​বাংলাদেশে নীল ঝড়ের তাণ্ডব : কঠিন সময়ে রাজনীতি ও রাজনীতিবিদ

প্রকাশ : ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১৯ , অনলাইন ভার্সন
সুযোগসন্ধানীরা সব সময় সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। কখনো সুযোগসন্ধানী নিজেরাই নানা ফন্দি-ফিকির করে কিংবা ব্ল্যাকমেলিং করে সুযোগ খুঁজে নেয়। কখনো তাদের টার্গেট নিজেদের ভেতরের দুর্বলতা বা কোন্দলের ফোকর গলিয়ে সুযোগসন্ধানীদের কাছে ধরা দেয়। দুর্জনের যেমন দলের অভাব হয় না, তেমনি সুযোগসন্ধানীদের সুযোগের অভাব হয় না।

বাংলাদেশে এখন নীল জগতের নীল দংশনে পরিবার ও সমাজ জীবনে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ভাঙন দেখা দিচ্ছে পরিবারে, নৈতিকতায়, যুবকদের চরিত্র গঠনে। নীল ছবির কাহিনিকার, পরিচালক, প্রযোজকদের এখন রমরমা আয়োজন। চাহিদা চড়া। সমাজে, রাষ্ট্রে, পরিবারে যত ধস নামে নামুক। ঠিকানার ২৯ জুলাই সংখ্যার শীর্ষ সংবাদের শিরোনামেই তার স্পষ্ট প্রকাশ। ‘ভয়ঙ্কর নীল ঝড়ে বাংলাদেশ।’ মূল শিরোনামের ঘাড়ে রয়েছে মূল খবরের ইঙ্গিত। ‘চরিত্র হননের এক্সক্লুসিভ টার্গেটে মন্ত্রী-এমপিসহ বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি, বিগ বাজেটে বগল বাজনায় আওয়ামী লীগ-জাপা, উৎসবে কনটেন্ট ক্রিয়েটররা।’ এরপর আর থাকে কী?

খবরের শুরুটাও বেশ চিত্তাকর্ষক। ‘বাদ যাবে না একটি শিশুও’-বিজ্ঞাপনের মতো বুলিংয়ের দশায় বিএনপি-জামায়াত-এনসিপির নেতা-নেত্রীরা। সঙ্গে তাদের স্বামী-স্ত্রী-কন্যাসহ সন্তানেরাও। নীল ছবি বা ব্লু-ফিল্ম স্টাইলে নারী-পুরুষ মিলিয়ে জনা কয়েক মন্ত্রী-এমপি তথা শীর্ষ নেতার আংশিক-পূর্ণাঙ্গ রঙিন ছবির মহরত শেষ। এখন মুক্তির অপেক্ষায়।’ কনটেন্টগুলো টার্গেট বুঝতে পারা কারও জন্যই খুব কঠিন নয়। একটার চেয়ে আরেকটা হবে আরও জবরদস্ত। বাজার পেতে হবে তো। কনটেন্টগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে এসব এআই প্রযুক্তি বা আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স দ্বারা তৈরি-এ কথা বলে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। অর্থাৎ কোনো অজুহাত তুলে উড়িয়ে দেওয়ার কোনো চেষ্টাও সফল হবে না। চারদিকে আটঘাট বাঁধা।

তবে একটা প্রশ্ন নিরীহভাবে করাই যায়, এসব এরকম চারদিক বুঝেসুঝে যারা করছে, তাদের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য কী? এসব ব্লু ফিল্মের চরিত্র, পরিচালক, অন্যান্য কুশীলব যে বাংলাদেশি, তাতে সন্দেহ নেই। প্রযোজকও কি বাংলাদেশিরা? এ কথা ঠিক, ঘটনার নায়কেরা নিজেরাই যে তাদের কৃতকর্মের প্রকাশ্য প্রযোজনার জন্য দায়ী-সে কথা বলা যায়। তারা কাঁঠাল খেয়ে কাঁঠালের আঠা মুখে বাঁধিয়ে রাখলে মানুষ তো তা দেখবেই। কিন্তু সেই আঠা এত আয়োজন করে, মেধা-শ্রম এবং অনেকটাই ঝুঁকি নিয়ে প্রকাশ করার মধ্যে একটি মোটিভ তো থাকবে? রাজনীতি এবং রাজনীতিবিদ শূন্য করার একটা আয়োজন দীর্ঘদিন ধরেই শুনে আসছে বাংলাদেশের মানুষ।

এবার কি তাহলে এসবের মধ্য দিয়ে তার শেষ দৃশ্য মঞ্চায়ন হতে যাচ্ছে? অনুন্নত বা উন্নয়নের পথে অগ্রসরমান দেশগুলোকে রাজনীতিহীন করে তোলার একটা প্রয়াস সব সময়ই দেখা গেছে। আর যে দেশে রাজনীতিবিদদের নানান বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জনগণ বিরক্ত, সেসব দেশে তো বিরাজনীতিকীকরণ প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবেই চলমান। এখন দেখা জরুরি, একটি দেশে রাজনীতি না থাকলে তার বেনিফিশিয়ারি হয় কারা? লাভবান হয়, দেশের সামরিক-বেসামরিক আমলাগোষ্ঠী, অসাধু, মুনাফালোভী অসৎ ব্যবসায়ী, গডফাদার সিন্ডিকেট চক্র। আর বিদেশি যাদের সুবিধা হয়, যে দেশে রাজনীতি নেই, সেসব দেশে নিজেদের স্বার্থ কায়েম করতে।

বাংলাদেশকেও এখন দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রাজনীতিহীন করার অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নের শেষ অঙ্ক মঞ্চস্থ হওয়ার অপেক্ষায়। রাজনীতিবিদেরা যতই নষ্ট হন, শেষ বিন্দুতে তারা দেশপ্রেমিক। জনগণের কাছে তাদের জবাবদিহি করতেই হবে কোনো না কোনো পর্যায়ে। আর কারও মধ্যে সে দায়বোধ না থাকলেও চলে।
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]