও বাড়বে।এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের সামুদ্রিক অর্থনীতি ও গবেষণায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

পরে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫০০ শয্যার নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে উখিয়া-টেকনাফ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শামীম আরা স্বপ্নাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নতুন ভবন নির্মাণের মাধ্যমে কক্সবাজারে চিকিৎসাসেবার পরিধি আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। বিশেষ করে জেলার বিপুলসংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দার পাশাপাশি পর্যটক ও সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

ঠিকানা/এএস 
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]